নিউইয়র্ক ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়া জরুরী : জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৬৩৮ বার পঠিত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া এবং তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা জরুরী। এক্ষেত্রে আইনও সংশোধন করা উচিত।’ ১ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টের রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
বাসস’র খবরে বলা হয়: প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। এখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যখন হিসাব করা হয় তখন দলের নামেই হিসাব করা হয়, কোন দল কতটাতে হারলো, কতটাতে জিতল, কোন দল কতটা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পেলো, এভাবেই হিসাব করা হয়। আবার এখানে একটা জবাবদিহিতার বিষয়ও রয়েছে। যদি দলীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে তাহলে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কি কি কাজ করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু তাদের যেহেতু দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় না, সেহেতু তারা খারাপ কোন কাজ করলেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকে না। অথচ বদনামটা দলের নামেই চলে আসে। তারা যে কর্মকান্ড করেন তা দলের নামেই হয়। সে হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো জাতীয় নির্বাচনের মতো দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়ে দলীয়ভাবেই হওয়া উচিত। তাহলে আরও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন এবং আমি নিজেও মনে করি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়, সেভাবেই হওয়া উচিত। ওই সব দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। ইংল্যান্ডেও কাউন্সিলর ও মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি পদে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনগুলো সংশোধন করে নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ দলীয় ব্যানারে যাতে হয় এবং সেখানে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ যাতে থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলা সবার কর্তব্য, এই আইনের যাতে কোন ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
জাতীয় পাটির্র সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আসলে বিএনপি যে কি চাচ্ছে, এটা বোধগম্য নয়। মানুষ খুন করা, বাসে, গাড়িতে, রেলগাড়িতে, লঞ্চে আগুন দেয়া বা রেল লাইন উপড়ে ফেলা এসব অপকর্মগুলো তারা যখন করে তখন তাদের কি জনগণের কথা মনে থাকে না? নিজেদের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসাত্মক ও জঙ্গি কার্যকলাপ করছে। তারা নির্বাচন করবেন কি করবেন না, সেই দ্বিধাদ্বন্ধে কিছুদিন ভোগেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অনেক দাবি করে খুনাখুনী-ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে তারা নেমেছেন। এটা শুধু এই জানুয়ারী মাসে করেছে তা নয়। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা দেড়শ’ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে। কোরআন শরীফে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা এমন কোথাও নেই যেখানে তারা আগুন দেয়নি। রাস্তা কেটেছে, গাছ কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করেছে। তারপরেও তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বলেও তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এত কিছুর পরেও যদি তারা পিছু হটার কৌশল খুঁজে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে সুর তুলে তাহলে তাদের দৃষ্টিতে কোনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটা আসলে বোধগম্য নয়। তাদের এই সুরের পিছনে কোন বেসুর বাজে এটাই বোঝা মুশকিল।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে নির্বাচন করার জন্য যারাই প্রার্থী হচ্ছেন তাদের জন্য সকল সুযোগ রয়েছে। এখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গ বেগম খালেদা জিয়া: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টের কোনো রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মনিরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইন ও নিয়ম মানি, খালেদা জিয়া আইনও মানেন না, নিয়মও মানেন না, তিনি কিছুই মানেন না। আমরা আইন দ্বারা চলি এবং আইন রক্ষা করি। যেহেতু সংসদে আমরা আইন প্রণয়ন করি, সেহেতু আইন রক্ষা করাও আমাদের কর্তব্য। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন যা বলবে, তাই করা হবে। আইনানুগভাবে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং আইন যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে সিদ্ধান্ত মেনেই আমরা চলবো। বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টে কোনো রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আইন ভঙ্গ করছেন বলেতো আমরা তা করতে পারি না। সরকারের সব সময় লক্ষ্য থাকবে আইন দ্বারা দেশবাসী যাতে সুরক্ষিত থাকে।’
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বোধ হয় দেশের স্বাধীনতাই চাননি। পরাজিত শত্রুর দোসর হিসেবে বিএনপি নেত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হানাদার পাকিস্তান বাহিনী যেমন পোড়া মাটি নীতি গ্রহণ করে এদেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট চালিয়েছিল। আগুন দিয়ে মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনিও ঠিক একই পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিরা যেমন জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে, তেমনি তিনিও একই তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার আন্দোলনের সাথে জনসম্পৃক্ততা একেবারেই নেই। বরং দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ করাই মানুষ তার হরতাল-অবরোধ প্রত্যাখ্যান করে সাহসিকতার সাথে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে। এজন্য তিনি দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এভাবেই জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিএনএফ’র সদস্য এসএম আবুল কালাম আজাদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তাই করা হচ্ছে। একজন আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়, আর আমরা রক্ষা করি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের মানুষের জন্য তার যে দরদ থাকা প্রয়োজন তার মধ্যে তা নেই। জনগণের সেবা করাই যদি রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি কিভাবে মানুষ পোড়াচ্ছেন। মানুষ পুড়িয়ে, দেশে ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি কি পাচ্ছেন?
স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি তৎপরতা দমনে পুলিশ, র‌্যাব আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থা জনগণের সহযোগিতায় নিয়ে কাজ করছেন। জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি তৎপরতায় যারা নিহত ও আহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যে কৃষকের যদি কোন ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে সরকার অবশ্যই তা দেখবে। তবে সরকার দেশের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও কৃষকের কাছে সার, বীজ, সেচসহ সব উপকরণ সময়মত পৌঁছে দিয়েছে। বর্গা চাষীদের স্বল্প সুদে বিনা জামানতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য সরকার ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করেছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অতএব বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত আন্দোলনে কৃষকের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও কৃষকের জন্য যা যা প্রয়োজন অতীতের মতো ভবিষ্যতে করা হবে।
সরকারি দলের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে বিগত ৮৫ দিনে ১৩০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যার অধিকাংশই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া দুই হাজারের বেশি যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ৩৫ দফায় ট্রেনে নাশকতা হয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ ছাত্রছাত্রী যথাসময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়া জরুরী : জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া এবং তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা জরুরী। এক্ষেত্রে আইনও সংশোধন করা উচিত।’ ১ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টের রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
বাসস’র খবরে বলা হয়: প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। এখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যখন হিসাব করা হয় তখন দলের নামেই হিসাব করা হয়, কোন দল কতটাতে হারলো, কতটাতে জিতল, কোন দল কতটা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পেলো, এভাবেই হিসাব করা হয়। আবার এখানে একটা জবাবদিহিতার বিষয়ও রয়েছে। যদি দলীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে তাহলে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কি কি কাজ করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু তাদের যেহেতু দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় না, সেহেতু তারা খারাপ কোন কাজ করলেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকে না। অথচ বদনামটা দলের নামেই চলে আসে। তারা যে কর্মকান্ড করেন তা দলের নামেই হয়। সে হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো জাতীয় নির্বাচনের মতো দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়ে দলীয়ভাবেই হওয়া উচিত। তাহলে আরও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন এবং আমি নিজেও মনে করি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়, সেভাবেই হওয়া উচিত। ওই সব দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। ইংল্যান্ডেও কাউন্সিলর ও মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি পদে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনগুলো সংশোধন করে নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ দলীয় ব্যানারে যাতে হয় এবং সেখানে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ যাতে থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলা সবার কর্তব্য, এই আইনের যাতে কোন ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
জাতীয় পাটির্র সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আসলে বিএনপি যে কি চাচ্ছে, এটা বোধগম্য নয়। মানুষ খুন করা, বাসে, গাড়িতে, রেলগাড়িতে, লঞ্চে আগুন দেয়া বা রেল লাইন উপড়ে ফেলা এসব অপকর্মগুলো তারা যখন করে তখন তাদের কি জনগণের কথা মনে থাকে না? নিজেদের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসাত্মক ও জঙ্গি কার্যকলাপ করছে। তারা নির্বাচন করবেন কি করবেন না, সেই দ্বিধাদ্বন্ধে কিছুদিন ভোগেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অনেক দাবি করে খুনাখুনী-ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে তারা নেমেছেন। এটা শুধু এই জানুয়ারী মাসে করেছে তা নয়। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা দেড়শ’ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে। কোরআন শরীফে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা এমন কোথাও নেই যেখানে তারা আগুন দেয়নি। রাস্তা কেটেছে, গাছ কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করেছে। তারপরেও তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বলেও তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এত কিছুর পরেও যদি তারা পিছু হটার কৌশল খুঁজে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে সুর তুলে তাহলে তাদের দৃষ্টিতে কোনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটা আসলে বোধগম্য নয়। তাদের এই সুরের পিছনে কোন বেসুর বাজে এটাই বোঝা মুশকিল।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে নির্বাচন করার জন্য যারাই প্রার্থী হচ্ছেন তাদের জন্য সকল সুযোগ রয়েছে। এখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গ বেগম খালেদা জিয়া: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টের কোনো রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মনিরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইন ও নিয়ম মানি, খালেদা জিয়া আইনও মানেন না, নিয়মও মানেন না, তিনি কিছুই মানেন না। আমরা আইন দ্বারা চলি এবং আইন রক্ষা করি। যেহেতু সংসদে আমরা আইন প্রণয়ন করি, সেহেতু আইন রক্ষা করাও আমাদের কর্তব্য। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন যা বলবে, তাই করা হবে। আইনানুগভাবে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং আইন যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে সিদ্ধান্ত মেনেই আমরা চলবো। বেগম খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোর্টে কোনো রায় এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আইন ভঙ্গ করছেন বলেতো আমরা তা করতে পারি না। সরকারের সব সময় লক্ষ্য থাকবে আইন দ্বারা দেশবাসী যাতে সুরক্ষিত থাকে।’
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বোধ হয় দেশের স্বাধীনতাই চাননি। পরাজিত শত্রুর দোসর হিসেবে বিএনপি নেত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হানাদার পাকিস্তান বাহিনী যেমন পোড়া মাটি নীতি গ্রহণ করে এদেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট চালিয়েছিল। আগুন দিয়ে মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনিও ঠিক একই পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিরা যেমন জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে, তেমনি তিনিও একই তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার আন্দোলনের সাথে জনসম্পৃক্ততা একেবারেই নেই। বরং দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ করাই মানুষ তার হরতাল-অবরোধ প্রত্যাখ্যান করে সাহসিকতার সাথে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে। এজন্য তিনি দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এভাবেই জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিএনএফ’র সদস্য এসএম আবুল কালাম আজাদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, তাই করা হচ্ছে। একজন আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়, আর আমরা রক্ষা করি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের মানুষের জন্য তার যে দরদ থাকা প্রয়োজন তার মধ্যে তা নেই। জনগণের সেবা করাই যদি রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হয়, তাহলে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি কিভাবে মানুষ পোড়াচ্ছেন। মানুষ পুড়িয়ে, দেশে ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি কি পাচ্ছেন?
স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি তৎপরতা দমনে পুলিশ, র‌্যাব আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থা জনগণের সহযোগিতায় নিয়ে কাজ করছেন। জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি তৎপরতায় যারা নিহত ও আহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যে কৃষকের যদি কোন ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে সরকার অবশ্যই তা দেখবে। তবে সরকার দেশের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও কৃষকের কাছে সার, বীজ, সেচসহ সব উপকরণ সময়মত পৌঁছে দিয়েছে। বর্গা চাষীদের স্বল্প সুদে বিনা জামানতে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য সরকার ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করেছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অতএব বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত আন্দোলনে কৃষকের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও কৃষকের জন্য যা যা প্রয়োজন অতীতের মতো ভবিষ্যতে করা হবে।
সরকারি দলের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে বিগত ৮৫ দিনে ১৩০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যার অধিকাংশই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া দুই হাজারের বেশি যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ৩৫ দফায় ট্রেনে নাশকতা হয়েছে। দেশের প্রায় ১৫ লাখ ছাত্রছাত্রী যথাসময়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।