নিউইয়র্ক ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

রাষ্ট্রপতি কে? প্রাণভিক্ষা দেয়ার মালিক আল্লাহ, হাসিমুখে পরিবারকে বিদায়, ফাঁসি নিয়ে মোটেও বিচলিত নন, দেখা হবে জান্নাতে: কামারুজ্জামান ॥ ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর-স্থির-নির্ভিক

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৭২৮ বার পঠিত

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ প্রাণ দেয়ার মালিক আল্লাহ, নেয়ার মালিকও তিনি। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিা দেয়ার কে? আল্লাহর কাছেই প্রাণভিা চাইব। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের কাছে এ কথা বলেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী।
শনিবার সাক্ষাৎ শেষে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে কারাগার থেকে বের হন তারা। এর আগে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের ২১ সদস্য।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গেট থেকে বের হয়ে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী সাংবাদিকদের বলেন, তার পিতা সুস্থ আছেন এবং মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের হাসিমুখে বিদায় দিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও হাসিমুখে বিদায় নিয়েছেন। তার মনোবল দৃঢ় আছে। ফাঁসির ব্যাপারে তিনি মোটেও বিচলিত নন।
ওয়ামী বলেন, কামারুজ্জামান বলেছেন, ‘দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি। এমনকি তারা কথাও বলেননি। এ নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া ১৮ বছরের ছেলেকে যুদ্ধাপরাধী সাজিয়ে সরকার স্বার্থ হাসিল করছে বলেও পরিবারকে জানিয়েছেন কামারুজ্জামান।
ওয়ামী অভিযোগ করেন, সরকার প্রাণভিক্ষার নামে কয়েক দিন ধরে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছে। কামারুজ্জামান সুস্থ এবং সবল আছেন। তিনি এ দেশে ইসলামী আন্দোলনের বিজয় কামনা করেছেন। কামারুজ্জামানের ছেলে আরো বলেন, ‘আমার বাবা বলেছেন, বর্তমান মিথ্যা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। আল্লাহ তাদের কেয়ামতের ময়দানে বিচার করবেন।’
শেষ ইচ্ছা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের মাটিতে ইসলাম কায়েম করবে এমনটাই আশা করেন তিনি। যে আদর্শ তিনি ধারণ করেন তরুণ প্রজন্ম সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেছেন, আমি বাংলাদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। এখন তরুণ প্রজন্ম এ আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারাই এ অন্যায়ের জবাব দেবে। হাসান ইকবাল বলেছেন, বাবা আমাদের সৎপথে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেখা হবে জান্নাতে: পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, চিন্তা করো না আল্লাহ চান তোমাদের সবার সাথে জান্নাতে দেখা হবে। তোমরা সবাই সৎ জীবন যাপন করবে। হালাল রুজি কামাই করবে।
কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামি বলেন, আব্বা বলেছেন, তার এ মৃত্যু নিঃসন্দেহে শহীদি মৃত্যু। তিনি এ জন্য আনন্দিত। এভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেছেন, কতভাবে কত মানুষের মৃত্যু হয়। যেকোনো দুর্ঘটনা বা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যেতে পারতেন। কিন্তু এ মৃ‘্য আনন্দের। মৃত্যু নিয়ে তিনি মোটেও ভীত নন।
গত ৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ওই দিনই কারা কর্তৃপক্ষ দুপুরের পর কামারুজ্জামানের মিরপুরের বাসায় চিঠি পাঠায়। বিকেল ৫টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাতের জন্য আসতে বলা হয়। কামারুজ্জামানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-ভাতিজা, ভাগ্নিসহ ১৬ জন সদস্য সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামিও ছিলেন এ ১৬ জনের মধ্যে। এরপর শনিবার আবার কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানের পরিবারকে ডেকে পাঠায় সাক্ষাতের জন্য। মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের ২২ জন সদস্য দেখা করেন তার সাথে। এটাই ছিল তাদের শেষ সাক্ষাৎ।
হাসান ইকবাল ওয়ামি তার বাবার সাথে শেষ দুইবার সাক্ষাৎ বিষয়ে বলেন, আব্বা আমাদের বলেছেন, তার অবর্তমানে আমাদের মা আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের নসিহত করে বলেছেন, তার মৃত্যুতে আমরা যেন কোনোভাবেই বিচলিত না হই। তিনি বলেছেন, তিনি জুলুমের শিকার। ইসলামি আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা এবং রাজনীতির কারণেই তার আজকের এ পরিণতি। এটা একটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। তিনি আমাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, চিন্তা করো না ধৈর্য্য ধর। আল্লাহ চান তো একদিন তোমাদের সবার সাথে জান্নাতে দেখা হবে।
আপনাদের পক্ষ থেকে তাকে কী বলেছেন জানতে চাইলে হাসান ইকবাল বলেন, আমরা আব্বার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছি আইনি লড়াইয়ে আমরা তাকে মুক্ত করতে আনতে পারলাম না। এ জন্য আমরা দুঃখিত।
হাসান ইকবাল জানান, ফাঁসি নিয়ে তার বাবা মোটেই বিচলিত নন। তিনি আমাদের হাসিমুখে বিদায় দিয়েছেন। আমরাও তাকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছি।
হাসান ইকবাল বলেন, জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার জন্য তিনি দোয়া করেছেন। দেশে-বিদেশে সবাইকে তিনি সালাম জানিয়েছেন।
ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর-স্থির: কামারুজ্জামান ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর, স্থির, নির্ভিক। স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তিনি যখন ফাঁসির মঞ্চে যান তখন কোনো ভয়ভীতি কাজ করেনি তার মাঝে। ছিল না কোন অস্থিরতা। কারাগার সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, রাতে গোসল শেষে এশার নামাজ আদায়ের পর নফল নামাজ পড়েন কামারুজ্জামান। ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জায়নামাজে কুরআন তেলাওয়াতে রত ছিলেন।
এসময় কামাররুজ্জামানের সেলের অতি নিকটেই চলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ। ফাঁসি কার্যকরের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা মঞ্চের পাশে গিয়ে বসেন। সোয়া নয়টায় সেলের মধ্যে কামারুজ্জামানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসক। নয়টা ৩৫ মিনিটে ১২ জনের একটি কারা কমান্ডো অবস্থান নেয় কামারুজ্জামানের সেলের পাশে। এরপর তওবা পাঠের পর্ব আসে। কামারুজ্জামান বলেন আমি নিজের তওবা নিজে পড়ব। জেলসুপার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ইমাম কর্তৃক তওবা পড়াতে হবে।
তওবা পড়ানোর পর কামারুজ্জামানকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কামারুজ্জামান তখন বলেন, আমি নির্দোষ। আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি দোয়া এবং কুরআনের আয়াত পড়তে থাকেন। এভাবেই দোয়া পড়তে পড়তে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান স্বাভাবিক গতিতে।
মঞ্চে নেয়ার পর জেলসুপার হাত থেকে রুমাল ফেলে দেন ঠিক সাড়ে দশটার সময়। এরপর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

রাষ্ট্রপতি কে? প্রাণভিক্ষা দেয়ার মালিক আল্লাহ, হাসিমুখে পরিবারকে বিদায়, ফাঁসি নিয়ে মোটেও বিচলিত নন, দেখা হবে জান্নাতে: কামারুজ্জামান ॥ ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর-স্থির-নির্ভিক

প্রকাশের সময় : ০৫:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ প্রাণ দেয়ার মালিক আল্লাহ, নেয়ার মালিকও তিনি। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিা দেয়ার কে? আল্লাহর কাছেই প্রাণভিা চাইব। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের কাছে এ কথা বলেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী।
শনিবার সাক্ষাৎ শেষে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে কারাগার থেকে বের হন তারা। এর আগে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের ২১ সদস্য।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গেট থেকে বের হয়ে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী সাংবাদিকদের বলেন, তার পিতা সুস্থ আছেন এবং মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের হাসিমুখে বিদায় দিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও হাসিমুখে বিদায় নিয়েছেন। তার মনোবল দৃঢ় আছে। ফাঁসির ব্যাপারে তিনি মোটেও বিচলিত নন।
ওয়ামী বলেন, কামারুজ্জামান বলেছেন, ‘দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি। এমনকি তারা কথাও বলেননি। এ নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’ এ ছাড়া ১৮ বছরের ছেলেকে যুদ্ধাপরাধী সাজিয়ে সরকার স্বার্থ হাসিল করছে বলেও পরিবারকে জানিয়েছেন কামারুজ্জামান।
ওয়ামী অভিযোগ করেন, সরকার প্রাণভিক্ষার নামে কয়েক দিন ধরে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছে। কামারুজ্জামান সুস্থ এবং সবল আছেন। তিনি এ দেশে ইসলামী আন্দোলনের বিজয় কামনা করেছেন। কামারুজ্জামানের ছেলে আরো বলেন, ‘আমার বাবা বলেছেন, বর্তমান মিথ্যা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। আল্লাহ তাদের কেয়ামতের ময়দানে বিচার করবেন।’
শেষ ইচ্ছা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের মাটিতে ইসলাম কায়েম করবে এমনটাই আশা করেন তিনি। যে আদর্শ তিনি ধারণ করেন তরুণ প্রজন্ম সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেছেন, আমি বাংলাদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। এখন তরুণ প্রজন্ম এ আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারাই এ অন্যায়ের জবাব দেবে। হাসান ইকবাল বলেছেন, বাবা আমাদের সৎপথে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেখা হবে জান্নাতে: পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেছেন, চিন্তা করো না আল্লাহ চান তোমাদের সবার সাথে জান্নাতে দেখা হবে। তোমরা সবাই সৎ জীবন যাপন করবে। হালাল রুজি কামাই করবে।
কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামি বলেন, আব্বা বলেছেন, তার এ মৃত্যু নিঃসন্দেহে শহীদি মৃত্যু। তিনি এ জন্য আনন্দিত। এভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেছেন, কতভাবে কত মানুষের মৃত্যু হয়। যেকোনো দুর্ঘটনা বা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যেতে পারতেন। কিন্তু এ মৃ‘্য আনন্দের। মৃত্যু নিয়ে তিনি মোটেও ভীত নন।
গত ৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ওই দিনই কারা কর্তৃপক্ষ দুপুরের পর কামারুজ্জামানের মিরপুরের বাসায় চিঠি পাঠায়। বিকেল ৫টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে সাক্ষাতের জন্য আসতে বলা হয়। কামারুজ্জামানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-ভাতিজা, ভাগ্নিসহ ১৬ জন সদস্য সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামিও ছিলেন এ ১৬ জনের মধ্যে। এরপর শনিবার আবার কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানের পরিবারকে ডেকে পাঠায় সাক্ষাতের জন্য। মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আগে বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের ২২ জন সদস্য দেখা করেন তার সাথে। এটাই ছিল তাদের শেষ সাক্ষাৎ।
হাসান ইকবাল ওয়ামি তার বাবার সাথে শেষ দুইবার সাক্ষাৎ বিষয়ে বলেন, আব্বা আমাদের বলেছেন, তার অবর্তমানে আমাদের মা আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের নসিহত করে বলেছেন, তার মৃত্যুতে আমরা যেন কোনোভাবেই বিচলিত না হই। তিনি বলেছেন, তিনি জুলুমের শিকার। ইসলামি আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা এবং রাজনীতির কারণেই তার আজকের এ পরিণতি। এটা একটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। তিনি আমাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, চিন্তা করো না ধৈর্য্য ধর। আল্লাহ চান তো একদিন তোমাদের সবার সাথে জান্নাতে দেখা হবে।
আপনাদের পক্ষ থেকে তাকে কী বলেছেন জানতে চাইলে হাসান ইকবাল বলেন, আমরা আব্বার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছি আইনি লড়াইয়ে আমরা তাকে মুক্ত করতে আনতে পারলাম না। এ জন্য আমরা দুঃখিত।
হাসান ইকবাল জানান, ফাঁসি নিয়ে তার বাবা মোটেই বিচলিত নন। তিনি আমাদের হাসিমুখে বিদায় দিয়েছেন। আমরাও তাকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছি।
হাসান ইকবাল বলেন, জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার জন্য তিনি দোয়া করেছেন। দেশে-বিদেশে সবাইকে তিনি সালাম জানিয়েছেন।
ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর-স্থির: কামারুজ্জামান ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ধীর, স্থির, নির্ভিক। স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তিনি যখন ফাঁসির মঞ্চে যান তখন কোনো ভয়ভীতি কাজ করেনি তার মাঝে। ছিল না কোন অস্থিরতা। কারাগার সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, রাতে গোসল শেষে এশার নামাজ আদায়ের পর নফল নামাজ পড়েন কামারুজ্জামান। ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জায়নামাজে কুরআন তেলাওয়াতে রত ছিলেন।
এসময় কামাররুজ্জামানের সেলের অতি নিকটেই চলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ। ফাঁসি কার্যকরের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা মঞ্চের পাশে গিয়ে বসেন। সোয়া নয়টায় সেলের মধ্যে কামারুজ্জামানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসক। নয়টা ৩৫ মিনিটে ১২ জনের একটি কারা কমান্ডো অবস্থান নেয় কামারুজ্জামানের সেলের পাশে। এরপর তওবা পাঠের পর্ব আসে। কামারুজ্জামান বলেন আমি নিজের তওবা নিজে পড়ব। জেলসুপার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ইমাম কর্তৃক তওবা পড়াতে হবে।
তওবা পড়ানোর পর কামারুজ্জামানকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কামারুজ্জামান তখন বলেন, আমি নির্দোষ। আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি দোয়া এবং কুরআনের আয়াত পড়তে থাকেন। এভাবেই দোয়া পড়তে পড়তে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান স্বাভাবিক গতিতে।
মঞ্চে নেয়ার পর জেলসুপার হাত থেকে রুমাল ফেলে দেন ঠিক সাড়ে দশটার সময়। এরপর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।