নিউইয়র্ক ০৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

হুজুর মওলানা ভাসানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৪
  • / ১৩০৭ বার পঠিত

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছি। মনোবলহীন জাতি যেমন কোনো কাজের নয়, ঠিক তেমনি কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া দলও কোনো কাজে আসে না। সব কিছুর জন্য চাই বলিষ্ঠ মনোবল ও ভরপুর উদ্দীপনা। আমি খুব একটা ক্রিকেটবেত্তা নই, তবু বলতে পারি এই সময় সাকিব আল হাসান দলে না থাকলে বাংলাদেশ দল অতটা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিম্বাবুয়ের মতো একটি সুগঠিত দলকে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ করতে পারত না। আমি তাদের বিজয়ে খুবই আনন্দিত। দেশবাসীর পক্ষ থেকে আবারও তাদের অভিবাদন, অভিনন্দন জানাচ্ছি।
গতকাল (১৭ নভেম্বর) ছিল আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার মজলুম জনতার মুক্তিদূত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে অনাদরে বড় হয়েছিলেন। ব্রিটিশ তাড়িয়ে পাকিস্তান, সেই পাকিস্তানে ন্যায়বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের জিঞ্জির ভেঙে বাংলাদেশ বানিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তার ভাবশিষ্য। হুজুর মওলানা ভাসানী বহুবার বলেছেন, তার জীবনে ৬-৭ জন সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে শেখ মুজিবই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। সকালে চার আনা হাত খরচ দিলে সারা ঢাকায় সাইকেল নিয়ে চরকির মতো ঘুরে রাতে ফিরে এক আনা ফেরত দিতেন। অনেকে মনে করেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকৃত নেতা। আসলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। দলীয় সংগঠনের জন্য অকাতরে অর্থ জোগাতেন, কিন্তু শৌর্য-বীর্য-দৃঢ়তা সবই পেয়েছিলেন মজলুম জননেতা হুজুর মওলানা ভাসানীর কাছে। মওলানা ভাসানী এক সময় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অনুরক্ত ভক্ত ছিলেন। বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখার্জির ভাবশিষ্য ছিলেন। আশুতোষ মুখার্জির ছেলে আরএসএসের জন্মদাতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জিকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির কাশ্মীর জেলে মৃত্যুর কথা উঠলে শিশুর মতো কাঁদতেন। আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন হযরত নাসিরউদ্দিন বোগদাদী। তার সঙ্গেই পাঁচবিবির জমিদার আলেমা ভাসানীর বাবার জমিদারিতে হুজুর মওলানা ভাসানীর পদার্পণ। আলেমা ভাসানীকে আমপারা পড়াতেন তিনি। প্রায় ১৮-২০ বছর বয়সের ব্যবধান হওয়া সত্ত্বেও হযরত নাসিরউদ্দিন বোগদাদীর ইচ্ছাতেই পাঁচবিবির জমিদার কন্যা আলেমা ভাসানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জমিদার পিতা আলেমা ভাসানীকে প্রায় হাজার বিঘা সম্পত্তি উপঢৌকন দেন। যার সবটাই আলেমা ভাসানী স্বামীকে দিয়েছিলেন। আর হুজুর মওলানা ভাসানী পাঁচবিবি কলেজসহ এটা ওটার নামে সব বিলিয়ে দিয়ে রিক্ত নিঃস্ব হয়ে ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর পরলোকগমন করেন।
আমার জীবনে দুটি তীব্র সাধ ছিল। যার একটিও পূরণ হয়নি। হুজুর মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জানাজায় শরিক এবং তাদের কফিন কবরে নেওয়া। কফিন কাঁধে নেওয়ার যোগ্যতা আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন আমায় দিয়েছিলেন, কিন্তু ঘাতকরা যখন বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে তখন তার জানাজায় শরিক হওয়ার পরিবেশ ছিল না। আর হুজুর মওলানা ভাসানী যখন ইন্তেকাল করেন তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ প্রতিরোধে সীমান্তে ছিলাম। এখন যখন তার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে চরম অবহেলা দেখি তখন তার জানাজায় শরিক হতে না পারার চাইতে ব্যথিত ও যন্ত্রণাকাতর হই। বর্তমানে কেন যেন দেশে ত্যাগী মানুষের কোনো সম্মান নেই। অতীতের প্রতি কারও কোনো আকর্ষণ নেই। সবাই বর্তমান নিয়ে বড় বেশি ব্যস্ত। কখনো কখনো এসব দেখে মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে যথাযথ স্বার্থক দ্রোহেরও অবস্থা নেই। আকাশ আগ্রাসন, হাতে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল বাংলাদেশে মানুষের মান-মর্যাদা, তৃপ্তি-অতৃপ্তির কোনো বাছ-বিচার নেই, কোনো বোধশক্তি নেই। সব অনুভূতি কেমন যেন ভোঁতা হয়ে গেছে। সেদিন হঠাৎই খবর পেয়েছিলাম ধানগড়ার ডা. নাজির আহমেদ নাদু ভাই ইন্তেকাল করেছেন। খবর শুনে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠেছিল। আমাদের বাড়ি থেকে ধানগড়া ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাইল দূরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ভুলবার মতো নয়। পাকিস্তানি হানাদাররা কামানের গোলা ছুড়তে ছুড়তে যখন আমাদের জেলা শহর দখল করে নেয়, ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমার মা-বাবা তখন গ্রামের বাড়ি ছাতিহাটিতে। টাঙ্গাইলের পতন হলে লতিফ সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকীর বাবা-মার নিজের বাপ-দাদার ভিটাতেও জায়গা হয়নি। আপন ভাই তাদের সব পোটলা পুটলি বাইরে ফেলে দিয়েছিল। শুনেছিলাম, রক্ত পানির চাইতেও ভারি। রক্তের সম্পর্ক কখনো অস্বীকার করা যায় না। শেখ রেহানা অনেক সময় আমায় বলে, ‘ভাই পানি কেটে কি ভাগ করা যায়? আত্মার সম্পর্ক কি ছিন্ন হয়?’ কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চরম দিনগুলোতে রক্তের সম্পর্ক কাজে দেয়নি। কী কারণে ধানগড়ার নাজির, সিরাজ, হামিদ আর নাজিরের ছেলে শাজাহান ছাতিহাটিতে এসেছিল। চাচা যখন সব ফেলে দিচ্ছিলেন, তারা তখন সেই পোটলা পুটলি মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। হাউমাউ করে কাঁদা ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাবা গিয়ে উঠেছিলেন ধানগড়ার দরিদ্র নাজিরের বাড়িতে। সেই থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক। ‘৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরপরই সিরাজকে হত্যা করেছিল জাসদের হাসানুল হক ইনুর গণবাহিনী। বছর দুই আগে হামিদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বাকি ছিলেন নাজির আহমেদ নাদু ভাই। তিনিও ১১ নভেম্বর ১২টা কয়েক মিনিটে অজু করে মসজিদে যাওয়ার পথে চলে গেলেন। নাদু ভাইর মৃত্যু সংবাদ শুনে এক বুক ব্যথা নিয়ে ঢাকা থেকে ধানগড়ার পথে ছিলাম। তীব্র বেগে গাড়ি ধেয়ে চলেছিল ধানগড়ার পথে।
মনে হয় ৫টা-সাড়ে ৫টা হবে, হঠাৎ ফোন পেলাম ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির সুলতানার। দু-তিন বছর আগে তিনি আমার বাড়ি এসেছিলেন। বড় চটপটে স্বভাবের মেয়ে। তার ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে কথা হয়েছিল অনেকক্ষণ। নিজের পেশাতে মনে হয় খুবই পারদর্শী। বললেন, ভাই টিভিতে আপনার গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখছি। আপনি আবার কার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলেন? বলেছিলাম, জানি না। আপনি টিভি দেখছেন, আমি তো গাড়িতে দুই পাশের মানুষজন দেখছি। মনে হয় তিনি বিব্রত হয়েছিলেন। বললেন, খোঁজ নিয়ে ফোন করছি। মাগরিব পেরিয়ে গিয়েছিল। আবার ফোন পেলাম সুলতানার। বললেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আপনি রাজাকার বলেছিলেন। সেজন্যে তার মানহানি হয়েছে। তাই গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাকে আমি বলেছিলাম, কথাটা তো লুকিয়ে চুরিয়ে বলিনি। প্রকাশ্য সভায় হাজার হাজার মানুষের সামনে বলেছি। অনেক রাজাকারের তালিকা নেই। কিন্তু তিনি যে ইয়াহিয়া টিক্কার মতো হানাদারের সহযোগী তার পরিষ্কার গেজেট আছে। তাই রাজাকারকে রাজাকার না বলে উপায় কী? তবে এটা সত্য, তিনি পাকিস্তানি কর্মচারী হিসেবে রাজাকার, আলবদর, দালাল, শান্তি কমিটি তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাই রাজাকার না হয়ে তার পদবি আরও একটু উপরে হতে পারে- সেটা হয়তো বলতে পারিনি। এখানে আমার ভুল হলেও হতে পারে। এশার নামাজের পর ডা. নাজির আহমেদ নাদুর জানাজা শেষে শেষবার মুখ দেখে ফিরছিলাম। কত মুর্দার শেষ দেখা দেখি, কিন্তু মৃত মানুষের অত সুন্দর অবিকৃত মুখ খুব একটা দেখিনি। পরদিন বাবর রোডের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন ছিল। তাদের জানিয়েছিলাম, যতদিন বেঁচে থাকব, রাজাকারকে রাজাকার বলেই জানব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলাম, গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছি। তবে পাকিস্তানি দোসর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে রাজাকার বলায় আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা হয়েছে বলে মনে করি না। তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে পরোয়ানাটি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, সব মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে।
পীর হাবিব ৫১ বছরে পা দিয়েছে। আমি তার একজন ভক্ত। আনন্দ পাই হাবিবের লেখা পড়ে। এর আগে মেয়ের জন্মদিনে কয়েকবার দাওয়াত করেছে, যেতে পারিনি। তাতে বেশ খারাপ লেগেছে। তাই জন্মদিনে গুলশান ক্লাবে গিয়েছিলাম। সব বড় লোকদের ক্লাবই সমৃদ্ধ। আমি আবার তেমন ক্লাব-ট্যালাব চিনি না। এ পর্যন্ত ঢাকা ক্লাবে তিন-চারবার গিয়েছি। গুলশান ক্লাবে মনে হয় তিনবার হবে। তবে কোনো অনুষ্ঠানে যাইনি। প্রথম গিয়েছিলাম ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি এবং তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি মুন্নী এক অনুষ্ঠান করতে ঢাকা এসেছিলেন, তার কাছে গিয়েছিলাম। দিদি এসেছিলেন আমার মোহাম্মদপুরের বাড়িতে খাবার খেতে। আর একবার একজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আর সেদিন পীর হাবিবের জন্মদিনে। সমাজের নানা ধরনের জ্ঞানী-গুণী-প্রতিপত্তিশালীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, মেহের আফরোজ চুমকি- আরও অনেকে। সাহিত্যিক-সাংবাদিক-ব্যবসায়ী-আইনজীবীর কোনো অভাব ছিল না। পীর হাবিবকে নিয়ে বলতে গিয়ে জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর স্ত্রী যখন স্মৃতিচারণ করছিল বড় বেশি অভিভূত হয়েছিলাম। ভারতে নির্বাসিত থাকতে টিংকু আমায় অনেক চিঠি লিখেছে। সেখানে গিয়ে দেখা করেছে, আমার বাড়িতে থেকেছে, খেয়েছে। আমি ওকে নিয়ে প্রণবদার বাড়ি গেছি, তার সঙ্গে খাবার খেয়েছি। তাই অনেক স্মৃতি তোলপাড় করেছিল। তবে কেন কী করে যে ওরকম একটি জন্মদিনের আনন্দ অনুষ্ঠানে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী ছোট্ট মেয়ে সায়রা নওয়ালকে নিয়ে গিয়েছিল জানি না। ইলিয়াসের স্ত্রীর মুখের দিকে যখন চেয়েছিলাম, তার চোখ থেকে টসটস করে বেদনার পানি ঝরছিল। আমি, আমার স্ত্রী পাশাপাশি ছিলাম। তার বুক কতটা ঝাঁঝরা হয়েছিল জানি না, কিন্তু আমার হৃদয় খানখান হয়ে গিয়েছিল। বছরখানেক আগে ইলিয়াসের গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। তার মা আমার মাথায় হাত দিয়ে যেভাবে দোয়া করেছিলেন প্রকৃত মা ছাড়া আর কেউ তা করতে পারেন না। আল্লাহ যে কখনো কখনো কেন যে আমার ওপর অমন ব্যথার বোঝা দেন তা তিনিই জানেন।
সেদিন দিবালোকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামকরা শিক্ষক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। একটি শিক্ষাঙ্গনে প্রকৃত শিক্ষকদের নিরাপত্তা না থাকলে দেশে আইনশৃঙ্খলার বড়াই করার কী অর্থ থাকে? আমি এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সঙ্গে সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
শনিবার ছিল ১৫ নভেম্বর। ১৯৯৯-এর ১৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির বিশ্ব রেকর্ডের দিন। ১৫ নভেম্বর সখিপুর-বাসাইল উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে ২৪ ডিসেম্বর ‘৯৯ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। তারপর থেকে প্রতি বছরই আমরা এই দিনটি ভোট ডাকাতির প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি। মাগুরার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে বিএনপি সরকারের পতন হয়েছিল। বিএনপির চেয়েও সখিপুর উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাশুল আওয়ামী লীগকে বেশি দিতে হয়েছে। এবার কচুয়া স্কুল মাঠে ১৫ নভেম্বর প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়েছে। বিপুল লোকসমাগম হয়েছিল তাতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ আগস্ট এ স্কুল মাঠে তখনকার বাংলাদেশ মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে এক বিরাট সভা করা হয়েছিল। সেই সভার পর মুক্তির উন্মাদনায় পাহাড়ের আপামর জনসাধারণ পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছিল। যার পরিণতিতে ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। দেশবাসীকে ডাক দিয়েছি, ন্যায়-সত্য প্রতিষ্ঠায় আগুয়ান হতে। ঘরে বসে থাকলে অধিকারহারা হয়ে আমরা কেউ বাঁচব না। তাই সময় থাকতে এগিয়ে আসুন। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

হুজুর মওলানা ভাসানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৪

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছি। মনোবলহীন জাতি যেমন কোনো কাজের নয়, ঠিক তেমনি কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া দলও কোনো কাজে আসে না। সব কিছুর জন্য চাই বলিষ্ঠ মনোবল ও ভরপুর উদ্দীপনা। আমি খুব একটা ক্রিকেটবেত্তা নই, তবু বলতে পারি এই সময় সাকিব আল হাসান দলে না থাকলে বাংলাদেশ দল অতটা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিম্বাবুয়ের মতো একটি সুগঠিত দলকে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ করতে পারত না। আমি তাদের বিজয়ে খুবই আনন্দিত। দেশবাসীর পক্ষ থেকে আবারও তাদের অভিবাদন, অভিনন্দন জানাচ্ছি।
গতকাল (১৭ নভেম্বর) ছিল আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার মজলুম জনতার মুক্তিদূত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে অনাদরে বড় হয়েছিলেন। ব্রিটিশ তাড়িয়ে পাকিস্তান, সেই পাকিস্তানে ন্যায়বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের জিঞ্জির ভেঙে বাংলাদেশ বানিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তার ভাবশিষ্য। হুজুর মওলানা ভাসানী বহুবার বলেছেন, তার জীবনে ৬-৭ জন সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে শেখ মুজিবই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। সকালে চার আনা হাত খরচ দিলে সারা ঢাকায় সাইকেল নিয়ে চরকির মতো ঘুরে রাতে ফিরে এক আনা ফেরত দিতেন। অনেকে মনে করেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকৃত নেতা। আসলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। দলীয় সংগঠনের জন্য অকাতরে অর্থ জোগাতেন, কিন্তু শৌর্য-বীর্য-দৃঢ়তা সবই পেয়েছিলেন মজলুম জননেতা হুজুর মওলানা ভাসানীর কাছে। মওলানা ভাসানী এক সময় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অনুরক্ত ভক্ত ছিলেন। বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখার্জির ভাবশিষ্য ছিলেন। আশুতোষ মুখার্জির ছেলে আরএসএসের জন্মদাতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জিকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির কাশ্মীর জেলে মৃত্যুর কথা উঠলে শিশুর মতো কাঁদতেন। আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন হযরত নাসিরউদ্দিন বোগদাদী। তার সঙ্গেই পাঁচবিবির জমিদার আলেমা ভাসানীর বাবার জমিদারিতে হুজুর মওলানা ভাসানীর পদার্পণ। আলেমা ভাসানীকে আমপারা পড়াতেন তিনি। প্রায় ১৮-২০ বছর বয়সের ব্যবধান হওয়া সত্ত্বেও হযরত নাসিরউদ্দিন বোগদাদীর ইচ্ছাতেই পাঁচবিবির জমিদার কন্যা আলেমা ভাসানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জমিদার পিতা আলেমা ভাসানীকে প্রায় হাজার বিঘা সম্পত্তি উপঢৌকন দেন। যার সবটাই আলেমা ভাসানী স্বামীকে দিয়েছিলেন। আর হুজুর মওলানা ভাসানী পাঁচবিবি কলেজসহ এটা ওটার নামে সব বিলিয়ে দিয়ে রিক্ত নিঃস্ব হয়ে ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর পরলোকগমন করেন।
আমার জীবনে দুটি তীব্র সাধ ছিল। যার একটিও পূরণ হয়নি। হুজুর মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জানাজায় শরিক এবং তাদের কফিন কবরে নেওয়া। কফিন কাঁধে নেওয়ার যোগ্যতা আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন আমায় দিয়েছিলেন, কিন্তু ঘাতকরা যখন বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে তখন তার জানাজায় শরিক হওয়ার পরিবেশ ছিল না। আর হুজুর মওলানা ভাসানী যখন ইন্তেকাল করেন তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ প্রতিরোধে সীমান্তে ছিলাম। এখন যখন তার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে চরম অবহেলা দেখি তখন তার জানাজায় শরিক হতে না পারার চাইতে ব্যথিত ও যন্ত্রণাকাতর হই। বর্তমানে কেন যেন দেশে ত্যাগী মানুষের কোনো সম্মান নেই। অতীতের প্রতি কারও কোনো আকর্ষণ নেই। সবাই বর্তমান নিয়ে বড় বেশি ব্যস্ত। কখনো কখনো এসব দেখে মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে যথাযথ স্বার্থক দ্রোহেরও অবস্থা নেই। আকাশ আগ্রাসন, হাতে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল বাংলাদেশে মানুষের মান-মর্যাদা, তৃপ্তি-অতৃপ্তির কোনো বাছ-বিচার নেই, কোনো বোধশক্তি নেই। সব অনুভূতি কেমন যেন ভোঁতা হয়ে গেছে। সেদিন হঠাৎই খবর পেয়েছিলাম ধানগড়ার ডা. নাজির আহমেদ নাদু ভাই ইন্তেকাল করেছেন। খবর শুনে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠেছিল। আমাদের বাড়ি থেকে ধানগড়া ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাইল দূরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ভুলবার মতো নয়। পাকিস্তানি হানাদাররা কামানের গোলা ছুড়তে ছুড়তে যখন আমাদের জেলা শহর দখল করে নেয়, ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমার মা-বাবা তখন গ্রামের বাড়ি ছাতিহাটিতে। টাঙ্গাইলের পতন হলে লতিফ সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকীর বাবা-মার নিজের বাপ-দাদার ভিটাতেও জায়গা হয়নি। আপন ভাই তাদের সব পোটলা পুটলি বাইরে ফেলে দিয়েছিল। শুনেছিলাম, রক্ত পানির চাইতেও ভারি। রক্তের সম্পর্ক কখনো অস্বীকার করা যায় না। শেখ রেহানা অনেক সময় আমায় বলে, ‘ভাই পানি কেটে কি ভাগ করা যায়? আত্মার সম্পর্ক কি ছিন্ন হয়?’ কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চরম দিনগুলোতে রক্তের সম্পর্ক কাজে দেয়নি। কী কারণে ধানগড়ার নাজির, সিরাজ, হামিদ আর নাজিরের ছেলে শাজাহান ছাতিহাটিতে এসেছিল। চাচা যখন সব ফেলে দিচ্ছিলেন, তারা তখন সেই পোটলা পুটলি মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। হাউমাউ করে কাঁদা ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাবা গিয়ে উঠেছিলেন ধানগড়ার দরিদ্র নাজিরের বাড়িতে। সেই থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক। ‘৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরপরই সিরাজকে হত্যা করেছিল জাসদের হাসানুল হক ইনুর গণবাহিনী। বছর দুই আগে হামিদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বাকি ছিলেন নাজির আহমেদ নাদু ভাই। তিনিও ১১ নভেম্বর ১২টা কয়েক মিনিটে অজু করে মসজিদে যাওয়ার পথে চলে গেলেন। নাদু ভাইর মৃত্যু সংবাদ শুনে এক বুক ব্যথা নিয়ে ঢাকা থেকে ধানগড়ার পথে ছিলাম। তীব্র বেগে গাড়ি ধেয়ে চলেছিল ধানগড়ার পথে।
মনে হয় ৫টা-সাড়ে ৫টা হবে, হঠাৎ ফোন পেলাম ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির সুলতানার। দু-তিন বছর আগে তিনি আমার বাড়ি এসেছিলেন। বড় চটপটে স্বভাবের মেয়ে। তার ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে কথা হয়েছিল অনেকক্ষণ। নিজের পেশাতে মনে হয় খুবই পারদর্শী। বললেন, ভাই টিভিতে আপনার গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখছি। আপনি আবার কার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলেন? বলেছিলাম, জানি না। আপনি টিভি দেখছেন, আমি তো গাড়িতে দুই পাশের মানুষজন দেখছি। মনে হয় তিনি বিব্রত হয়েছিলেন। বললেন, খোঁজ নিয়ে ফোন করছি। মাগরিব পেরিয়ে গিয়েছিল। আবার ফোন পেলাম সুলতানার। বললেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আপনি রাজাকার বলেছিলেন। সেজন্যে তার মানহানি হয়েছে। তাই গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাকে আমি বলেছিলাম, কথাটা তো লুকিয়ে চুরিয়ে বলিনি। প্রকাশ্য সভায় হাজার হাজার মানুষের সামনে বলেছি। অনেক রাজাকারের তালিকা নেই। কিন্তু তিনি যে ইয়াহিয়া টিক্কার মতো হানাদারের সহযোগী তার পরিষ্কার গেজেট আছে। তাই রাজাকারকে রাজাকার না বলে উপায় কী? তবে এটা সত্য, তিনি পাকিস্তানি কর্মচারী হিসেবে রাজাকার, আলবদর, দালাল, শান্তি কমিটি তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাই রাজাকার না হয়ে তার পদবি আরও একটু উপরে হতে পারে- সেটা হয়তো বলতে পারিনি। এখানে আমার ভুল হলেও হতে পারে। এশার নামাজের পর ডা. নাজির আহমেদ নাদুর জানাজা শেষে শেষবার মুখ দেখে ফিরছিলাম। কত মুর্দার শেষ দেখা দেখি, কিন্তু মৃত মানুষের অত সুন্দর অবিকৃত মুখ খুব একটা দেখিনি। পরদিন বাবর রোডের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন ছিল। তাদের জানিয়েছিলাম, যতদিন বেঁচে থাকব, রাজাকারকে রাজাকার বলেই জানব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলাম, গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছি। তবে পাকিস্তানি দোসর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে রাজাকার বলায় আমার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা হয়েছে বলে মনে করি না। তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে পরোয়ানাটি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, সব মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে।
পীর হাবিব ৫১ বছরে পা দিয়েছে। আমি তার একজন ভক্ত। আনন্দ পাই হাবিবের লেখা পড়ে। এর আগে মেয়ের জন্মদিনে কয়েকবার দাওয়াত করেছে, যেতে পারিনি। তাতে বেশ খারাপ লেগেছে। তাই জন্মদিনে গুলশান ক্লাবে গিয়েছিলাম। সব বড় লোকদের ক্লাবই সমৃদ্ধ। আমি আবার তেমন ক্লাব-ট্যালাব চিনি না। এ পর্যন্ত ঢাকা ক্লাবে তিন-চারবার গিয়েছি। গুলশান ক্লাবে মনে হয় তিনবার হবে। তবে কোনো অনুষ্ঠানে যাইনি। প্রথম গিয়েছিলাম ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি এবং তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি মুন্নী এক অনুষ্ঠান করতে ঢাকা এসেছিলেন, তার কাছে গিয়েছিলাম। দিদি এসেছিলেন আমার মোহাম্মদপুরের বাড়িতে খাবার খেতে। আর একবার একজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আর সেদিন পীর হাবিবের জন্মদিনে। সমাজের নানা ধরনের জ্ঞানী-গুণী-প্রতিপত্তিশালীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, মেহের আফরোজ চুমকি- আরও অনেকে। সাহিত্যিক-সাংবাদিক-ব্যবসায়ী-আইনজীবীর কোনো অভাব ছিল না। পীর হাবিবকে নিয়ে বলতে গিয়ে জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর স্ত্রী যখন স্মৃতিচারণ করছিল বড় বেশি অভিভূত হয়েছিলাম। ভারতে নির্বাসিত থাকতে টিংকু আমায় অনেক চিঠি লিখেছে। সেখানে গিয়ে দেখা করেছে, আমার বাড়িতে থেকেছে, খেয়েছে। আমি ওকে নিয়ে প্রণবদার বাড়ি গেছি, তার সঙ্গে খাবার খেয়েছি। তাই অনেক স্মৃতি তোলপাড় করেছিল। তবে কেন কী করে যে ওরকম একটি জন্মদিনের আনন্দ অনুষ্ঠানে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী ছোট্ট মেয়ে সায়রা নওয়ালকে নিয়ে গিয়েছিল জানি না। ইলিয়াসের স্ত্রীর মুখের দিকে যখন চেয়েছিলাম, তার চোখ থেকে টসটস করে বেদনার পানি ঝরছিল। আমি, আমার স্ত্রী পাশাপাশি ছিলাম। তার বুক কতটা ঝাঁঝরা হয়েছিল জানি না, কিন্তু আমার হৃদয় খানখান হয়ে গিয়েছিল। বছরখানেক আগে ইলিয়াসের গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। তার মা আমার মাথায় হাত দিয়ে যেভাবে দোয়া করেছিলেন প্রকৃত মা ছাড়া আর কেউ তা করতে পারেন না। আল্লাহ যে কখনো কখনো কেন যে আমার ওপর অমন ব্যথার বোঝা দেন তা তিনিই জানেন।
সেদিন দিবালোকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামকরা শিক্ষক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। একটি শিক্ষাঙ্গনে প্রকৃত শিক্ষকদের নিরাপত্তা না থাকলে দেশে আইনশৃঙ্খলার বড়াই করার কী অর্থ থাকে? আমি এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সঙ্গে সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
শনিবার ছিল ১৫ নভেম্বর। ১৯৯৯-এর ১৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির বিশ্ব রেকর্ডের দিন। ১৫ নভেম্বর সখিপুর-বাসাইল উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে ২৪ ডিসেম্বর ‘৯৯ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। তারপর থেকে প্রতি বছরই আমরা এই দিনটি ভোট ডাকাতির প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি। মাগুরার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে বিএনপি সরকারের পতন হয়েছিল। বিএনপির চেয়েও সখিপুর উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাশুল আওয়ামী লীগকে বেশি দিতে হয়েছে। এবার কচুয়া স্কুল মাঠে ১৫ নভেম্বর প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়েছে। বিপুল লোকসমাগম হয়েছিল তাতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ আগস্ট এ স্কুল মাঠে তখনকার বাংলাদেশ মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে এক বিরাট সভা করা হয়েছিল। সেই সভার পর মুক্তির উন্মাদনায় পাহাড়ের আপামর জনসাধারণ পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছিল। যার পরিণতিতে ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। দেশবাসীকে ডাক দিয়েছি, ন্যায়-সত্য প্রতিষ্ঠায় আগুয়ান হতে। ঘরে বসে থাকলে অধিকারহারা হয়ে আমরা কেউ বাঁচব না। তাই সময় থাকতে এগিয়ে আসুন। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)