নিউইয়র্ক ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

র‌্যাবের স্বীকার মান্না গ্রেফতার : অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহ : গুলশান থানায় হস্তান্তর

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:২১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • / ৬৭১ বার পঠিত

ঢাকা: গ্রেফতারের প্রায় ২৪ ঘন্টা পর ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তরর করার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। উল্লেখ্য ২৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।
মেহের নিগার জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে গুলশান-২ এর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী রাতে বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের ই-ব্লকের ১২ নম্বর বাসায় ছিলেন। বাসাটি মান্নার ভাতিজি শাহনামা শারমিনের। ওই বাসা থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। শাহনামা শারমিন রাতেই ফোন করে তাকে এ কথা জানান।
মেহের নিগার আরো জানান, আটক হওয়ার আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে স্বামী মান্নার সঙ্গে তার কথা হয়। মান্নার ভাতিঝি শাহনামা শারমিন নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় কড়া নাড়েন। এ সময় তার চাচা (মান্না) ঘুমিয়েছিলেন। ডিবি পুলিশ তাকে জানান যে, তারা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে যেতে এসেছেন। তিনি জানান, চাচাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এ খবর জানানো হয়। ঘুম থেকে উঠে ডিবি পুলিশের কাছে পোশাক পরার সময় চান। পোশাক পরা শেষ হলে পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যায়। তবে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে ডিবি পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার ভোরে সাদা পোশাকধারীরা মান্নাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর দিনভর তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার উদ্বিগ্ন পরিবার তার (মান্না) অবস্থান জানতে না পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারী বনানী থানায় জিডি করেন। এই ডিজির পরই রাতে মান্নার সন্ধান দেয় র‌্যাব।
আরো উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারী রোববার ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন ক্যান্সারে আক্রান্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার ফোনালাপের অডিও টেপ ফাঁস হয়। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এবং আন্দোলন বেগবান করতে ওই কথোপকথনে সরকার পতনের বিভিন্ন ইস্যু তৈরির বিষয় উঠে আসে। এই অডিও টেপ ফাঁস হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে মান্নাকে গ্রেফতারের দাবী উঠে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আশির দশকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর পদ হারান মান্না। এর পর নাগরিক ঐক্য নামে নিজেই একটি দল গঠন করেন।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

র‌্যাবের স্বীকার মান্না গ্রেফতার : অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহ : গুলশান থানায় হস্তান্তর

প্রকাশের সময় : ০২:২১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: গ্রেফতারের প্রায় ২৪ ঘন্টা পর ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তরর করার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। উল্লেখ্য ২৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।
মেহের নিগার জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে গুলশান-২ এর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী রাতে বনানীর ১৭ নম্বর সড়কের ই-ব্লকের ১২ নম্বর বাসায় ছিলেন। বাসাটি মান্নার ভাতিজি শাহনামা শারমিনের। ওই বাসা থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। শাহনামা শারমিন রাতেই ফোন করে তাকে এ কথা জানান।
মেহের নিগার আরো জানান, আটক হওয়ার আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে স্বামী মান্নার সঙ্গে তার কথা হয়। মান্নার ভাতিঝি শাহনামা শারমিন নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় কড়া নাড়েন। এ সময় তার চাচা (মান্না) ঘুমিয়েছিলেন। ডিবি পুলিশ তাকে জানান যে, তারা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে যেতে এসেছেন। তিনি জানান, চাচাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এ খবর জানানো হয়। ঘুম থেকে উঠে ডিবি পুলিশের কাছে পোশাক পরার সময় চান। পোশাক পরা শেষ হলে পুলিশ তাকে নিয়ে চলে যায়। তবে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে ডিবি পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার ভোরে সাদা পোশাকধারীরা মান্নাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর দিনভর তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার উদ্বিগ্ন পরিবার তার (মান্না) অবস্থান জানতে না পেরে ২৪ ফেব্রুয়ারী বনানী থানায় জিডি করেন। এই ডিজির পরই রাতে মান্নার সন্ধান দেয় র‌্যাব।
আরো উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারী রোববার ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন ক্যান্সারে আক্রান্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার ফোনালাপের অডিও টেপ ফাঁস হয়। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এবং আন্দোলন বেগবান করতে ওই কথোপকথনে সরকার পতনের বিভিন্ন ইস্যু তৈরির বিষয় উঠে আসে। এই অডিও টেপ ফাঁস হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে মান্নাকে গ্রেফতারের দাবী উঠে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আশির দশকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর পদ হারান মান্না। এর পর নাগরিক ঐক্য নামে নিজেই একটি দল গঠন করেন।