নিউইয়র্ক ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট : বাংলাদেশ সীমান্তের ফেনসিডিল জালে এবার মার্কিন জায়ান্ট অ্যাবোট

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • / ৭০৯ বার পঠিত

ঢাকা: সুইস ম্যাগি নুডলস নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাবোট হেলথকেয়ার ভারতে তাদের তৈরি ফেনসিডিলে ক্ষতিকারক কৌডিন (আফিমজাত মাদকদ্রব্য বিশেষ) আছে কিনা তা নিয়ে এক আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। গত নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের একটি ল্যাবরেটরি টেস্টে রাজ্য সরকারের দাবি মতে অ্যাবোটের তৈরি ফেনসিডিলে মাত্রারিক্ত পরিমাণের কোডেইন পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন এই ফেনসিডিল বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে উদ্ধারের পরে পশ্চিমবঙ্গের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ড. অমিতাভ পার্টি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত কোডিন জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, বেশি ঘুম, আচরণগত পরিবর্তন ও ড্রাগ নির্ভরতা। গত ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক মাসিক বুলেটিনে ওই ফেনসিডিল মানসম্মত নয় বলে চিহ্নিত করেছিল। তবে ২০১২ সালের একটি ভারতীয় সংসদীয় রিপোর্টে মতে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যে কোন ২২ ধরনের ড্রাগ নমুনার মধ্যে প্রায় একটি মানসম্মত নয় বলে সন্ধান মেলে। পশ্চিমবঙ্গে ফার্মেসি আছে ৫০ হাজারের বেশি, আর পরিদর্শক আছেন ১৪০ জন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গোড়া থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ফেনসিডিল বিক্রির ওপরে কড়া নজরদারি। ওই কাশির ওষুধটির লাখ লাখ বোতল প্রতি বছর বাংলাদেশে পাচার হয়। মাঝেমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফেনসিডিল পাচারের ঘটনা উদঘাটিত হয়। পাচারকারী গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেই চলে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে এই কাশির ওষুধের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সীমান্তের কোথায় কোথায় এসব কারখানা আছে তার তালিকাও চালাচালি করেছে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর ফেনসিডিলের মরণ-ছোবলের তেমন হেরফের ঘটেনি। তবে এই প্রথম ক্ষতিকর ফেনসিডিলের উৎপাদনের সঙ্গে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট হিসেবে পরিচিত একটি কোম্পানির নাম উঠে এসেছে।
Fencidileপশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট এর আগে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিটা ফেনসিডিল বোতল কোথায় যাচ্ছে, তার হিসাব রাখার বিধান করেছে। আবার গুদামে মজুত ফেনিসিডিলে ভান্ডার পরীক্ষা করে তবেই বিক্রির ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢাকায় কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে পরিস্থিতির তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে তা এখনই বলা যাবে না। আর এই নতুন নজরদারিতে সীমান্ত অঞ্চলের ওষুধ বিক্রেতারা ফেনসিডিল আর রাখতেই চাইছেন না বলে দাবি ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের।
এখন দিল্লি ডেটলাইনে নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন বলেছে, যে নমুনা ফেনসিডিলকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তা যে অ্যাবোটের তৈরি সেটা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আবার সন্দেহভাজন নমুনায় থাকা ৮০ হাজার বোতলের ব্যাচটি বাজার থেকে এখনও পর্যন্ত তুলে নেয়াও হয়নি। একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে অ্যাবোট ভারতে অ্যাবোট ইন্ডিয়া লি. হিসেবে নিবন্ধিত। অ্যাবোট ভারতে একশ’ কোটি ডলারের মুনাফা করছে। এর মধ্যে ফেনসিডিলের পরিমাণ হলো শতকারা ৩ শতাংশ। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ল্যাবরেটরি টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে যে, যে পরিমাণ কৌডিন থাকার কথা তার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ পাওয়া গেছে। আর মাত্রারিক্তি কৌডিন থাকাটা ভারতের ড্রাগ আইনের লঙ্ঘন।
গত মার্চে হিমাচল প্রদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ অ্যাবোটকে প্রথম কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল। কারণ হিমাচলেই অ্যাবোটের ফেনসিডিল তৈরির কারখানা অবস্থিত। গত এপ্রিলে অ্যাবোট তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এবং কোন ব্যবস্থা গ্রহণে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়। তারা কোথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। ‘আমরা এখনও উত্তরের অপক্ষোয় আছি।’ বলেছেন অ্যাবোটের একজন মুখপাত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সুমিত সাহা বলেছেন, ‘আমরা নমুনা বোতলগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেছিলাম।’ নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন বলেছে, পরিদর্শকের রিপোর্টের মতে নমুনা বোতলে প্রতি ৫ মিলি লিটার ডোজে ২১. ৩৭ মিলিগ্রাম কোডিন পাওয়া গেছে। অথচ বোতলের লেবেলে এর পরিমাণ মাত্র ১০ মিলিগ্রাম উল্লেখ আছে। তিন মাস আগে সরকারি কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে নেসলে ম্যাগি নুডলস প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ওই আদেশ কার্যকারিতা হারায়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের প্রধান ড. চিন্তামনি ঘোষ বিবিসিকে বলছিলেন, ‘নজরদারি চালাতে গিয়ে দেখা যায় যে কারখানা থেকে কাশির ওষুধ যে কার কাছ থেকে কার কাছে চলে যাচ্ছে, তার কোন হদিসই নেই। আবার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় দেখা যাচ্ছে বেশি পরিমাণে ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে। এমনটা তো নয় যে এই এলাকায় মানুষের কাশি বেশি হচ্ছে। এটাই যে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে, সেটা বোঝা যায়।
ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা বলছেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে ফেনসিডিল যে স্টকিস্টদের কাছে যায়, সেখান থেকে ওষুধের খুচরো ব্যবাসায়ীদের নাম করে ফেনসিডিল পাঠিয়ে দেয়া হয় পাচারের জন্য।
তাই কোন ব্যবসায়ী ফেনসিডিল নিচ্ছেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য জমা রাখা হবে নতুন নিয়মে। ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেটের সহকারী পরিচালক কৃষ্ণাঙ্গ ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করছিলেন, এই তথ্যগুলো আমাদের জেলার অফিসাররা সেটা পরীক্ষা করে তবে বিক্রির ছাড়পত্র দেবেন। ফেনসিডিল তৈরির যে মূল উপাদান কোডিন ফসফেট, সেটা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কারখানা থেকে। কি পরিমাণে এই কাশির ওষুধের প্রেসক্রিপশন করছেন ডাক্তার বাবুরা, সেটা খতিয়ে না দেখেই কোডিন ফসফেট দেয়া হয়। যে প্রায় পাঁচ কোটি বোতল ফেনসিডিল তৈরি হয়, তার এক শতাংশও ডাক্তার বাবুরা প্রেসক্রিপশনে লেখেন না। তাই কোডিন ফসফেট সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।’
বিএসএফ অফিসাররা বলছিলেন অনেক সময় মহিলারা শরীরের সঙ্গে ১০-১৫টা ফেনসিডিল বোতল বেঁধে তার ওপরে পোশাক পরে নেন যাতে বাইরে থেকে বোঝা না যায়। আবার কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে এই কাশির ওষুধের বাক্স ছুড়েও দেয়া হয়। আগে কাঁচের শিশিতে ফেনসিডিল পাওয়া যেতো, কিন্তু এখন তা পাওয়া যায় প্লাস্টিকের বোতলে তাই বাক্স ভর্তি ওষুধের শিশি ছুঁড়ে দিলেও তা ভাঙে না।
পূর্বাঞ্চলে দক্ষিণবঙ্গ আর ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়েই সব থেকে বেশি ফেনসিডিল পাচার হয়। গত একবছরে বিএসএফ পূর্বাঞ্চলেই ৭ লাখ ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল আটক করেছে। (দৈনিক মানবজমিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট : বাংলাদেশ সীমান্তের ফেনসিডিল জালে এবার মার্কিন জায়ান্ট অ্যাবোট

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ঢাকা: সুইস ম্যাগি নুডলস নিয়ে বিতর্কের রেশ না কাটতেই যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাবোট হেলথকেয়ার ভারতে তাদের তৈরি ফেনসিডিলে ক্ষতিকারক কৌডিন (আফিমজাত মাদকদ্রব্য বিশেষ) আছে কিনা তা নিয়ে এক আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। গত নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের একটি ল্যাবরেটরি টেস্টে রাজ্য সরকারের দাবি মতে অ্যাবোটের তৈরি ফেনসিডিলে মাত্রারিক্ত পরিমাণের কোডেইন পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন এই ফেনসিডিল বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে উদ্ধারের পরে পশ্চিমবঙ্গের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ড. অমিতাভ পার্টি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত কোডিন জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, বেশি ঘুম, আচরণগত পরিবর্তন ও ড্রাগ নির্ভরতা। গত ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক মাসিক বুলেটিনে ওই ফেনসিডিল মানসম্মত নয় বলে চিহ্নিত করেছিল। তবে ২০১২ সালের একটি ভারতীয় সংসদীয় রিপোর্টে মতে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যে কোন ২২ ধরনের ড্রাগ নমুনার মধ্যে প্রায় একটি মানসম্মত নয় বলে সন্ধান মেলে। পশ্চিমবঙ্গে ফার্মেসি আছে ৫০ হাজারের বেশি, আর পরিদর্শক আছেন ১৪০ জন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গোড়া থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ফেনসিডিল বিক্রির ওপরে কড়া নজরদারি। ওই কাশির ওষুধটির লাখ লাখ বোতল প্রতি বছর বাংলাদেশে পাচার হয়। মাঝেমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফেনসিডিল পাচারের ঘটনা উদঘাটিত হয়। পাচারকারী গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেই চলে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে এই কাশির ওষুধের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সীমান্তের কোথায় কোথায় এসব কারখানা আছে তার তালিকাও চালাচালি করেছে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর ফেনসিডিলের মরণ-ছোবলের তেমন হেরফের ঘটেনি। তবে এই প্রথম ক্ষতিকর ফেনসিডিলের উৎপাদনের সঙ্গে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট হিসেবে পরিচিত একটি কোম্পানির নাম উঠে এসেছে।
Fencidileপশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট এর আগে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিটা ফেনসিডিল বোতল কোথায় যাচ্ছে, তার হিসাব রাখার বিধান করেছে। আবার গুদামে মজুত ফেনিসিডিলে ভান্ডার পরীক্ষা করে তবেই বিক্রির ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢাকায় কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে পরিস্থিতির তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে তা এখনই বলা যাবে না। আর এই নতুন নজরদারিতে সীমান্ত অঞ্চলের ওষুধ বিক্রেতারা ফেনসিডিল আর রাখতেই চাইছেন না বলে দাবি ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের।
এখন দিল্লি ডেটলাইনে নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন বলেছে, যে নমুনা ফেনসিডিলকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তা যে অ্যাবোটের তৈরি সেটা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আবার সন্দেহভাজন নমুনায় থাকা ৮০ হাজার বোতলের ব্যাচটি বাজার থেকে এখনও পর্যন্ত তুলে নেয়াও হয়নি। একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে অ্যাবোট ভারতে অ্যাবোট ইন্ডিয়া লি. হিসেবে নিবন্ধিত। অ্যাবোট ভারতে একশ’ কোটি ডলারের মুনাফা করছে। এর মধ্যে ফেনসিডিলের পরিমাণ হলো শতকারা ৩ শতাংশ। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ল্যাবরেটরি টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে যে, যে পরিমাণ কৌডিন থাকার কথা তার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ পাওয়া গেছে। আর মাত্রারিক্তি কৌডিন থাকাটা ভারতের ড্রাগ আইনের লঙ্ঘন।
গত মার্চে হিমাচল প্রদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ অ্যাবোটকে প্রথম কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল। কারণ হিমাচলেই অ্যাবোটের ফেনসিডিল তৈরির কারখানা অবস্থিত। গত এপ্রিলে অ্যাবোট তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এবং কোন ব্যবস্থা গ্রহণে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়। তারা কোথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। ‘আমরা এখনও উত্তরের অপক্ষোয় আছি।’ বলেছেন অ্যাবোটের একজন মুখপাত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সুমিত সাহা বলেছেন, ‘আমরা নমুনা বোতলগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে উদ্ধার করেছিলাম।’ নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন বলেছে, পরিদর্শকের রিপোর্টের মতে নমুনা বোতলে প্রতি ৫ মিলি লিটার ডোজে ২১. ৩৭ মিলিগ্রাম কোডিন পাওয়া গেছে। অথচ বোতলের লেবেলে এর পরিমাণ মাত্র ১০ মিলিগ্রাম উল্লেখ আছে। তিন মাস আগে সরকারি কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে নেসলে ম্যাগি নুডলস প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ওই আদেশ কার্যকারিতা হারায়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের প্রধান ড. চিন্তামনি ঘোষ বিবিসিকে বলছিলেন, ‘নজরদারি চালাতে গিয়ে দেখা যায় যে কারখানা থেকে কাশির ওষুধ যে কার কাছ থেকে কার কাছে চলে যাচ্ছে, তার কোন হদিসই নেই। আবার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় দেখা যাচ্ছে বেশি পরিমাণে ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে। এমনটা তো নয় যে এই এলাকায় মানুষের কাশি বেশি হচ্ছে। এটাই যে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে, সেটা বোঝা যায়।
ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা বলছেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে ফেনসিডিল যে স্টকিস্টদের কাছে যায়, সেখান থেকে ওষুধের খুচরো ব্যবাসায়ীদের নাম করে ফেনসিডিল পাঠিয়ে দেয়া হয় পাচারের জন্য।
তাই কোন ব্যবসায়ী ফেনসিডিল নিচ্ছেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য জমা রাখা হবে নতুন নিয়মে। ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেটের সহকারী পরিচালক কৃষ্ণাঙ্গ ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করছিলেন, এই তথ্যগুলো আমাদের জেলার অফিসাররা সেটা পরীক্ষা করে তবে বিক্রির ছাড়পত্র দেবেন। ফেনসিডিল তৈরির যে মূল উপাদান কোডিন ফসফেট, সেটা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কারখানা থেকে। কি পরিমাণে এই কাশির ওষুধের প্রেসক্রিপশন করছেন ডাক্তার বাবুরা, সেটা খতিয়ে না দেখেই কোডিন ফসফেট দেয়া হয়। যে প্রায় পাঁচ কোটি বোতল ফেনসিডিল তৈরি হয়, তার এক শতাংশও ডাক্তার বাবুরা প্রেসক্রিপশনে লেখেন না। তাই কোডিন ফসফেট সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।’
বিএসএফ অফিসাররা বলছিলেন অনেক সময় মহিলারা শরীরের সঙ্গে ১০-১৫টা ফেনসিডিল বোতল বেঁধে তার ওপরে পোশাক পরে নেন যাতে বাইরে থেকে বোঝা না যায়। আবার কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে এই কাশির ওষুধের বাক্স ছুড়েও দেয়া হয়। আগে কাঁচের শিশিতে ফেনসিডিল পাওয়া যেতো, কিন্তু এখন তা পাওয়া যায় প্লাস্টিকের বোতলে তাই বাক্স ভর্তি ওষুধের শিশি ছুঁড়ে দিলেও তা ভাঙে না।
পূর্বাঞ্চলে দক্ষিণবঙ্গ আর ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়েই সব থেকে বেশি ফেনসিডিল পাচার হয়। গত একবছরে বিএসএফ পূর্বাঞ্চলেই ৭ লাখ ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল আটক করেছে। (দৈনিক মানবজমিন)