নিউইয়র্ক ০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : পুলিশের তালিকায় ৪৪০ প্রার্থী আসামি : ২০ দলের ৩১৮, ১৪দলের ১২২

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০১৫
  • / ১০৬৪ বার পঠিত

ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ৪৪০ জন প্রার্থী বিভিন্ন মামলার আসামি। তাদের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের সমর্থক প্রার্থী রয়েছেন ৩১৮ জন। এই প্রার্থীদের মধ্যে ফৌজদারি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি আছে ১৮৩ জন। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সমর্থক ১২২ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শেষে প্রার্থীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত একটি তালিকার খসড়া তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ তালিকা চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছিল।
সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মামলার আসামি এসব প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা বুধবার (১ এপ্রিল) স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসে দাখিল করবে ডিএমপি। এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রার্থীদের কেউ ফৌজদারি মামলা অথবা ফেরারি আসামি কিনা ইত্যাদি জানতে চেয়ে ডিএমপিকে চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মামলার আসামি প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করছে ডিএমপি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তাদের প্রোফাইলও তৈরি করা হয়েছে। সারা দেশ থেকেই মামলার তথ্য এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাতভর যাচাই-বাছাই শেষে আজ দিনের যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসির আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে কিনা তা আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরের আগেই এসব তথ্য কমিশনে পাঠানো হবে। বুধবার থেকে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করা হবে। ওই সময়ও ডিএমপির একাধিক প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তাদের কাছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলার হিসাব থাকবে। প্রার্থীরা যেসব ডকুমেন্ট সেখানে উত্থাপন করবেন সেটা যাচাই করবেন ডিএমপির প্রতিনিধিরা।
মনিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে তাই কমিশনের চাওয়া যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করার যে প্রক্রিয়া তা শুরু করেছি। ইসি যে ধরনের সহযোগিতা চায় তা ডিএমপির পক্ষ থেকে করা হবে। আর আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ভয়হীন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য যারা অস্ত্রধারী রয়েছে, চাঁদাবাজ রয়েছে, যারা সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাস করার আগে অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর যারা বিভিন্ন মামলায় জামিনে রয়েছেন তাদের আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব। যাতে করে তারা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অস্ত্র কিংবা অন্য কোনো পেশিশক্তি চালিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, জেল থেকে বা আত্মগোপনে থেকে মনোনয়ন নিয়েছে নির্বাচন করার জন্য, তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ডিএমপি নেবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধে যারা অভিযুক্ত ও পলাতক রয়েছে, কিংবা যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে তাদের গ্রেফতারের যে প্রচেষ্টা তা অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি গুপ্তস্থান বা আত্মগোপনে থেকে অথবা জেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সেক্ষেত্রে যদি নির্বাচন কমিশনের কোনো বিধিনিষেধ না থাকে, তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত দেয়ার কিছু নেই। তবে ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বুধবার ও বৃহস্প্রতিবার ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্রের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের কেউ ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, ফৌজদারি মামলা ও ফেরারি আসামি কিনা- তার তথ্য চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এসব দিকগুলো মিলিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ঋণখেলাপি ও আদালত কর্তৃক ফেরারি আসামি ঘোষিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আগারগাঁওয়ের এনআইএলজি ভবনে দ্বিতীয় তলায় যাচাই-বাছাই হবে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, ক্রমান্বয়ে মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আগে ৫টি ফৌজদারি মামলা ছিল। কিন্ত এখন কোনো মামলা নেই। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৩৭টি। একই দলের নেতা আবদুল সালামের বিরুদ্ধে ৩টি এবং নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলা আছে। উত্তরের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা আছে। যার সব মামলা ২০১৩ সাল থেকে ১৫ সালের মধ্যে করা। অতীতেও তার নামে তিনটি মামলা ছিল। যার দুটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর একটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মিরপুর-শাহআলী ও রূপনগর থানায় মিরপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলুর বিরুদ্ধে আছে সর্বোচ্চ ১২০টি মামলা। ঢাকা উত্তরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রামপুরা থানা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফরুর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টির বেশি মামলা। তিনিও আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দক্ষিণের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হামিদুল হকের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। খিলগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুকুল ইসলাম এবং দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৬টিরও বেশি মামলা।
দক্ষিণের ২ ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাশকতার ৫টি মামলা। দক্ষিণের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আজমত আলী কনু ১০টি মামলা ঘাড়ে নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনিও প্রার্থী।
দক্ষিণের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি রাজনৈতিক মামলা। দক্ষিণের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বাদশার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা আছে। দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্রার্থী মকবুল আহম্মেদ কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ৪টি। দক্ষিণের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক মামলা আছে। তিনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে আছেন। তবুও তিনি প্রার্থিতা করবেন। দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টিরও বেশি মামলা। দক্ষিণের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান তানভীর রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সবুজবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল হুদার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। একই ওয়ার্ডের আরেক বিএনপি নেতা তাসাদ্দেক হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধেও অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। তিনিও আত্মগোপনে। দক্ষিণের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী বিএনপি নেতা সাইদ হাসান সোহেল রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম আমীনের বিরুদ্ধে প্রায় ৪টি মামলা থাকায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। দক্ষিণের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা জামালুর রহমান চৌধুরীর, রেজাউল করিম বদু, গোলাম সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৪টিরও বেশি করে মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে। বর্তমানে তিনি এ দুই মামলায় কারাগারে আছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বিএনপি নেতা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা, উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে মিরপুরের থানা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা আছে। উত্তরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ওয়াহিদুল আলম লাবুর বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা। ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ও বিএনপি সমথিত প্রার্থী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা। উত্তরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মিসেরের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা। ঢাকা সিটি নির্বাচন উত্তরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দুলাল আহমেদ, আকরাম হোসেন ও মাহবুবুর রহমান মনির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৬টির বেশি মামলা রয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, নির্বাচনী বিধিবিধান অনুযায়ী প্রার্থীদের ঋণখেলাপিসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের আশংকা, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অনেক মামলায় আদালতের পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ অবস্থায় তারা আদৌ নির্বাচনে যোগ্য হবেন কী না, যোগ্য হলেও প্রচারণা চালাতে পারবেন কী তা নিয়ে শংকা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ২৬ জন, কাউন্সিলর পদে ৬৩২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫৩ জনসহ মোট ৮১১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ২১ জন, কাউন্সিলর পদে ৪৯৪ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩৫ জনসহ ৬৫০ জন প্রার্থী হয়েছেন।
আগামী ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। পরদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং অফিসাররা। আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে তিন সিটিতে ভোট।(দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : পুলিশের তালিকায় ৪৪০ প্রার্থী আসামি : ২০ দলের ৩১৮, ১৪দলের ১২২

প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ৪৪০ জন প্রার্থী বিভিন্ন মামলার আসামি। তাদের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের সমর্থক প্রার্থী রয়েছেন ৩১৮ জন। এই প্রার্থীদের মধ্যে ফৌজদারি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি আছে ১৮৩ জন। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সমর্থক ১২২ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শেষে প্রার্থীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত একটি তালিকার খসড়া তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ তালিকা চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছিল।
সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মামলার আসামি এসব প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা বুধবার (১ এপ্রিল) স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসে দাখিল করবে ডিএমপি। এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রার্থীদের কেউ ফৌজদারি মামলা অথবা ফেরারি আসামি কিনা ইত্যাদি জানতে চেয়ে ডিএমপিকে চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মামলার আসামি প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করছে ডিএমপি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তাদের প্রোফাইলও তৈরি করা হয়েছে। সারা দেশ থেকেই মামলার তথ্য এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাতভর যাচাই-বাছাই শেষে আজ দিনের যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসির আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে কিনা তা আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরের আগেই এসব তথ্য কমিশনে পাঠানো হবে। বুধবার থেকে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করা হবে। ওই সময়ও ডিএমপির একাধিক প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তাদের কাছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলার হিসাব থাকবে। প্রার্থীরা যেসব ডকুমেন্ট সেখানে উত্থাপন করবেন সেটা যাচাই করবেন ডিএমপির প্রতিনিধিরা।
মনিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে তাই কমিশনের চাওয়া যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করার যে প্রক্রিয়া তা শুরু করেছি। ইসি যে ধরনের সহযোগিতা চায় তা ডিএমপির পক্ষ থেকে করা হবে। আর আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ভয়হীন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য যারা অস্ত্রধারী রয়েছে, চাঁদাবাজ রয়েছে, যারা সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাস করার আগে অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর যারা বিভিন্ন মামলায় জামিনে রয়েছেন তাদের আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব। যাতে করে তারা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অস্ত্র কিংবা অন্য কোনো পেশিশক্তি চালিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, জেল থেকে বা আত্মগোপনে থেকে মনোনয়ন নিয়েছে নির্বাচন করার জন্য, তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ ডিএমপি নেবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধে যারা অভিযুক্ত ও পলাতক রয়েছে, কিংবা যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে তাদের গ্রেফতারের যে প্রচেষ্টা তা অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি গুপ্তস্থান বা আত্মগোপনে থেকে অথবা জেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সেক্ষেত্রে যদি নির্বাচন কমিশনের কোনো বিধিনিষেধ না থাকে, তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত দেয়ার কিছু নেই। তবে ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বুধবার ও বৃহস্প্রতিবার ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্রের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের কেউ ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, ফৌজদারি মামলা ও ফেরারি আসামি কিনা- তার তথ্য চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এসব দিকগুলো মিলিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ঋণখেলাপি ও আদালত কর্তৃক ফেরারি আসামি ঘোষিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আগারগাঁওয়ের এনআইএলজি ভবনে দ্বিতীয় তলায় যাচাই-বাছাই হবে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, ক্রমান্বয়ে মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আগে ৫টি ফৌজদারি মামলা ছিল। কিন্ত এখন কোনো মামলা নেই। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৩৭টি। একই দলের নেতা আবদুল সালামের বিরুদ্ধে ৩টি এবং নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলা আছে। উত্তরের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা আছে। যার সব মামলা ২০১৩ সাল থেকে ১৫ সালের মধ্যে করা। অতীতেও তার নামে তিনটি মামলা ছিল। যার দুটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর একটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মিরপুর-শাহআলী ও রূপনগর থানায় মিরপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলুর বিরুদ্ধে আছে সর্বোচ্চ ১২০টি মামলা। ঢাকা উত্তরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রামপুরা থানা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফরুর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৫টির বেশি মামলা। তিনিও আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দক্ষিণের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হামিদুল হকের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। খিলগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুকুল ইসলাম এবং দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৬টিরও বেশি মামলা।
দক্ষিণের ২ ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাশকতার ৫টি মামলা। দক্ষিণের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আজমত আলী কনু ১০টি মামলা ঘাড়ে নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনিও প্রার্থী।
দক্ষিণের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি রাজনৈতিক মামলা। দক্ষিণের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বাদশার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা আছে। দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্রার্থী মকবুল আহম্মেদ কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ৪টি। দক্ষিণের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক মামলা আছে। তিনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে আছেন। তবুও তিনি প্রার্থিতা করবেন। দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টিরও বেশি মামলা। দক্ষিণের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান তানভীর রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সবুজবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল হুদার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। একই ওয়ার্ডের আরেক বিএনপি নেতা তাসাদ্দেক হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধেও অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। তিনিও আত্মগোপনে। দক্ষিণের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী বিএনপি নেতা সাইদ হাসান সোহেল রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম আমীনের বিরুদ্ধে প্রায় ৪টি মামলা থাকায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। দক্ষিণের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা জামালুর রহমান চৌধুরীর, রেজাউল করিম বদু, গোলাম সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৪টিরও বেশি করে মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে। বর্তমানে তিনি এ দুই মামলায় কারাগারে আছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বিএনপি নেতা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা, উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে মিরপুরের থানা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা আছে। উত্তরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ওয়াহিদুল আলম লাবুর বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা। ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ও বিএনপি সমথিত প্রার্থী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা। উত্তরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মিসেরের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা। ঢাকা সিটি নির্বাচন উত্তরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দুলাল আহমেদ, আকরাম হোসেন ও মাহবুবুর রহমান মনির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৬টির বেশি মামলা রয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, নির্বাচনী বিধিবিধান অনুযায়ী প্রার্থীদের ঋণখেলাপিসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের আশংকা, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অনেক মামলায় আদালতের পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ অবস্থায় তারা আদৌ নির্বাচনে যোগ্য হবেন কী না, যোগ্য হলেও প্রচারণা চালাতে পারবেন কী তা নিয়ে শংকা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ২৬ জন, কাউন্সিলর পদে ৬৩২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫৩ জনসহ মোট ৮১১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ২১ জন, কাউন্সিলর পদে ৪৯৪ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩৫ জনসহ ৬৫০ জন প্রার্থী হয়েছেন।
আগামী ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। পরদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং অফিসাররা। আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে তিন সিটিতে ভোট।(দৈনিক যুগান্তর)