নিউইয়র্ক ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ট্যাক্স পরিশোধ না করায় এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে আইআরএস‘র গ্রেফতারি পরোয়ানা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৬৮৬ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: প্রকৃত আয় গোপন করে অনেকে ট্যাক্স ফাইল করে সরকার থেকে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করেন। কেউ কেউ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করা থেকেও বিরত থাকেন। সাময়িকভাবে আইআরএসের চোখে ফাঁকি দিতে পারলেও বেশিরভাগ সময়ে শেষ রক্ষা হয় না। কম ট্যাক্স ফাইল করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলেও এক সময় আইআরএস প্রকৃত সত্যটা খুঁজে বের করে ফেলে এবং সুদে-আসলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হয়।
ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাইল ও নির্ধারিত সময়ে না করলে এজন্য জরিমানা, সুদ এমনকি পরবর্তীকালে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। এ ধরনের বহু নজির প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রয়েছে। ব্যাংক লোন বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কখনো বাড়িতে হানা দেয় না। কিন্তু আইআরএস এর ব্যতিক্রম। তারা ট্যাক্সের জন্য সম্পত্তি ক্রোকের পাশাপাশি বাসায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করারও ভুড়ি ভুড়ি নজির রয়েছে।
সম্প্রতি স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান মাইকেল গ্রিমকে কর ফাঁকির জন্য দেড় লাখ ডলার জরিমানা করেছে আদালত। এই অর্থ ফেডারেল সরকারকে প্রদান করতে হবে।
গত ডিসেম্বরে কর ফাঁকির মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে। মামলার শুনানি শেষে গত মাসে গ্রিমকে আট মাসের কারাদ- দিয়েছিল আদালত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর ফাঁকির মোট অর্থ জমা দেয়ার বিনিময়ে তার কারাদ- মওকুফ করা হয়।
অপরদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্স অনাদায়ে সম্প্রতি মাসুদ আসিফ নামের এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইআরএস (ওয়ারেন্ট আইডি নং : ঊ-০২৫০৬০২৪০-ড০০১-১) ২০১০ সালে তার একটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্স ছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৮৪.১৩ ডলার। ২০১২ সালে অন্য আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্যাক্স বকেয়া পড়ে ৮২৯৩.৪৮ ডলার। উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ না করায় আইআরএস তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশী মাসুদ আসিফ আলবেনির ১৮৭ লার্ক স্ট্রিটে জুয়েল অফ ইন্ডিয়া নামে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালু করেন। এক সময় তা জমজমাট ব্যবসায়ে পরিণত হলেও তিনি তার ব্যবসায়ের কোনো ট্যাক্স পরিশোধ করেননি।
অপর দিকে তিনি ২০৬ কুয়েল স্ট্রিটে এশা ইনক নামে আরো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। দীর্ঘ সময়ে সে ব্যবসারও কোনো ট্যাক্স প্রদান করেননি। আইআরএস থেকে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮২৯৩.৪৮ ডলার ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য তাগিদপত্র পাঠালেও তিনি যথাসময়ে ট্যাক্সের সে অর্থ পরিশোধ করেননি।
এই অর্থ অনাদায়ী থাকায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। (ওয়ারেন্ট আইডি নং : ঊ-০২৫০৬০২৪০-ড০০১-১)।
উল্লেখ্য, দুই প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্সের পরিমাণ একত্রে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৯৩.৪৮ ডলারে। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ট্যাক্স পরিশোধ না করায় এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে আইআরএস‘র গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: প্রকৃত আয় গোপন করে অনেকে ট্যাক্স ফাইল করে সরকার থেকে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করেন। কেউ কেউ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করা থেকেও বিরত থাকেন। সাময়িকভাবে আইআরএসের চোখে ফাঁকি দিতে পারলেও বেশিরভাগ সময়ে শেষ রক্ষা হয় না। কম ট্যাক্স ফাইল করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলেও এক সময় আইআরএস প্রকৃত সত্যটা খুঁজে বের করে ফেলে এবং সুদে-আসলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হয়।
ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাইল ও নির্ধারিত সময়ে না করলে এজন্য জরিমানা, সুদ এমনকি পরবর্তীকালে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। এ ধরনের বহু নজির প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রয়েছে। ব্যাংক লোন বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কখনো বাড়িতে হানা দেয় না। কিন্তু আইআরএস এর ব্যতিক্রম। তারা ট্যাক্সের জন্য সম্পত্তি ক্রোকের পাশাপাশি বাসায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করারও ভুড়ি ভুড়ি নজির রয়েছে।
সম্প্রতি স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান মাইকেল গ্রিমকে কর ফাঁকির জন্য দেড় লাখ ডলার জরিমানা করেছে আদালত। এই অর্থ ফেডারেল সরকারকে প্রদান করতে হবে।
গত ডিসেম্বরে কর ফাঁকির মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে। মামলার শুনানি শেষে গত মাসে গ্রিমকে আট মাসের কারাদ- দিয়েছিল আদালত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর ফাঁকির মোট অর্থ জমা দেয়ার বিনিময়ে তার কারাদ- মওকুফ করা হয়।
অপরদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্স অনাদায়ে সম্প্রতি মাসুদ আসিফ নামের এক বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইআরএস (ওয়ারেন্ট আইডি নং : ঊ-০২৫০৬০২৪০-ড০০১-১) ২০১০ সালে তার একটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্স ছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৮৪.১৩ ডলার। ২০১২ সালে অন্য আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্যাক্স বকেয়া পড়ে ৮২৯৩.৪৮ ডলার। উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ না করায় আইআরএস তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশী মাসুদ আসিফ আলবেনির ১৮৭ লার্ক স্ট্রিটে জুয়েল অফ ইন্ডিয়া নামে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালু করেন। এক সময় তা জমজমাট ব্যবসায়ে পরিণত হলেও তিনি তার ব্যবসায়ের কোনো ট্যাক্স পরিশোধ করেননি।
অপর দিকে তিনি ২০৬ কুয়েল স্ট্রিটে এশা ইনক নামে আরো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। দীর্ঘ সময়ে সে ব্যবসারও কোনো ট্যাক্স প্রদান করেননি। আইআরএস থেকে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮২৯৩.৪৮ ডলার ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য তাগিদপত্র পাঠালেও তিনি যথাসময়ে ট্যাক্সের সে অর্থ পরিশোধ করেননি।
এই অর্থ অনাদায়ী থাকায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। (ওয়ারেন্ট আইডি নং : ঊ-০২৫০৬০২৪০-ড০০১-১)।
উল্লেখ্য, দুই প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ট্যাক্সের পরিমাণ একত্রে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৯৩.৪৮ ডলারে। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)