নিউইয়র্ক ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে এক সন্ধ্যায় সোহোর ছবিপাড়ায়

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৬৯ বার পঠিত

রশেনবার্গের Canyon

আলম খোরশেদ : লন্ডনের সোহোর কথা অনেকেরই হয়তো জানা। কিন্তু নিউইয়র্কের সোহোর কথা কয়জন জানেন আমি নিশ্চিত নই। নিউইয়র্কের এ সোহো এলাকার নামটি অবশ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করা। বিখ্যাত গ্রিনিচ ভিলেজের বুক চিরে বেরিয়ে গেছে Houston নামে একটি সড়ক। তার দক্ষিণে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটা ছোট-বড় আর্ট গ্যালারি। তাই স্থানীয় শিল্পপ্রেমিকরা বিলেতের থিয়েটারপাড়ার অনুকরণে এ জায়গারও নাম রেখেছেন, South of Houston এর আদ্যাক্ষর So ও Ho মিলিয়ে Soho বা ‘সোহো’। তো, সেই ছবিপাড়া সোহোতেই একা একা ছবি দেখে বহুকাল আগে একটি বিকাল কাটানোর ব্যক্তিগত প্রতিবেদন এ লেখাটি।

প্রথমেই ঢুকেছিলাম Guggenheim Museum-এ। এ নামে একটি মিউজিয়াম অনেকদিন ধরেই নিউইয়র্কের উত্তরাংশে, বিশাল সবুজ সেন্ট্রাল পার্কের কিনারায় সাজিয়ে রেখেছে আধুনিক শিল্পকলার চমৎকার সুনির্বাচিত সম্ভার। সেটিরই নতুন এক শাখা খোলা হয়েছে এ সোহোতে, আমেরিকান মিউজিয়াম অব কনটেম্পোরারি আর্টের কাছাকাছি দূরত্বে। গ্যালারিতে ঢোকার মুখেই Roy Lichtenstein-এর বিখ্যাত সেই ‘চুমু’র ছবিখানা ঝুলিয়ে দর্শকদের সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল ভেতরে প্রবেশের। তার পাশেই দেয়ালের গায়ে উৎকীর্ণ ছিল তাদের সংগ্রহের শিল্পী ও শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত মুখবন্ধ। সেটা পড়েই জানা যায় তাদের চলমান প্রদর্শনীর মূল ফোকাস Abstract Expressionism বা বিমূর্ত অভিব্যক্তিবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্য পঞ্চাশের Robert Rauchenberg (১৯২৫-২০০৮), Claes Oldenberg (১৯২৯-২০২২), Andy Warhol (১৯২৮-১৯৮৭), George Segal (১৯২৪-২০০০) এবং পূর্বোল্লিখিত Roy Lichtenstein (১৯২৩-১৯৯৭) প্রমুখ কিছু কালাপাহাড়ি শিল্পী প্রবর্তিত জীবনঘনিষ্ঠ, জনশিল্পের আন্দোলনের ওপর।

এ ধারার শিল্পের সূত্রপাত ঘটে প্রথম রশেনবার্গের হাতেই, ১৯৫৪ সালে যখন তিনি তার Combine সিরিজের কাজগুলোয় রঙ ও ক্যানভাসের সঙ্গে বহুব্যবহৃত প্রাত্যহিক সামগ্রী এবং মাস কালচারের উপকরণাদি, যেমন—কমিক বইয়ের ছবি, কার্টুন, ট্রেডমার্ক, সুপারস্টারের প্রতিকৃতি ইত্যাদি জুড়ে দেন। এ দেখেই শিল্প সমালোচক Lawrence Alloway ১৯৫৮ সালে প্রথম এ ধরনের ছবির নামকরণ করেন Popular Art বা সংক্ষেপে ‘পপ আর্ট’, অ্যান্ডি ওয়ারহল পরে যার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা করেন। বস্তুত গুগেনহাইম মিউজিয়ামের সংগ্রহে ওয়ারহলের ছবিই ছিল সর্বাধিক। মেরিলিন মনরোর রঙিন প্রতিকৃতি আর কোকা-কোলার বোতল তো ছিলই, তবে সেখানে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল Orange Disaster নামের বিশাল একটি ছবি, যেটিকে তিনি সেলুলয়েডের ফ্রেমের মতো অসংখ্য ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটিতেই শূন্য মঞ্চে বিরাজমান একটি নিঃসঙ্গ অর্গানের প্রতিকৃতি জুড়ে দেন কমলা রঙের এক অনৈসর্গিক আলোর আবহে।

তবে গ্যালারির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছবি ছিল নিঃসন্দেহে রশেনবার্গের Canyon। এতে তিনি তার স্বভাবমতো ক্যানভাসজুড়ে গেঁথে দেন আস্ত একটি Stuffed ঈগলের প্রতিমূর্তি। সেটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন তা যেকোনো মুহূর্তে ছবির শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে, আর এভাবেই সমস্ত ছবির যাবতীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তা গড়িয়ে পড়ে যাবে গভীর এক খাদে। বাস্তবিকই এমনই এক বিচলিত বোধের জন্ম হয় তার এ ছবি দেখতে দেখতে। প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত Soft Sculpture ঘরানার উদ্ভাবক ক্লায়স ওল্ডেনবার্গের চামড়ার টেলিফোন সেটখানাও ছিল দেখার মতো। তার অন্য একটি শিল্পকর্ম ছিল বিশালাকার ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করে বানানো একটি অত্যাশ্চর্য ল্যান্ডস্কেপ, যার ভেতর দিয়ে তার প্রচণ্ড কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। লিচটেনস্টাইন হাজির ছিলেন তার অতিকায় Preparedness ছবিখানা নিয়ে। কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বিচিত্র জ্যামিতিক বিন্যাসের মধ্যে তার সুবিখ্যাত সিগনেচার অজস্র বিন্দু ও ফোঁটার প্রয়োগে অদ্ভুত এক প্রস্তুতি কিংবা সতর্কতার আবহ গড়ে তোলেন তিনি ক্যানভাসের গায়ে। স্পেনে প্রতিষ্ঠিত তার বিখ্যাত বার্সেলোনা হেড ভাস্কর্যের একটি চমৎকার রঙচঙে প্রতিকৃতিও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। এদের বাইরে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল Jim Dime (১৯৩৫)-এর Four Rooms ও George Segal-এর পিকাসোর চেয়ার।

বাইরে বেরিয়ে দেখি তখনো বিকাল মরে যায়নি। ফলে প্রিন্স স্ট্রিট ধরে হেঁটে ১৩০ নম্বর দালানটিতে যাই, যেটি সেই এলাকার একটি বিখ্যাত আর্ট গ্যালারি। বাড়িটাজুড়েই Lovre Art Gallery of New York, Andrea Rossen, Rubenstein, Jose Freire, Akira Ikeda ইত্যাদি অসংখ্য গ্যালারি। সেদিন আবার Akira Ikeda-তে Julian Schnable ও Francisco Clemente-এর একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন হচ্ছিল। ওদের ছবি দেখলাম আগ্রহ নিয়ে। তাদের কাজের বৈশিষ্ট্য বিশালাকার সব ক্যানভাসের ব্যবহার। কয়েকটি শিল্পকর্মে চিনেমাটির ভাঙা থালাবাসন সেঁটে দিয়ে তারা যে বিচিত্র কম্পোজিশন করেন তা বিস্ময়ের উদ্রেক করে। Jose Freire গ্যালারিতে May Kears এর কাজে দেখা গেল Warhol এবং Kevin Sullivan-এর কাজে Lichtenstein- এর দারুণ প্রভাব, বিশেষত কমিক বই শৈলীর ব্যবহারে। Andrea Rossen গ্যালারিতে চলছিল Leehrine Agustine নামক একজন শিল্পীর প্রদর্শনী। তার একটা কাজ সত্যি অসাধারণ ছিল। ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের সার্বক্ষণিক ভূমিকম্পের আতঙ্ক থেকে উদ্ধার পেতে তিনি একটি ঝুলন্ত শয্যার উদ্ভাবন করেছেন যার দুগ্ধ ফেননিভ রূপ চিত্তকে প্রশান্ত করে। তার কাজে ফটোগ্রাফি, হ্যান্ডিক্রাফট, ট্যাপেস্ট্রি, নেপথ্য শব্দের ব্যবহার সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মনে হয়েছে এরা এখনো ওয়ারহলীয় জগৎ থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেননি বটে, তবে তাঁদের শিল্পকর্মে টেকনোলজির এমন অভিনব ব্যবহার আমাদের বিস্মিত করে বৈকি। তেমনি এক পরম বিস্ময়ের ঘোর নিয়ে শেষ হয়েছিল সোহোতে আমার এক সন্ধ্যার শিল্প ভ্রমণটুকু। সূত্র : বণিকবার্তা

সাথী / হককথা

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে এক সন্ধ্যায় সোহোর ছবিপাড়ায়

প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

আলম খোরশেদ : লন্ডনের সোহোর কথা অনেকেরই হয়তো জানা। কিন্তু নিউইয়র্কের সোহোর কথা কয়জন জানেন আমি নিশ্চিত নই। নিউইয়র্কের এ সোহো এলাকার নামটি অবশ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করা। বিখ্যাত গ্রিনিচ ভিলেজের বুক চিরে বেরিয়ে গেছে Houston নামে একটি সড়ক। তার দক্ষিণে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটা ছোট-বড় আর্ট গ্যালারি। তাই স্থানীয় শিল্পপ্রেমিকরা বিলেতের থিয়েটারপাড়ার অনুকরণে এ জায়গারও নাম রেখেছেন, South of Houston এর আদ্যাক্ষর So ও Ho মিলিয়ে Soho বা ‘সোহো’। তো, সেই ছবিপাড়া সোহোতেই একা একা ছবি দেখে বহুকাল আগে একটি বিকাল কাটানোর ব্যক্তিগত প্রতিবেদন এ লেখাটি।

প্রথমেই ঢুকেছিলাম Guggenheim Museum-এ। এ নামে একটি মিউজিয়াম অনেকদিন ধরেই নিউইয়র্কের উত্তরাংশে, বিশাল সবুজ সেন্ট্রাল পার্কের কিনারায় সাজিয়ে রেখেছে আধুনিক শিল্পকলার চমৎকার সুনির্বাচিত সম্ভার। সেটিরই নতুন এক শাখা খোলা হয়েছে এ সোহোতে, আমেরিকান মিউজিয়াম অব কনটেম্পোরারি আর্টের কাছাকাছি দূরত্বে। গ্যালারিতে ঢোকার মুখেই Roy Lichtenstein-এর বিখ্যাত সেই ‘চুমু’র ছবিখানা ঝুলিয়ে দর্শকদের সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল ভেতরে প্রবেশের। তার পাশেই দেয়ালের গায়ে উৎকীর্ণ ছিল তাদের সংগ্রহের শিল্পী ও শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত মুখবন্ধ। সেটা পড়েই জানা যায় তাদের চলমান প্রদর্শনীর মূল ফোকাস Abstract Expressionism বা বিমূর্ত অভিব্যক্তিবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্য পঞ্চাশের Robert Rauchenberg (১৯২৫-২০০৮), Claes Oldenberg (১৯২৯-২০২২), Andy Warhol (১৯২৮-১৯৮৭), George Segal (১৯২৪-২০০০) এবং পূর্বোল্লিখিত Roy Lichtenstein (১৯২৩-১৯৯৭) প্রমুখ কিছু কালাপাহাড়ি শিল্পী প্রবর্তিত জীবনঘনিষ্ঠ, জনশিল্পের আন্দোলনের ওপর।

এ ধারার শিল্পের সূত্রপাত ঘটে প্রথম রশেনবার্গের হাতেই, ১৯৫৪ সালে যখন তিনি তার Combine সিরিজের কাজগুলোয় রঙ ও ক্যানভাসের সঙ্গে বহুব্যবহৃত প্রাত্যহিক সামগ্রী এবং মাস কালচারের উপকরণাদি, যেমন—কমিক বইয়ের ছবি, কার্টুন, ট্রেডমার্ক, সুপারস্টারের প্রতিকৃতি ইত্যাদি জুড়ে দেন। এ দেখেই শিল্প সমালোচক Lawrence Alloway ১৯৫৮ সালে প্রথম এ ধরনের ছবির নামকরণ করেন Popular Art বা সংক্ষেপে ‘পপ আর্ট’, অ্যান্ডি ওয়ারহল পরে যার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা করেন। বস্তুত গুগেনহাইম মিউজিয়ামের সংগ্রহে ওয়ারহলের ছবিই ছিল সর্বাধিক। মেরিলিন মনরোর রঙিন প্রতিকৃতি আর কোকা-কোলার বোতল তো ছিলই, তবে সেখানে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল Orange Disaster নামের বিশাল একটি ছবি, যেটিকে তিনি সেলুলয়েডের ফ্রেমের মতো অসংখ্য ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটিতেই শূন্য মঞ্চে বিরাজমান একটি নিঃসঙ্গ অর্গানের প্রতিকৃতি জুড়ে দেন কমলা রঙের এক অনৈসর্গিক আলোর আবহে।

তবে গ্যালারির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছবি ছিল নিঃসন্দেহে রশেনবার্গের Canyon। এতে তিনি তার স্বভাবমতো ক্যানভাসজুড়ে গেঁথে দেন আস্ত একটি Stuffed ঈগলের প্রতিমূর্তি। সেটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন তা যেকোনো মুহূর্তে ছবির শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে, আর এভাবেই সমস্ত ছবির যাবতীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়ে তা গড়িয়ে পড়ে যাবে গভীর এক খাদে। বাস্তবিকই এমনই এক বিচলিত বোধের জন্ম হয় তার এ ছবি দেখতে দেখতে। প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত Soft Sculpture ঘরানার উদ্ভাবক ক্লায়স ওল্ডেনবার্গের চামড়ার টেলিফোন সেটখানাও ছিল দেখার মতো। তার অন্য একটি শিল্পকর্ম ছিল বিশালাকার ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করে বানানো একটি অত্যাশ্চর্য ল্যান্ডস্কেপ, যার ভেতর দিয়ে তার প্রচণ্ড কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। লিচটেনস্টাইন হাজির ছিলেন তার অতিকায় Preparedness ছবিখানা নিয়ে। কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বিচিত্র জ্যামিতিক বিন্যাসের মধ্যে তার সুবিখ্যাত সিগনেচার অজস্র বিন্দু ও ফোঁটার প্রয়োগে অদ্ভুত এক প্রস্তুতি কিংবা সতর্কতার আবহ গড়ে তোলেন তিনি ক্যানভাসের গায়ে। স্পেনে প্রতিষ্ঠিত তার বিখ্যাত বার্সেলোনা হেড ভাস্কর্যের একটি চমৎকার রঙচঙে প্রতিকৃতিও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। এদের বাইরে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল Jim Dime (১৯৩৫)-এর Four Rooms ও George Segal-এর পিকাসোর চেয়ার।

বাইরে বেরিয়ে দেখি তখনো বিকাল মরে যায়নি। ফলে প্রিন্স স্ট্রিট ধরে হেঁটে ১৩০ নম্বর দালানটিতে যাই, যেটি সেই এলাকার একটি বিখ্যাত আর্ট গ্যালারি। বাড়িটাজুড়েই Lovre Art Gallery of New York, Andrea Rossen, Rubenstein, Jose Freire, Akira Ikeda ইত্যাদি অসংখ্য গ্যালারি। সেদিন আবার Akira Ikeda-তে Julian Schnable ও Francisco Clemente-এর একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন হচ্ছিল। ওদের ছবি দেখলাম আগ্রহ নিয়ে। তাদের কাজের বৈশিষ্ট্য বিশালাকার সব ক্যানভাসের ব্যবহার। কয়েকটি শিল্পকর্মে চিনেমাটির ভাঙা থালাবাসন সেঁটে দিয়ে তারা যে বিচিত্র কম্পোজিশন করেন তা বিস্ময়ের উদ্রেক করে। Jose Freire গ্যালারিতে May Kears এর কাজে দেখা গেল Warhol এবং Kevin Sullivan-এর কাজে Lichtenstein- এর দারুণ প্রভাব, বিশেষত কমিক বই শৈলীর ব্যবহারে। Andrea Rossen গ্যালারিতে চলছিল Leehrine Agustine নামক একজন শিল্পীর প্রদর্শনী। তার একটা কাজ সত্যি অসাধারণ ছিল। ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের সার্বক্ষণিক ভূমিকম্পের আতঙ্ক থেকে উদ্ধার পেতে তিনি একটি ঝুলন্ত শয্যার উদ্ভাবন করেছেন যার দুগ্ধ ফেননিভ রূপ চিত্তকে প্রশান্ত করে। তার কাজে ফটোগ্রাফি, হ্যান্ডিক্রাফট, ট্যাপেস্ট্রি, নেপথ্য শব্দের ব্যবহার সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মনে হয়েছে এরা এখনো ওয়ারহলীয় জগৎ থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেননি বটে, তবে তাঁদের শিল্পকর্মে টেকনোলজির এমন অভিনব ব্যবহার আমাদের বিস্মিত করে বৈকি। তেমনি এক পরম বিস্ময়ের ঘোর নিয়ে শেষ হয়েছিল সোহোতে আমার এক সন্ধ্যার শিল্প ভ্রমণটুকু। সূত্র : বণিকবার্তা

সাথী / হককথা