নিউইয়র্ক ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জাতিসংঘে একুশে ফেব্রুয়ারী পালনের দাবী স্থায়ী প্রতিনিধি মোমেনের

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • / ৮৯২ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকেলে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং নিউইয়র্কস্থ শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
স্থায়ী মিশনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রথমে স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিল মোমেন শহীদ বেদীতে পুষ্পস্থবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও বিদেশি অতিথিবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে একুশের আলোচনায় জাতিসংঘ’সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশের অংশগ্রহণে আগামী বছর থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তরে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে আশা প্রকাশ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। তার এই আশার প্রতিফলন ঘটানোর আশ্বাস দিয়েছেন ইউনেস্কো, জাতিসংঘরে প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালদিপ, শ্রীলঙ্কা, হ্যাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও সিয়েরা লিয়নের স্থায়ী প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের যথাযোগ্য মূল্যায়নে সর্বাতœক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে জাতিসংঘের জন্য বড় গর্বের বলেও দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতিসংঘের ইনেস্কোর ডাইক্টেরস মিস. ম্যারি পল রোডিল, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান মিস ক্রিস্টিনা গ্যালাচ ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম-এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, জাতিসংঘে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার স্থায়ী প্রতিনিধি অমরিথ রোহান প্যারেরা, মালদিপের স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেদ সারির, পোল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি বোগাসলো উইন্ড, হাঙ্গেরির স্থায়ী প্রতিনিধি মিস. কাটালিন আন্না মারিয়া, সিয়েরা লিওনের স্থায়ী প্রতিনিধি বান্ধি ছিদি মিনাহ এবং উক্রেইনের স্থায়ী প্রতিনিধি আন্দ্রে টিসমাবালিক’সহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা। তারা প্রত্যেকেই আাগমী বছর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে মাসুদ বিন মোমেনর আশার প্রতিফল ঘটানোর পক্ষে মত দেন।
অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক পর্বে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালী সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশিত হয়।
বাংলাদেশ মিশন প্রেরীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও স্থানীয় বাঙালি কম্যুনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়।বিকেলে মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সূচনা করা হয়।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ স্থায়ী মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান ক্রিস্টিনা গায়াচ এবং পোলান্ড, মালদ্বীপ, সিয়েরা লিয়ন, শ্রীলঙ্কা ও হাঙ্গেরীর স্থায়ী প্রতিনিধি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাবৃন্দ সাড়িবদ্ধভাবে একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন আলোচনা পর্বের সূত্রপাত করেন। তিনি বিদেশী অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেয়ার লক্ষ্যে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তৃতায় বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালি জাতির আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, মাল্টিলিংগুয়ালিজমের ধারণাকে আরও এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির এ আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে মূল চেতনা হিসেবে কাজ করছে। প্রত্যেক বক্তাই নিজ নিজ মাতৃভাষা রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তারা বাংলাকে একটি সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইউনেস্কোর পরিচালক মেরি পাউলে রুডিল দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার দেয়া বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
পোলান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর মায়ের লেখা পলিশ ভাষায় ‘বাংলাদেশের নগরায়ন’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা সিংহলী ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
বিদেশী অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালি সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এই গ্রুপের সদস্যবৃন্দের বাংলা, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইংরেজী, স্পেনিশ, হিন্দী, গুজরাটী, ক্যাটলান, ওহাইয়ো, ফরাসী, রুশ, ইতালিয়ান, জার্মানসহ ১৩টি ভাষায় ঐক্য ও শান্তির বাণী পাঠ করার মধ্য দিয়ে বিদেশীদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।
পরে স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় বাঙালী কম্যুনিটির উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। বক্তাগণ বিভিন্ন আঙ্গিকে মহান ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তাঁরা প্রবাসী নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান। যাতে সরকারের রুপকল্প অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপর কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, সোনালী এক্সচেঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো, নিউইয়র্কস্থ বিভিন্ন জেলা সমিতি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

জাতিসংঘে একুশে ফেব্রুয়ারী পালনের দাবী স্থায়ী প্রতিনিধি মোমেনের

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকেলে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং নিউইয়র্কস্থ শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
স্থায়ী মিশনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রথমে স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিল মোমেন শহীদ বেদীতে পুষ্পস্থবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও বিদেশি অতিথিবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে একুশের আলোচনায় জাতিসংঘ’সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশের অংশগ্রহণে আগামী বছর থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তরে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে আশা প্রকাশ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। তার এই আশার প্রতিফলন ঘটানোর আশ্বাস দিয়েছেন ইউনেস্কো, জাতিসংঘরে প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালদিপ, শ্রীলঙ্কা, হ্যাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও সিয়েরা লিয়নের স্থায়ী প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের যথাযোগ্য মূল্যায়নে সর্বাতœক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে জাতিসংঘের জন্য বড় গর্বের বলেও দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতিসংঘের ইনেস্কোর ডাইক্টেরস মিস. ম্যারি পল রোডিল, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান মিস ক্রিস্টিনা গ্যালাচ ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম-এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, জাতিসংঘে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার স্থায়ী প্রতিনিধি অমরিথ রোহান প্যারেরা, মালদিপের স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেদ সারির, পোল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি বোগাসলো উইন্ড, হাঙ্গেরির স্থায়ী প্রতিনিধি মিস. কাটালিন আন্না মারিয়া, সিয়েরা লিওনের স্থায়ী প্রতিনিধি বান্ধি ছিদি মিনাহ এবং উক্রেইনের স্থায়ী প্রতিনিধি আন্দ্রে টিসমাবালিক’সহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা। তারা প্রত্যেকেই আাগমী বছর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে মাসুদ বিন মোমেনর আশার প্রতিফল ঘটানোর পক্ষে মত দেন।
অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক পর্বে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালী সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশিত হয়।
বাংলাদেশ মিশন প্রেরীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও স্থানীয় বাঙালি কম্যুনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়।বিকেলে মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপের থিম সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সূচনা করা হয়।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ স্থায়ী মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও মাল্টিলিংগুয়ালিজম এর সমন্বয়ক ক্যাথরিন পোলার্ড, আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল ও ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনের প্রধান ক্রিস্টিনা গায়াচ এবং পোলান্ড, মালদ্বীপ, সিয়েরা লিয়ন, শ্রীলঙ্কা ও হাঙ্গেরীর স্থায়ী প্রতিনিধি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাবৃন্দ সাড়িবদ্ধভাবে একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন আলোচনা পর্বের সূত্রপাত করেন। তিনি বিদেশী অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক রুপ দেয়ার লক্ষ্যে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিদেশী অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তৃতায় বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালি জাতির আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, মাল্টিলিংগুয়ালিজমের ধারণাকে আরও এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির এ আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে মূল চেতনা হিসেবে কাজ করছে। প্রত্যেক বক্তাই নিজ নিজ মাতৃভাষা রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তারা বাংলাকে একটি সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইউনেস্কোর পরিচালক মেরি পাউলে রুডিল দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার দেয়া বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
পোলান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর মায়ের লেখা পলিশ ভাষায় ‘বাংলাদেশের নগরায়ন’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা সিংহলী ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
বিদেশী অতিথিদের অংশগ্রহণে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেন শ্রী চিন্ময় বোধি গ্রুপ। এই গ্রুপের পনের জন বিদেশী শিল্পী বাঙালি সাজে সেজে বাংলায় তিনটি প্রার্থনা ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এই গ্রুপের সদস্যবৃন্দের বাংলা, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ইংরেজী, স্পেনিশ, হিন্দী, গুজরাটী, ক্যাটলান, ওহাইয়ো, ফরাসী, রুশ, ইতালিয়ান, জার্মানসহ ১৩টি ভাষায় ঐক্য ও শান্তির বাণী পাঠ করার মধ্য দিয়ে বিদেশীদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।
পরে স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় বাঙালী কম্যুনিটির উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। বক্তাগণ বিভিন্ন আঙ্গিকে মহান ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তাঁরা প্রবাসী নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান। যাতে সরকারের রুপকল্প অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপর কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, সোনালী এক্সচেঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো, নিউইয়র্কস্থ বিভিন্ন জেলা সমিতি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।