নিউইয়র্ক ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

পুলিশের আবিষ্কার : বিভ্রান্তিতে সরকার : আই এস বিতর্কে বাংলাদেশ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৬৭৭ বার পঠিত

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আই এস) গোড়াপত্তনের পর বিশ্ব মিডিয়ার কল্যাণে বাংলাদেশের মানুষের নজরে আসে নয়া জঙ্গি সংগঠনটির নাম। এই সংগঠনের সাথে কোন বাংলাদেশী জড়িত আছেন কিনা তারও কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আজ পর্যন্ত আসেনি। তার আগেই গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতা বিমানবন্দরে আই এসের চারজন তরুণকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি ছিল,তারা বাংলাদেশে আসার পথে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকৃত চার তরুণই ভারতের হায়দ্রাবাদের নাগরিক। এই খবর জানার পর থেকেই বাংলাদেশে আই এসের খোঁজ পড়ে। হিড়িক পড়ে যায়, জঙ্গি গ্রেফতার অভিযানের। আইনশৃংখলা বাহিনীর জঙ্গি দমনে নিয়মিত অভিযানের মধ্যেই দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন জঙ্গি সন্দেহে যাদেরকে গ্রেফতার করার কাজ শুরু হয়েছিল, তাদেরকে আইএস’র সদস্য বানাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সবাই। যার ফলশ্রুতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ঘোষণার দু’সপ্তাহের মাথাতেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক আইএস সদস্যের নাগাল পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ পেয়ে যায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ওরফে ইবনে হামদানকে। ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সামিউনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে আইএসের সদস্য বলে দাবি করে। সেই থেকেই বাংলাদেশে আইএস’র উপস্থিতির কথা জানা যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কমপক্ষে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর এ সব ব্যক্তিকে ‘আইএস সদস্য’ বলে দাবি করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করেও জানায়। আইনশংখলা বাহিনীর এমন তথ্যের পর দেশজুড়ে আতংক শুরু হয়। বাড়ানো হয় চলমান নজরদারিসহ নানামুখী অভিযানও। তারপর থেকে থেমে থাকেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। বরং একের পর এক আইএস সদস্য গ্রেফতারের পর সাধুবাদও পায় পুলিশ-র‌্যাব। সরকারও তা লুফে নিয়ে তার সাথে তাল মেলায়।
বাংলাদেশে আইএসের আবিষ্কারের পর এক বছর যেতে না যেতেই এখন এক অসহ্যকর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশ ও সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশে আইএস-এর কোনো অস্তিত্ব নেই। জানা গেছে, আইএস নিয়ে পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর এমন ‘অতি উৎসাহী’ ভূমিকায় এখন বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে সরকারকে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক ও রংপুরে জাপানী নাগরিক খুনের ঘটনায় আইএস প্রসঙ্গ সামনে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, বিদেশী খুনের সাথে আইএস জড়িত। যদিও ওয়েবসাইটটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সাইটটির পরিচালক ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট বলে জানা গেছে।
অতীতে আইএস নিয়ে ‘অতি উৎসাহী’ বক্তব্য দিলেও পিছু হটেছে পুলিশ। উল্টো গণমাধ্যমের কাছে এখন পুলিশ দাবি করছে, এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তারা দেননি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মুনতাসীরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আইএস সদস্য আটক করা হয়েছে, আমরা কখনোই এমন দাবি করিনি। আমরা বলেছি, আইএসের সদস্য সন্দেহে আটক করেছি। সদস্য সংগ্রহের সময় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আইএসের সদস্য হতে হলে আগ্রহীকে সরাসরি সিরিয়ায় যেতে হবে এবং আইএসের প্রধানের বায়াত পেলেই সদস্য হতে পারবেন।’
একই দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও জঙ্গি বিশ্লেষক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের আগে আটক করেছি, তাদের আইএস সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তাদের সরাসরি আইএস সদস্য দাবি করা হয়নি।’
ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘তবে বাংলাদেশের অনেকে আইএসকে সমর্থন করেন। সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।’
পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা এমন দাবি করলেও, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে গ্রেফতার কয়েক যুবককে ‘আইএস সদস্য’ বলেও দাবি করা হয়।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘আইএস’র জানান! : চলতি বছরের ২৫ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা হতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর ২ সদস্য গ্রেফতার।’ ডিএমপির ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির হেডলাইনে আইএস-এর কথা বলা হলেও, প্রথম অনুচ্ছেদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তির পরিচয় ‘জেএমবি’ হিসেবে বলা হয়। অথচ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের মাধ্যমে আইএস কর্তৃক নির্দেশিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য তারা বিভিন্নভাবে প্রচারের মাধ্যমে গোপনে অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃংখলার অবনতি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএস এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আসছিল। আইএস এর নিকট হতে অর্থ ও মারাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করে এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করত। ক্ষতিসাধন, হুমকি সৃষ্টি ও খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
একই বছরের ৮ জুন অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির শিরোনামে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর ১ সদস্য গ্রেফতার।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ গত ০৭/০৬/২০১৫ খ্রি: রোববার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস এর ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম ফিদা মুনতাসির সাকের।’
আরও অভিযান, আরও আইএস: ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন থেকে হিফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ দাবি করে তিনি আইএসের সাথে জড়িত। তার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবলে। তার পিতার নাম ক্বারী হোসাইন আহমেদ। অথচ তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ যে দাবি করেছিল, তা নজরে আসার পর হিফজুরের পরিবার গণমাধ্যমকে জানায়,তাদের পরিবকারের সদস্য হিফজুর ওই ঘটনার আগেই ২০ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে নিখোঁজ হন।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আইএসের প্রধান সমন্বয়কারীসহ চারজনকে গ্রেফতারের দাবি করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, সাখাওয়াত কবির, রবিউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ওরফে বাতেন ও নজরুল ইসলাম। এরপর ৩০ মে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গালিব নামে একজনকে গ্রেফতারের পর ৩১ মে ডিবি পুলিশ আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, আইএসের সদস্য হিসেবে গালিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ২৫ মে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন আমিনুল ইসলাম বেগ। যাকে গ্রেফতারের পর দাবি করা হয়, তিনি আইএসের প্রধান সমন্বয়কারী। তখন গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, আমিনুল দেশে আইএসের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন। মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স এবং আইটি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের বালাকড়ে।
গোয়েন্দারা আরও জানায়, আমিন বেগের অন্যতম সহযোগী আশরার আহমদ খান গত মার্চ মাসে গ্রেফতার হন। এ ছাড়া বাংলাদেশে আইএস এর অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন সাকিব বিন কামাল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডা. সুফিয়া খাতুনের মেয়ের জামাই তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল। তাকেও ওই সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছিল। এই ঘটনাগুলোর পর জুন মাসের ৩ তারিখে ডিএমপির মুখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ভয়েস অব আমেরিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করে বলেন, এ দেশে এক বছরে ১৫ জন আইএস সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরপর চলতি বছরের ২৯ জুলাই সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এস কে হাবিবুন্নবী (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আইএস সন্দেহে আটকের খবর জানায় স্থানীয় পুলিশ। গত ৩ অক্টোবর মোমেনশাহীর ঈশ্বরগঞ্জে আইএস সন্দেহে ফাহিম আল কামাল নামে এক স্কুল ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন আরও চারজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাদেরকে আইএসের সদস্য বলে দাবি করে।
এরপর চলতি মাসেরই ৭ তারিখে ভয়েস অব আমেরিকার সাথে অপর এক সাক্ষাৎকারে ডিএমপির মুখপাত্র দাবি করেন বলেন, আইএস সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর: গত ৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ “বাংলাদেশে আইএস কর্মী যোগাড় হচ্ছে অবাস্তব ভবিষ্যৎ দেখিয়ে” শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়,অবাস্তব কল্পনার ছবি দেখিয়ে সিরিয়াভিত্তিক উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। রাজধানী ঢাকাসহ শহর-বন্দর ছাড়িয়ে এখন গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে আইএস জঙ্গি গ্রুপে যোগদানে উদ্বুদ্ধকরণ প্রচার। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দশম শ্রেণীর ছাত্রসহ ৮ জনকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ডাক’ শীর্ষক একটি লিফলেট, দুটি কম্পিউটার, একটি ইন্টারনেট মডেম, একটি পেনড্রাইভ, দুটি মোবাইল সেটসহ আইএস জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করেছে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৬ মাসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আইএস জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যার ছয় দিনের ব্যবধানে রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যাকান্ডের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় আইএস জঙ্গি সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ৮ জনকে গ্রেফতারের আগে যে অর্ধ শতাধিককে আইএস সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দারা। ফেসবুক, টুইটার, উইকার ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আইএসের সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৩ অক্টোবর শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৩ ও শনিবার দুপুরে ৫ মোট ৮ জনকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সদস্য সন্দেহে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলো ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী উপজেলার আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, পৌর সদরের দত্তপাড়ার হায়দার আলী (৩৮), নতুন বাজার সুপার মার্কেটের নাবিল টেলিকম থেকে বদিউল হাসান (২৪), হেলাল উদ্দিন (২০), জুনাঈদ (২৬), মাসুদ মিয়া (২২) ও মজিবুর রহমান (২০)। শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ফতেনগর আঠারবাড়ীর সোহাগী স্কুল থেকে আইএস সদস্য সন্দেহে মোল্লা ফয়সাল নামে স্থানীয় স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
তার কাছ থেকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ডাক’ শীর্ষক একটি লিফলেটও জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে অন্যদের আটক করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আটককৃতদের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আটক করা হয়েছে তাদের। আইএস জঙ্গি সন্দেহে আটকের পর বিষয়টিতে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি: বিশ্লেষকদের দাবি, বাংলাদেশে আইএসের কার্যক্রম না থাকলেও আইএসকে ঘিরে পুলিশ বিভিন্ন সময় যে অতি উৎসাহী বক্তব্য দিয়েছে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পুলিশ ‘আইএস’ সন্দেহে আটক অব্যাহত রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। ফলে এতে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘৩ অক্টোবরও আইএস সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ বলছে, তারা আইএসের সঙ্গে জড়িত। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এতে তো আমি নিজেই বিভ্রান্ত। এটা নিশ্চয়ই বিভ্রান্ত করার মতো কথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না, দেশে আইএসের উত্থান হয়েছে। বাংলাদেশে ঘটনা ঘটিয়ে তাদের লাভটা কী? তাদের তো একটা প্যাটার্ন আছে। তারা ছোটোখাটো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। তাদের সঙ্গে পুরো ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড যুদ্ধ করছে। তারা একটি স্টেটও বানিয়েছে। তাদের প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ করছে। তাহলে বাংলাদেশে দু’জনকে হত্যা করে তাদের লাভটা কী? এ ছাড়া এটা প্রচারও করা হচ্ছে না। আইএস হত্যাকান্ড ঘটিয়ে থাকলে, তাহলে তাদের নিজের ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করত। কিন্তু তারা তা করেনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউই আইএসের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি আইএসের সদস্য হতে চায়, তাহলে তাকে আইএস প্রধান আবুবক্কর আল বাগদাদীর কাছে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) নিতে হয়। আমার মনে হয় না, বাংলাদেশের কেউ বাগদাদীর কাছে বায়াত নিয়েছেন।’
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজারকে গুলী করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামের একটি ওয়েবসাইটে আইএস হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়। এরপরই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আইএস। যদিও এ দাবির সত্যতা খুঁজে পায়নি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ইতালিয়ান নাগরিক খুন হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর শনিবার সকালেও রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিওকে একইভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের দায়ও আইএস স্বীকার করেছে বলে সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে। এটিও যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আইএসের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। ঢাকায় ইতালীর নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যার সঙ্গে আইএস জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে একই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি বলেছেন, ‘দেশে আইএসের কোনো তৎপরতা নেই।’
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশে কখনোই আইএস সদস্য আটক করা হয়নি। যাদের আটক করা হয়েছে, তারা আইএসে যোগদানের চেষ্টা করেছে। এ অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে।’ বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা নেই। আমিও তাদের সঙ্গে একমত। আসলে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।’
আইএস আছে, আইএস নেই: বাংলাদেশে আইএস-এর তৎপরতা আছে কি নেই, তা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। সরকারের পক্ষ থেকে আইএস নেই দাবি করার পর, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আইএস সহ সহিংস উগ্রপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘আইএস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) রয়েছে। আর বাংলাদেশও সক্ষম।’ তবে এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দুই বিদেশীকে হত্যার পর দাবি করেছিলেন যে, ‘বাংলাদেশে আইএস নেই’। ঢাকার গুলশানে ইটালির নাগরিক সিজার তাবেলা এবং রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসি কুনিও হত্যাকান্ডের পর-পরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর দেয় যে, ওই দু’টি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর গত সোমবার তাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএস-এর এই দায় স্বীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রিটা কাৎস পরিচালিত বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সার্চ ফর ইন্টারনাশনাল টেরোরিস্ট এনসিটিজ (সাইট) বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বেসরকারি মুখপাত্র হিসেবে এ সব ‘প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।’
তবে বাংলাদেশের জঙ্গি বিষয়ক গবেষক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘বাংলাদেশে যে আইএস-এর তৎপরতা আছে, তা প্রমাণিত। বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা গত দেড় বছরে আইস সদস্য বলে অনেককে আটক করেছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমেও তারা এ সংক্রান্ত খবর, তথ্য এবং ফটোগ্রাফ প্রচার করেছে। এমনকি বাংলাদেশী নাগরিকদের সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এ যোগদানের তথ্যও আমরা জানি। সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যসহ খবর প্রচার হয়েছে।’
নূর খানের মতে, ‘শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন, আইএসসহ জঙ্গি দমনে যেকোনো দেশেরই সহায়তা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। তবে খেয়াল লাখতে হবে কেউ যেন এর সুযোগ নিতে না পারে।’
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম (টাইমস অফ ইন্ডিয়া) দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার সঙ্গে আইএস জড়িত নয়। সংবাদমাধ্যমটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে এই দাবি করে। (দৈনিক সংগ্রাম)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

পুলিশের আবিষ্কার : বিভ্রান্তিতে সরকার : আই এস বিতর্কে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আই এস) গোড়াপত্তনের পর বিশ্ব মিডিয়ার কল্যাণে বাংলাদেশের মানুষের নজরে আসে নয়া জঙ্গি সংগঠনটির নাম। এই সংগঠনের সাথে কোন বাংলাদেশী জড়িত আছেন কিনা তারও কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আজ পর্যন্ত আসেনি। তার আগেই গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতা বিমানবন্দরে আই এসের চারজন তরুণকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি ছিল,তারা বাংলাদেশে আসার পথে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকৃত চার তরুণই ভারতের হায়দ্রাবাদের নাগরিক। এই খবর জানার পর থেকেই বাংলাদেশে আই এসের খোঁজ পড়ে। হিড়িক পড়ে যায়, জঙ্গি গ্রেফতার অভিযানের। আইনশৃংখলা বাহিনীর জঙ্গি দমনে নিয়মিত অভিযানের মধ্যেই দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন জঙ্গি সন্দেহে যাদেরকে গ্রেফতার করার কাজ শুরু হয়েছিল, তাদেরকে আইএস’র সদস্য বানাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সবাই। যার ফলশ্রুতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ঘোষণার দু’সপ্তাহের মাথাতেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক আইএস সদস্যের নাগাল পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ পেয়ে যায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ওরফে ইবনে হামদানকে। ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সামিউনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে আইএসের সদস্য বলে দাবি করে। সেই থেকেই বাংলাদেশে আইএস’র উপস্থিতির কথা জানা যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কমপক্ষে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর এ সব ব্যক্তিকে ‘আইএস সদস্য’ বলে দাবি করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করেও জানায়। আইনশংখলা বাহিনীর এমন তথ্যের পর দেশজুড়ে আতংক শুরু হয়। বাড়ানো হয় চলমান নজরদারিসহ নানামুখী অভিযানও। তারপর থেকে থেমে থাকেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। বরং একের পর এক আইএস সদস্য গ্রেফতারের পর সাধুবাদও পায় পুলিশ-র‌্যাব। সরকারও তা লুফে নিয়ে তার সাথে তাল মেলায়।
বাংলাদেশে আইএসের আবিষ্কারের পর এক বছর যেতে না যেতেই এখন এক অসহ্যকর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশ ও সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশে আইএস-এর কোনো অস্তিত্ব নেই। জানা গেছে, আইএস নিয়ে পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর এমন ‘অতি উৎসাহী’ ভূমিকায় এখন বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে সরকারকে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক ও রংপুরে জাপানী নাগরিক খুনের ঘটনায় আইএস প্রসঙ্গ সামনে চলে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, বিদেশী খুনের সাথে আইএস জড়িত। যদিও ওয়েবসাইটটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সাইটটির পরিচালক ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট বলে জানা গেছে।
অতীতে আইএস নিয়ে ‘অতি উৎসাহী’ বক্তব্য দিলেও পিছু হটেছে পুলিশ। উল্টো গণমাধ্যমের কাছে এখন পুলিশ দাবি করছে, এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তারা দেননি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মুনতাসীরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আইএস সদস্য আটক করা হয়েছে, আমরা কখনোই এমন দাবি করিনি। আমরা বলেছি, আইএসের সদস্য সন্দেহে আটক করেছি। সদস্য সংগ্রহের সময় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আইএসের সদস্য হতে হলে আগ্রহীকে সরাসরি সিরিয়ায় যেতে হবে এবং আইএসের প্রধানের বায়াত পেলেই সদস্য হতে পারবেন।’
একই দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও জঙ্গি বিশ্লেষক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের আগে আটক করেছি, তাদের আইএস সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তাদের সরাসরি আইএস সদস্য দাবি করা হয়নি।’
ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘তবে বাংলাদেশের অনেকে আইএসকে সমর্থন করেন। সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।’
পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা এমন দাবি করলেও, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে গ্রেফতার কয়েক যুবককে ‘আইএস সদস্য’ বলেও দাবি করা হয়।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘আইএস’র জানান! : চলতি বছরের ২৫ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা হতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর ২ সদস্য গ্রেফতার।’ ডিএমপির ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির হেডলাইনে আইএস-এর কথা বলা হলেও, প্রথম অনুচ্ছেদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তির পরিচয় ‘জেএমবি’ হিসেবে বলা হয়। অথচ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের মাধ্যমে আইএস কর্তৃক নির্দেশিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য তারা বিভিন্নভাবে প্রচারের মাধ্যমে গোপনে অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃংখলার অবনতি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএস এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আসছিল। আইএস এর নিকট হতে অর্থ ও মারাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করে এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করত। ক্ষতিসাধন, হুমকি সৃষ্টি ও খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
একই বছরের ৮ জুন অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির শিরোনামে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এর ১ সদস্য গ্রেফতার।’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ গত ০৭/০৬/২০১৫ খ্রি: রোববার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস এর ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম ফিদা মুনতাসির সাকের।’
আরও অভিযান, আরও আইএস: ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন থেকে হিফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ দাবি করে তিনি আইএসের সাথে জড়িত। তার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবলে। তার পিতার নাম ক্বারী হোসাইন আহমেদ। অথচ তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ যে দাবি করেছিল, তা নজরে আসার পর হিফজুরের পরিবার গণমাধ্যমকে জানায়,তাদের পরিবকারের সদস্য হিফজুর ওই ঘটনার আগেই ২০ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে নিখোঁজ হন।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ আইএসের প্রধান সমন্বয়কারীসহ চারজনকে গ্রেফতারের দাবি করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, সাখাওয়াত কবির, রবিউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ওরফে বাতেন ও নজরুল ইসলাম। এরপর ৩০ মে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গালিব নামে একজনকে গ্রেফতারের পর ৩১ মে ডিবি পুলিশ আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, আইএসের সদস্য হিসেবে গালিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ২৫ মে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন আমিনুল ইসলাম বেগ। যাকে গ্রেফতারের পর দাবি করা হয়, তিনি আইএসের প্রধান সমন্বয়কারী। তখন গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, আমিনুল দেশে আইএসের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন। মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স এবং আইটি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের বালাকড়ে।
গোয়েন্দারা আরও জানায়, আমিন বেগের অন্যতম সহযোগী আশরার আহমদ খান গত মার্চ মাসে গ্রেফতার হন। এ ছাড়া বাংলাদেশে আইএস এর অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন সাকিব বিন কামাল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডা. সুফিয়া খাতুনের মেয়ের জামাই তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল। তাকেও ওই সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছিল। এই ঘটনাগুলোর পর জুন মাসের ৩ তারিখে ডিএমপির মুখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ভয়েস অব আমেরিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করে বলেন, এ দেশে এক বছরে ১৫ জন আইএস সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরপর চলতি বছরের ২৯ জুলাই সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এস কে হাবিবুন্নবী (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আইএস সন্দেহে আটকের খবর জানায় স্থানীয় পুলিশ। গত ৩ অক্টোবর মোমেনশাহীর ঈশ্বরগঞ্জে আইএস সন্দেহে ফাহিম আল কামাল নামে এক স্কুল ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন আরও চারজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাদেরকে আইএসের সদস্য বলে দাবি করে।
এরপর চলতি মাসেরই ৭ তারিখে ভয়েস অব আমেরিকার সাথে অপর এক সাক্ষাৎকারে ডিএমপির মুখপাত্র দাবি করেন বলেন, আইএস সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর: গত ৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ “বাংলাদেশে আইএস কর্মী যোগাড় হচ্ছে অবাস্তব ভবিষ্যৎ দেখিয়ে” শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়,অবাস্তব কল্পনার ছবি দেখিয়ে সিরিয়াভিত্তিক উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। রাজধানী ঢাকাসহ শহর-বন্দর ছাড়িয়ে এখন গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে আইএস জঙ্গি গ্রুপে যোগদানে উদ্বুদ্ধকরণ প্রচার। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দশম শ্রেণীর ছাত্রসহ ৮ জনকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ডাক’ শীর্ষক একটি লিফলেট, দুটি কম্পিউটার, একটি ইন্টারনেট মডেম, একটি পেনড্রাইভ, দুটি মোবাইল সেটসহ আইএস জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করেছে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৬ মাসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আইএস জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যার ছয় দিনের ব্যবধানে রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যাকান্ডের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় আইএস জঙ্গি সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ৮ জনকে গ্রেফতারের আগে যে অর্ধ শতাধিককে আইএস সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দারা। ফেসবুক, টুইটার, উইকার ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আইএসের সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৩ অক্টোবর শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৩ ও শনিবার দুপুরে ৫ মোট ৮ জনকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সদস্য সন্দেহে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলো ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী উপজেলার আব্দুর রশিদ, মিজানুর রহমান, পৌর সদরের দত্তপাড়ার হায়দার আলী (৩৮), নতুন বাজার সুপার মার্কেটের নাবিল টেলিকম থেকে বদিউল হাসান (২৪), হেলাল উদ্দিন (২০), জুনাঈদ (২৬), মাসুদ মিয়া (২২) ও মজিবুর রহমান (২০)। শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ফতেনগর আঠারবাড়ীর সোহাগী স্কুল থেকে আইএস সদস্য সন্দেহে মোল্লা ফয়সাল নামে স্থানীয় স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
তার কাছ থেকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ডাক’ শীর্ষক একটি লিফলেটও জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে অন্যদের আটক করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আটককৃতদের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আটক করা হয়েছে তাদের। আইএস জঙ্গি সন্দেহে আটকের পর বিষয়টিতে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি: বিশ্লেষকদের দাবি, বাংলাদেশে আইএসের কার্যক্রম না থাকলেও আইএসকে ঘিরে পুলিশ বিভিন্ন সময় যে অতি উৎসাহী বক্তব্য দিয়েছে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পুলিশ ‘আইএস’ সন্দেহে আটক অব্যাহত রাখলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। ফলে এতে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘৩ অক্টোবরও আইএস সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ বলছে, তারা আইএসের সঙ্গে জড়িত। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এতে তো আমি নিজেই বিভ্রান্ত। এটা নিশ্চয়ই বিভ্রান্ত করার মতো কথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না, দেশে আইএসের উত্থান হয়েছে। বাংলাদেশে ঘটনা ঘটিয়ে তাদের লাভটা কী? তাদের তো একটা প্যাটার্ন আছে। তারা ছোটোখাটো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। তাদের সঙ্গে পুরো ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড যুদ্ধ করছে। তারা একটি স্টেটও বানিয়েছে। তাদের প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ করছে। তাহলে বাংলাদেশে দু’জনকে হত্যা করে তাদের লাভটা কী? এ ছাড়া এটা প্রচারও করা হচ্ছে না। আইএস হত্যাকান্ড ঘটিয়ে থাকলে, তাহলে তাদের নিজের ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করত। কিন্তু তারা তা করেনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউই আইএসের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি আইএসের সদস্য হতে চায়, তাহলে তাকে আইএস প্রধান আবুবক্কর আল বাগদাদীর কাছে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) নিতে হয়। আমার মনে হয় না, বাংলাদেশের কেউ বাগদাদীর কাছে বায়াত নিয়েছেন।’
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজারকে গুলী করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামের একটি ওয়েবসাইটে আইএস হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়। এরপরই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আইএস। যদিও এ দাবির সত্যতা খুঁজে পায়নি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ইতালিয়ান নাগরিক খুন হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর শনিবার সকালেও রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিওকে একইভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের দায়ও আইএস স্বীকার করেছে বলে সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে। এটিও যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আইএসের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। ঢাকায় ইতালীর নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যার সঙ্গে আইএস জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে একই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি বলেছেন, ‘দেশে আইএসের কোনো তৎপরতা নেই।’
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশে কখনোই আইএস সদস্য আটক করা হয়নি। যাদের আটক করা হয়েছে, তারা আইএসে যোগদানের চেষ্টা করেছে। এ অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে।’ বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা নেই। আমিও তাদের সঙ্গে একমত। আসলে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।’
আইএস আছে, আইএস নেই: বাংলাদেশে আইএস-এর তৎপরতা আছে কি নেই, তা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। সরকারের পক্ষ থেকে আইএস নেই দাবি করার পর, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আইএস সহ সহিংস উগ্রপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘আইএস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) রয়েছে। আর বাংলাদেশও সক্ষম।’ তবে এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দুই বিদেশীকে হত্যার পর দাবি করেছিলেন যে, ‘বাংলাদেশে আইএস নেই’। ঢাকার গুলশানে ইটালির নাগরিক সিজার তাবেলা এবং রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসি কুনিও হত্যাকান্ডের পর-পরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর দেয় যে, ওই দু’টি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর গত সোমবার তাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএস-এর এই দায় স্বীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রিটা কাৎস পরিচালিত বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সার্চ ফর ইন্টারনাশনাল টেরোরিস্ট এনসিটিজ (সাইট) বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বেসরকারি মুখপাত্র হিসেবে এ সব ‘প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।’
তবে বাংলাদেশের জঙ্গি বিষয়ক গবেষক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘বাংলাদেশে যে আইএস-এর তৎপরতা আছে, তা প্রমাণিত। বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা গত দেড় বছরে আইস সদস্য বলে অনেককে আটক করেছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমেও তারা এ সংক্রান্ত খবর, তথ্য এবং ফটোগ্রাফ প্রচার করেছে। এমনকি বাংলাদেশী নাগরিকদের সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এ যোগদানের তথ্যও আমরা জানি। সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যসহ খবর প্রচার হয়েছে।’
নূর খানের মতে, ‘শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন, আইএসসহ জঙ্গি দমনে যেকোনো দেশেরই সহায়তা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। তবে খেয়াল লাখতে হবে কেউ যেন এর সুযোগ নিতে না পারে।’
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম (টাইমস অফ ইন্ডিয়া) দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার সঙ্গে আইএস জড়িত নয়। সংবাদমাধ্যমটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে এই দাবি করে। (দৈনিক সংগ্রাম)