নিউইয়র্ক ১১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

‘জয়কে অপহরণ নয় ব্যাংক একাউন্টে অর্থের পরিমাণ খুঁজছিলেন রিজভি’

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০১৫
  • / ৪৩৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের চেষ্টা চালনো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ খোঁজার চেষ্টা চলছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চ পর্যায়ের এক নেতার নির্দেশে য্ক্তুরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপির নেতার ছেলে রিজভি আহমেদ সিজার এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিল। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন একজন মার্কিন নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবুরির বাসিন্দা ও কারাদন্ডাপ্ত রিজভির বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন গত ৭ মার্চ শনিবার দুপুরে (স্থানীয় সময়) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যেসব খবর বেরিয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ এফবিআই কাউকে অপহরণ করে না। তাছাড়া অপরণের মতো কোন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে তেমন একটা ঘটেনা। তার ছেলে কীভাবে এ মামলায় জড়িয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয়কে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত খবরটি আওয়ামী লীগের সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গেলেই দেখতে পাবেন সেখানে কোনো ব্যক্তির নাম কিংবা অপহরণের কথা উল্লেখ নেই। তাহলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কোথা থেকে এ তথ্য পেয়েছে?
মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংক একাউন্টে প্রচুর পরিমাণ অর্থ জমানো রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মাসেতুর দুর্নীতর ৬ মিলিয়ন ডলারও রয়েছে। জয়ের ব্যাংক একাউন্টের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ খোঁজার চেষ্টা করেছিল রিজভি। ওই সময় জয়ের ৫টি একাউন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এসব একাউন্টে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতার (নাম প্রকাশ না করে) নির্দেশে এবং তত্বাবধানে তার ছেলে রিজভি এ কাজে হাত দিয়েছিল। কিন্তু পরে ওই নেতা বেঈমানী করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ওই নেতাকে সবাই চেনেন, তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। সময় এলে তিনি বিএনপির ওই নেতার নাম ফাঁস করে দেবেন।
এদিকে, গত ৪ মার্চ মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মামলার খবরের সূত্র ধরে বিবিসি বাংলা গত ৭ মার্চ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষতি করার লক্ষ্যে এফবিআইএর এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার দায়ে দু’ব্যক্তিকে কারাদন্ড দিয়েছে একটি মার্কিন আদালত। দন্ডিত এই দুই ব্যক্তি হচ্ছেন বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত রিজভী আহমেদ এবং জোহানেস থেলার। তারা কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণীতে জানা যাচ্ছে, ‘বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির’ ক্ষতি করার জন্যই তার সম্পর্কে গোপন তথ্য বের করার পরিকল্পনা করেছিলেন মি. আহমেদ এবং মি. থেলার। ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে এই মামলা সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় নি। তবে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে- তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, রিজভী আহমেদকে ৪২ মাসের এবং জোহানেস খেলারকে ৩০ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় আরো বলা হয়, রিজভী আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি-সমর্থক জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার একজন নেতা। বলা হয়, মি. আহমেদ ও মি. থেলার পরস্পরের পরিচিত ছিলেন, এবং নিউ ইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন্সএ এফবিআইয়ের একজন সাবেক বিশেষ এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক ছিলেন মি. থেলারের একজন বন্ধু। ২০১৪ সালেই ঘুষ দেয়া এবং দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেন এই দুজন। তারা বলেন যে মি. লাস্টিক-রিজভী আহমেদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এফবিআইয়ের ভেতর থেকে গোপন তথ্য বের করে তাকে দিতে রাজী হয়েছিলেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত লাস্টিক ও খেলারের মধ্যে টেক্সট মেসেজ বিনিময় হয় – তাতে তারা কি ভাবে রিজভী আহমেদের কাছ থেকে আরো টাকা নেয়া যায় তা নিয়ে কথা বলেন। মি. লাস্টিকও এই মামলায় বিচারাধীন। তিনি দোষ স্বীকার করেছেন এবং আগামী ৩০ এপ্রিল তার দন্ড ঘোষণার কথা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

‘জয়কে অপহরণ নয় ব্যাংক একাউন্টে অর্থের পরিমাণ খুঁজছিলেন রিজভি’

প্রকাশের সময় : ০৮:০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের চেষ্টা চালনো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ খোঁজার চেষ্টা চলছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চ পর্যায়ের এক নেতার নির্দেশে য্ক্তুরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপির নেতার ছেলে রিজভি আহমেদ সিজার এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিল। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন একজন মার্কিন নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবুরির বাসিন্দা ও কারাদন্ডাপ্ত রিজভির বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন গত ৭ মার্চ শনিবার দুপুরে (স্থানীয় সময়) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যেসব খবর বেরিয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ এফবিআই কাউকে অপহরণ করে না। তাছাড়া অপরণের মতো কোন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে তেমন একটা ঘটেনা। তার ছেলে কীভাবে এ মামলায় জড়িয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয়কে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত খবরটি আওয়ামী লীগের সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গেলেই দেখতে পাবেন সেখানে কোনো ব্যক্তির নাম কিংবা অপহরণের কথা উল্লেখ নেই। তাহলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কোথা থেকে এ তথ্য পেয়েছে?
মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংক একাউন্টে প্রচুর পরিমাণ অর্থ জমানো রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মাসেতুর দুর্নীতর ৬ মিলিয়ন ডলারও রয়েছে। জয়ের ব্যাংক একাউন্টের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ খোঁজার চেষ্টা করেছিল রিজভি। ওই সময় জয়ের ৫টি একাউন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এসব একাউন্টে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতার (নাম প্রকাশ না করে) নির্দেশে এবং তত্বাবধানে তার ছেলে রিজভি এ কাজে হাত দিয়েছিল। কিন্তু পরে ওই নেতা বেঈমানী করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ওই নেতাকে সবাই চেনেন, তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। সময় এলে তিনি বিএনপির ওই নেতার নাম ফাঁস করে দেবেন।
এদিকে, গত ৪ মার্চ মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মামলার খবরের সূত্র ধরে বিবিসি বাংলা গত ৭ মার্চ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষতি করার লক্ষ্যে এফবিআইএর এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার দায়ে দু’ব্যক্তিকে কারাদন্ড দিয়েছে একটি মার্কিন আদালত। দন্ডিত এই দুই ব্যক্তি হচ্ছেন বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত রিজভী আহমেদ এবং জোহানেস থেলার। তারা কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণীতে জানা যাচ্ছে, ‘বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির’ ক্ষতি করার জন্যই তার সম্পর্কে গোপন তথ্য বের করার পরিকল্পনা করেছিলেন মি. আহমেদ এবং মি. থেলার। ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে এই মামলা সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় নি। তবে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে- তিনি হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, রিজভী আহমেদকে ৪২ মাসের এবং জোহানেস খেলারকে ৩০ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় আরো বলা হয়, রিজভী আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি-সমর্থক জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার একজন নেতা। বলা হয়, মি. আহমেদ ও মি. থেলার পরস্পরের পরিচিত ছিলেন, এবং নিউ ইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন্সএ এফবিআইয়ের একজন সাবেক বিশেষ এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক ছিলেন মি. থেলারের একজন বন্ধু। ২০১৪ সালেই ঘুষ দেয়া এবং দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেন এই দুজন। তারা বলেন যে মি. লাস্টিক-রিজভী আহমেদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এফবিআইয়ের ভেতর থেকে গোপন তথ্য বের করে তাকে দিতে রাজী হয়েছিলেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত লাস্টিক ও খেলারের মধ্যে টেক্সট মেসেজ বিনিময় হয় – তাতে তারা কি ভাবে রিজভী আহমেদের কাছ থেকে আরো টাকা নেয়া যায় তা নিয়ে কথা বলেন। মি. লাস্টিকও এই মামলায় বিচারাধীন। তিনি দোষ স্বীকার করেছেন এবং আগামী ৩০ এপ্রিল তার দন্ড ঘোষণার কথা রয়েছে।