নিউইয়র্ক ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান ॥ ‘আই অ্যাম মুসলিম টু’- সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০১৬
  • / ৮৪৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে এবটি নাইট ক্লাবে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নিউইয়র্কের সর্বস্তরের অভিবাসীরা সমাবেশ করেছে। সভায় বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্মিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোন ধরণের সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সমাবেশে সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম ‘আই অ্যাম মুসলিম টু’ প্লাকার্ড হাতে অংশ নেন।
সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ ডাইভার সিটি প্লাজায় ১২ জুন রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সকল ধর্ম ও বর্ণে বাংলাদেশী-আমেরিকানসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা অংশ নেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ড্রম নিজেই। ফ্লোরিডার সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিটি কাউন্সিলের স্পিকার মেলিসা মার্ক ভিভেরিটো, পাবলিক অ্যাডভোকেট লেটিশিয়া জেমস, সিটি কাউন্সিলের মেজরিটি লিডার জেমি ভ্যান বার্নার, সিটি কম্পট্রলার স্কট স্ট্রিঙ্গার, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জেইমস সেন্ডার্স, হোজে প্যারাল্টা ও টবিম্যান ইউস্কি, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল ডেকার, মুসলিম কমিউনিটি লিডার আলী নাজমি, মোহাম্মদ আমিন, বেসরকারি সংস্থা সুখী’র সভাপতি আগা সালেহ, কমিউনিটি লিডার এটর্নি মঈন চৌধুরী, ইমাম কাজী কাইয়ুম, মূলধারার রাজনীতিবিদ বাংলাদেশী-আমেরিকান মঞ্জুর চৌধুরী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আজিজুল হক খোকন প্রমুখ।
সমাবেশে সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম নিজেকে একজন মুসলিম দাবী করে বলেন, ফ্লোরিডার সন্ত্রাসী ঘটনায় হত্যাকারী একজন মুসলিম হলেও তার দায় মুসলিম কমিউনিটি বহন করবে না। আমরা কেউ এই হত্যাকান্ড মেনে নিতে পারি না।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অরল্যান্ডোর নৃশংস হামলা মানব সভ্যতা আর আমেরিকার ইতিহাসে একটি জঘন্য হামলা। বক্তারা বলেন, এই হামলার সঙ্গে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠী জড়িত নয়, একক ব্যক্তিই এই হামলার জন্য দায়ী। কোন ধর্মই মানুষ হত্যার কথা বলেনি। যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাদের কোন ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, দেশ নেই, জাতি নেই। তাদের একটাই পরিচয়, তারা সন্ত্রাসী। বক্তাদের কেই কেউ বলেন, হত্যাকারী বন্দুকধারী নামে মুসলিম হলেও সে সমকামীদের প্রতি ঘৃণা থেকেই মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তারপরও মুসিলিম কমিউনিটিসহ এমন হত্যাকান্ড কেউ সমর্থণ করে না।
বক্তারা বলেন, অরল্যান্ডোর সন্ত্রাসী এবং বর্বরোচিত হামলা মুসলিম, খ্রিস্টান ও জুইসসহ সকল ধর্মের মানুষকে চরমভাবে আঘাত করেছে। ঐক্যবদ্ধ থেকে যেকোন সন্ত্রাসী ঘটনা প্রতিহত করতে হবে।
বক্তাদের কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবাধে অস্ত্র বিক্রি আইনেরও সমালোচনা করেন। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন- আর কত প্রাণ গেলে অবাধে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আইন করে অবাধে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহবান জানান।
সমাবেশে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে হতাহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর একটি নাইট ক্লাবে বর্বরোচিত হামলা চালায় ওমর মতিন নামের এক যুবক। সে আফগানিস্থান বংশোদ্ভূত এবং তার জন্ম নিউইয়র্কে। এই ঘটনায় ৫০ জন প্রাণ হারায় এবং অন্তত ৫৩ জন আহত হয়। ঘটনার পরে পুলিশের গুলিতে হত্যাকারী ওমর ফারুক নিহত হয়। আরো উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৯/১১-এর মর্মান্তিক ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক-এর সৌজন্যে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান ॥ ‘আই অ্যাম মুসলিম টু’- সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল

প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন ২০১৬

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে এবটি নাইট ক্লাবে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নিউইয়র্কের সর্বস্তরের অভিবাসীরা সমাবেশ করেছে। সভায় বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্মিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোন ধরণের সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সমাবেশে সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম ‘আই অ্যাম মুসলিম টু’ প্লাকার্ড হাতে অংশ নেন।
সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ ডাইভার সিটি প্লাজায় ১২ জুন রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সকল ধর্ম ও বর্ণে বাংলাদেশী-আমেরিকানসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা অংশ নেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ড্রম নিজেই। ফ্লোরিডার সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিটি কাউন্সিলের স্পিকার মেলিসা মার্ক ভিভেরিটো, পাবলিক অ্যাডভোকেট লেটিশিয়া জেমস, সিটি কাউন্সিলের মেজরিটি লিডার জেমি ভ্যান বার্নার, সিটি কম্পট্রলার স্কট স্ট্রিঙ্গার, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জেইমস সেন্ডার্স, হোজে প্যারাল্টা ও টবিম্যান ইউস্কি, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল ডেকার, মুসলিম কমিউনিটি লিডার আলী নাজমি, মোহাম্মদ আমিন, বেসরকারি সংস্থা সুখী’র সভাপতি আগা সালেহ, কমিউনিটি লিডার এটর্নি মঈন চৌধুরী, ইমাম কাজী কাইয়ুম, মূলধারার রাজনীতিবিদ বাংলাদেশী-আমেরিকান মঞ্জুর চৌধুরী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আজিজুল হক খোকন প্রমুখ।
সমাবেশে সিটি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম নিজেকে একজন মুসলিম দাবী করে বলেন, ফ্লোরিডার সন্ত্রাসী ঘটনায় হত্যাকারী একজন মুসলিম হলেও তার দায় মুসলিম কমিউনিটি বহন করবে না। আমরা কেউ এই হত্যাকান্ড মেনে নিতে পারি না।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অরল্যান্ডোর নৃশংস হামলা মানব সভ্যতা আর আমেরিকার ইতিহাসে একটি জঘন্য হামলা। বক্তারা বলেন, এই হামলার সঙ্গে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠী জড়িত নয়, একক ব্যক্তিই এই হামলার জন্য দায়ী। কোন ধর্মই মানুষ হত্যার কথা বলেনি। যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাদের কোন ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, দেশ নেই, জাতি নেই। তাদের একটাই পরিচয়, তারা সন্ত্রাসী। বক্তাদের কেই কেউ বলেন, হত্যাকারী বন্দুকধারী নামে মুসলিম হলেও সে সমকামীদের প্রতি ঘৃণা থেকেই মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তারপরও মুসিলিম কমিউনিটিসহ এমন হত্যাকান্ড কেউ সমর্থণ করে না।
বক্তারা বলেন, অরল্যান্ডোর সন্ত্রাসী এবং বর্বরোচিত হামলা মুসলিম, খ্রিস্টান ও জুইসসহ সকল ধর্মের মানুষকে চরমভাবে আঘাত করেছে। ঐক্যবদ্ধ থেকে যেকোন সন্ত্রাসী ঘটনা প্রতিহত করতে হবে।
বক্তাদের কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবাধে অস্ত্র বিক্রি আইনেরও সমালোচনা করেন। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন- আর কত প্রাণ গেলে অবাধে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আইন করে অবাধে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহবান জানান।
সমাবেশে প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে হতাহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর একটি নাইট ক্লাবে বর্বরোচিত হামলা চালায় ওমর মতিন নামের এক যুবক। সে আফগানিস্থান বংশোদ্ভূত এবং তার জন্ম নিউইয়র্কে। এই ঘটনায় ৫০ জন প্রাণ হারায় এবং অন্তত ৫৩ জন আহত হয়। ঘটনার পরে পুলিশের গুলিতে হত্যাকারী ওমর ফারুক নিহত হয়। আরো উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৯/১১-এর মর্মান্তিক ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক-এর সৌজন্যে।