নিউইয়র্ক ১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ইমাম আলাউদ্দিনের পর তারা মিয়াও চলে গেলেন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৬
  • / ৬৫১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশী অধ্যুষিত ওজনপার্কের লিবার্টি এভিনিউর ও ৭৯ স্ট্রীটের কোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তের গুলিতে স্থানীয় আল ফোরকান মসজিদের ইমাম ও খতিব আলাউদ্দিন আকুনজি’র (৫৫) মত্যুর পর পরই হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন আরেক বাংলাদেশী তারা মিয়া (৬৪)। ঘটনার সময় তিনি মসুল্লীদের সাথে মসজিদ থেকে জোহরের নাম আদায় করে ইমাম আলাউদ্দিনের সাথেই বাসার দিকে ফিরছিলেন। দুর্বৃত্তের গুলিতে ইমাম ঘটনাস্থলেই নিহত হওয়ার পর তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কয়েক ঘন্টা পর তারা মিয়াও মারা যান বলে তার প্রতিবেশীরা জানান।
উল্লেখ্য, ১৩ আগষ্ট শনিবার বেলা একটা ৫০ মিনিটে স্থানীয় আল ফোরকান মসজিদ সংলগ্ন লিবারটি এভিনিউ ও ৭৯ ষ্ট্রীট-এর কোনায় মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ড ঘটে। দুই দূর্বৃত্তের গুলিতে প্রথমে ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি ঘটনাস্থলেই নিহত এবং তারা মিয়া গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় তারা মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিলেন। অভিযোগ তারা হেইট ক্রাইম-এর শিকার হয়েছেন।
নিহত তারা মিয়ার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের গ্রাম জাঙ্গালহাটা গ্রামে। তার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে শুধু লেচু বেগম ও মীনা বেগম এই দুই বোনই তারা মিয়ার বড়। ছোট চার ভাই যথাক্রমে চান মিয়া, মনির মিয়া, মাসুক মিয়া ও বাবুল মিয়া আর এক বোন রীনা বেগম। ছোট ভাই চান মিয়া অবশ্য মারা গেছেন আগেই। বাবা কাজী ইজ্জাদ আলী বৃটিশ আমলে জাহাজে চাকরি করতেন। বাবার কাছ থেকে দেশ-বিদেশের গল্প শুনে কৈশোরেই দেশের সীমানা পেরোনোর স্বপ্ন ছিল তারা মিয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করেই তার যুক্তরাষ্ট্রে আসা। স্ত্রী রহিমা বেগম, ২ মেয়ে রুনা বেগম ও মাসুমা বেগম এবং একমাত্র ছেলে শিবলুকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন নিউইয়র্কের ওজনপার্কে। বড় দুই মেয়ে হেলেন বেগম ও নাসিমা বেগমের আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে থেকে যান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে দেশে গিয়ে তৃতীয় মেয়ে রুনার বিয়ে দেন। ইচ্ছে ছিল ছোট মেয়েকেও বিয়ে দিতে শিগগিরই আবার দেশে যাবেন। তার সে ইচ্ছে আর পূরণ হলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ইমাম আলাউদ্দিনের পর তারা মিয়াও চলে গেলেন

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৬

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশী অধ্যুষিত ওজনপার্কের লিবার্টি এভিনিউর ও ৭৯ স্ট্রীটের কোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তের গুলিতে স্থানীয় আল ফোরকান মসজিদের ইমাম ও খতিব আলাউদ্দিন আকুনজি’র (৫৫) মত্যুর পর পরই হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন আরেক বাংলাদেশী তারা মিয়া (৬৪)। ঘটনার সময় তিনি মসুল্লীদের সাথে মসজিদ থেকে জোহরের নাম আদায় করে ইমাম আলাউদ্দিনের সাথেই বাসার দিকে ফিরছিলেন। দুর্বৃত্তের গুলিতে ইমাম ঘটনাস্থলেই নিহত হওয়ার পর তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কয়েক ঘন্টা পর তারা মিয়াও মারা যান বলে তার প্রতিবেশীরা জানান।
উল্লেখ্য, ১৩ আগষ্ট শনিবার বেলা একটা ৫০ মিনিটে স্থানীয় আল ফোরকান মসজিদ সংলগ্ন লিবারটি এভিনিউ ও ৭৯ ষ্ট্রীট-এর কোনায় মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ড ঘটে। দুই দূর্বৃত্তের গুলিতে প্রথমে ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি ঘটনাস্থলেই নিহত এবং তারা মিয়া গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় তারা মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিলেন। অভিযোগ তারা হেইট ক্রাইম-এর শিকার হয়েছেন।
নিহত তারা মিয়ার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের গ্রাম জাঙ্গালহাটা গ্রামে। তার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে শুধু লেচু বেগম ও মীনা বেগম এই দুই বোনই তারা মিয়ার বড়। ছোট চার ভাই যথাক্রমে চান মিয়া, মনির মিয়া, মাসুক মিয়া ও বাবুল মিয়া আর এক বোন রীনা বেগম। ছোট ভাই চান মিয়া অবশ্য মারা গেছেন আগেই। বাবা কাজী ইজ্জাদ আলী বৃটিশ আমলে জাহাজে চাকরি করতেন। বাবার কাছ থেকে দেশ-বিদেশের গল্প শুনে কৈশোরেই দেশের সীমানা পেরোনোর স্বপ্ন ছিল তারা মিয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করেই তার যুক্তরাষ্ট্রে আসা। স্ত্রী রহিমা বেগম, ২ মেয়ে রুনা বেগম ও মাসুমা বেগম এবং একমাত্র ছেলে শিবলুকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন নিউইয়র্কের ওজনপার্কে। বড় দুই মেয়ে হেলেন বেগম ও নাসিমা বেগমের আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে থেকে যান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে দেশে গিয়ে তৃতীয় মেয়ে রুনার বিয়ে দেন। ইচ্ছে ছিল ছোট মেয়েকেও বিয়ে দিতে শিগগিরই আবার দেশে যাবেন। তার সে ইচ্ছে আর পূরণ হলো।