নিউইয়র্ক ১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

দায়ী হাসিনা-খালেদা : সঙ্কট সমাধানে চাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০১৫
  • / ৭৩৮ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আহ্বানে দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে। গত ৬ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া দেশবাপী অবরোধের পাশাপাশি সপ্তাহে সপ্তাহে হরতাল চলছে। এই আন্দোলন-সংগ্রামে কার্যত দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমদানি-রফতানি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণেও মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রোল বোমাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশের জনগন ভীত-সন্ত্রস্ত জীবন-যাপন করছে। সন্ত্রাসীদের হাতে নিরীহ জনগণ প্রাণ হারাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল’ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করা হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করেই এই সঙ্কটের শুরু। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর মতো প্রবাসী বাংলাদেশীরাও উদ্বিগ্ন। দেশের মিডিয়াগুলোর বদৌলতে সকল খবরাখবর এখন প্রবাসীদের নখ-দর্পণে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমস্যা ও সমাধান প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী গৃহবধুদের মতামতের ভিত্তিতেই বার্তা সংস্থা ইউএনএ’র বিশেষ প্রতিবেদন।
নিউইয়র্কের গৃহবধুরা এই প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে গিয়ে দেশের বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতির জন্য মূলত: দুই শীর্ষ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই দায়ী করেছেন। বলেছেন, সঙ্কটের সমাধান তাদের হাতেই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন দেশের রাজনীতিকদের দেশপ্রেম নিয়েও। বলেছেন, তারা দেশ আর জনগণের জন্য নয় ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন। গৃহবধুরা বলেছেন একমাত্র অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই সঙ্কটের সমাধান হতে পারে।
Shefallyটাঙ্গাইলের সন্তান জ্যামাইকায় সাত বছর ধরে বসবাসকারী গৃহবধু শেফালী খাতুন বলেন, প্রিয় বাংলাদেশে চরম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি বলেন, এই দেশ আমাদের। সঙ্কটের জন্য আমরাই দায়ী। তাই সমাধানও আমাদেরকেই বের করতে হবে। দেশের সঙ্কট সমাধানে বিদেশী হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধীতা করে তিনি বলেন, সঙ্কট সমাধানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে শীর্ষ চার দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি আর জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার যৌথ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান বের করতে হবে। আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দরকার বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজ যেভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছে, দেশের জনগণ গুম-খুনের শিকার হচ্ছে, আগুণে পুড়ছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য সরকারসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে তো কোন নেতা-নেত্রীর ছেলে-মেয়ে বা আতœীয়-স্বজন মারা যাচ্ছে না, মারা যাচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি নয়, জনসেবার জন্যই রাজনীতি হওয়া উচিৎ। পেট্রোল বোমা আর অগ্নি সংযোগকারীসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের চোখ বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং দ্রুত সর্বোচ্চ শান্তি দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Rebekaরিচমন্ডহীলে আট বছর ধরে বসবাসকারী নোয়াখালীর সন্তান রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিভিগুলোতে সচিত্র সংহিসতার খবর দেখে খুউব খারাপ লাগে। বিশেষ করে যেভাবে পেট্রোল বোমা ছূঁড়ে, অগ্নি সংযোগ করে সাধারণ মানুষ মারা হচ্ছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই সহিংসতা দমনে সরকার ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি থেকে হাসিনা-খালেদার অবসর নেয়া দরকার। প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব। সঙ্কট সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা দরকার, সংলাপ দরকার, দেশপ্রেম দরকার। আর সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভালো হবে।
Shellyরিচমন্ডহীলে আট বছর ধরে বসবাসকারী টাঙ্গাইলের সন্তান মাহাবুবা ইসলাম শেলী বলেন, দেশে চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির জন্য দেশের শীর্ষ দুই নেত্রী আর প্রধান দুই দল বিএনপি-আওয়ামী লীগ দায়ী। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর নির্বাচনের পরিবেশের জন্য সবার আগে সরকার সকল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের পরাষ্পারিক শিষ্টাচার, শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা আর আতœসংযম। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সহ দেশের এক নেত্রী আরেক নেত্রী, এক নেতা আরেক নেতা সম্পর্কে যেভাবে আক্রমণ করে যে ভাষায় কথা বলেন তা শুনলে নিজেই লজ্জা পাই। মিডিয়াতে তাদের আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার/প্রকাশ না করাই ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন। আর দেশ যেভাবে চলছে তাতে মনে হয় না দেশে কোন সরকার আছে। প্রশাসন সরকার দলীয় লেজুরবৃত্তি করছে। এক নেতা-নেত্রী আরেক নেতা-নেত্রী বা একদল আরেক দলের উপর দোষ চাপিয়ে পাড় পেতে চাচ্ছেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশটা সরকার ও বিরোধী দল তথা সবার। দেশের ভালো-মন্দের দায় সবাইকেই নিতে হবে। সবার আগে সন্ত্রাস দূর করে সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
Limaউডসাইডে বসবাসকারী রাজশাহীর সন্তান ওয়ালিয়া ওয়াহাব লিমা বলেন, হাসিনা-খালেদাকে দায়ী এবং এই দুই নেত্রীর উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপির ক্ষমতার রাজনীতিই দেশের চলমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা জনগণের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছেন। তারপরও সমাধানও তাদেরকেই বের করতে হবে।
Switeeজ্যামাইকায় বসবাসকারী ব্রক্ষাণবাড়ীয়ার সন্তান নাসরীন জাহান সুইটি বলেন, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির জন্য হাসিনা-খালেদা দায়ী। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, সঙ্কট নিরসনে দলমতের উর্দ্বে জনগণকেই মাঠে নামতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
Simuরাজশাহীর সন্তান জ্যামাইকায় বসবাসকারী আশুরা হাসান শিমু বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। কারণ আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আতœীয়-স্বজন বাংলাদেশে বসবাস করেন। দেশের ভাল-মন্দ নিয়ে সবসময় আমাদের ভাবনা। কিন্তু যেভাবে দেশ চলছে তাতে মনে হয়না দেশে সরকার আছে, বিরোধীদল আছে। রাজনীতিকদের দেশপ্রেম নিয়েও তিনি সন্দিহান। তিনি মনে করেন, যেহেতু হাসিনা-খালেদা ঐক্যমতে আসতে পারছে না সেজন্য দেশের সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ সহ বিদেশীদের হস্তক্ষেপ দরকার। প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের ব্যর্থতায় বিদেশী রাষ্ট্র দেশে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিচ্ছে যা দু:খজনক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

দায়ী হাসিনা-খালেদা : সঙ্কট সমাধানে চাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

প্রকাশের সময় : ১১:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আহ্বানে দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে। গত ৬ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া দেশবাপী অবরোধের পাশাপাশি সপ্তাহে সপ্তাহে হরতাল চলছে। এই আন্দোলন-সংগ্রামে কার্যত দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমদানি-রফতানি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণেও মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রোল বোমাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশের জনগন ভীত-সন্ত্রস্ত জীবন-যাপন করছে। সন্ত্রাসীদের হাতে নিরীহ জনগণ প্রাণ হারাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল’ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করা হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করেই এই সঙ্কটের শুরু। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর মতো প্রবাসী বাংলাদেশীরাও উদ্বিগ্ন। দেশের মিডিয়াগুলোর বদৌলতে সকল খবরাখবর এখন প্রবাসীদের নখ-দর্পণে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমস্যা ও সমাধান প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী গৃহবধুদের মতামতের ভিত্তিতেই বার্তা সংস্থা ইউএনএ’র বিশেষ প্রতিবেদন।
নিউইয়র্কের গৃহবধুরা এই প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে গিয়ে দেশের বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতির জন্য মূলত: দুই শীর্ষ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই দায়ী করেছেন। বলেছেন, সঙ্কটের সমাধান তাদের হাতেই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন দেশের রাজনীতিকদের দেশপ্রেম নিয়েও। বলেছেন, তারা দেশ আর জনগণের জন্য নয় ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন। গৃহবধুরা বলেছেন একমাত্র অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই সঙ্কটের সমাধান হতে পারে।
Shefallyটাঙ্গাইলের সন্তান জ্যামাইকায় সাত বছর ধরে বসবাসকারী গৃহবধু শেফালী খাতুন বলেন, প্রিয় বাংলাদেশে চরম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি বলেন, এই দেশ আমাদের। সঙ্কটের জন্য আমরাই দায়ী। তাই সমাধানও আমাদেরকেই বের করতে হবে। দেশের সঙ্কট সমাধানে বিদেশী হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধীতা করে তিনি বলেন, সঙ্কট সমাধানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে শীর্ষ চার দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি আর জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার যৌথ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান বের করতে হবে। আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দরকার বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজ যেভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছে, দেশের জনগণ গুম-খুনের শিকার হচ্ছে, আগুণে পুড়ছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য সরকারসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে তো কোন নেতা-নেত্রীর ছেলে-মেয়ে বা আতœীয়-স্বজন মারা যাচ্ছে না, মারা যাচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি নয়, জনসেবার জন্যই রাজনীতি হওয়া উচিৎ। পেট্রোল বোমা আর অগ্নি সংযোগকারীসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের চোখ বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং দ্রুত সর্বোচ্চ শান্তি দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Rebekaরিচমন্ডহীলে আট বছর ধরে বসবাসকারী নোয়াখালীর সন্তান রেবেকা সুলতানা বলেন, তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিভিগুলোতে সচিত্র সংহিসতার খবর দেখে খুউব খারাপ লাগে। বিশেষ করে যেভাবে পেট্রোল বোমা ছূঁড়ে, অগ্নি সংযোগ করে সাধারণ মানুষ মারা হচ্ছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই সহিংসতা দমনে সরকার ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি থেকে হাসিনা-খালেদার অবসর নেয়া দরকার। প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব। সঙ্কট সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা দরকার, সংলাপ দরকার, দেশপ্রেম দরকার। আর সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভালো হবে।
Shellyরিচমন্ডহীলে আট বছর ধরে বসবাসকারী টাঙ্গাইলের সন্তান মাহাবুবা ইসলাম শেলী বলেন, দেশে চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির জন্য দেশের শীর্ষ দুই নেত্রী আর প্রধান দুই দল বিএনপি-আওয়ামী লীগ দায়ী। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর নির্বাচনের পরিবেশের জন্য সবার আগে সরকার সকল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের পরাষ্পারিক শিষ্টাচার, শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা আর আতœসংযম। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সহ দেশের এক নেত্রী আরেক নেত্রী, এক নেতা আরেক নেতা সম্পর্কে যেভাবে আক্রমণ করে যে ভাষায় কথা বলেন তা শুনলে নিজেই লজ্জা পাই। মিডিয়াতে তাদের আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার/প্রকাশ না করাই ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন। আর দেশ যেভাবে চলছে তাতে মনে হয় না দেশে কোন সরকার আছে। প্রশাসন সরকার দলীয় লেজুরবৃত্তি করছে। এক নেতা-নেত্রী আরেক নেতা-নেত্রী বা একদল আরেক দলের উপর দোষ চাপিয়ে পাড় পেতে চাচ্ছেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশটা সরকার ও বিরোধী দল তথা সবার। দেশের ভালো-মন্দের দায় সবাইকেই নিতে হবে। সবার আগে সন্ত্রাস দূর করে সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
Limaউডসাইডে বসবাসকারী রাজশাহীর সন্তান ওয়ালিয়া ওয়াহাব লিমা বলেন, হাসিনা-খালেদাকে দায়ী এবং এই দুই নেত্রীর উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপির ক্ষমতার রাজনীতিই দেশের চলমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা জনগণের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছেন। তারপরও সমাধানও তাদেরকেই বের করতে হবে।
Switeeজ্যামাইকায় বসবাসকারী ব্রক্ষাণবাড়ীয়ার সন্তান নাসরীন জাহান সুইটি বলেন, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির জন্য হাসিনা-খালেদা দায়ী। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, সঙ্কট নিরসনে দলমতের উর্দ্বে জনগণকেই মাঠে নামতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
Simuরাজশাহীর সন্তান জ্যামাইকায় বসবাসকারী আশুরা হাসান শিমু বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। কারণ আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আতœীয়-স্বজন বাংলাদেশে বসবাস করেন। দেশের ভাল-মন্দ নিয়ে সবসময় আমাদের ভাবনা। কিন্তু যেভাবে দেশ চলছে তাতে মনে হয়না দেশে সরকার আছে, বিরোধীদল আছে। রাজনীতিকদের দেশপ্রেম নিয়েও তিনি সন্দিহান। তিনি মনে করেন, যেহেতু হাসিনা-খালেদা ঐক্যমতে আসতে পারছে না সেজন্য দেশের সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ সহ বিদেশীদের হস্তক্ষেপ দরকার। প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের ব্যর্থতায় বিদেশী রাষ্ট্র দেশে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিচ্ছে যা দু:খজনক।