নিউইয়র্ক ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ধর্মীয় জঙ্গীবাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলাদেশ ॥ ‘কেমোথেরাপী’ চলছে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অগাস্ট ২০১৬
  • / ৭৪৯ বার পঠিত

নাজমুল আহসান: দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ধর্মীয় জঙ্গীবাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক এই ক্যান্সার বাংলাদেশের সব কয়টি সরকারের প্রছন্ন অবহেলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে মদতে প্রায় দুরারোগ্য অবস্থানে চলে এসেছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকার ’কেমোথেরাপী’র মাধ্যমে এর চিকিৎসা করছেন বটে, তাতে শেষ রক্ষা হয় কিনা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, জঙ্গীবাদ আজ একটি বিশ্বসমস্যা। তা হতেই পারে । কিন্তু বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ এসেছে রাষ্ট্রেও অন্যতম মূলমন্ত্র অসাম্প্রতদায়িকতার কবর রচনা করে। ১৯৭১ এর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুষ্টিমেয় বিরোধিতাকারী ছ্ড়াা অন্যরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ’অসাম্প্রদায়িক’ বাংলাদেশের চেতনায়। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুলে বিনাশ করার কাজে নেমে পড়ে স্বাধীনতার প্রায় পরপরই। ধর্ম হচ্ছে একজন মানুষের সাথে তার সৃষ্টিকর্তার যোগাযোগের নিবিড় মাধ্যম। কিন্তু সেই নিবিড় মাধ্যমটিকে অত্যন্ত ধুর্ততার সাথে সার্বজনীন রুপ দেওয়ার অপচেষ্টায় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহাওে প্রশ্রয় দেয় প্রায় প্রতিটি সরকার। ১৯৭৩ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তির তৎকালীন মনিব জুলফিকার আলী ভুট্টো ও লিবিয়ার গাদ্দাফীর প্ররোচনায়বঙ্গবন্ধুর লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ দিয়ে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে প্রথম যে আঘাতটি করা হয়েছির, পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং জিয়া-খালেদা সরকারের আরব-খুশীকরণ নীতি এবং সবশেষে শেখ হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল না করার নীতিতে বেগবান হয়ে উঠে বাংলাদেশে ইসলামের নামে জঙ্গীবাদেও দুরন্ত ঘোড়াটি। দেখেও না দেখার ভান করে যারা বাংলাদেশের মানুষের উপর ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তাওে বিস্তর সহযোহিতা যুগিয়েছে, আকস্মিকভাবে পাজামা-পাঞ্জাবী পড়া আর তসবিহ টেপা মুসলমানে পরিণত হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে সুসংহত করেছে তাদেও কেউ কেউ আজ জঙ্গীবাদেও বিস্তার নিয়ে কথা বলছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম – সকল ধর্মের ম্ানুষই তা স্বীকার করেন। কিন্তু প্রকৃত ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত ইসলামের সাথে আলাদা করতে পারেন না বিশ্বের শান্তিকামী অনেক মানুষ। সঙ্কট সেখানেই। ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ তো হয়ই, কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা এবং ধরন কি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার হওয়ার মানুষের মনের বেদনা দূর করার জন্য যথেষ্ট? ভেবে দেখুন একবার। বাংলাদেশে ইসলামের নামে যে জঙ্গীবাদ আজ দানবের ভুমিকায় নেমেছে, তাকে ঠেকাতে হলে অবশ্যই ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে হবে। এবং তা করতে হবে অতি দ্রুত। ধর্ম কোন রাষ্ট্রের হতে পারেনা, যার যার ধর্ম তার তার। ধর্ম রাজনীতির নয়, মানবসেবার জন্য। (সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

ধর্মীয় জঙ্গীবাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলাদেশ ॥ ‘কেমোথেরাপী’ চলছে

প্রকাশের সময় : ০২:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অগাস্ট ২০১৬

নাজমুল আহসান: দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ধর্মীয় জঙ্গীবাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক এই ক্যান্সার বাংলাদেশের সব কয়টি সরকারের প্রছন্ন অবহেলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে মদতে প্রায় দুরারোগ্য অবস্থানে চলে এসেছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকার ’কেমোথেরাপী’র মাধ্যমে এর চিকিৎসা করছেন বটে, তাতে শেষ রক্ষা হয় কিনা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই বলেন, জঙ্গীবাদ আজ একটি বিশ্বসমস্যা। তা হতেই পারে । কিন্তু বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ এসেছে রাষ্ট্রেও অন্যতম মূলমন্ত্র অসাম্প্রতদায়িকতার কবর রচনা করে। ১৯৭১ এর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুষ্টিমেয় বিরোধিতাকারী ছ্ড়াা অন্যরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ’অসাম্প্রদায়িক’ বাংলাদেশের চেতনায়। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুলে বিনাশ করার কাজে নেমে পড়ে স্বাধীনতার প্রায় পরপরই। ধর্ম হচ্ছে একজন মানুষের সাথে তার সৃষ্টিকর্তার যোগাযোগের নিবিড় মাধ্যম। কিন্তু সেই নিবিড় মাধ্যমটিকে অত্যন্ত ধুর্ততার সাথে সার্বজনীন রুপ দেওয়ার অপচেষ্টায় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহাওে প্রশ্রয় দেয় প্রায় প্রতিটি সরকার। ১৯৭৩ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তির তৎকালীন মনিব জুলফিকার আলী ভুট্টো ও লিবিয়ার গাদ্দাফীর প্ররোচনায়বঙ্গবন্ধুর লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ দিয়ে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে প্রথম যে আঘাতটি করা হয়েছির, পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং জিয়া-খালেদা সরকারের আরব-খুশীকরণ নীতি এবং সবশেষে শেখ হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল না করার নীতিতে বেগবান হয়ে উঠে বাংলাদেশে ইসলামের নামে জঙ্গীবাদেও দুরন্ত ঘোড়াটি। দেখেও না দেখার ভান করে যারা বাংলাদেশের মানুষের উপর ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তাওে বিস্তর সহযোহিতা যুগিয়েছে, আকস্মিকভাবে পাজামা-পাঞ্জাবী পড়া আর তসবিহ টেপা মুসলমানে পরিণত হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে সুসংহত করেছে তাদেও কেউ কেউ আজ জঙ্গীবাদেও বিস্তার নিয়ে কথা বলছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম – সকল ধর্মের ম্ানুষই তা স্বীকার করেন। কিন্তু প্রকৃত ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত ইসলামের সাথে আলাদা করতে পারেন না বিশ্বের শান্তিকামী অনেক মানুষ। সঙ্কট সেখানেই। ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ তো হয়ই, কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা এবং ধরন কি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার হওয়ার মানুষের মনের বেদনা দূর করার জন্য যথেষ্ট? ভেবে দেখুন একবার। বাংলাদেশে ইসলামের নামে যে জঙ্গীবাদ আজ দানবের ভুমিকায় নেমেছে, তাকে ঠেকাতে হলে অবশ্যই ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে হবে। এবং তা করতে হবে অতি দ্রুত। ধর্ম কোন রাষ্ট্রের হতে পারেনা, যার যার ধর্ম তার তার। ধর্ম রাজনীতির নয়, মানবসেবার জন্য। (সাপ্তাহিক পরিচয়)