নিউইয়র্ক ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

চাটুকারীতা ও তোষামোদীর কাছে তিনি মাথানত করেননি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০১৬
  • / ১৭৩২ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পদকপ্রাপ্ত ‘ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাবো’ শীর্ষক বিখ্যাত কবিতার জনক মরহুম কবি রফিক আজাদ স্মরণে সভা হলো নিউইয়র্কে। রফিক আজাদ স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ ইত্যাদি রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভামঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমেদ, কবি শামস আল মমিন ও কবি তমিজ উদ্দিন লোদী। সভা পরিচালনা করেন কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ। সভায় প্রবাসের কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কবির স্মৃতি চারণ করেন। খবর ইউএনএ’র।
Rafiq Azad-2সভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সংবাদিক-কলামিস্ট মঈনুদ্দীন নাসের, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক এআরকে ইউসুফজাই, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মরহুম কবি রফিক আজাদ স্মরণে কবিতা পাঠ করেন কবি লুবনা কাইজার, কবি রওশন হাসান, কবি জুলি রহমান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতায় দেশপ্রেম ছাড়াও প্রেম, ভাব, বিদ্রোহ আর গণ মানুষের কথা সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতা মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র আর বাক স্বাধীনতার কথাই বলে। বক্তারা বলেন, কবির কবিতা, কবির আদর্শ দেশে-প্রবাসে লালন-পালন আর ধারণ করতে পারলে অবশ্যই ভবিষ্যতে আরো রফিক আজাদের জন্ম হবে। দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তারা বলেন, ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’ কবিতার জনক কবি রফিক আজাদ যে প্রত্যাশা আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, সেই প্রত্যাশা আজো পূরণ হয়নি। তিনি নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই জীবনে কখনো চাটুকারীতা বা তোষামোদীর কাছে মাথানত করেননি। তার কবিতার মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।
আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু তার বক্তব্যে কবি রফিক আজাদকে একজন অসাধারণ কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, কবি, অধ্যাপক ও সাংবাদিক ছিলেন। সবমিলিয়ে চুড়ান্ত বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন মানুষের কবি।
উল্লেখ্য, কবি রফিক আজাদ ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জন্মগ্রহণ করেন। গত ১২ মার্চ শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
ছবি-১
নিউইয়র্ক: রফিক আজাদ স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক এআরকে ইউসুফজাই। ছবি: ইউএনএ
ছবি-২
নিউইয়র্ক: রফিক আজাদ স্মরণ সভায় কবিতা পাঠ করছেন কবি জুলি রহমান। ছবি: ইউএনএ

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

চাটুকারীতা ও তোষামোদীর কাছে তিনি মাথানত করেননি

প্রকাশের সময় : ০৯:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০১৬

নিউইয়র্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পদকপ্রাপ্ত ‘ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাবো’ শীর্ষক বিখ্যাত কবিতার জনক মরহুম কবি রফিক আজাদ স্মরণে সভা হলো নিউইয়র্কে। রফিক আজাদ স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ ইত্যাদি রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভামঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমেদ, কবি শামস আল মমিন ও কবি তমিজ উদ্দিন লোদী। সভা পরিচালনা করেন কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ। সভায় প্রবাসের কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কবির স্মৃতি চারণ করেন। খবর ইউএনএ’র।
Rafiq Azad-2সভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সংবাদিক-কলামিস্ট মঈনুদ্দীন নাসের, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক এআরকে ইউসুফজাই, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মরহুম কবি রফিক আজাদ স্মরণে কবিতা পাঠ করেন কবি লুবনা কাইজার, কবি রওশন হাসান, কবি জুলি রহমান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতায় দেশপ্রেম ছাড়াও প্রেম, ভাব, বিদ্রোহ আর গণ মানুষের কথা সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতা মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র আর বাক স্বাধীনতার কথাই বলে। বক্তারা বলেন, কবির কবিতা, কবির আদর্শ দেশে-প্রবাসে লালন-পালন আর ধারণ করতে পারলে অবশ্যই ভবিষ্যতে আরো রফিক আজাদের জন্ম হবে। দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তারা বলেন, ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’ কবিতার জনক কবি রফিক আজাদ যে প্রত্যাশা আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, সেই প্রত্যাশা আজো পূরণ হয়নি। তিনি নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই জীবনে কখনো চাটুকারীতা বা তোষামোদীর কাছে মাথানত করেননি। তার কবিতার মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।
আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু তার বক্তব্যে কবি রফিক আজাদকে একজন অসাধারণ কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, কবি, অধ্যাপক ও সাংবাদিক ছিলেন। সবমিলিয়ে চুড়ান্ত বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন মানুষের কবি।
উল্লেখ্য, কবি রফিক আজাদ ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জন্মগ্রহণ করেন। গত ১২ মার্চ শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
ছবি-১
নিউইয়র্ক: রফিক আজাদ স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক এআরকে ইউসুফজাই। ছবি: ইউএনএ
ছবি-২
নিউইয়র্ক: রফিক আজাদ স্মরণ সভায় কবিতা পাঠ করছেন কবি জুলি রহমান। ছবি: ইউএনএ