নিউইয়র্ক ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে : দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০১৫
  • / ৮১৩ বার পঠিত

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমাদের আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারবে না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আগে যারা আমাদের অবহেলার চোখে দেখত, তারাও আমাদের উন্নয়নে প্রশংসা করছে। এখন তারা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন। আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তখনই দেশের মানুষ কিছু পায়। আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল বলেই ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছিলেন। আজকে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের সংগঠন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন দেশের মানুষ কিছু পেয়েছে। বিরোধী দলে থাকার সময়ও আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করে গেছে। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি নেতাকর্মীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ সময় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী সংগঠন ছিল বলেই সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে সংগঠনই ছিল সব। তিনি সংগঠনের জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতেও পিছপা হননি। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ লক্ষ্যচ্যুত হয়ে যাওয়ার সংগঠন নয়। আওয়ামী লীগ এখনও সুদৃঢ় আছে বলেই উপমহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দেশে যা কিছু অর্জন তা সব আওয়ামী লীগের হাত ধরে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘জাতির জনক’-এর সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন, তারা খেয়ে না খেয়ে সংগঠন করেছেন। হেঁটে সারা দেশে সংগঠন গুছিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, যখনই আওয়ামী লীগের ওপর কোনো আঘাত এসেছে, তখনই তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল জন্মলগ্ন থেকেই ঘোষণা দিয়েছে, মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কারও সঙ্গে আপস নয়। গণতন্ত্রের প্রশ্নে মাথা নত নয়। সে দলটি হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সূর্যোদয়ের ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা তোলার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও সতীশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৬৬ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও ‘জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ‘জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি পালন করে এসব সংগঠন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জননেতা শামসুল হক।
আদর্শে গড়ে উঠা দলকে শেষ করা যায় না-সংসদে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অতীতে বহুবার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করার অনেক ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা হয়েছে। কিন্ত কেউই সফল হয়নি। আগামীতেও কেউ সফল হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে জনগণ। দেশের জন্য অনেক ত্যাগের কারণেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এ দলটি তৃণমূল থেকে আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে। আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠা দলকে শেষ করা অতো সহজ নয়। নিশ্চিহ্নও করা যায় না। তা গত ৬৬ বছরে এ সত্যটি প্রমাণ হয়েছে। ২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনির্ধারিত এ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। পরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়েও সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের জন্মদিন উপলক্ষে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আওয়ামী লীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হচ্ছে বাঙালীর জাতির জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস। স্বাধীনতা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বড় অর্জন ও অগ্রযাত্রা এসেছে, তা সবই এনে দিয়েছে গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ। জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে উজানে নাও (নৌকা) ঠেলেই আওয়ামী লীগ দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবেই। কেউ তা রুখতে পারবে না।(দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে : দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশের সময় : ০৬:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০১৫

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমাদের আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারবে না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আগে যারা আমাদের অবহেলার চোখে দেখত, তারাও আমাদের উন্নয়নে প্রশংসা করছে। এখন তারা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন। আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তখনই দেশের মানুষ কিছু পায়। আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল বলেই ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছিলেন। আজকে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের সংগঠন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন দেশের মানুষ কিছু পেয়েছে। বিরোধী দলে থাকার সময়ও আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করে গেছে। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি নেতাকর্মীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ সময় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী সংগঠন ছিল বলেই সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে সংগঠনই ছিল সব। তিনি সংগঠনের জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতেও পিছপা হননি। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ লক্ষ্যচ্যুত হয়ে যাওয়ার সংগঠন নয়। আওয়ামী লীগ এখনও সুদৃঢ় আছে বলেই উপমহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দেশে যা কিছু অর্জন তা সব আওয়ামী লীগের হাত ধরে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘জাতির জনক’-এর সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন, তারা খেয়ে না খেয়ে সংগঠন করেছেন। হেঁটে সারা দেশে সংগঠন গুছিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, যখনই আওয়ামী লীগের ওপর কোনো আঘাত এসেছে, তখনই তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল জন্মলগ্ন থেকেই ঘোষণা দিয়েছে, মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কারও সঙ্গে আপস নয়। গণতন্ত্রের প্রশ্নে মাথা নত নয়। সে দলটি হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সূর্যোদয়ের ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা তোলার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও সতীশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৬৬ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও ‘জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ‘জাতির পিতা’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিবসটি পালন করে এসব সংগঠন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জননেতা শামসুল হক।
আদর্শে গড়ে উঠা দলকে শেষ করা যায় না-সংসদে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অতীতে বহুবার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করার অনেক ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা হয়েছে। কিন্ত কেউই সফল হয়নি। আগামীতেও কেউ সফল হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে জনগণ। দেশের জন্য অনেক ত্যাগের কারণেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এ দলটি তৃণমূল থেকে আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে। আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠা দলকে শেষ করা অতো সহজ নয়। নিশ্চিহ্নও করা যায় না। তা গত ৬৬ বছরে এ সত্যটি প্রমাণ হয়েছে। ২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনির্ধারিত এ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। পরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়েও সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের জন্মদিন উপলক্ষে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আওয়ামী লীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হচ্ছে বাঙালীর জাতির জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস। স্বাধীনতা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বড় অর্জন ও অগ্রযাত্রা এসেছে, তা সবই এনে দিয়েছে গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ। জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে উজানে নাও (নৌকা) ঠেলেই আওয়ামী লীগ দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবেই। কেউ তা রুখতে পারবে না।(দৈনিক যুগান্তর)