নিউইয়র্ক ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

‘জঙ্গি নেত্রী’ খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার হতে চান : সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০১৫
  • / ১০৬৩ বার পঠিত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জনরোষ থেকে বাঁচতে খালেদা জিয়া যেন নাজিমউদ্দিন রোডকেই (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার) বেছে নিয়েছেন। আন্দোলনের নামে বিএনপি নেত্রী এতই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন যে তাতে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দেশের মানুষের সামনে আসতে উনি ভয় পাচ্ছেন। জনরোষ এড়াতে কারাগারকেই উনি এখন নিরাপদ মনে করছেন। তাই উনি চাচ্ছেন যাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে আইন নিজস্ব গতিতেই চলবে। কেউ যদি আদালত অবমাননা করে তাতে আদালত যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ দেবেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি হত্যাকান্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমা লঙ্ঘনকারীদের আল্লাহও পছন্দ করেন না। ‘জঙ্গি নেত্রী’ খালেদা জিয়ার হাত থেকে নারী-শিশু এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মাও রেহাই পাচ্ছেন না। আদালতের প্রতিও উনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন, মর্যাদা লঙ্ঘন করছেন। আদালতে যাবেন না- এ ধারা অব্যাহত থাকলে তো ভবিষ্যতে কেউই আর আদালতের বিচার মানতে চাইবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার অভাবে নাকি বিএনপি নেত্রী আদালতে যাননি। জাতির কী দুর্ভাগ্য, যিনি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছেন, তাকেই নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা নিরাপত্তা দিলেও উনি আদালতে যাননি। কারাগারকেই নিজের জন্য এখন উনি নিরাপদ ভাবছেন। ভাবছেন কারাগারেই হয়তো বা ভালো থাকবেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নাটুকেপনা খালেদা জিয়ার পুরনো অভ্যাস। হরতাল-অবরোধের নামে গণহত্যা ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালিয়ে এখন সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। উনি চাইছেন নিজেই গ্রেফতার হতে, যাতে বিদেশী প্রচার-প্রচারণায় আসতে পারেন, শিরোনাম হতে পারেন। আন্তর্জাতিক অনুকম্পা পেতে পারেন। দেশের মানুষের সমর্থন না পেয়ে উনি এখন বিদেশীদের সহানুভূতি পেতে ও জনরোষ থেকে বাঁচতে নিজেই গ্রেফতার হতে চাইছেন।
সংসদ নেতা বলেন, বিএনপি নেত্রীর কথা কেউ না শুনলে আমাদের দোষটা কোথায়? দেশের জনগণ কেন, তার নিজের দলের নেতাকর্মীরাই এমন জঙ্গিপনা ও মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা পছন্দ করেন না। খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং মানুষের প্রতি চরম দুর্ব্যবহারের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীর জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছেন। এগুলো দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এ কারণে বিএনপি নেত্রী মানুষের সামনে আসতেও ভয় পাচ্ছেন। এখন জনরোষ এড়াতে কারাগারকেই তার জন্য নিরাপদ বলে মনে করছেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত যে নির্দেশ দেবেন, সেটি মেনেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার দায়ে আইন অনুযায়ী বিএনপি নেত্রীর বিচার করা হবে।
শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি কর্মকান্ড মোকাবেলা করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী দু’মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জনগণও এখন সর্বত্র রুখে দাঁড়াচ্ছে, বোমাবাজদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।
সরকারি দলের মাহফুজুর রহমান মিতার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন এক জঙ্গি নেতার উত্থান ঘটেছে, সেই জঙ্গি নেত্রী হচ্ছেন খালেদা জিয়া। উনি আইন, কানুন, সংবিধান কিছুই মানেন না। হরতাল-অবরোধের নামে উনি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছেন। বিএনপি নেত্রী এমনই ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন যে কাদের ক্ষতি হচ্ছে তার কিছুই দেখছেন না। উনি ধ্বংস করছেন, আমরা গড়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দেশবাসীর সহযোগিতায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবই।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, উন্নয়নের গতিধারাকে আরও ত্বরান্বিত করতে বৃহত্তর ফরিদপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে পৃথক তিনটি বিভাগ করা হবে। নতুন এই তিন বিভাগ চালু হলে দেশের মানুষ আর রাজধানীমুখী হবে না। ফেনীকে চট্টগ্রাম নাকি কুমিল্লা বিভাগে নেয়া হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে (ফেনী) এমন একজন জঙ্গি নেত্রীর উত্থান ঘটেছে তাতে ফেনীকে কেউ-ই নিতে চান না। তবে ফেনীবাসীর তো কোনো দোষ নেই। জনসংখ্যার ভিত্তিতে মনে হয় ফেনীকে কুমিল্লা বিভাগেই রাখা উচিত। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু বিবেচনা করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বাস করে বিজ্ঞানের উন্নতিকল্পে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে গবেষকদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্নমুখী সহায়তা ও অনুপ্রেরণা প্রদানে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সরকার ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে অধিকতর পরিবেশবান্ধব পরমাণু প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। রূপপুরে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (২ হাজার মেগাওয়াট) সংবলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ সম্পাদনের জন্য রাশিয়ান ফেডারেশন ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় ঋণ দিতেও সম্মত হয়েছে।
সরকারি দলের এমএ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সব সময়ই কৃষিবান্ধব সরকার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ১২ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে মর্মে আশা করা যায়। তিনি জানান, এখন আমাদের আর চাল আমদানি করতে হয় না। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

‘জঙ্গি নেত্রী’ খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার হতে চান : সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০১৫

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জনরোষ থেকে বাঁচতে খালেদা জিয়া যেন নাজিমউদ্দিন রোডকেই (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার) বেছে নিয়েছেন। আন্দোলনের নামে বিএনপি নেত্রী এতই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন যে তাতে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দেশের মানুষের সামনে আসতে উনি ভয় পাচ্ছেন। জনরোষ এড়াতে কারাগারকেই উনি এখন নিরাপদ মনে করছেন। তাই উনি চাচ্ছেন যাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে আইন নিজস্ব গতিতেই চলবে। কেউ যদি আদালত অবমাননা করে তাতে আদালত যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ দেবেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি হত্যাকান্ডের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমা লঙ্ঘনকারীদের আল্লাহও পছন্দ করেন না। ‘জঙ্গি নেত্রী’ খালেদা জিয়ার হাত থেকে নারী-শিশু এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মাও রেহাই পাচ্ছেন না। আদালতের প্রতিও উনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন, মর্যাদা লঙ্ঘন করছেন। আদালতে যাবেন না- এ ধারা অব্যাহত থাকলে তো ভবিষ্যতে কেউই আর আদালতের বিচার মানতে চাইবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার অভাবে নাকি বিএনপি নেত্রী আদালতে যাননি। জাতির কী দুর্ভাগ্য, যিনি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছেন, তাকেই নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা নিরাপত্তা দিলেও উনি আদালতে যাননি। কারাগারকেই নিজের জন্য এখন উনি নিরাপদ ভাবছেন। ভাবছেন কারাগারেই হয়তো বা ভালো থাকবেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নাটুকেপনা খালেদা জিয়ার পুরনো অভ্যাস। হরতাল-অবরোধের নামে গণহত্যা ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালিয়ে এখন সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। উনি চাইছেন নিজেই গ্রেফতার হতে, যাতে বিদেশী প্রচার-প্রচারণায় আসতে পারেন, শিরোনাম হতে পারেন। আন্তর্জাতিক অনুকম্পা পেতে পারেন। দেশের মানুষের সমর্থন না পেয়ে উনি এখন বিদেশীদের সহানুভূতি পেতে ও জনরোষ থেকে বাঁচতে নিজেই গ্রেফতার হতে চাইছেন।
সংসদ নেতা বলেন, বিএনপি নেত্রীর কথা কেউ না শুনলে আমাদের দোষটা কোথায়? দেশের জনগণ কেন, তার নিজের দলের নেতাকর্মীরাই এমন জঙ্গিপনা ও মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা পছন্দ করেন না। খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং মানুষের প্রতি চরম দুর্ব্যবহারের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীর জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছেন। এগুলো দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এ কারণে বিএনপি নেত্রী মানুষের সামনে আসতেও ভয় পাচ্ছেন। এখন জনরোষ এড়াতে কারাগারকেই তার জন্য নিরাপদ বলে মনে করছেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত যে নির্দেশ দেবেন, সেটি মেনেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার দায়ে আইন অনুযায়ী বিএনপি নেত্রীর বিচার করা হবে।
শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি কর্মকান্ড মোকাবেলা করতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী দু’মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জনগণও এখন সর্বত্র রুখে দাঁড়াচ্ছে, বোমাবাজদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।
সরকারি দলের মাহফুজুর রহমান মিতার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন এক জঙ্গি নেতার উত্থান ঘটেছে, সেই জঙ্গি নেত্রী হচ্ছেন খালেদা জিয়া। উনি আইন, কানুন, সংবিধান কিছুই মানেন না। হরতাল-অবরোধের নামে উনি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছেন। বিএনপি নেত্রী এমনই ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন যে কাদের ক্ষতি হচ্ছে তার কিছুই দেখছেন না। উনি ধ্বংস করছেন, আমরা গড়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দেশবাসীর সহযোগিতায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবই।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, উন্নয়নের গতিধারাকে আরও ত্বরান্বিত করতে বৃহত্তর ফরিদপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে পৃথক তিনটি বিভাগ করা হবে। নতুন এই তিন বিভাগ চালু হলে দেশের মানুষ আর রাজধানীমুখী হবে না। ফেনীকে চট্টগ্রাম নাকি কুমিল্লা বিভাগে নেয়া হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে (ফেনী) এমন একজন জঙ্গি নেত্রীর উত্থান ঘটেছে তাতে ফেনীকে কেউ-ই নিতে চান না। তবে ফেনীবাসীর তো কোনো দোষ নেই। জনসংখ্যার ভিত্তিতে মনে হয় ফেনীকে কুমিল্লা বিভাগেই রাখা উচিত। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু বিবেচনা করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বাস করে বিজ্ঞানের উন্নতিকল্পে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে গবেষকদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্নমুখী সহায়তা ও অনুপ্রেরণা প্রদানে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সরকার ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে অধিকতর পরিবেশবান্ধব পরমাণু প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। রূপপুরে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (২ হাজার মেগাওয়াট) সংবলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ সম্পাদনের জন্য রাশিয়ান ফেডারেশন ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় ঋণ দিতেও সম্মত হয়েছে।
সরকারি দলের এমএ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সব সময়ই কৃষিবান্ধব সরকার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ১২ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে মর্মে আশা করা যায়। তিনি জানান, এখন আমাদের আর চাল আমদানি করতে হয় না। (দৈনিক যুগান্তর)