নিউইয়র্ক ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ঢাকায় নরন্দ্রে মোদী, লাল গালিচায় উষ্ণ অর্ভ্যথনা : সীমান্ত চুক্তির সম্মতিপত্র বিনিময়

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০১৫
  • / ৭৭৩ বার পঠিত

ঢাকা: দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় একটি বিশেষ চার্টার বিমানে ঢাকার উদ্দশে দিল্লি ছাড়েন তিনি।
হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদীকে ফুল দেিয় স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে স্বশস্ত্র ও লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংর্বধনার সঙ্গে মোদীকে দেয়ে হয় গান স্যালুট। তাকে দেয়ে হয় গার্ড অফ অনার। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেন ও গার্ড পরিদর্শন করেন।
এরপর বিমানবন্দরে উপস্থিত বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ কর্মকর্তা এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন নরন্দ্রে মোদী।
এদিকে বাংলাদেশ সফরে আসা নিয়ে শনিবার সকালে টুইটারে টুইট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদী। টুইটারে মোদী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে যাচ্ছি। এই সফর দুই জাতির মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করবে, আমাদের দুই দেশ ও অঞ্চলের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’
২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর এটিই মোদীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর হাইপ্রোফাইল সফর গোটা এশিয়ায় প্রভাব ফেলেছে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দেন মোদী। সেখানে নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এককেএম মোজাম্মেল হক।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১১টা ২৬ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদী এক মিনিট নিরবতা পালন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মন্তব্য খাতায় অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ সময় সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে নরন্দ্রে মোদী ১১টা ৪০ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধ থেকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের উদ্দেশে রওনা দেন। ১২টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেেক দুপুরে নরন্দ্রে মোদী তারকা খচিত অভিজাত আবাসিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে যান। সেখানে তিনি বিশ্রাম নেন। এরপর দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী হোটেল সোনারগাঁওয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ১৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে যান নরেন্দ্র মোদী। সেখানে কলকাতা-ঢাকা-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন তিনি।
ছিটমহল বিনিময়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসর্মথনের দলিলও হস্তান্তর করা হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এই সফরে তিস্তা চুক্তি যে হচ্ছে না, তা আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
BD-India Singe Handoverসীমান্ত চুক্তির সম্মতিপত্র বিনিময়: এদিকে ছিটমহলে অবরুদ্ধ জীবন কাটানো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের মুক্তির সনদ স্থল স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রটোকল স্বাক্ষর এবং সম্মতিপত্র বিনিময় করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয় শঙ্কর নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
দলিল বিনিময়ের এই মূহূর্তটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এক টুইটে বলেছেন, এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে শুধু ঐতিহাসিক বললেও কম বলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তর ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষের বাস। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার। ২০১১ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এই তথ্য পাওয়া যায়।
ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন মোট ৭ হাজার ১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।
ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত যে প্রায় ১০ হাজার একর জমি বেশি হারাবে, সে জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলে প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।
প্রটোকলের আওতায় অপদখলীয় ভূমি নিয়ে বিরোধের অবসানও ঘটবে। এতে ভারত অপদখলীয় ২৭৭৭ একর জমির মালিকানা পাবে। আর ২২৬৭ একর জমির উপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে। আর চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী ছিটমহলবাসী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত চুক্তি বিল সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এরপর তাতে অনুসমর্থন জানায় ভারতের মন্ত্রিসভা। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্বাক্ষরের পর বিলটি পূর্ণতা পায়। এই সমস্যার সমাধানের পরই বাংলাদেশ সফরের কথা ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদী।
এর মধ্যে ২০১১ সালে ভারতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে সময় স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। এরপর কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে যায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস সরকারের সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নেন নরেন্দ্র মোদী। (দৈনিক মানবজমিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ঢাকায় নরন্দ্রে মোদী, লাল গালিচায় উষ্ণ অর্ভ্যথনা : সীমান্ত চুক্তির সম্মতিপত্র বিনিময়

প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০১৫

ঢাকা: দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদী। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটায় একটি বিশেষ চার্টার বিমানে ঢাকার উদ্দশে দিল্লি ছাড়েন তিনি।
হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদীকে ফুল দেিয় স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে স্বশস্ত্র ও লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংর্বধনার সঙ্গে মোদীকে দেয়ে হয় গান স্যালুট। তাকে দেয়ে হয় গার্ড অফ অনার। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেন ও গার্ড পরিদর্শন করেন।
এরপর বিমানবন্দরে উপস্থিত বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ কর্মকর্তা এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন নরন্দ্রে মোদী।
এদিকে বাংলাদেশ সফরে আসা নিয়ে শনিবার সকালে টুইটারে টুইট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদী। টুইটারে মোদী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে যাচ্ছি। এই সফর দুই জাতির মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় করবে, আমাদের দুই দেশ ও অঞ্চলের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’
২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর এটিই মোদীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর হাইপ্রোফাইল সফর গোটা এশিয়ায় প্রভাব ফেলেছে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দেন মোদী। সেখানে নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এককেএম মোজাম্মেল হক।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১১টা ২৬ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদী এক মিনিট নিরবতা পালন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মন্তব্য খাতায় অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ সময় সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে নরন্দ্রে মোদী ১১টা ৪০ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধ থেকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের উদ্দেশে রওনা দেন। ১২টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেেক দুপুরে নরন্দ্রে মোদী তারকা খচিত অভিজাত আবাসিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে যান। সেখানে তিনি বিশ্রাম নেন। এরপর দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী হোটেল সোনারগাঁওয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ১৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে যান নরেন্দ্র মোদী। সেখানে কলকাতা-ঢাকা-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন তিনি।
ছিটমহল বিনিময়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসর্মথনের দলিলও হস্তান্তর করা হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এই সফরে তিস্তা চুক্তি যে হচ্ছে না, তা আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
BD-India Singe Handoverসীমান্ত চুক্তির সম্মতিপত্র বিনিময়: এদিকে ছিটমহলে অবরুদ্ধ জীবন কাটানো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের মুক্তির সনদ স্থল স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রটোকল স্বাক্ষর এবং সম্মতিপত্র বিনিময় করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয় শঙ্কর নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
দলিল বিনিময়ের এই মূহূর্তটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এক টুইটে বলেছেন, এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে শুধু ঐতিহাসিক বললেও কম বলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তর ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭ হাজার মানুষের বাস। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪ হাজার। ২০১১ সালে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এই তথ্য পাওয়া যায়।
ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন মোট ৭ হাজার ১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।
ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত যে প্রায় ১০ হাজার একর জমি বেশি হারাবে, সে জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলে প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।
প্রটোকলের আওতায় অপদখলীয় ভূমি নিয়ে বিরোধের অবসানও ঘটবে। এতে ভারত অপদখলীয় ২৭৭৭ একর জমির মালিকানা পাবে। আর ২২৬৭ একর জমির উপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে। আর চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী ছিটমহলবাসী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত চুক্তি বিল সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এরপর তাতে অনুসমর্থন জানায় ভারতের মন্ত্রিসভা। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্বাক্ষরের পর বিলটি পূর্ণতা পায়। এই সমস্যার সমাধানের পরই বাংলাদেশ সফরের কথা ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদী।
এর মধ্যে ২০১১ সালে ভারতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে সময় স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। এরপর কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে যায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস সরকারের সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নেন নরেন্দ্র মোদী। (দৈনিক মানবজমিন)