নিউইয়র্ক ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জিয়ার সমাধিতে ভাংচুর : ক্ষুব্ধ বিএনপি : আটক ৬

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০১৫
  • / ৪৭৪ বার পঠিত

ঢাকা: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংরক্ষিত এলাকা চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল সমাধিকে ঘিরে থাকা স্থাপনায় ভাংচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দলটি মনে করে এই ঘটনাটি রহস্যজনক ও দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত। শহীদ জিয়ার সমাধিতে হামলার দায় এড়াতে পারে না সরকার। তার অসম্মান কোনোভাবে সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
কে বা কারা এই ভাংচুর করেছে পুলিশ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই বলতে পারছে না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানতে সমাধি প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধায়কসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আফরুজুল হক টুটুল। তিনি বলেন, সকালে সেখানে কয়েকটি টাইলস খুলে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সরেজমিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটার দিকে সমাধি প্রাঙ্গণে গিয়ে ১২০টি মার্বেল টাইলসের মধ্যে ১১টি খন্ড-বিখন্ড হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সমাধির পরিচ্ছন্নতা কর্মী মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ভোরে ঝাড়ু দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খবর দেন। পাশাপাশি সকাল আটটার দিকে গণপূর্ত বিভাগের উদ্যানে কমর্রত একজন কর্মচারীকেও তিনি জানান। মিজানুর রহমান বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া ঝাড়–দার বলে জানান তিনি। তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। শক্ত কিছু দিয়ে এ টাইলসগুলো ভাঙা হয়েছে বলে মিজানুরের ধারণা। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানতে চাইলে মিজান বলেন, আমি ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কাজ করে চলে যাই। রাতেই তারা ভেঙে রেখে গেছে।
খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশ গোপাল বিশ্বাস ঘটনাস্থলে আসেন বেলা সোয়া ১২টার দিকে। এরপর তিনি উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে খবর দেন। বেলা ১টার একটু আগে গৃহায়ন ও গৃণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন। তার নির্দেশে সংস্থার দুই কর্মচারী আংগুর ও তুহিন ভাঙা মার্বেল পাথরগুলো জায়গা মতো বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।
উদ্যানে কমর্রত একজন কর্মচারী জানান, ৭৪ বিঘার এই উদ্যানে রাতে হাতেগোনা কয়েকটি লাইট সচল থাকলেও জিয়াউর রহমানের সমাধির ভেতরের অংশে কোনো লাইটই সচল নেই। এছাড়া ওখানকার সিসি ক্যামারাগুলোরও কোনো কার্যকারিতা নেই। এই অবস্থায় কারা করেছে তা বলা বড় কঠিন।
উদ্যানে নিয়োজিত একজন আনসার সদস্য জানান, এই উদ্যানে তারা ২০ জন সদস্য রয়েছেন। শিফট অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু উদ্যানের বাউন্ডারি এলাকা দেখভাল করেন। সাধারণত জিয়াউর রহমানের সমাধি দেখাশোনা করেন পুলিশ সদস্যরা। এই উদ্যানে রাত বারোটা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের লোকজনকে দেখা যায় বলে জানান অন্য একজন আনসার সদস্য। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ। তারা কবর প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। ভাঙা টাইলসগুলো হাত দিয়ে ধরে দেখেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতকারীরা শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির ১১টি মার্বেল পাথর ভেঙে ফেলেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে তদন্ত করে তাদের শাস্তি দিতে। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

জিয়ার সমাধিতে ভাংচুর : ক্ষুব্ধ বিএনপি : আটক ৬

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০১৫

ঢাকা: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংরক্ষিত এলাকা চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল সমাধিকে ঘিরে থাকা স্থাপনায় ভাংচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দলটি মনে করে এই ঘটনাটি রহস্যজনক ও দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত। শহীদ জিয়ার সমাধিতে হামলার দায় এড়াতে পারে না সরকার। তার অসম্মান কোনোভাবে সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
কে বা কারা এই ভাংচুর করেছে পুলিশ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই বলতে পারছে না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানতে সমাধি প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধায়কসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আফরুজুল হক টুটুল। তিনি বলেন, সকালে সেখানে কয়েকটি টাইলস খুলে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সরেজমিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটার দিকে সমাধি প্রাঙ্গণে গিয়ে ১২০টি মার্বেল টাইলসের মধ্যে ১১টি খন্ড-বিখন্ড হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সমাধির পরিচ্ছন্নতা কর্মী মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ভোরে ঝাড়ু দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খবর দেন। পাশাপাশি সকাল আটটার দিকে গণপূর্ত বিভাগের উদ্যানে কমর্রত একজন কর্মচারীকেও তিনি জানান। মিজানুর রহমান বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া ঝাড়–দার বলে জানান তিনি। তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। শক্ত কিছু দিয়ে এ টাইলসগুলো ভাঙা হয়েছে বলে মিজানুরের ধারণা। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানতে চাইলে মিজান বলেন, আমি ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কাজ করে চলে যাই। রাতেই তারা ভেঙে রেখে গেছে।
খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশ গোপাল বিশ্বাস ঘটনাস্থলে আসেন বেলা সোয়া ১২টার দিকে। এরপর তিনি উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে খবর দেন। বেলা ১টার একটু আগে গৃহায়ন ও গৃণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন। তার নির্দেশে সংস্থার দুই কর্মচারী আংগুর ও তুহিন ভাঙা মার্বেল পাথরগুলো জায়গা মতো বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।
উদ্যানে কমর্রত একজন কর্মচারী জানান, ৭৪ বিঘার এই উদ্যানে রাতে হাতেগোনা কয়েকটি লাইট সচল থাকলেও জিয়াউর রহমানের সমাধির ভেতরের অংশে কোনো লাইটই সচল নেই। এছাড়া ওখানকার সিসি ক্যামারাগুলোরও কোনো কার্যকারিতা নেই। এই অবস্থায় কারা করেছে তা বলা বড় কঠিন।
উদ্যানে নিয়োজিত একজন আনসার সদস্য জানান, এই উদ্যানে তারা ২০ জন সদস্য রয়েছেন। শিফট অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু উদ্যানের বাউন্ডারি এলাকা দেখভাল করেন। সাধারণত জিয়াউর রহমানের সমাধি দেখাশোনা করেন পুলিশ সদস্যরা। এই উদ্যানে রাত বারোটা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের লোকজনকে দেখা যায় বলে জানান অন্য একজন আনসার সদস্য। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ। তারা কবর প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। ভাঙা টাইলসগুলো হাত দিয়ে ধরে দেখেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতকারীরা শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির ১১টি মার্বেল পাথর ভেঙে ফেলেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে তদন্ত করে তাদের শাস্তি দিতে। (দৈনিক যুগান্তর)