নিউইয়র্ক ১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

লাশের পর লাশ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, রাতে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়ম ॥ নিহত ১২০ ॥ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের সংখ্যা নজিরবিহীন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০১৬
  • / ৮০২ বার পঠিত

ঢাকা: লাশের পর লাশ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, রাতে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নবম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ৪ জুন শনিবার ৬ষ্ঠ ধাপে ৬৯৮টি ইউপি ভোটের মাধ্যমে নবম ইউপির সাধারণ নির্বাচনে ৪ হাজার ৮৫ ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ ধাপেও কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজীতে মোহাম্মদ নাসির (১৮), ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় শাহজাহান (৫২) ও নোয়াখালী সদরে আরাফাত হোসেন (২৩) নামের ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। শনিবার সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছর ৬ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে লাশ ও রক্তপাতের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১৯৮৮ সালের স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের আমলের নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে। সেই সাথে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়েরও রেকর্ড গড়েছে এবার। তবু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ সন্তুষ্ট। তিনি বলেছেন, সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ও বিভিন্ন প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১২০ জন আর আহত ও পঙ্গু হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রাণহানির ঘটনায় এবার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে দেশে আটবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রতিবেদন ভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। ওই সময় স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। এ ছাড়া ২০০৩ সালে প্রতিবেদন ভেদে ৭২ থেকে ৮০ জন এবং ২০১১ সালে প্রতিবেদন ভেদে ২৭ থেকে ৩৪ জন মারা গিয়েছিল বলে উল্লেখ আছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচনের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও রেকর্ড গড়েছে। এবারের নির্বাচনে ২২২জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই সরকারদলীয় প্রার্থী। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ১০০ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া এই নির্বাচনে সবকটি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। ৫৫৪ টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এর আগের পাঁচ ধাপে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা ২ হাজার ২৬৭ ইউপিতে ও ধানের শীষের প্রার্থীরা ৩১০ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৬৯৬ জন।
চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২০ জনের বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর বাইরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ও রাঙামাটির কাউখালীর ফটিকছড়িতে স্বতন্ত্র দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসির হিসাবে প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ শতাংশ ও পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
জানা যায়, বরাবরের মতো শেষ ধাপেও পাল্টাপাল্টি কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে। আর অনিয়ম ও সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৩৬টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দেড় ডজন দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে।
ষষ্ঠ ধাপে ৪৬ জেলার ৯২ উপজেলার ৬৯৮ ইউপিতে ভোট হয়েছে। এতে ভোটার ছিল ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। ভোটকেন্দ্র ছয় হাজার ২৮৭টি। এ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২২৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার এবং সংরক্ষিত পদে ৫ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। (দৈনিক সংগ্রাম)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

লাশের পর লাশ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, রাতে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়ম ॥ নিহত ১২০ ॥ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের সংখ্যা নজিরবিহীন

প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০১৬

ঢাকা: লাশের পর লাশ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, রাতে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নবম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ৪ জুন শনিবার ৬ষ্ঠ ধাপে ৬৯৮টি ইউপি ভোটের মাধ্যমে নবম ইউপির সাধারণ নির্বাচনে ৪ হাজার ৮৫ ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ ধাপেও কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজীতে মোহাম্মদ নাসির (১৮), ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় শাহজাহান (৫২) ও নোয়াখালী সদরে আরাফাত হোসেন (২৩) নামের ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। শনিবার সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছর ৬ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে লাশ ও রক্তপাতের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১৯৮৮ সালের স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের আমলের নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে। সেই সাথে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়েরও রেকর্ড গড়েছে এবার। তবু প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ সন্তুষ্ট। তিনি বলেছেন, সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ও বিভিন্ন প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১২০ জন আর আহত ও পঙ্গু হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রাণহানির ঘটনায় এবার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে দেশে আটবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ১৯৮৮ সালের ইউপি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রতিবেদন ভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। ওই সময় স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। এ ছাড়া ২০০৩ সালে প্রতিবেদন ভেদে ৭২ থেকে ৮০ জন এবং ২০১১ সালে প্রতিবেদন ভেদে ২৭ থেকে ৩৪ জন মারা গিয়েছিল বলে উল্লেখ আছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী নির্বাচনের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ারও রেকর্ড গড়েছে। এবারের নির্বাচনে ২২২জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই সরকারদলীয় প্রার্থী। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ১০০ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া এই নির্বাচনে সবকটি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। ৫৫৪ টি ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এর আগের পাঁচ ধাপে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা ২ হাজার ২৬৭ ইউপিতে ও ধানের শীষের প্রার্থীরা ৩১০ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৬৯৬ জন।
চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২০ জনের বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর বাইরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ও রাঙামাটির কাউখালীর ফটিকছড়িতে স্বতন্ত্র দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসির হিসাবে প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ শতাংশ ও পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
জানা যায়, বরাবরের মতো শেষ ধাপেও পাল্টাপাল্টি কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে। আর অনিয়ম ও সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৩৬টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দেড় ডজন দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে।
ষষ্ঠ ধাপে ৪৬ জেলার ৯২ উপজেলার ৬৯৮ ইউপিতে ভোট হয়েছে। এতে ভোটার ছিল ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। ভোটকেন্দ্র ছয় হাজার ২৮৭টি। এ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২২৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার এবং সংরক্ষিত পদে ৫ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। (দৈনিক সংগ্রাম)