নিউইয়র্ক ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

থাকছে না যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • / ৫৮০ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড এখানে কমিটি গঠনের জন্য একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে সেই নেতা কাজও শুরু করেছেন। তবে এবার আর ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’ বলে কিছু থাকছে না। গঠন করা হচ্ছে স্টেট ভিত্তিক পৃথক পৃথক কমিটি। বাংলাদেশী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে এ ধরণের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবার পর সেসব কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সমন্বয় কমিটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক নেতাদের কেউ কেউ সমমর্যাদার সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৫ সালে আব্দুল লতিফ স¤্রাটকে সভাপতি ও জিল্লুর রহমান জিল্লুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দুই বছর মেয়াদী সেই কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়ে যায় প্রায় ৮ বছর আগে। কিন্তু তারপর এখানে বিএনপি’র আর কোনো কমিটি গঠিত হয়নি। এ অবস্থায় সাবেক কমিটির প্রথম সারির নেতারা বিগত কয়েক বছর যাবত বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মতো করে এখানে বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে দলীয় এজেন্ডার চেয়ে অভ্যন্তরীন কোন্দলজনিত তৎপরতাই বেশি দেখা গেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, জসিম ভূঁইয়া ও গিয়াস আহমেদের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক গ্রুপ দলের ব্যানারে সভা-সমাবেশ কিংবা সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এমনকি চলতি বছরের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের কতিপয় সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির অপরাধে দলীয় পদ-পদবী থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ডা: মুজিবুর রহমান ও জাহিদ সাদীর নেতৃত্বেও আরেকটি গ্রুপকে কিছু কিছু তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে। পৃথকভাবে কার্যক্রম চালানো এসব গ্রুপের নেতারা প্রত্যেকেই যার যার মতো করে এতদিন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে তদবির করেছেন ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দেওয়ার জন্য। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এদিকে কোনো নজর দেয়নি।
অতিসম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে লন্ডনে ডেকে নেন। সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র ভবিষ্যত সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাব-কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও যুক্ত হন সেই আলোচনায়। বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনার পর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেন যে, এখন থেকে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিএনপি’র কোনো কমিটি করা হবে না। অর্থাৎ ‘ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ’ বলে কোনো সাংগঠনিক কাঠামো বা কমিটি থাকবে না। কমিটি হবে স্টেট ভিত্তিক। বিশেষত বাংলাদেশী অধ্যুষিত প্রতিটি স্টেটে একটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এরপর সেসব স্টেট কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে একটি সমন্বয় কমটি বা রিলেশন কমিটি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মিশন দিয়ে এহছানুল হক মিলনকে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সে অনুযায়ী এহছানুল হক মিলন তাঁর এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর নিউ ইয়র্কে আসেন। হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্টেটে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গত শনিবার থেকে তিনি মিশিগান ও শিকাগো সফর শুরু করেছেন। যাওয়ার আগে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা মোতাবেক আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি। আশা করছি জানুয়ারী মাসের মধ্যে বাংলাদেশী অধ্যুষিত সবগুলো স্টেটে কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পদ-প্রত্যাশী পুরনো নেতারা এই পদক্ষেপে খুব হতাশ। তাদের কেউ কেউ প্রস্তাবিত নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর বিরোধিতাও শুরু করেছেন। সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু এই বিরোধিতার অগ্রভাগে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী এসব নেতা এখন স্বভাবতই স্টেট কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়াটাকে নিজেদের জন্য অসম্মানজনক মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আ ন ম এহছানুল হক মিলন অতীতে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন দীর্ঘদিন। এরপর ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে গিয়ে দলের মনোনয়নে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে নির্বাচন করে দেশের ইতিহাসে প্রথম প্রবাসী সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীকালে ২০০১ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। যুগান্তকারী নকল-বিরোধী আন্দোলনের জন্য তাঁর ভূমিকা দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জন করেন। বিগত কিছুকাল যাবত তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য মালশেয়শিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এ অবস্থায়ই কমিটি গঠনের জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনিও এক সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী ছিলেন। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

থাকছে না যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড এখানে কমিটি গঠনের জন্য একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে সেই নেতা কাজও শুরু করেছেন। তবে এবার আর ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’ বলে কিছু থাকছে না। গঠন করা হচ্ছে স্টেট ভিত্তিক পৃথক পৃথক কমিটি। বাংলাদেশী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে এ ধরণের কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবার পর সেসব কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সমন্বয় কমিটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক নেতাদের কেউ কেউ সমমর্যাদার সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৫ সালে আব্দুল লতিফ স¤্রাটকে সভাপতি ও জিল্লুর রহমান জিল্লুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দুই বছর মেয়াদী সেই কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়ে যায় প্রায় ৮ বছর আগে। কিন্তু তারপর এখানে বিএনপি’র আর কোনো কমিটি গঠিত হয়নি। এ অবস্থায় সাবেক কমিটির প্রথম সারির নেতারা বিগত কয়েক বছর যাবত বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মতো করে এখানে বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে দলীয় এজেন্ডার চেয়ে অভ্যন্তরীন কোন্দলজনিত তৎপরতাই বেশি দেখা গেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, জসিম ভূঁইয়া ও গিয়াস আহমেদের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক গ্রুপ দলের ব্যানারে সভা-সমাবেশ কিংবা সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এমনকি চলতি বছরের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের কতিপয় সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির অপরাধে দলীয় পদ-পদবী থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ডা: মুজিবুর রহমান ও জাহিদ সাদীর নেতৃত্বেও আরেকটি গ্রুপকে কিছু কিছু তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে। পৃথকভাবে কার্যক্রম চালানো এসব গ্রুপের নেতারা প্রত্যেকেই যার যার মতো করে এতদিন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে তদবির করেছেন ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি দেওয়ার জন্য। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এদিকে কোনো নজর দেয়নি।
অতিসম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে লন্ডনে ডেকে নেন। সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র ভবিষ্যত সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাব-কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও যুক্ত হন সেই আলোচনায়। বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনার পর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেন যে, এখন থেকে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিএনপি’র কোনো কমিটি করা হবে না। অর্থাৎ ‘ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ’ বলে কোনো সাংগঠনিক কাঠামো বা কমিটি থাকবে না। কমিটি হবে স্টেট ভিত্তিক। বিশেষত বাংলাদেশী অধ্যুষিত প্রতিটি স্টেটে একটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এরপর সেসব স্টেট কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে একটি সমন্বয় কমটি বা রিলেশন কমিটি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মিশন দিয়ে এহছানুল হক মিলনকে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সে অনুযায়ী এহছানুল হক মিলন তাঁর এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর নিউ ইয়র্কে আসেন। হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্টেটে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গত শনিবার থেকে তিনি মিশিগান ও শিকাগো সফর শুরু করেছেন। যাওয়ার আগে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা মোতাবেক আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি। আশা করছি জানুয়ারী মাসের মধ্যে বাংলাদেশী অধ্যুষিত সবগুলো স্টেটে কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পদ-প্রত্যাশী পুরনো নেতারা এই পদক্ষেপে খুব হতাশ। তাদের কেউ কেউ প্রস্তাবিত নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর বিরোধিতাও শুরু করেছেন। সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু এই বিরোধিতার অগ্রভাগে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী এসব নেতা এখন স্বভাবতই স্টেট কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়াটাকে নিজেদের জন্য অসম্মানজনক মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আ ন ম এহছানুল হক মিলন অতীতে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন দীর্ঘদিন। এরপর ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে গিয়ে দলের মনোনয়নে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে নির্বাচন করে দেশের ইতিহাসে প্রথম প্রবাসী সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীকালে ২০০১ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। যুগান্তকারী নকল-বিরোধী আন্দোলনের জন্য তাঁর ভূমিকা দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জন করেন। বিগত কিছুকাল যাবত তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য মালশেয়শিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এ অবস্থায়ই কমিটি গঠনের জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনিও এক সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী ছিলেন। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)