নিউইয়র্ক ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ক্লান্ত নেতা-কর্মী : সংবর্ধনা সভার অনিয়মে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মাথা চাড়া

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৬১৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন হয়ে দেশে ফিরেছেন। এই অধিবেশনে যোগদানের জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক আগমন করেন এবং ১ অক্টোবর বৃহষ্প্রতিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর আট দিনের নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শত-সহস্র নেতা-কর্মীর দিন-রাতের কাজ আর ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে যাওয়ার পর এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত দলীয় নেতা-কর্মী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সর্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনা সভা’য় দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এনিয়ে সভাস্থলেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন একাধিক নেতা-কর্মী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা লীগের মধ্যকার দীর্ঘ দিনের। এছাড়াও দ্বন্দ্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আর নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যকার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে দলের বৃহত্তর স্বার্থে দল ও সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিরোধ সাময়িকভাবে ছাড়া থাকলেও নেত্রী নিউইয়র্ক ত্যাগের পর তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ভাষণ দান ছাড়াও সাধারণ অধিবেশনের অন্যান্য কর্মসূচীতে যোগদানের পর ২৭ সেপ্টেম্বর প্রাধানমন্ত্রীর সম্মানে নিউইয়র্কের হিলটন হোটেলে সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আর কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক ষ্টেট ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। সভায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ সহ আর কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের কোন নেতা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় বক্তাদের তালিকা যতই কমতে থাকে এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে এই ক্ষোভের বহি: প্রকাশ ঘটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণ শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করার পর। মঞ্চের সামনে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের একাংশের নেতা-কর্মী সহ যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ আর কুইন্স আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। অপরদিকে প্রায় একই সময়ে যুবলীগের কতিপয় বিক্ষুব্ধ কর্মী একটি অঙ্গরাজ্যের আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার উপর চড়াও হওয়ার উপক্রম হলে যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পর যুবলীগের কর্মীরা আবারো হৈ-চৈ করে এবং হিলটন হোটেলের বলরুমে হাতাহাতির উপক্রম হয়। এখানেও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক ত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে রিলাক্স সময় অতিবাহিত করছেন। গেলো সপ্তাহে তো নয়ই, এই সপ্তাহেও আওয়ামী লীগের কোন সভা-সমাবেশ বা নতুন কোন কর্মসূচী নেই। অথচ গত এক মাস ধরে দলের নেতা-কর্মীদের সভা-সমাবেশের অন্ত ছিলো না। দলীয় নেত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফল করতে অনেকেই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, বৈঠক করেছেন। কেউ কেউ কাজ থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েও সময় দিয়েছেন। এখন আবার সবাই কাজে ফিরেছেন। পাশাপাশি চলছে সময়-সুযোগে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর সফর সঙ্গী মন্ত্রী আর দলীয় নেতাদের সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা। সেই সাথে চলছে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর আর দলের কর্মকান্ডের মূল্যায়ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সী, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, মিশিগান, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা প্রভৃতি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের কমপক্ষে দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর বিশেষ করে সংবর্ধনা সভা সফল করতে বিগত একমাস নিরলসভাবে সক্রিয় ছিলেন দলীয় সভা-সভাবেশ নিয়ে। শুধু সময় ব্যয়ই নয়, দলের জন্য অর্থ দিয়েও সাহায্য করেছেন তারা। বিগত তিন বছরের মতো এবারও এক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ক্লান্ত নেতা-কর্মী : সংবর্ধনা সভার অনিয়মে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মাথা চাড়া

প্রকাশের সময় : ১১:১৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০১৫

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন হয়ে দেশে ফিরেছেন। এই অধিবেশনে যোগদানের জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক আগমন করেন এবং ১ অক্টোবর বৃহষ্প্রতিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর আট দিনের নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শত-সহস্র নেতা-কর্মীর দিন-রাতের কাজ আর ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে যাওয়ার পর এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত দলীয় নেতা-কর্মী। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সর্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনা সভা’য় দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এনিয়ে সভাস্থলেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন একাধিক নেতা-কর্মী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা লীগের মধ্যকার দীর্ঘ দিনের। এছাড়াও দ্বন্দ্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আর নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যকার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে দলের বৃহত্তর স্বার্থে দল ও সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিরোধ সাময়িকভাবে ছাড়া থাকলেও নেত্রী নিউইয়র্ক ত্যাগের পর তা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ভাষণ দান ছাড়াও সাধারণ অধিবেশনের অন্যান্য কর্মসূচীতে যোগদানের পর ২৭ সেপ্টেম্বর প্রাধানমন্ত্রীর সম্মানে নিউইয়র্কের হিলটন হোটেলে সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আর কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক ষ্টেট ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। সভায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ সহ আর কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের কোন নেতা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় বক্তাদের তালিকা যতই কমতে থাকে এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে এই ক্ষোভের বহি: প্রকাশ ঘটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণ শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করার পর। মঞ্চের সামনে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের একাংশের নেতা-কর্মী সহ যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ আর কুইন্স আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। অপরদিকে প্রায় একই সময়ে যুবলীগের কতিপয় বিক্ষুব্ধ কর্মী একটি অঙ্গরাজ্যের আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার উপর চড়াও হওয়ার উপক্রম হলে যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পর যুবলীগের কর্মীরা আবারো হৈ-চৈ করে এবং হিলটন হোটেলের বলরুমে হাতাহাতির উপক্রম হয়। এখানেও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক ত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে রিলাক্স সময় অতিবাহিত করছেন। গেলো সপ্তাহে তো নয়ই, এই সপ্তাহেও আওয়ামী লীগের কোন সভা-সমাবেশ বা নতুন কোন কর্মসূচী নেই। অথচ গত এক মাস ধরে দলের নেতা-কর্মীদের সভা-সমাবেশের অন্ত ছিলো না। দলীয় নেত্রীর নিউইয়র্ক সফর সফল করতে অনেকেই নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, বৈঠক করেছেন। কেউ কেউ কাজ থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েও সময় দিয়েছেন। এখন আবার সবাই কাজে ফিরেছেন। পাশাপাশি চলছে সময়-সুযোগে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর সফর সঙ্গী মন্ত্রী আর দলীয় নেতাদের সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা। সেই সাথে চলছে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর আর দলের কর্মকান্ডের মূল্যায়ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সী, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, মিশিগান, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা প্রভৃতি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের কমপক্ষে দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর বিশেষ করে সংবর্ধনা সভা সফল করতে বিগত একমাস নিরলসভাবে সক্রিয় ছিলেন দলীয় সভা-সভাবেশ নিয়ে। শুধু সময় ব্যয়ই নয়, দলের জন্য অর্থ দিয়েও সাহায্য করেছেন তারা। বিগত তিন বছরের মতো এবারও এক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)