নিউইয়র্ক ১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

‘বালির ট্রাক বনাম ট্যাংক’ রাজনীতি!

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১৬
  • / ৮৪৮ বার পঠিত

শিবলী চৌধুরী কায়েস: বিশ্ববাসীকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে তুরস্কের সামরিক ‘ক্যু’। সংবাদ কর্মী হিসেবে প্রতিদিনই নিউজের আপডেট তথ্য দিতে হয়েছে এবং হচ্ছে। নিউইয়র্কের যে টিভি স্টেশনে কাজ করি, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এখানে প্রতিদিনকার নিউজ/সংবাদ বুলেটিন তৈরী করতে হয়।
যাই হোক। যে কথা বলছিলাম। গেল ১৫ জুলাই শুক্রবার তুর্কি সেনাদের ‘ব্যর্থ ক্যু’ চেষ্টার পর; শনিবার খুব মনে পড়লো ‘বাংলাদেশের রাজনীতি’র কথা। মনে পড়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার ‘বালির ট্রাকে’ অবরুদ্ধের কথা। আমাদের মতো দেশের সাধারণ জনগণের কথা বাদই দিলাম। পদ-পদবির জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব/মারামারিতে লিপ্ত হয়েছেন কিংবা হচ্ছেন। এটা হরহামেশাই ঘটছে। কিন্তু যখন দলীয় প্রধান ‘বালির ট্রাকে’ বন্দি হলেন; তখন তা সরাতে খোদ দলীয় প্রধানের আহ্বানেও রাজপথে নেমে আসার সাহস দেখাননি কেউ। এই হচ্ছে জনগণ ও স্বচ্ছ রাজনীতি এবং দলীয় কর্মীদের দেশ ও দলের প্রতি ভালোবাসার ফসল।
অথচ মোবাইলের একটি ‘ফইস টাইম’ কলের সূত্র ধরেই রাজপথে নেমে আসে লাখো জনতা। আহ্বানকারী ছিলেন বিশ্বের আলোচিত রাষ্ট্র প্রধান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোয়ান। যিনি ‘ভিডিও কল’ দিয়ে ক্ষান্ত হননি; নিজেও বলেছেন আমি আপনাদের (আন্দোলনকারীদের) সাথে অংশ নিতে আসছি। ঠিকই তাই করলেন। এক জেনারেল’র ফোন পেয়ে ও তার কথা মতো ইস্তাম্বুলে চলে এলেন। মঙ্গলবার সিএনএনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এরদোয়ান জানান, যে অবকাশ কেন্দ্রে তিনি ছিলেন; বিদ্রোহী সেনা অভ্যুত্থান তথা ‘ব্যর্থ ক্যু’ চেষ্টার খবর পান তিনি। সাথে সাথেই সেই হোটেল ত্যাগ করেন। তার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড’র দুই কর্মকর্তা নিহত হন। তার পরের ঘটনা সবার জানা।
তুর্কি হাজারো মিলিটারি/অসংখ্য জেনারেল/কর্নেল আর বিমান বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ও বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগের লোকের সম্মিলিত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণ ততক্ষণে যেনে গেছে বিশ্ববাসী। যখনই দেখেছে জনগণের জোয়ার এরদোয়ানের পক্ষে; ঠিক তখনই সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানান আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এরপর জন কেরি’সহ বিশ্ব নেতারা। পুরো বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয় তুর্কি জনতা। ট্যাংকের সামনে শরীর বিলিয়ে দিতে এতটুকু কুণ্ঠা বোধ করেননি যারা। প্রমাণ করে দেন, রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি কতটা ভরসা রাখতে পারে একটি দেশের জনগণ। তুর্কি জনগণ ওই সাহসী মনোভাব নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্বের তাবত স্বৈর শাসকদের। সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বেশী দিন আগের কথা নয়; যে ভাবে বেগম জিয়ার বাসভবনের সামনে থেকে ‘বালির ট্রাক’ সরানোর মতো কোন নেতা-কর্মীকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি; ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের দেশে তুরস্কের মতো বর্তমানে ‘ক্যু’ চেষ্টা হলে কি হবে? এমন প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। না ঘুমিয়ে তুরস্কের অভ্যুত্থানের খবরের দিকে চোখ রেখেছি টানা দুই রাত। পুরো বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘রাশিয়ান-টিআর’, ‘তুর্কি-টিআরটি (লন্ডন সেন্টার), ‘আমেরিকান-সিএনন’সহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের লাইভ সংবাদ ও বিশ্লেষন দেখলাম। ওই সময়ে বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও খ্যাতিমান সাংবাদিকদের মুখে একটাই কথা ঘুরে ফিরে উঠে আসে যে, এরদোয়ানের জনগণের সাথে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক হচ্ছে চুম্বকের চেয়েও শক্তিশালী। তাই এত বড়ধরণের ‘ক্যু’ প্ল্যান ভেস্তে গেছে। বস্তুত তাই।
তুরস্কের মত এত বড় ধরণের ‘ক্যু’ আমাদের বাংলাদেশে লাগবে কি না! তা অনেকের মতো আমার মনেও প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, নাম মাত্র কয়েকজন জেনারেল আর মিলিটারি রাস্তা নামলে কি হবে? তখন তুর্কি জনগণের মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য রাজপথে নামবে কি না; সেটা বিশ্বাস করা কঠিন। অনেকের মতো আমারও এমন হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন জাগতেই পারে। এর অন্যতম কারণ; দেশের জনগণের সাথে রাজনৈতিক নেতা ও সরকার প্রধানদের কমিটমেন্ট আর বিশ্বাসের বিষয় রয়েছে। মিথ্যার উপর রাষ্ট্র পরিচালনা। ‘হেড অব দ্য গভর্মেন্ট’র কাছে ‘তথ্য’ আছে প্রতিকার নেই। জঙ্গিবাদে কারা জড়িত সেটারও ‘তথ্য’ আছে। কিন্তু ‘লাশের পর লাশ’ আর ইতিহাসের প্রথম ও নির্মম ‘গলাকাটার’ (গুলশান ট্রাজেডি) দৃশ্য এসব আমাদের দেখতে হয়েছে এবং হচ্ছে। তবুও ‘তথ্য’ বাবার আসল ঠিকানা জনগণ জানে না। সরকারও লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে যাচ্ছেন, ‘ গোয়েন্দাদের কাছে আগাম তথ্য ছিল’। যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে সমাজের উঁচু তলার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা বেহেস্তের ‘হুর পরীর’র সন্ধানে নেমেছে! (মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর)। যদিও আমি কিংবা কারোরই এটা প্রত্যাশা নয় যে বাংলাদেশে ‘সেনা শাসন’ আসুক। কিন্তু এ কেমন গণতন্ত্র! রাষ্ট্র পরিচালনা কি আদৌ গণতান্ত্রিক? জনগণের সাথে রাজনীতিবিদদের যেমনি স্বচ্ছতার অভাব; তেমনি দলীয় কর্মীদের দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণের বিচার না হওয়া। ক্ষমতার নেশার মধ্যে ডুবিয়ে রাখার ফসল একদিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের ‘বালির ট্রাকের’ মতই হবে। যে দলের নেতা-কর্মীরা ‘বালির ট্রাকে’ আবদ্ধ নেত্রীকে বাঁচাতে বুলেট বুকে নেয়ার সাহস নেই; ঠিক তেমনি দু’চারজন জেনারেল/কর্নেল তাদের কয়েকজন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে রাস্তায় ট্যাংক’সহ বেরিয়ে পড়লেও প্রতিহত করতে ক্ষমতাসিন সুবিধাভোগি নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাবে কি না; তা বিষদ চিন্তার বিষয়। বরং উল্টো সরকার বিরোধী আর ত্যক্ত বিরক্ত এবং আশাহত মানুষগুলো সেনাবাহিনী/বিদ্রোহিদের সাথে রাস্তায় নেমে পড়বে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটাই আমাদের দেশের এখনকার কঠিন বাস্তবতা।
অথচ ঠিক তার বিপরীত ছিল তুরস্ক। বিরোধী দলগুলো এরদোয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার শেষ নির্বাচনেও বিরোধীতা করেছে। কিন্তু সেনা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারাও। অবশ্য পরে এরদোয়ানও তাদের ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। অসাধরণ আর আধুনিক কাকে বলে সেটা বাস্তবে না দেখলে বোঝনো যাবে না। এরদোয়ান কি করেননি; দেশ ও জনগণের স্বার্থে! তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা মানুষ পরিবারের সবার কাছেও সমান ভাবে প্রিয় হতে পারেন না। তাই এরদোয়ানের বিরোধী কি নেই এই তুরস্কে? সেটা বলা ভুল হবে। তবে, তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে সত্যিকারের ‘সাহসী এবং জনসম্পৃক্ত’; তার প্রমান এই ‘ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান’। আটক হওয়া বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য ইতোমধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বলছেন; তারা না কি কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে শহর প্রদক্ষিণে নেমেছেন। এটা অবস্তাব কিছু নয়! বড় অফিসারদের নির্দেশ পালন করাই হচ্ছে ছোটদের কাজ। হয়রাণি আর হামলা-মামলার শিকারও তাদের বেশী ভোগ করতে হয়। পরে অবশ্য তারা না কি বুঝতে পেরেছ এটা ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল। অথচ রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে প্রথমেই আঘাত হানা হয়। নিউজ প্রেজেন্টারকে দিয়ে জোরপূর্বক সংবাদ ও বিবৃতি পড়ানো হয়। এত কিছুর পরও সব ব্যর্থ।
ইজিপ্ট তথা মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে যে ভাবে হটানো হয়েছে। ঠিক একই ভাবে এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ব্যবধান হচ্ছে মুরসি বিদেশীদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আর এরদোয়ানের বিশ্বাস ছিলো জনগণের ওপর। তিনি কাউকে ফোন না করে; একটি ‘মোবাইল/ভিডিও কল’ করেছেন মাত্র। যা ইতিহাসের পাতায় আজীবন লিপিবদ্ধ থাকবে। ঠিকই একই কায়দায় সফল সেনা ‘ক্যু’ দিয়ে মুরসিকে বিচারের মুখোমুখি করেছে তারই নিয়োগকর সেনাপ্রধান, বিচারপতিরা। এরদোয়ানকেও এমনটি করা হতো। কিন্তু তিনি জনগণের ওপর আস্থা রেখে তিনি বেঁচে গেলেন অবশেষে। একেই বলে ‘রাজনৈতিক দক্ষতা’।
আমাদের দেশের অনেকেই এরদোয়ানের ক্ষমতাচ্যুতি চেয়েছিলেন। কারণ তিনি জামায়াত আমির নিজামীর বিষয়ে না কি বাড়াবাড়ি করেছেন! এটার যৌক্তিকতা আমারও জানা নেই। ঠিক করেছেন না কি বেঠিক। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এরদোয়ান এখন কেন আবার বিদ্রোহীদের বিচারে ফাঁসির দন্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন? এখানেও আমাদের দেশের এরদোয়ান বিরোধীরা ভুল চিন্তা করছেন। পুরো দেশের জনগণ একটি সমাবেশে ঐক্যবদ্ধভাবে অপরাধিদের দন্ডের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। এরদোয়ান সেটা বাস্তবায়ন করেত পারতেন। তবে, তিনি তা না বলে, উল্টো বলেছেন, পার্লামেন্টে পাশা হতে হবে বিষয়টি। এটা একক পার্লামেন্ট না। বিরোধী দল আছে (আমাদের মত ৫ জানুয়ারীর ‘জাপা’ বিরোধী দল নয়)। বিলটি পার্লামেন্টে যদি পাশ করে তবে তিনি তা করবেন। যদিও ইইউ/ন্যাটোর সহযোগি সদস্য হিসেবে ২০১৪ সালে আইন করে ফাঁসির দন্ড বাতিল করে তুরস্ক সরকার। এ নিয়ে এখন অনেক কথাও চলছে। এছাড়া ‘কোর্ট অব মার্শাল ল’ দিয়েও তো তিনি জেনারেল ও বিপদাগামি সেনাদের বিচার কার্যকর করতে পারেন। এমন কথা ‘টিআরটি-রাষ্ট্রীয় টেলিভশনকে অব তুরস্ক’র এবং ‘সিএনন-টার্ক’র কাছে বলেছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
আর আমরা বাংলাদেশে কি দেখলাম? এক শাহাবাগ (গণজাগরণ মঞ্চ) পুরো দেশের জনগণ নয়, ২০ শতাংশও নয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাইলো; তা দিয়ে দেয়া হলো আইন পরিবর্তণ করে! কারণ তিনি রাজাকার। তহলে আজকে প্রশ্ন আসতে পারে, এবং এটাই সত্য যে ‘ব্রিটিশ এক্সিট ফর্ম ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-ব্রেক্সিট’ ইস্যুতে ইইউর পক্ষে ছিলেন ৬২ শতাংশ (লন্ডন সিটি ও স্কটল্যান্ডের) জনগণ। যদিও পুরো যুক্তরাজ্যের গড়ে ৫১.৮০ শতাংশ ইইউর বিপক্ষে গণরায় চলে যা। তাই বলে কি লন্ডন ও স্কটল্যান্ড’র জনগণ দেশ বিরোধী? তা কিন্তু বলেন নি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিংবা নতুন প্রধানমন্ত্রী। গ্রেট ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেরেসা মে উল্টো বললেন, তিনি ইইউ’র বিপক্ষের জনগণের প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি পুরো জাতির ও দেশের জনগণের সরকার প্রধান। এটাই প্রমাণ করে একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন একমাত্র রাজনীতিবিদরা। থেরেনা মে যিনি আশ্বাসও দিয়েছেন যে তিনি সবার হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন। আর আমদের জাতির ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আমাদের এক ‘শাহাবাগ আন্দোলন’ আজকে পুরো জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর তা ঘটেছে খোদ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কয়েকটি ‘ফাঁসির নৃত্য’ আর ‘মিষ্টি বিতরণ উল্লাস’। একই সাথে জাতিকে কলঙ্ক মুক্তির তথাকথিত শ্লোগান। অথচ বর্তমান স্বাধীন দেশে নির্মমতার শিকার ‘তনু, মিতু’র লাশের বিচার নেই। অপরাধ কিংবা নিরাপরাধ হয়েও ক্রসফায়ারের দেশে রূপ নিয়েছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে ‘জঙ্গি আছে জঙ্গি নাই’। আবার তা আন্তর্জাতিক নয়, দেশীয়। তবে সেটারও না কি পূর্ব ‘তথ্য’ আছে!!! আমরা জাতি তাজ্জব হয়ে যাবো; যাচ্ছি বটে।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক বিভাজন কারা চাইছে সে কথা এখন সবার জানা। আমরা পাকিস্তান কিংবা ভারতের পক্ষ নিয়ে চলতে হবে কেন? আজকে ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ ইস্যুতে কোন হরতাল নেই কেন? আরো কত লাশ পড়লে রাজপথে নেমে আসবে সাধারণ জনগণ। আর কথ বাঁশের ভবন/ব্রীজ’র উন্নয়ন হলে সরকার বুঝবে দেশ থেকে অর্থ পাচার কিংবা ব্যাংক হরিলুট হবে না! আর কত ইয়াবা ফ্যাক্টরি নির্মাণ, ঐশিদের জন্ম, নিবরাজ, তাহমিদের জঙ্গি হওয়াও খবরের শিরোনাম হবে বাংলাদেশ? তখনও সরকার বুঝবে আমরা আরো এগিয়ে যাচ্ছি! না কি ‘তথ্য’ আছে, গোয়েন্দারা জানতো, বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে এবং হদিস পাওয়া যাচ্ছে না? এসব বলেই দেশ চলবে, পরিচালিত হবে তথাকথিত গণতান্ত্রিক চেতনার রাষ্ট্র।
গুলশান হত্যার অন্যথম হোতার একজন নিবরাজ ইসলাম না কি ঝিনাইদহে চারমাস মেস ভাড়া নিয়ে ছিলেন! এমন খবর বেরিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঝিনাইদহে ইতিপূর্বে সংগঠিত বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন গুলশান হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এই ‘নিবরাজ’। যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পুরোহিত’সহ রয়েছে খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক ও শিয়া মতবাদের এক ব্যক্তি। গুলশান হত্যাকান্ডের ন্যায় ওই চার হত্যাকান্ডের দায়’ও শিকার করেছিল আইএস। কিন্তু সেই দায় আমলে নেয়নি আমাদের সরকার। পুলিশ উল্টো এলাকার নিরীহ ও মেধাবি ৭জন শিক্ষার্থীকে (জামায়াত-শিবির বলে) অন্যায় ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। এমন অভিযোগ এলাকারবাসীর। তাদের প্রশ্ন; এই ‘নিবরাজ’ যদি ঝিনাইদহের সব হত্যাকান্ডে জড়িত থাকে; তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতদিন কী করেছে?
আর বিরোধী দল! রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’সহ অসংখ্য জন-গুরুত্বপূর্ণ হরতাল আহ্বান না করে জাতীয় ‘ঐক্যের ডাক’! বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী বলছেন ‘ঐক্য আছে’। এসব কেন! ভারত দুঃখ পাবে বলে? আমরা মোমবাতি চলতে পারবো; এক বেলা না খেয়ে থাকতে পারবো; কিন্তু একটি সুন্দরবন কি আর পাবো? রামপাল বিদ্যুৎ ও জাতীয় ইস্যুতে হরতাল দেয়া যাবে না? ক্ষমতার জন্য নয়, বরং এসব হরতালেই পাওয়া যেতো জনগণের সম্পৃক্ততা। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে; ক্ষমতার জন্য রাজনীতি? না কি রাজনীতির জন্য জনগণ? এসব বিষয় এখন সামনে চলে এসেছে। তাই যেমনি ‘বালির ট্রাক’ সরানোর লোক মাঠে খুঁজে পাননি বেগম জিয়া; ঠিক একই ভাবে দু’চারটা ‘রায়ট কার/সাঁজোয়া যান’ রাস্তায় নেমে পড়লে সেটার জন্য জনগণ বাধা দিবে না; বরং উল্টো নিজদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘ওয়েলকাম’ জানাবে। এমনটি যে ঘটবে না তা বলা মুশকিল। তখন আশ্চার্য হওয়া কিছুই থাকবে না। এটা হতে পারে কেবল সেনাবাহিনী নয়, ঘটতে পারে ‘সিভিলিয়ান রেভ্যুলেশন’। আফসোস; ছাট্ট একটি দেশ নেপালিদের কাছ থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি নাই। বন্ধু কিংবা কারো/কোন দেশের চাপিয়ে দেয়া কর্তৃত্ব নয়; জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এটা সম্প্রতি নেপালিরা প্রমাণ করেছে।
এত কিছুর পরও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ৫ জানুয়ারীর ঐতিহাসিক (বিরল) নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশের জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা সবার জানা। ‘মঈন ইউ-ফখরুদ্দিনের’ সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে দু’নেত্রীকে (খালেদা-হাসিনা) জেলে প্রেরণ, রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, জোরপূর্বক শিকারোক্তি আদায়, দেশপ্রেমিক সেনাদের ‘মার্সিনারী’র (ব্যবসা) দিকে ঝুঁকে পড়া এবং সবশেষ পিলখানা (বিডিআর হত্যাকান্ড) এসব কাদের মদদ ও ইশারায় সংগঠিত হয়েছে? এটা জনগণ ভালো জানেন। ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে বন্ধপ্রতিম দেশ থেকে সেনা প্রধান জেনারেল ‘মঈন ইউ’র ঘোড়া উপহার, আরো কত কি? ওসব ঘটনা কি যথেষ্ট ছিলো না; যে বাংলাদেশের তৎকালিন সেনা সমর্থিত সরকার গঠনে কাদের ‘ইন্ধন’ ছিল? আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলে ট্রান্সিট দিলাম/করিডোর দিলাম/বন্দর দিলাম/বিডিআর দিয়ে বিজিবি পেলাম/শান্তিপ্রিয় দেশের বদলে অশান্তির দেশ পেলাম/সীমান্ত হত্যা, ফেলানি’সহ লাশের পর লাশ পেলাম আর বিনিময়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি ও ভাই হাতে ভাইয়ের রক্ত ঝরালাম। ইয়াবা ও পেনসিডিল পেলাম/ইলিশ দিলাম বিনিময়ে গরু হারালাম। আফসোস; পেলাম না তিস্তা চুক্তি। সবশেষ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদেরকে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব চাপিয়ে দেয়া অপরদিকে মি. মোদি’র পাকিস্তান সফরে গিয়ে নেওয়াজ শরীফের মায়ে পা ছুঁয়ে সালাম করা। কি সেলুক্যাস! বাহ কি চমৎকার!! তবুও আমরা কখনো চাইনা আগামিতে কোন অগণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হোক আমাদের দেশে। আমরা প্রত্যাশা করছি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে নয়; দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চিন্তা করবে।
মনে রাখতে হবে এটাই চিরন্তর সত্য। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কোন বিদেশী প্রভু কিংবা বন্ধুর ভালোবাসার যে ফসল আমরা পাচ্ছি; তিস্তার পানির অভাব আর বর্তমানে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নীলফামারীর জেলাকে অতিরিক্ত তলিয়ে দেয়া; এসব অব্যাহত থাকলে একদিন দেয়ালের পীঠ ঠেকানো জনগণকে হয়তো আর থামাতে পারবে না কেউ! বন্ধু রাষ্ট্র’র ভালোবাসাও তখন দেখা যাবে না। তাই, দেশের অব্যহত এ রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ ও ঐক্য নিয়ে তামাশার ফসল একদিন সবাইকে ভোগ করতে হবে কি না; সেটা ভাগ্যই বলে দিবে? বিনিময়ে দেশ পিছিয়ে পড়ার অংশীদারে রূপ নিবে?
সবেচেয়ে মজার বিষয় হলো জামায়াত নিয়ে রাজনীতি কতদিন? জাতি এর’ও শেষ দেখতে চায়। ‘জামায়াত রাজাকার/এরশাদ স্বৈরাচার’। কিন্তু দু’টি দলকে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে বর্তমান সরকার। এসব আর কতদিন। এখন তো মনে হচ্ছে তুরস্কের ‘ট্যাংকের’ চাইতে আমাদের দেশের ‘বালির ট্রাকের’ ক্ষমতা অনেক বেশী। যাই হোক অন্তত একটা অর্জন তো হলো! সরকার নতুন একটা শক্তির আবিস্কার করতে পারলো। রাশিয়া থেকে পুরনো গোলাবারুদ, ‘যুদ্ধ বিমান’ আর ’ট্যাংক’ জনগণের অর্থ দিয়ে কেনা লাগবে না। ‘বালির ট্রাক’ই যথেষ্ট!!
পরিশেষে এইটুকু বলি: “ভালোবাসি আমার সোনার বাংলা; আর ঘৃণা করি মিথ্যার রাজনীতি।”

লেখক: নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক
১৯ জুলাই ২০১৬ (মঙ্গলবার)/ প্রথম প্রহর ৩.৫০ এম

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

‘বালির ট্রাক বনাম ট্যাংক’ রাজনীতি!

প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১৬

শিবলী চৌধুরী কায়েস: বিশ্ববাসীকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে তুরস্কের সামরিক ‘ক্যু’। সংবাদ কর্মী হিসেবে প্রতিদিনই নিউজের আপডেট তথ্য দিতে হয়েছে এবং হচ্ছে। নিউইয়র্কের যে টিভি স্টেশনে কাজ করি, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এখানে প্রতিদিনকার নিউজ/সংবাদ বুলেটিন তৈরী করতে হয়।
যাই হোক। যে কথা বলছিলাম। গেল ১৫ জুলাই শুক্রবার তুর্কি সেনাদের ‘ব্যর্থ ক্যু’ চেষ্টার পর; শনিবার খুব মনে পড়লো ‘বাংলাদেশের রাজনীতি’র কথা। মনে পড়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার ‘বালির ট্রাকে’ অবরুদ্ধের কথা। আমাদের মতো দেশের সাধারণ জনগণের কথা বাদই দিলাম। পদ-পদবির জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব/মারামারিতে লিপ্ত হয়েছেন কিংবা হচ্ছেন। এটা হরহামেশাই ঘটছে। কিন্তু যখন দলীয় প্রধান ‘বালির ট্রাকে’ বন্দি হলেন; তখন তা সরাতে খোদ দলীয় প্রধানের আহ্বানেও রাজপথে নেমে আসার সাহস দেখাননি কেউ। এই হচ্ছে জনগণ ও স্বচ্ছ রাজনীতি এবং দলীয় কর্মীদের দেশ ও দলের প্রতি ভালোবাসার ফসল।
অথচ মোবাইলের একটি ‘ফইস টাইম’ কলের সূত্র ধরেই রাজপথে নেমে আসে লাখো জনতা। আহ্বানকারী ছিলেন বিশ্বের আলোচিত রাষ্ট্র প্রধান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোয়ান। যিনি ‘ভিডিও কল’ দিয়ে ক্ষান্ত হননি; নিজেও বলেছেন আমি আপনাদের (আন্দোলনকারীদের) সাথে অংশ নিতে আসছি। ঠিকই তাই করলেন। এক জেনারেল’র ফোন পেয়ে ও তার কথা মতো ইস্তাম্বুলে চলে এলেন। মঙ্গলবার সিএনএনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এরদোয়ান জানান, যে অবকাশ কেন্দ্রে তিনি ছিলেন; বিদ্রোহী সেনা অভ্যুত্থান তথা ‘ব্যর্থ ক্যু’ চেষ্টার খবর পান তিনি। সাথে সাথেই সেই হোটেল ত্যাগ করেন। তার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড’র দুই কর্মকর্তা নিহত হন। তার পরের ঘটনা সবার জানা।
তুর্কি হাজারো মিলিটারি/অসংখ্য জেনারেল/কর্নেল আর বিমান বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ও বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগের লোকের সম্মিলিত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণ ততক্ষণে যেনে গেছে বিশ্ববাসী। যখনই দেখেছে জনগণের জোয়ার এরদোয়ানের পক্ষে; ঠিক তখনই সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানান আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এরপর জন কেরি’সহ বিশ্ব নেতারা। পুরো বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয় তুর্কি জনতা। ট্যাংকের সামনে শরীর বিলিয়ে দিতে এতটুকু কুণ্ঠা বোধ করেননি যারা। প্রমাণ করে দেন, রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি কতটা ভরসা রাখতে পারে একটি দেশের জনগণ। তুর্কি জনগণ ওই সাহসী মনোভাব নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্বের তাবত স্বৈর শাসকদের। সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বেশী দিন আগের কথা নয়; যে ভাবে বেগম জিয়ার বাসভবনের সামনে থেকে ‘বালির ট্রাক’ সরানোর মতো কোন নেতা-কর্মীকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি; ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের দেশে তুরস্কের মতো বর্তমানে ‘ক্যু’ চেষ্টা হলে কি হবে? এমন প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। না ঘুমিয়ে তুরস্কের অভ্যুত্থানের খবরের দিকে চোখ রেখেছি টানা দুই রাত। পুরো বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘রাশিয়ান-টিআর’, ‘তুর্কি-টিআরটি (লন্ডন সেন্টার), ‘আমেরিকান-সিএনন’সহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের লাইভ সংবাদ ও বিশ্লেষন দেখলাম। ওই সময়ে বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও খ্যাতিমান সাংবাদিকদের মুখে একটাই কথা ঘুরে ফিরে উঠে আসে যে, এরদোয়ানের জনগণের সাথে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক হচ্ছে চুম্বকের চেয়েও শক্তিশালী। তাই এত বড়ধরণের ‘ক্যু’ প্ল্যান ভেস্তে গেছে। বস্তুত তাই।
তুরস্কের মত এত বড় ধরণের ‘ক্যু’ আমাদের বাংলাদেশে লাগবে কি না! তা অনেকের মতো আমার মনেও প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, নাম মাত্র কয়েকজন জেনারেল আর মিলিটারি রাস্তা নামলে কি হবে? তখন তুর্কি জনগণের মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য রাজপথে নামবে কি না; সেটা বিশ্বাস করা কঠিন। অনেকের মতো আমারও এমন হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন জাগতেই পারে। এর অন্যতম কারণ; দেশের জনগণের সাথে রাজনৈতিক নেতা ও সরকার প্রধানদের কমিটমেন্ট আর বিশ্বাসের বিষয় রয়েছে। মিথ্যার উপর রাষ্ট্র পরিচালনা। ‘হেড অব দ্য গভর্মেন্ট’র কাছে ‘তথ্য’ আছে প্রতিকার নেই। জঙ্গিবাদে কারা জড়িত সেটারও ‘তথ্য’ আছে। কিন্তু ‘লাশের পর লাশ’ আর ইতিহাসের প্রথম ও নির্মম ‘গলাকাটার’ (গুলশান ট্রাজেডি) দৃশ্য এসব আমাদের দেখতে হয়েছে এবং হচ্ছে। তবুও ‘তথ্য’ বাবার আসল ঠিকানা জনগণ জানে না। সরকারও লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে যাচ্ছেন, ‘ গোয়েন্দাদের কাছে আগাম তথ্য ছিল’। যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে সমাজের উঁচু তলার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা বেহেস্তের ‘হুর পরীর’র সন্ধানে নেমেছে! (মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর)। যদিও আমি কিংবা কারোরই এটা প্রত্যাশা নয় যে বাংলাদেশে ‘সেনা শাসন’ আসুক। কিন্তু এ কেমন গণতন্ত্র! রাষ্ট্র পরিচালনা কি আদৌ গণতান্ত্রিক? জনগণের সাথে রাজনীতিবিদদের যেমনি স্বচ্ছতার অভাব; তেমনি দলীয় কর্মীদের দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণের বিচার না হওয়া। ক্ষমতার নেশার মধ্যে ডুবিয়ে রাখার ফসল একদিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের ‘বালির ট্রাকের’ মতই হবে। যে দলের নেতা-কর্মীরা ‘বালির ট্রাকে’ আবদ্ধ নেত্রীকে বাঁচাতে বুলেট বুকে নেয়ার সাহস নেই; ঠিক তেমনি দু’চারজন জেনারেল/কর্নেল তাদের কয়েকজন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে রাস্তায় ট্যাংক’সহ বেরিয়ে পড়লেও প্রতিহত করতে ক্ষমতাসিন সুবিধাভোগি নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাবে কি না; তা বিষদ চিন্তার বিষয়। বরং উল্টো সরকার বিরোধী আর ত্যক্ত বিরক্ত এবং আশাহত মানুষগুলো সেনাবাহিনী/বিদ্রোহিদের সাথে রাস্তায় নেমে পড়বে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটাই আমাদের দেশের এখনকার কঠিন বাস্তবতা।
অথচ ঠিক তার বিপরীত ছিল তুরস্ক। বিরোধী দলগুলো এরদোয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার শেষ নির্বাচনেও বিরোধীতা করেছে। কিন্তু সেনা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারাও। অবশ্য পরে এরদোয়ানও তাদের ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। অসাধরণ আর আধুনিক কাকে বলে সেটা বাস্তবে না দেখলে বোঝনো যাবে না। এরদোয়ান কি করেননি; দেশ ও জনগণের স্বার্থে! তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটা মানুষ পরিবারের সবার কাছেও সমান ভাবে প্রিয় হতে পারেন না। তাই এরদোয়ানের বিরোধী কি নেই এই তুরস্কে? সেটা বলা ভুল হবে। তবে, তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে সত্যিকারের ‘সাহসী এবং জনসম্পৃক্ত’; তার প্রমান এই ‘ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান’। আটক হওয়া বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য ইতোমধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বলছেন; তারা না কি কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে শহর প্রদক্ষিণে নেমেছেন। এটা অবস্তাব কিছু নয়! বড় অফিসারদের নির্দেশ পালন করাই হচ্ছে ছোটদের কাজ। হয়রাণি আর হামলা-মামলার শিকারও তাদের বেশী ভোগ করতে হয়। পরে অবশ্য তারা না কি বুঝতে পেরেছ এটা ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল। অথচ রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে প্রথমেই আঘাত হানা হয়। নিউজ প্রেজেন্টারকে দিয়ে জোরপূর্বক সংবাদ ও বিবৃতি পড়ানো হয়। এত কিছুর পরও সব ব্যর্থ।
ইজিপ্ট তথা মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে যে ভাবে হটানো হয়েছে। ঠিক একই ভাবে এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ব্যবধান হচ্ছে মুরসি বিদেশীদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আর এরদোয়ানের বিশ্বাস ছিলো জনগণের ওপর। তিনি কাউকে ফোন না করে; একটি ‘মোবাইল/ভিডিও কল’ করেছেন মাত্র। যা ইতিহাসের পাতায় আজীবন লিপিবদ্ধ থাকবে। ঠিকই একই কায়দায় সফল সেনা ‘ক্যু’ দিয়ে মুরসিকে বিচারের মুখোমুখি করেছে তারই নিয়োগকর সেনাপ্রধান, বিচারপতিরা। এরদোয়ানকেও এমনটি করা হতো। কিন্তু তিনি জনগণের ওপর আস্থা রেখে তিনি বেঁচে গেলেন অবশেষে। একেই বলে ‘রাজনৈতিক দক্ষতা’।
আমাদের দেশের অনেকেই এরদোয়ানের ক্ষমতাচ্যুতি চেয়েছিলেন। কারণ তিনি জামায়াত আমির নিজামীর বিষয়ে না কি বাড়াবাড়ি করেছেন! এটার যৌক্তিকতা আমারও জানা নেই। ঠিক করেছেন না কি বেঠিক। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এরদোয়ান এখন কেন আবার বিদ্রোহীদের বিচারে ফাঁসির দন্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন? এখানেও আমাদের দেশের এরদোয়ান বিরোধীরা ভুল চিন্তা করছেন। পুরো দেশের জনগণ একটি সমাবেশে ঐক্যবদ্ধভাবে অপরাধিদের দন্ডের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। এরদোয়ান সেটা বাস্তবায়ন করেত পারতেন। তবে, তিনি তা না বলে, উল্টো বলেছেন, পার্লামেন্টে পাশা হতে হবে বিষয়টি। এটা একক পার্লামেন্ট না। বিরোধী দল আছে (আমাদের মত ৫ জানুয়ারীর ‘জাপা’ বিরোধী দল নয়)। বিলটি পার্লামেন্টে যদি পাশ করে তবে তিনি তা করবেন। যদিও ইইউ/ন্যাটোর সহযোগি সদস্য হিসেবে ২০১৪ সালে আইন করে ফাঁসির দন্ড বাতিল করে তুরস্ক সরকার। এ নিয়ে এখন অনেক কথাও চলছে। এছাড়া ‘কোর্ট অব মার্শাল ল’ দিয়েও তো তিনি জেনারেল ও বিপদাগামি সেনাদের বিচার কার্যকর করতে পারেন। এমন কথা ‘টিআরটি-রাষ্ট্রীয় টেলিভশনকে অব তুরস্ক’র এবং ‘সিএনন-টার্ক’র কাছে বলেছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
আর আমরা বাংলাদেশে কি দেখলাম? এক শাহাবাগ (গণজাগরণ মঞ্চ) পুরো দেশের জনগণ নয়, ২০ শতাংশও নয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাইলো; তা দিয়ে দেয়া হলো আইন পরিবর্তণ করে! কারণ তিনি রাজাকার। তহলে আজকে প্রশ্ন আসতে পারে, এবং এটাই সত্য যে ‘ব্রিটিশ এক্সিট ফর্ম ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-ব্রেক্সিট’ ইস্যুতে ইইউর পক্ষে ছিলেন ৬২ শতাংশ (লন্ডন সিটি ও স্কটল্যান্ডের) জনগণ। যদিও পুরো যুক্তরাজ্যের গড়ে ৫১.৮০ শতাংশ ইইউর বিপক্ষে গণরায় চলে যা। তাই বলে কি লন্ডন ও স্কটল্যান্ড’র জনগণ দেশ বিরোধী? তা কিন্তু বলেন নি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিংবা নতুন প্রধানমন্ত্রী। গ্রেট ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেরেসা মে উল্টো বললেন, তিনি ইইউ’র বিপক্ষের জনগণের প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি পুরো জাতির ও দেশের জনগণের সরকার প্রধান। এটাই প্রমাণ করে একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন একমাত্র রাজনীতিবিদরা। থেরেনা মে যিনি আশ্বাসও দিয়েছেন যে তিনি সবার হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন। আর আমদের জাতির ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আমাদের এক ‘শাহাবাগ আন্দোলন’ আজকে পুরো জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর তা ঘটেছে খোদ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কয়েকটি ‘ফাঁসির নৃত্য’ আর ‘মিষ্টি বিতরণ উল্লাস’। একই সাথে জাতিকে কলঙ্ক মুক্তির তথাকথিত শ্লোগান। অথচ বর্তমান স্বাধীন দেশে নির্মমতার শিকার ‘তনু, মিতু’র লাশের বিচার নেই। অপরাধ কিংবা নিরাপরাধ হয়েও ক্রসফায়ারের দেশে রূপ নিয়েছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে ‘জঙ্গি আছে জঙ্গি নাই’। আবার তা আন্তর্জাতিক নয়, দেশীয়। তবে সেটারও না কি পূর্ব ‘তথ্য’ আছে!!! আমরা জাতি তাজ্জব হয়ে যাবো; যাচ্ছি বটে।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক বিভাজন কারা চাইছে সে কথা এখন সবার জানা। আমরা পাকিস্তান কিংবা ভারতের পক্ষ নিয়ে চলতে হবে কেন? আজকে ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ ইস্যুতে কোন হরতাল নেই কেন? আরো কত লাশ পড়লে রাজপথে নেমে আসবে সাধারণ জনগণ। আর কথ বাঁশের ভবন/ব্রীজ’র উন্নয়ন হলে সরকার বুঝবে দেশ থেকে অর্থ পাচার কিংবা ব্যাংক হরিলুট হবে না! আর কত ইয়াবা ফ্যাক্টরি নির্মাণ, ঐশিদের জন্ম, নিবরাজ, তাহমিদের জঙ্গি হওয়াও খবরের শিরোনাম হবে বাংলাদেশ? তখনও সরকার বুঝবে আমরা আরো এগিয়ে যাচ্ছি! না কি ‘তথ্য’ আছে, গোয়েন্দারা জানতো, বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে এবং হদিস পাওয়া যাচ্ছে না? এসব বলেই দেশ চলবে, পরিচালিত হবে তথাকথিত গণতান্ত্রিক চেতনার রাষ্ট্র।
গুলশান হত্যার অন্যথম হোতার একজন নিবরাজ ইসলাম না কি ঝিনাইদহে চারমাস মেস ভাড়া নিয়ে ছিলেন! এমন খবর বেরিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঝিনাইদহে ইতিপূর্বে সংগঠিত বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন গুলশান হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এই ‘নিবরাজ’। যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পুরোহিত’সহ রয়েছে খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক ও শিয়া মতবাদের এক ব্যক্তি। গুলশান হত্যাকান্ডের ন্যায় ওই চার হত্যাকান্ডের দায়’ও শিকার করেছিল আইএস। কিন্তু সেই দায় আমলে নেয়নি আমাদের সরকার। পুলিশ উল্টো এলাকার নিরীহ ও মেধাবি ৭জন শিক্ষার্থীকে (জামায়াত-শিবির বলে) অন্যায় ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। এমন অভিযোগ এলাকারবাসীর। তাদের প্রশ্ন; এই ‘নিবরাজ’ যদি ঝিনাইদহের সব হত্যাকান্ডে জড়িত থাকে; তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতদিন কী করেছে?
আর বিরোধী দল! রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’সহ অসংখ্য জন-গুরুত্বপূর্ণ হরতাল আহ্বান না করে জাতীয় ‘ঐক্যের ডাক’! বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী বলছেন ‘ঐক্য আছে’। এসব কেন! ভারত দুঃখ পাবে বলে? আমরা মোমবাতি চলতে পারবো; এক বেলা না খেয়ে থাকতে পারবো; কিন্তু একটি সুন্দরবন কি আর পাবো? রামপাল বিদ্যুৎ ও জাতীয় ইস্যুতে হরতাল দেয়া যাবে না? ক্ষমতার জন্য নয়, বরং এসব হরতালেই পাওয়া যেতো জনগণের সম্পৃক্ততা। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে; ক্ষমতার জন্য রাজনীতি? না কি রাজনীতির জন্য জনগণ? এসব বিষয় এখন সামনে চলে এসেছে। তাই যেমনি ‘বালির ট্রাক’ সরানোর লোক মাঠে খুঁজে পাননি বেগম জিয়া; ঠিক একই ভাবে দু’চারটা ‘রায়ট কার/সাঁজোয়া যান’ রাস্তায় নেমে পড়লে সেটার জন্য জনগণ বাধা দিবে না; বরং উল্টো নিজদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘ওয়েলকাম’ জানাবে। এমনটি যে ঘটবে না তা বলা মুশকিল। তখন আশ্চার্য হওয়া কিছুই থাকবে না। এটা হতে পারে কেবল সেনাবাহিনী নয়, ঘটতে পারে ‘সিভিলিয়ান রেভ্যুলেশন’। আফসোস; ছাট্ট একটি দেশ নেপালিদের কাছ থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি নাই। বন্ধু কিংবা কারো/কোন দেশের চাপিয়ে দেয়া কর্তৃত্ব নয়; জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এটা সম্প্রতি নেপালিরা প্রমাণ করেছে।
এত কিছুর পরও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ৫ জানুয়ারীর ঐতিহাসিক (বিরল) নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশের জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা সবার জানা। ‘মঈন ইউ-ফখরুদ্দিনের’ সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে দু’নেত্রীকে (খালেদা-হাসিনা) জেলে প্রেরণ, রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, জোরপূর্বক শিকারোক্তি আদায়, দেশপ্রেমিক সেনাদের ‘মার্সিনারী’র (ব্যবসা) দিকে ঝুঁকে পড়া এবং সবশেষ পিলখানা (বিডিআর হত্যাকান্ড) এসব কাদের মদদ ও ইশারায় সংগঠিত হয়েছে? এটা জনগণ ভালো জানেন। ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে বন্ধপ্রতিম দেশ থেকে সেনা প্রধান জেনারেল ‘মঈন ইউ’র ঘোড়া উপহার, আরো কত কি? ওসব ঘটনা কি যথেষ্ট ছিলো না; যে বাংলাদেশের তৎকালিন সেনা সমর্থিত সরকার গঠনে কাদের ‘ইন্ধন’ ছিল? আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলে ট্রান্সিট দিলাম/করিডোর দিলাম/বন্দর দিলাম/বিডিআর দিয়ে বিজিবি পেলাম/শান্তিপ্রিয় দেশের বদলে অশান্তির দেশ পেলাম/সীমান্ত হত্যা, ফেলানি’সহ লাশের পর লাশ পেলাম আর বিনিময়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি ও ভাই হাতে ভাইয়ের রক্ত ঝরালাম। ইয়াবা ও পেনসিডিল পেলাম/ইলিশ দিলাম বিনিময়ে গরু হারালাম। আফসোস; পেলাম না তিস্তা চুক্তি। সবশেষ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদেরকে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব চাপিয়ে দেয়া অপরদিকে মি. মোদি’র পাকিস্তান সফরে গিয়ে নেওয়াজ শরীফের মায়ে পা ছুঁয়ে সালাম করা। কি সেলুক্যাস! বাহ কি চমৎকার!! তবুও আমরা কখনো চাইনা আগামিতে কোন অগণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হোক আমাদের দেশে। আমরা প্রত্যাশা করছি ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে নয়; দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চিন্তা করবে।
মনে রাখতে হবে এটাই চিরন্তর সত্য। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কোন বিদেশী প্রভু কিংবা বন্ধুর ভালোবাসার যে ফসল আমরা পাচ্ছি; তিস্তার পানির অভাব আর বর্তমানে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নীলফামারীর জেলাকে অতিরিক্ত তলিয়ে দেয়া; এসব অব্যাহত থাকলে একদিন দেয়ালের পীঠ ঠেকানো জনগণকে হয়তো আর থামাতে পারবে না কেউ! বন্ধু রাষ্ট্র’র ভালোবাসাও তখন দেখা যাবে না। তাই, দেশের অব্যহত এ রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ ও ঐক্য নিয়ে তামাশার ফসল একদিন সবাইকে ভোগ করতে হবে কি না; সেটা ভাগ্যই বলে দিবে? বিনিময়ে দেশ পিছিয়ে পড়ার অংশীদারে রূপ নিবে?
সবেচেয়ে মজার বিষয় হলো জামায়াত নিয়ে রাজনীতি কতদিন? জাতি এর’ও শেষ দেখতে চায়। ‘জামায়াত রাজাকার/এরশাদ স্বৈরাচার’। কিন্তু দু’টি দলকে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে বর্তমান সরকার। এসব আর কতদিন। এখন তো মনে হচ্ছে তুরস্কের ‘ট্যাংকের’ চাইতে আমাদের দেশের ‘বালির ট্রাকের’ ক্ষমতা অনেক বেশী। যাই হোক অন্তত একটা অর্জন তো হলো! সরকার নতুন একটা শক্তির আবিস্কার করতে পারলো। রাশিয়া থেকে পুরনো গোলাবারুদ, ‘যুদ্ধ বিমান’ আর ’ট্যাংক’ জনগণের অর্থ দিয়ে কেনা লাগবে না। ‘বালির ট্রাক’ই যথেষ্ট!!
পরিশেষে এইটুকু বলি: “ভালোবাসি আমার সোনার বাংলা; আর ঘৃণা করি মিথ্যার রাজনীতি।”

লেখক: নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক
১৯ জুলাই ২০১৬ (মঙ্গলবার)/ প্রথম প্রহর ৩.৫০ এম