নিউইয়র্ক ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

বিএনপির বর্জনের নির্বাচনে আ’লীগ সমর্থিতদের জয় : নির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের : ভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৫
  • / ৭৯২ বার পঠিত

ঢাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিএনপির বয়কটে তিন সিটিতেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। বিবিসি বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা অনুমিত জয়ই পেয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আর এতে সাঈদ খোকন, আনিসুল হক ও আ জ ম নাছির উদ্দিন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ শুরু হবার পরই ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও মূল প্রতিন্দ্বী হিসেবে তারাই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন সবগুলো সিটিতেই। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক পেয়েছেন- ৪,৪২,৮৭১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন- ৩,১০, ৪১০ ভোট।
ঢাকা দক্ষিণে সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন পেয়েছেন- ৫,৩৫,২৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস পেয়েছেন- ২,৯৪, ২৯১ ভোট।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন পেয়েছেন- ৪,৭৫,৩৬১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছেন- ৩,০৪,৮৩৭ ভোট।
আগে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটের মাঠ ত্যাগ করায় ভোটাভুটির বাকী অংশ এবং ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা জৌলুস হারিয়ে ফেলে।
জয়লাভ করবেন জেনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ফল সংগ্রহ করতে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাত একটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভিড়। ফলাফল জানতে আসা মেয়র প্রার্থী শুধু সাঈদ খোকন। তিনিও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেই চলে যান। এছাড়া জনা দুয়েক কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সেখানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাত দুটার দিকে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভাঙা হাট। একজন প্রার্থী কিংবা সমর্থককেও আতিপাতি করে খুঁজে পাওয়া গেল না। যথারীতি সাংবাদিকেরা রয়েছেন। তবে বেশীরভাগই অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেককে আড্ডা দিয়ে কিংবা সেলফি তুলে সময় কাটাতে দেখা গেল।
Emaz Uddin Ahmedনির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি: তিন সিটি নির্বাচন বাতিল ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে বিএনপির সিটি নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত সংগঠন আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাবেক প্রোভিসি আসম ইউসুফ হায়দার, সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব উল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এভাবে নির্বাচন হয় না। নির্বাচনের আগে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম। নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে সে বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছিল। ভোটাররা যেন যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে। কিন্তু আমাদের কোনো দাবিই মানা হয়নি।
নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেটা স্কুলের তিন শিশুকে এনে দিলেও এর ব্যতিক্রম হতো না বলে জানান আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক। এজন্য মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে তিন সিটিরই নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, এ নির্বাচন ছিল জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে গণতন্ত্র, আইনের শাসন তুলে ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা হিলাময়চুম্বী, ক্ষমার অযোগ্য। এরকম প্রকাশ্য ভোটচুরি ও ডাকাতির ঘটনায় দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা বিস্মিত, উৎকণ্ঠিত ও আতঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ ও র‌্যাব মিলে ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রতারণা জালিয়াতি ও গায়ের জোরে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। অস্ত্র ও পেশীর বলে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের মতো মেয়র পদও দখল করেছে সরকার।
এক প্রশ্নের জবাবে শওকত মাহমুদ বলেন, আদর্শ ঢাকা আন্দোলন একটি নাগরিক সংগঠন। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তাই এই নির্বাচন বিষয়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা তাদের নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাসের কথোপকথনে বিএনপির নির্বাচন বর্জন পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হয়েছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শওকত মাহমুদ বলেন, এটা ঠিক নয়। এটা ভিত্তিহীন। ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখে তারা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
UN Logoভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের তাগিদ: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্তের তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান-কি মুন। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটে জালিয়াতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক।
ফারহান হক বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ভোট বর্জনের বিষয়ে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। ভোট কারচুপির উত্থাপিত সব অভিযোগ তদন্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বিরোধী পক্ষ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলে আশা করছেন মহাসচিব। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের ভিন্ন মতগুলো প্রকাশে সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বান-কি মুন।
মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতার প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মহাসচিব। সিটি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখল বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকেও ভোট কারচুপির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে প্রথমে চট্টগ্রাম ও পরে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি।(দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

বিএনপির বর্জনের নির্বাচনে আ’লীগ সমর্থিতদের জয় : নির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের : ভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিএনপির বয়কটে তিন সিটিতেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। বিবিসি বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা অনুমিত জয়ই পেয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আর এতে সাঈদ খোকন, আনিসুল হক ও আ জ ম নাছির উদ্দিন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ শুরু হবার পরই ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও মূল প্রতিন্দ্বী হিসেবে তারাই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন সবগুলো সিটিতেই। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক পেয়েছেন- ৪,৪২,৮৭১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন- ৩,১০, ৪১০ ভোট।
ঢাকা দক্ষিণে সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন পেয়েছেন- ৫,৩৫,২৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস পেয়েছেন- ২,৯৪, ২৯১ ভোট।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন পেয়েছেন- ৪,৭৫,৩৬১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছেন- ৩,০৪,৮৩৭ ভোট।
আগে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটের মাঠ ত্যাগ করায় ভোটাভুটির বাকী অংশ এবং ফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা জৌলুস হারিয়ে ফেলে।
জয়লাভ করবেন জেনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ফল সংগ্রহ করতে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাত একটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভিড়। ফলাফল জানতে আসা মেয়র প্রার্থী শুধু সাঈদ খোকন। তিনিও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেই চলে যান। এছাড়া জনা দুয়েক কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সেখানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাত দুটার দিকে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভাঙা হাট। একজন প্রার্থী কিংবা সমর্থককেও আতিপাতি করে খুঁজে পাওয়া গেল না। যথারীতি সাংবাদিকেরা রয়েছেন। তবে বেশীরভাগই অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেককে আড্ডা দিয়ে কিংবা সেলফি তুলে সময় কাটাতে দেখা গেল।
Emaz Uddin Ahmedনির্বাচন বাতিল ও ইসির পদত্যাগ দাবি: তিন সিটি নির্বাচন বাতিল ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে বিএনপির সিটি নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত সংগঠন আদর্শ ঢাকা আন্দোলন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাবেক প্রোভিসি আসম ইউসুফ হায়দার, সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব উল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এভাবে নির্বাচন হয় না। নির্বাচনের আগে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম। নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে সে বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছিল। ভোটাররা যেন যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে। কিন্তু আমাদের কোনো দাবিই মানা হয়নি।
নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেটা স্কুলের তিন শিশুকে এনে দিলেও এর ব্যতিক্রম হতো না বলে জানান আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক। এজন্য মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে তিন সিটিরই নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, এ নির্বাচন ছিল জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ঘটনা। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে গণতন্ত্র, আইনের শাসন তুলে ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা হিলাময়চুম্বী, ক্ষমার অযোগ্য। এরকম প্রকাশ্য ভোটচুরি ও ডাকাতির ঘটনায় দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা বিস্মিত, উৎকণ্ঠিত ও আতঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ ও র‌্যাব মিলে ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রতারণা জালিয়াতি ও গায়ের জোরে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। অস্ত্র ও পেশীর বলে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের মতো মেয়র পদও দখল করেছে সরকার।
এক প্রশ্নের জবাবে শওকত মাহমুদ বলেন, আদর্শ ঢাকা আন্দোলন একটি নাগরিক সংগঠন। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তাই এই নির্বাচন বিষয়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা তাদের নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাসের কথোপকথনে বিএনপির নির্বাচন বর্জন পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হয়েছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শওকত মাহমুদ বলেন, এটা ঠিক নয়। এটা ভিত্তিহীন। ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখে তারা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
UN Logoভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের তাগিদ: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তদন্তের তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান-কি মুন। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটে জালিয়াতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক।
ফারহান হক বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ভোট বর্জনের বিষয়ে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। ভোট কারচুপির উত্থাপিত সব অভিযোগ তদন্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বিরোধী পক্ষ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলে আশা করছেন মহাসচিব। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের ভিন্ন মতগুলো প্রকাশে সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বান-কি মুন।
মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতার প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মহাসচিব। সিটি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখল বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকেও ভোট কারচুপির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে প্রথমে চট্টগ্রাম ও পরে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি।(দৈনিক যুগান্তর)