নিউইয়র্ক ০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

মান্নাকে কারাগারে প্রেরণ : মুক্তির দাবি করলেন স্ত্রী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০১৫
  • / ৫৩৭ বার পঠিত

ঢাকা: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক, ডাকসু’র সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে মান্নার মুক্তি দাবী করেছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।
দৈনিক নয়া দিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফা পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় ১০ মার্চ রাত ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। রাজারবাগ পুলিশ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ১টায় তাকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
মান্নার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মান্নার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। হৃদপিন্ডের বড় ধরণের সমস্যা এখন ঠিক হয়ে গেছে। তবে তার ঘাড়ে ব্যথ্যার কিছু সমস্যা রয়েছে। এ জন্য তাকে নিউরোলজি বিভাগের শরণাপন্ন হবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
কার্ডিওলজি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাওসিন জানান, মান্না উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
উল্øেখ্য, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে উৎসাহিত করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ৫ মার্চ গুলশান থানার এসআই সোহেল রানা বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ৭ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিন রিমান্ড শুরু হয়েছিল মাহমুদুর রহমান মান্নার। গত ১০ মার্চ রাত ১১টার দিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার অবস্থায় মাহমুদুর রহমান মান্না হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে আনা হয়। গত ১০ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ছিলেন। তার হৃদপিন্ডের প্রধান শিরায় তিনটি ব্লক ধরা পড়েছিল। এখানে রিং বসানো ঝুঁকিপর্ণ বিধায় চিকিৎসকরা এ থেকে বিরত থেকেছেন বলে জানা যায়।
অপরদিকে একই অভিযোগে ২৫ ফেব্রুয়ারী গুলশান থানায় করা মামলায় মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গুলশান থানায় ২৪ ফেব্রুয়ারী মামলাটি করেছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা।
ওইদিনই রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে র‌্যাব-২ মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক করে বলে দাবি করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে রয়েছে।
মান্নার মুক্তি দাবি: এদিকে দৈনিক যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, কারাগারে আটক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তি চাইলেন তার স্ত্রী মেহের নিগার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেগের নিগার বলেন, হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হওয়া থেকেই বোঝা যায় একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে রিমান্ডের নামে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে। আমরা তার প্রাণহানির আশঙ্কা আছি। এ জন্য তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ারও আবেদন জানাচ্ছি।
মান্নার স্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে পরপর দুটি মামলা দিয়ে তাকে ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ১০ দিনের প্রথম রিমান্ডের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ওষুধপত্র দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার বুকে তিনটার ব্লক ধরা পড়েছে। সম্প্রতি গ্রেফতার ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার হার্টের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে মান্নার শরীরের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। আমরা তাকে কারাগারে হস্তান্তরের পর ডিভিশনের আবেদন জানান।
মেহের নিগার বলেন, ফোনালাপে তাঁর কথা বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা আমাদের ব্যথিত করেছে। কারান্তরালে মান্নার সুচিকিৎসা ও আইনানুগ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত থাকলে তিনি সুস্থ হয়ে দেশসেবায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবে। এজন্য তাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মেয়ে নিলম মান্না ছাড়াও নাগরিক ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

মান্নাকে কারাগারে প্রেরণ : মুক্তির দাবি করলেন স্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০১৫

ঢাকা: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক, ডাকসু’র সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে মান্নার মুক্তি দাবী করেছেন তার স্ত্রী মেহের নিগার।
দৈনিক নয়া দিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফা পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় ১০ মার্চ রাত ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। রাজারবাগ পুলিশ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ১টায় তাকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
মান্নার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মান্নার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। হৃদপিন্ডের বড় ধরণের সমস্যা এখন ঠিক হয়ে গেছে। তবে তার ঘাড়ে ব্যথ্যার কিছু সমস্যা রয়েছে। এ জন্য তাকে নিউরোলজি বিভাগের শরণাপন্ন হবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
কার্ডিওলজি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাওসিন জানান, মান্না উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
উল্øেখ্য, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে উৎসাহিত করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ৫ মার্চ গুলশান থানার এসআই সোহেল রানা বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ৭ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় ১০ দিন রিমান্ড শুরু হয়েছিল মাহমুদুর রহমান মান্নার। গত ১০ মার্চ রাত ১১টার দিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার অবস্থায় মাহমুদুর রহমান মান্না হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে আনা হয়। গত ১০ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ছিলেন। তার হৃদপিন্ডের প্রধান শিরায় তিনটি ব্লক ধরা পড়েছিল। এখানে রিং বসানো ঝুঁকিপর্ণ বিধায় চিকিৎসকরা এ থেকে বিরত থেকেছেন বলে জানা যায়।
অপরদিকে একই অভিযোগে ২৫ ফেব্রুয়ারী গুলশান থানায় করা মামলায় মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গুলশান থানায় ২৪ ফেব্রুয়ারী মামলাটি করেছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা।
ওইদিনই রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে র‌্যাব-২ মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক করে বলে দাবি করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে রয়েছে।
মান্নার মুক্তি দাবি: এদিকে দৈনিক যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, কারাগারে আটক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তি চাইলেন তার স্ত্রী মেহের নিগার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেগের নিগার বলেন, হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হওয়া থেকেই বোঝা যায় একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে রিমান্ডের নামে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে। আমরা তার প্রাণহানির আশঙ্কা আছি। এ জন্য তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ারও আবেদন জানাচ্ছি।
মান্নার স্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে পরপর দুটি মামলা দিয়ে তাকে ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ১০ দিনের প্রথম রিমান্ডের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ওষুধপত্র দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার বুকে তিনটার ব্লক ধরা পড়েছে। সম্প্রতি গ্রেফতার ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার হার্টের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে মান্নার শরীরের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। আমরা তাকে কারাগারে হস্তান্তরের পর ডিভিশনের আবেদন জানান।
মেহের নিগার বলেন, ফোনালাপে তাঁর কথা বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা আমাদের ব্যথিত করেছে। কারান্তরালে মান্নার সুচিকিৎসা ও আইনানুগ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত থাকলে তিনি সুস্থ হয়ে দেশসেবায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবে। এজন্য তাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মেয়ে নিলম মান্না ছাড়াও নাগরিক ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।