নিউইয়র্ক ১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি নয় ॥ জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • / ৭৩৬ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র ব্যাপারে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ষ্টেট কমিটিগুলো করা হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি হবে না। তবে বাংলাদেশী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ষ্টেট কমিটি গঠন করা হবে। জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে। যাকে বলা হবে ‘ওভারসীস বিএনপি ইউএসএ চ্যাপ্টার’।
নিউইয়র্কের টাইম টিভি-কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল হক মিলন উপরোক্ত কথা বলেছেন। অতি সম্প্রতি এই সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। প্রায় এক ঘন্টার এই সাক্ষাৎকার টাইম টিভি’র রাত দশটার খবরে একাধিক পর্বে প্রচার করা হয়। উল্লেখ্য, এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বাংলাদেশে ফিরে যান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত হন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা চাঁদপুর জেলার কচুয়া থেকে একাধিকবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রথম আমলে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। খবর ইউএনএ’র।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রসঙ্গে এহসানুল হক মিলন বলেন, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ আর পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ষ্টেটগুলোতে বিএনপি’র ষ্টেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আমাদের টার্গেট ১৫টি কমিটি করা। ১৬তম কমিটি হবে কানেকটিকাট। ইতিমধ্যেই ৯টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ষ্টেট কমিটিগুলো করা হবে।
মূল কমিটি (যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি) বাদ দিয়ে আগে ষ্টেট কমিটি কেন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, এটি রাজনৈতিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। দেশে যেমন প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি, এরপর ইউনিয়ন কমিটি এবং থানা কমিটি গঠনের পর জেলা কমিটি গঠন করা হয়। জেলা কমিটিগুলো গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট কমিটি থাকলে এবং এই কমিটিগুলোর কাউন্সিলারগণ তাদের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি গঠন করতে পারতেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র কমিটি নেই। ২০১১ সালের ২৯ মে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তাই সেই সুযোগ আর নেই। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নিয়ে দলের ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা। তিনি বলেন, সবার মনে রাখা দরকার এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) কোন নির্বাচনী আসন নেই। এখানে মিছিল-মিটিং-জনসভার দরকার নেই। জাতীয়তাবাদী শ্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপানোর সুযোগ এবং প্রয়োজনও নেই। আমাদের দরকার শক্ত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। আমাদেরকে মোর ‘ইন্টেলেকচ্যুয়াল এভিনিউ’-তে যেতে হবে।
ষ্টেট কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতা-কর্মীরা দলকে সাহায্য করছেন। কিন্তু ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি হবে না। বাংলাদেশী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ষ্টেট কমিটি গঠন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নামে কোন কমিটি হবে না। জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে। যাকে বলা হবে ‘ওভারসীস বিএনপি ইউএসএ চ্যাপ্টার’। যার আন্ডারে থাকবে সকল ষ্টেট কমিটি। সরাসরি এমন কথাই বলে ষ্টেট কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি না হলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থান কি হবে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, তাদের ব্যাপারে এখনো ‘ক্লিয়ারলি কোন সিদ্ধান্ত হয়নি’। তারা সংশ্লিষ্ট ষ্টেটগুলোর কাউন্সিলর হতে পারেন। তাদের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি হতে পারে। এটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে এই কমিটিকেই যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র রাজনীতি সুপারভিশনের দায়িত্ব দিতে হবে এমন রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আমাদের (কেন্দ্র) নেই। এক্ষেত্রে ‘লিঁয়াজো কমিটি’ থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন এটা আমাদের চিন্তা-ভাবনা। এব্যাপারে তারেক রহমান সাহেব ক্লিলিয়ারলি কোন সিদ্ধান্ত নেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরোধীতাকারীদের প্রসঙ্গে এহসানুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আমার বিরোধীতা আমি এনজয় করছি। এই দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ কথা বলার অধিকার রাখেন, বিরোধীতা করতে পারেন। কিন্তু যারা আমার বিরোধীতা করছেন তারা সবশেষে কি বলছেন? তারা বলছেন ‘শহীদ জিয়া অমর হউক, বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ, দেশনায়ক তারেক রহমান জিন্দাবাদ’। তারা বলছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। আমিও তাই বলছি। এখানে বিরোধীতার কি আছে!
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সাথে কোন কথা হয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, আব্দুল লতিফ সম্রাট আর গিয়াস আহমেদ ছাড়া আর সবাইকে আমি কল (ফোন) করেছি। তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটির দাবীতে আন্দোলন করছি, আপনি ষ্টেট কমিটিগুলো করুন। আর সম্রাট-গিয়াসের সাথে কথা বলার আগেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের চিন্তা বাংলাদেশী স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়া। তারা বুঝতে পারছেন না যে, বিদেশী কমিটি করা হচ্ছে স্থানীয় পরিস্থিতির আলোকে সমন্বয় রেখে। এই জায়গায় তাদের ভুল ধারণা রয়েছে। ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি হবে না।
কবে নাগাদ নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, অন্য সব ষ্টেট কমিটি গঠিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক ষ্টেট কমিটি করা হবে। তিনি বলেন, আমার হেড (প্রধান) হচ্ছেন নিউইয়র্কে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বাকী কমিটিগুলো করার চেষ্টা করবেন। তিনি মনে করলে নিউইয়র্ক কমিটি করতে পারেন। তিনিই (খোকা) সুপ্রীম অথরিটি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে তাকে (খোকা) রিপোর্ট দেই, তিনি তা অনুমোদন করেন। চুড়ান্ত অনুমোদন করবে কেন্দ্র। তার (খোকা) পরামর্শ সকল ফিল্ডে যেতে হবে, অবজার্ভ করতে হবে এবং সঠিকভাবে কমিটি করতে হবে। আমি তাই করেছি মাত্র। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমি আমার কাজ ও দায়িত্বে ফেয়ার। আমার জব আমি কোনভাবেই স্যাবোট্যাজ করতে পারি না’।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি নয় ॥ জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে

প্রকাশের সময় : ০৮:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিউইয়র্ক: কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র ব্যাপারে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ষ্টেট কমিটিগুলো করা হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি হবে না। তবে বাংলাদেশী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ষ্টেট কমিটি গঠন করা হবে। জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে। যাকে বলা হবে ‘ওভারসীস বিএনপি ইউএসএ চ্যাপ্টার’।
নিউইয়র্কের টাইম টিভি-কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল হক মিলন উপরোক্ত কথা বলেছেন। অতি সম্প্রতি এই সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। প্রায় এক ঘন্টার এই সাক্ষাৎকার টাইম টিভি’র রাত দশটার খবরে একাধিক পর্বে প্রচার করা হয়। উল্লেখ্য, এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বাংলাদেশে ফিরে যান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত হন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা চাঁদপুর জেলার কচুয়া থেকে একাধিকবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রথম আমলে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। খবর ইউএনএ’র।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রসঙ্গে এহসানুল হক মিলন বলেন, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ আর পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ষ্টেটগুলোতে বিএনপি’র ষ্টেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আমাদের টার্গেট ১৫টি কমিটি করা। ১৬তম কমিটি হবে কানেকটিকাট। ইতিমধ্যেই ৯টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ষ্টেট কমিটিগুলো করা হবে।
মূল কমিটি (যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি) বাদ দিয়ে আগে ষ্টেট কমিটি কেন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, এটি রাজনৈতিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। দেশে যেমন প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি, এরপর ইউনিয়ন কমিটি এবং থানা কমিটি গঠনের পর জেলা কমিটি গঠন করা হয়। জেলা কমিটিগুলো গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট কমিটি থাকলে এবং এই কমিটিগুলোর কাউন্সিলারগণ তাদের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি গঠন করতে পারতেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র কমিটি নেই। ২০১১ সালের ২৯ মে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তাই সেই সুযোগ আর নেই। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নিয়ে দলের ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা। তিনি বলেন, সবার মনে রাখা দরকার এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) কোন নির্বাচনী আসন নেই। এখানে মিছিল-মিটিং-জনসভার দরকার নেই। জাতীয়তাবাদী শ্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপানোর সুযোগ এবং প্রয়োজনও নেই। আমাদের দরকার শক্ত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। আমাদেরকে মোর ‘ইন্টেলেকচ্যুয়াল এভিনিউ’-তে যেতে হবে।
ষ্টেট কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতা-কর্মীরা দলকে সাহায্য করছেন। কিন্তু ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি হবে না। বাংলাদেশী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ষ্টেট কমিটি গঠন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নামে কোন কমিটি হবে না। জেলা কমিটির মর্যাদায় ষ্টেট কমিটি থাকবে কেন্দ্রের সুপারভিশনে। যাকে বলা হবে ‘ওভারসীস বিএনপি ইউএসএ চ্যাপ্টার’। যার আন্ডারে থাকবে সকল ষ্টেট কমিটি। সরাসরি এমন কথাই বলে ষ্টেট কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি না হলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের অবস্থান কি হবে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, তাদের ব্যাপারে এখনো ‘ক্লিয়ারলি কোন সিদ্ধান্ত হয়নি’। তারা সংশ্লিষ্ট ষ্টেটগুলোর কাউন্সিলর হতে পারেন। তাদের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি হতে পারে। এটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে এই কমিটিকেই যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র রাজনীতি সুপারভিশনের দায়িত্ব দিতে হবে এমন রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আমাদের (কেন্দ্র) নেই। এক্ষেত্রে ‘লিঁয়াজো কমিটি’ থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন এটা আমাদের চিন্তা-ভাবনা। এব্যাপারে তারেক রহমান সাহেব ক্লিলিয়ারলি কোন সিদ্ধান্ত নেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরোধীতাকারীদের প্রসঙ্গে এহসানুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আমার বিরোধীতা আমি এনজয় করছি। এই দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ কথা বলার অধিকার রাখেন, বিরোধীতা করতে পারেন। কিন্তু যারা আমার বিরোধীতা করছেন তারা সবশেষে কি বলছেন? তারা বলছেন ‘শহীদ জিয়া অমর হউক, বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ, দেশনায়ক তারেক রহমান জিন্দাবাদ’। তারা বলছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’। আমিও তাই বলছি। এখানে বিরোধীতার কি আছে!
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সাথে কোন কথা হয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, আব্দুল লতিফ সম্রাট আর গিয়াস আহমেদ ছাড়া আর সবাইকে আমি কল (ফোন) করেছি। তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটির দাবীতে আন্দোলন করছি, আপনি ষ্টেট কমিটিগুলো করুন। আর সম্রাট-গিয়াসের সাথে কথা বলার আগেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের চিন্তা বাংলাদেশী স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়া। তারা বুঝতে পারছেন না যে, বিদেশী কমিটি করা হচ্ছে স্থানীয় পরিস্থিতির আলোকে সমন্বয় রেখে। এই জায়গায় তাদের ভুল ধারণা রয়েছে। ঢাকার আদলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি হবে না।
কবে নাগাদ নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র কমিটি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, অন্য সব ষ্টেট কমিটি গঠিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক ষ্টেট কমিটি করা হবে। তিনি বলেন, আমার হেড (প্রধান) হচ্ছেন নিউইয়র্কে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বাকী কমিটিগুলো করার চেষ্টা করবেন। তিনি মনে করলে নিউইয়র্ক কমিটি করতে পারেন। তিনিই (খোকা) সুপ্রীম অথরিটি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে তাকে (খোকা) রিপোর্ট দেই, তিনি তা অনুমোদন করেন। চুড়ান্ত অনুমোদন করবে কেন্দ্র। তার (খোকা) পরামর্শ সকল ফিল্ডে যেতে হবে, অবজার্ভ করতে হবে এবং সঠিকভাবে কমিটি করতে হবে। আমি তাই করেছি মাত্র। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমি আমার কাজ ও দায়িত্বে ফেয়ার। আমার জব আমি কোনভাবেই স্যাবোট্যাজ করতে পারি না’।