নিউইয়র্ক ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে উত্তরাঞ্চলের চরে গোয়েন্দারা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০১৬
  • / ৭৪০ বার পঠিত

ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে হোটেল আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিদের ঘাঁটি শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার বিচ্ছিন্ন চরে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। সাম্প্রতিক র‌্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার জঙ্গি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিদের দেয়া এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ওইসব স্থানে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চলছে। এর বাইরে পার্বত্য এলাকার দুর্গম পাহাড়েও জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলতে পারে। ওইসব স্থানেও গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ হোটেল আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী নিহত জঙ্গিদের ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আদালতে অনুমতি মিলেছে। চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওই ছয় জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত হতেই ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের আগে জঙ্গিরা শক্তিবর্ধক বিশেষ ধরনের কোনো ড্রাগ আসক্ত হয়েছিল     কি-না তা নিশ্চিত হতেই হামলাকারী জঙ্গিদের ভিসেরা টেস্ট করা হচ্ছে। কারণ গুলশানের ওই রেস্তোরাঁটিতে জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বীভৎসতা কোনো সুস্থ মানুষ চালাতে পারে কিনা এ নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে ২০  জন মানুষকে বর্বরভাবে হত্যার আগে ওই ছয়  জঙ্গি ক্যাপটাগন নামের বিদেশি কোনো বিশেষ ওষুধ খেয়েছিল কি-না-তাও ভিসেরা পরীক্ষায়  উঠে আসবে। র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গুলশানের হোটেল আর্টিজান বেকারি, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিত শোলাকিয়া ঈদ জামাতসংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট ও সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার ঘটনায় অংশ নেয়া জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের স্থানগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গি শফিউল ও জাহিদুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি ও প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে আসা কয়েক তরুণও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। ওই তথ্য মতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বা সংলগ্ন জেলা শহরে বাসা ভাড়া করে মোটিভেশনাল বা উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারীদের খোঁজে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, বগুড়া ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বিচ্ছিন্ন ও বিস্তীর্ণ চর এলাকায় জঙ্গি অপারেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সেখানে যাওয়া যুবকদের অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে ধীরে জঙ্গিরূপে প্রস্তুত করা হয়। পরে তরুণ জঙ্গিদের অস্ত্র চালানো শেখায় প্রশিক্ষক। কেন্দ্রগুলোতে একজন প্রশিক্ষক ও একজন সমন্বয়কারী থাকেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এমন খবর জানার পর থেকেই জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে কাজ করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। গাইবান্ধা কিংবা কুড়িগ্রামের যে কোনো একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শোলাকিয়া হামলার প্রশিক্ষণ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলে জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধানে মাঠে রয়েছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অসংখ্য সদস্য। এছাড়া পার্বত্য জেলাগুলোর গহিন জঙ্গলেও এমন জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলতে পারে। তাই ওইসব বিচ্ছিন্ন স্থানগুলোতেও ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
একাধিক সূত্র বলছে, উগ্রপন্থি জঙ্গিরা কয়েকটি ধাপে কাজ করে থাকে। প্রথমে টার্গেট করা তরুণদের দলে ভিড়িয়ে করা হয় মগজ ধোলাই। এদের মধ্যে যাদের প্রতিশ্রুতিশীল ও অনুগত বলে মনে হয়, তাদের নেয়া হয় পরবর্তী ধাপে। ওই ধাপে চলে অস্ত্র ও বোমা নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ। নাশকতা চালানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত গোপন আস্তানায় দেয়া হয় ‘বয়ান’। বয়ানে একেক সময় একেকজন ‘বড় ভাই’ অংশ নেন। তরুণদের কাছে দেয়া হয় কোরান ও হাদিসের অপব্যাখ্যা। উদ্বুদ্ধকরণ শেষে জঙ্গিদের পাঠানো হয় ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায়। সেখানে তারা পরিচয় গোপন করে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দুই মতাদর্শ অনুসারী জঙ্গিরা দেশে যে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে তার মূলে কলকাঠি নাড়ছে কয়েক মাস্টারমাইন্ড। তারা ৫-৬ জনের একটি গ্রুপ করে টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করতে বা স্থাপনায় হামলা চালাতে জঙ্গিদের পাঠাচ্ছে। একটি গ্রুপ ধরা পড়লে তারা আরেকটি গ্রুপ তৈরি করে ফের জঙ্গি হামলার কলকাঠি নাড়ছে। পেছনের পরিকল্পনাকারীরা ধরা পড়লে এসব সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও পুলিশ ও গোয়েন্দারা মনে করছে। যে কারণে ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষা
হলি আর্টিজানে তিন বাংলাদেশিসহ ১৭ বিদেশি নাগরিকের অনেককেই জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলিতে হত্যা করে হামলাকারী জঙ্গিরা। অপারেশন থান্ডার বোল্ট অভিযানের পর হলি আর্টিজানে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা হতবাক হয়ে যান জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বর্বরতার আলামত দেখে। তাদের অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংসতা ও বীভৎসতা এর আগে দেখেননি তারা।
জানা গেছে, সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা ক্যাপটাগন নামের একটি ওষুধ সেবন করে। এ কারণে এই ওষুধটি ‘আইএসআইএস ড্রাগ’ নামে পরিচিত। ক্যাপটাগন সেবনের কারণে আইএসের জঙ্গিরা দিনের পর দিন জেগে থাকে। এরপর ঠাণ্ডা মাথায়, কোনো রকম সহমর্মিতাবোধ ছাড়া একের পর এক মানুষ খুন করতে পারে।
১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের সময় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের বোমায় নিহত হন ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত হন হামলাকারী ৬ জঙ্গি। অপরদিকে ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের অদূরে পুলিশ চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও এক গৃহবধূ নিহত এবং অন্তত ২০ জনকে আহত করে জঙ্গিরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে উত্তরাঞ্চলের চরে গোয়েন্দারা

প্রকাশের সময় : ১১:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০১৬

ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে হোটেল আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিদের ঘাঁটি শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার বিচ্ছিন্ন চরে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। সাম্প্রতিক র‌্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার জঙ্গি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিদের দেয়া এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ওইসব স্থানে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চলছে। এর বাইরে পার্বত্য এলাকার দুর্গম পাহাড়েও জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলতে পারে। ওইসব স্থানেও গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ হোটেল আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী নিহত জঙ্গিদের ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আদালতে অনুমতি মিলেছে। চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওই ছয় জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত হতেই ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের আগে জঙ্গিরা শক্তিবর্ধক বিশেষ ধরনের কোনো ড্রাগ আসক্ত হয়েছিল     কি-না তা নিশ্চিত হতেই হামলাকারী জঙ্গিদের ভিসেরা টেস্ট করা হচ্ছে। কারণ গুলশানের ওই রেস্তোরাঁটিতে জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বীভৎসতা কোনো সুস্থ মানুষ চালাতে পারে কিনা এ নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে ২০  জন মানুষকে বর্বরভাবে হত্যার আগে ওই ছয়  জঙ্গি ক্যাপটাগন নামের বিদেশি কোনো বিশেষ ওষুধ খেয়েছিল কি-না-তাও ভিসেরা পরীক্ষায়  উঠে আসবে। র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গুলশানের হোটেল আর্টিজান বেকারি, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিত শোলাকিয়া ঈদ জামাতসংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট ও সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার ঘটনায় অংশ নেয়া জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের স্থানগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গি শফিউল ও জাহিদুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি ও প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে আসা কয়েক তরুণও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। ওই তথ্য মতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বা সংলগ্ন জেলা শহরে বাসা ভাড়া করে মোটিভেশনাল বা উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারীদের খোঁজে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, বগুড়া ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বিচ্ছিন্ন ও বিস্তীর্ণ চর এলাকায় জঙ্গি অপারেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সেখানে যাওয়া যুবকদের অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে ধীরে জঙ্গিরূপে প্রস্তুত করা হয়। পরে তরুণ জঙ্গিদের অস্ত্র চালানো শেখায় প্রশিক্ষক। কেন্দ্রগুলোতে একজন প্রশিক্ষক ও একজন সমন্বয়কারী থাকেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এমন খবর জানার পর থেকেই জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজে কাজ করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। গাইবান্ধা কিংবা কুড়িগ্রামের যে কোনো একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শোলাকিয়া হামলার প্রশিক্ষণ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলে জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধানে মাঠে রয়েছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অসংখ্য সদস্য। এছাড়া পার্বত্য জেলাগুলোর গহিন জঙ্গলেও এমন জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলতে পারে। তাই ওইসব বিচ্ছিন্ন স্থানগুলোতেও ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
একাধিক সূত্র বলছে, উগ্রপন্থি জঙ্গিরা কয়েকটি ধাপে কাজ করে থাকে। প্রথমে টার্গেট করা তরুণদের দলে ভিড়িয়ে করা হয় মগজ ধোলাই। এদের মধ্যে যাদের প্রতিশ্রুতিশীল ও অনুগত বলে মনে হয়, তাদের নেয়া হয় পরবর্তী ধাপে। ওই ধাপে চলে অস্ত্র ও বোমা নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ। নাশকতা চালানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত গোপন আস্তানায় দেয়া হয় ‘বয়ান’। বয়ানে একেক সময় একেকজন ‘বড় ভাই’ অংশ নেন। তরুণদের কাছে দেয়া হয় কোরান ও হাদিসের অপব্যাখ্যা। উদ্বুদ্ধকরণ শেষে জঙ্গিদের পাঠানো হয় ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায়। সেখানে তারা পরিচয় গোপন করে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দুই মতাদর্শ অনুসারী জঙ্গিরা দেশে যে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে তার মূলে কলকাঠি নাড়ছে কয়েক মাস্টারমাইন্ড। তারা ৫-৬ জনের একটি গ্রুপ করে টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করতে বা স্থাপনায় হামলা চালাতে জঙ্গিদের পাঠাচ্ছে। একটি গ্রুপ ধরা পড়লে তারা আরেকটি গ্রুপ তৈরি করে ফের জঙ্গি হামলার কলকাঠি নাড়ছে। পেছনের পরিকল্পনাকারীরা ধরা পড়লে এসব সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও পুলিশ ও গোয়েন্দারা মনে করছে। যে কারণে ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষা
হলি আর্টিজানে তিন বাংলাদেশিসহ ১৭ বিদেশি নাগরিকের অনেককেই জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলিতে হত্যা করে হামলাকারী জঙ্গিরা। অপারেশন থান্ডার বোল্ট অভিযানের পর হলি আর্টিজানে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা হতবাক হয়ে যান জঙ্গিদের নৃশংসতা ও বর্বরতার আলামত দেখে। তাদের অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংসতা ও বীভৎসতা এর আগে দেখেননি তারা।
জানা গেছে, সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা ক্যাপটাগন নামের একটি ওষুধ সেবন করে। এ কারণে এই ওষুধটি ‘আইএসআইএস ড্রাগ’ নামে পরিচিত। ক্যাপটাগন সেবনের কারণে আইএসের জঙ্গিরা দিনের পর দিন জেগে থাকে। এরপর ঠাণ্ডা মাথায়, কোনো রকম সহমর্মিতাবোধ ছাড়া একের পর এক মানুষ খুন করতে পারে।
১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের সময় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের বোমায় নিহত হন ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত হন হামলাকারী ৬ জঙ্গি। অপরদিকে ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের অদূরে পুলিশ চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও এক গৃহবধূ নিহত এবং অন্তত ২০ জনকে আহত করে জঙ্গিরা।