নিউইয়র্ক ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

একজন মনসুর খান

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৪
  • / ৯১৭ বার পঠিত

কিভাবে লেখা শুরু করবো বুঝতে পারছিনা। প্রবাসের অতি পরিচিত মুখ আমাদের সবার প্রিয় মনসুর খান আর নেই। ড. মনসুর খানের মৃত্যু আকস্মিক ছিল না, কিন্তু অকাল মৃত্যু অবশ্যই বলা যায়। ঘাতক ব্যাধি তাকে কূঁড়ে- কূঁেড় খাচ্ছিল, প্রতি মুহুর্তেই নি:শেষ করে দিচ্ছিল তাকে ভেতর থেকে। চিকিৎসা চলছিল সমান তালেই এবং এর মাঝেই বেঁচে থাকার আকুল আগ্রহ নিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করে গেছেন মৃত্যুর সঙ্গে। ‘খান টিউটোরিয়াল’এর প্রতিষ্ঠাতা মনসুর খান তার সকল শারিরিক অসুস্থ্যতা, ব্যথা, বেদনাকে উপেক্ষা করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কম্যুনিটির প্রতিটি কাজে ও অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থেকেছেন। সবচেয়ে নিষ্ঠুর সত্য যে মৃত্যু, আশ্চর্যের বিষয় অনেক সময় তাকেই আমরা ভুলে থাকি। আর অবশেষে সেই মৃত্যুই তাকে বরণ করতে হল। কিন্তু সত্য এই যে, মৃত্যু তার কির্ত্তী  ও মহিমাকে এতটুকু মলিন করতে পারেনি।
তার পুরো নাম মনসুরুল আলম খান ওরফে মনসুর খান। প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী মনসুর খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের প্রদও অলংকৃত করেছেন। সময়ের আবর্ত্তে ঘুরে আমেরিকায় পদার্পণ। মনসুর খানের পিতা ছিলেন স্বনামখ্যাত আরেক ব্যক্তিত্ব। জনাব খানে আলম খান এবং যিনি ছিলেন এক  সময়ের সচীব। কিন্তু আমার সঙ্গে তার পরিচয় ১৯৭৮ সালে, তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিভাগের কমিশর্না অসম্ভব কর্মপাগল মানুষ ছিলেন এবং একথা বলা বাহুল্য যে, তখনকার সচীবদের ব্রতই ছিল মানুষের কল্যাণ, অধিকাংশ জনেরই। মনসুর খান, যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান ছিলেন। মাঝে-মাঝে আমি বলতাম চলেন দেশে ফিরে যাই, উত্তরে বলতেন, আমার অন্য মিশন আছে, দেখি কি হয়। মনসুর খান বলতো সালু ভাই আপনার কিন্তু দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। উত্তরে আমি বললাম, মনুসর খান, হায়াত- মওত, বিয়ে- শাদী- রেজেক – দৌলত দেওয়ার মালিক সর্বশক্তিমান পরম করুনাময়। শুনে মনসুর খান বললেন, সালু ভাই ঠিকই বলেছেন। মনুসর খানের প্রাণের স্পর্শ কোথায় নেই? নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে, ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে, মওলানা ভাসানীর অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সর্ম্পৃক্ত থেকে পালন করেছে যথাযথ দায়িত্ব হাসি মুখে। এছাড়াও তিনি জ্যাকসন হাইটস্ ব্যবসায়ী সমিতিরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আজকের ‘বাংলাদেশী আমেরিকান পাবলিক এ্যাফেয়ার্স ফ্রন্ট’ (বাপাফ), সেই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পেছনেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান। ‘বাপাফ’ হচ্ছে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ত করার জন্যে গঠিত ‘মাদার সংগঠন’। কিন্তু তার বড় কৃতিত্ব ‘খান টিউটোরিয়াল’ প্রতিষ্ঠা। কাহিনীর পেছনেও কাহিনী থাকে। স্মৃতির এ্যালবাম থেকে নেয়া, যত দূর মনে পড়ে, এক সময় নিউজার্সির কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে পড়াতে আসতেন মনসুর খান। হঠাৎ কখনও আমাদের বাসায় আসতো। তখন এই আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলতো। বলতো তার স্বপ্নের কথা। বলতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা। বলতো আরও অনেক কথা, বাঙ্গালী মেধা প্রজ্ঞায় কম কিসে? সেই সময় মনুসর খান কারও অনুরোধে বাসায় – বাসায় গিয়ে ছাত্র পড়াতেন। তার পর কালক্রমে ধাপে ধাপে গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের ‘খান টিউটোরিয়াল’ প্রবাসী বাংলাদেশীদের নতুন প্রজন্মের ছাত্র ছাত্রীরা খান টিউটোরিয়ালে কোচিং ক্লাশ করে নিউইয়র্কের ভাল ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং ‘হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন’ শেষে নামী -দামী কলেজে ভর্তি হচ্ছে এবং গ্রাজুয়েশন শেষে কর্মক্ষেত্রে রাখছে অসামান্য অবদান। ‘খান টিউটোরিয়াল’ নিউইয়র্কের সর্বত্র বিস্তৃত।
কিন্তু তিলে-তিলে গড়ে উঠা এই প্রতিষ্ঠান ও মনসুর খানের সকল কর্মপ্রেরণার উৎস যিনি সেই গুনী ব্যক্তিত্ব অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী সুকন্ঠী নাঈমা খানের কথা না বললে তো আমার আজকের লেখাই অসম্পুর্ণ থেকে যাবে। মনসুর খানের সহধর্মিনী নাঈমা খানের সক্রিয় সমর্থন ও নিরলস প্রচেষ্টাই ছিল সকল কর্মযজ্ঞে মনসুর খানের অনুরেপ্ররণার উৎস, দিয়েছে আমৃত্যু আমিতশক্তি, জীবনী শক্তি। ‘খান টিউটোরিয়াল’ আজ ফুলে ফুলে পল্লবিত এক মহা মহীরুহ প্রতিষ্ঠানের নাম। তার অবর্তমানে তার সুযোগ্য পুত্র ডা. ইভান খান, মা নাঈমা খানের সঙ্গে থেকে এই প্রতিষ্ঠানের কাজ আরও  সুচারুভাবে এগিয়ে নিবে এটাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশী সকলেই আমরা তাদের গৌরব গাঁথার অংশীদার। মনুসর খানের একুশে পদক প্রাপ্তিতে আমি তাকে যখন অভিনন্দন জানালাম, তখন বললাম, অধ্যাপক ড. মনসুরুল আলম খান ‘কনগ্র্যাচুলেশন’। হেসে বললো এইভাবে আমাকে আর কেউ ডাকে না। আপনি আমাকে অনেক ভাল বাসেন। আমি জানি।
আমাদের নিউজার্সীর বাসায় যে কোন অনুষ্ঠানে অন্যন্যদের মধ্যে মনসুর খান ও নাঈমা খান যখন আসতেন, তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে গানের অনুষ্ঠান হত। যতদূর মনে পড়ে কখনো সেলিমা আশরাফও আসতেন। নিউজার্সির এক সময়ের খ্যাতিমান গায়ক শাহীনও থাকতো। যে  কথা বলার বিষয়, তাহল সেই গানের আসরের তবলা বাদক আর কেউ ছিলেন না, ছিলেন স্বয়ং মনসুর খান।
২০০৬ সালের ৩১ জুলাই আমার ১৬ বৎসরের মেয়ে আনিকা মৃত্যু বরণ করে। সান্তনা দিতে মনসুর খান ও নাঈমা খান সারাদিন এসে থাকলো আমাদের সাথে। স্মৃতির এ্যালবামে এর সবকিছুই সমুজ্জ্বল। পরম করুণাময় তার আত্মাকে বেহেস্তে নসীব করুন। মনসুর পরিবারের সবার জনেই রইলো গভীর সমবেদনা।  মনুসর খান ছিল সমাজ সেচেতন ও রাজনীতি সচেতন মানুষ। একবার দেশ থেকে ঘুরে আসার পর দেখা হলে জিজ্ঞেস করলাম, কি অবস্থা অধ্যাপক?  দেশের কি খবর? স্মীত হেসে বললো, সালু ভাই কি বলবো? রাজনীতিতে সহনশীলতার কোন বিকল্প নেই। হানা-হানি রাজনীতির বিকল্প নয়। দেশে আজ সুস্থ্য রাজনীতির খুবই প্রয়োজন।
সৎ, সজ্জন, অমায়িক ও বিন¤্রতার প্রতীক মনুসর খান একজনই। চোখ বুজলেই দেখতে পাই মনুসর খানের মুখের সেই সলজ হাসি। মনসুর খান নেই, কিন্তু থাকবে তার কীর্ত্তি ও স্মৃতি চির ভাস্মর হয়ে। মনসুর খান আমাদের সবার মাঝে বেঁচে থাকবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

একজন মনসুর খান

প্রকাশের সময় : ১১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৪

কিভাবে লেখা শুরু করবো বুঝতে পারছিনা। প্রবাসের অতি পরিচিত মুখ আমাদের সবার প্রিয় মনসুর খান আর নেই। ড. মনসুর খানের মৃত্যু আকস্মিক ছিল না, কিন্তু অকাল মৃত্যু অবশ্যই বলা যায়। ঘাতক ব্যাধি তাকে কূঁড়ে- কূঁেড় খাচ্ছিল, প্রতি মুহুর্তেই নি:শেষ করে দিচ্ছিল তাকে ভেতর থেকে। চিকিৎসা চলছিল সমান তালেই এবং এর মাঝেই বেঁচে থাকার আকুল আগ্রহ নিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করে গেছেন মৃত্যুর সঙ্গে। ‘খান টিউটোরিয়াল’এর প্রতিষ্ঠাতা মনসুর খান তার সকল শারিরিক অসুস্থ্যতা, ব্যথা, বেদনাকে উপেক্ষা করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কম্যুনিটির প্রতিটি কাজে ও অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থেকেছেন। সবচেয়ে নিষ্ঠুর সত্য যে মৃত্যু, আশ্চর্যের বিষয় অনেক সময় তাকেই আমরা ভুলে থাকি। আর অবশেষে সেই মৃত্যুই তাকে বরণ করতে হল। কিন্তু সত্য এই যে, মৃত্যু তার কির্ত্তী  ও মহিমাকে এতটুকু মলিন করতে পারেনি।
তার পুরো নাম মনসুরুল আলম খান ওরফে মনসুর খান। প্রজ্ঞাবান ও মেধাবী মনসুর খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের প্রদও অলংকৃত করেছেন। সময়ের আবর্ত্তে ঘুরে আমেরিকায় পদার্পণ। মনসুর খানের পিতা ছিলেন স্বনামখ্যাত আরেক ব্যক্তিত্ব। জনাব খানে আলম খান এবং যিনি ছিলেন এক  সময়ের সচীব। কিন্তু আমার সঙ্গে তার পরিচয় ১৯৭৮ সালে, তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিভাগের কমিশর্না অসম্ভব কর্মপাগল মানুষ ছিলেন এবং একথা বলা বাহুল্য যে, তখনকার সচীবদের ব্রতই ছিল মানুষের কল্যাণ, অধিকাংশ জনেরই। মনসুর খান, যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান ছিলেন। মাঝে-মাঝে আমি বলতাম চলেন দেশে ফিরে যাই, উত্তরে বলতেন, আমার অন্য মিশন আছে, দেখি কি হয়। মনসুর খান বলতো সালু ভাই আপনার কিন্তু দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। উত্তরে আমি বললাম, মনুসর খান, হায়াত- মওত, বিয়ে- শাদী- রেজেক – দৌলত দেওয়ার মালিক সর্বশক্তিমান পরম করুনাময়। শুনে মনসুর খান বললেন, সালু ভাই ঠিকই বলেছেন। মনুসর খানের প্রাণের স্পর্শ কোথায় নেই? নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে, ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে, মওলানা ভাসানীর অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সর্ম্পৃক্ত থেকে পালন করেছে যথাযথ দায়িত্ব হাসি মুখে। এছাড়াও তিনি জ্যাকসন হাইটস্ ব্যবসায়ী সমিতিরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আজকের ‘বাংলাদেশী আমেরিকান পাবলিক এ্যাফেয়ার্স ফ্রন্ট’ (বাপাফ), সেই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পেছনেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান। ‘বাপাফ’ হচ্ছে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ত করার জন্যে গঠিত ‘মাদার সংগঠন’। কিন্তু তার বড় কৃতিত্ব ‘খান টিউটোরিয়াল’ প্রতিষ্ঠা। কাহিনীর পেছনেও কাহিনী থাকে। স্মৃতির এ্যালবাম থেকে নেয়া, যত দূর মনে পড়ে, এক সময় নিউজার্সির কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে পড়াতে আসতেন মনসুর খান। হঠাৎ কখনও আমাদের বাসায় আসতো। তখন এই আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলতো। বলতো তার স্বপ্নের কথা। বলতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা। বলতো আরও অনেক কথা, বাঙ্গালী মেধা প্রজ্ঞায় কম কিসে? সেই সময় মনুসর খান কারও অনুরোধে বাসায় – বাসায় গিয়ে ছাত্র পড়াতেন। তার পর কালক্রমে ধাপে ধাপে গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের ‘খান টিউটোরিয়াল’ প্রবাসী বাংলাদেশীদের নতুন প্রজন্মের ছাত্র ছাত্রীরা খান টিউটোরিয়ালে কোচিং ক্লাশ করে নিউইয়র্কের ভাল ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং ‘হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন’ শেষে নামী -দামী কলেজে ভর্তি হচ্ছে এবং গ্রাজুয়েশন শেষে কর্মক্ষেত্রে রাখছে অসামান্য অবদান। ‘খান টিউটোরিয়াল’ নিউইয়র্কের সর্বত্র বিস্তৃত।
কিন্তু তিলে-তিলে গড়ে উঠা এই প্রতিষ্ঠান ও মনসুর খানের সকল কর্মপ্রেরণার উৎস যিনি সেই গুনী ব্যক্তিত্ব অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী সুকন্ঠী নাঈমা খানের কথা না বললে তো আমার আজকের লেখাই অসম্পুর্ণ থেকে যাবে। মনসুর খানের সহধর্মিনী নাঈমা খানের সক্রিয় সমর্থন ও নিরলস প্রচেষ্টাই ছিল সকল কর্মযজ্ঞে মনসুর খানের অনুরেপ্ররণার উৎস, দিয়েছে আমৃত্যু আমিতশক্তি, জীবনী শক্তি। ‘খান টিউটোরিয়াল’ আজ ফুলে ফুলে পল্লবিত এক মহা মহীরুহ প্রতিষ্ঠানের নাম। তার অবর্তমানে তার সুযোগ্য পুত্র ডা. ইভান খান, মা নাঈমা খানের সঙ্গে থেকে এই প্রতিষ্ঠানের কাজ আরও  সুচারুভাবে এগিয়ে নিবে এটাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশী সকলেই আমরা তাদের গৌরব গাঁথার অংশীদার। মনুসর খানের একুশে পদক প্রাপ্তিতে আমি তাকে যখন অভিনন্দন জানালাম, তখন বললাম, অধ্যাপক ড. মনসুরুল আলম খান ‘কনগ্র্যাচুলেশন’। হেসে বললো এইভাবে আমাকে আর কেউ ডাকে না। আপনি আমাকে অনেক ভাল বাসেন। আমি জানি।
আমাদের নিউজার্সীর বাসায় যে কোন অনুষ্ঠানে অন্যন্যদের মধ্যে মনসুর খান ও নাঈমা খান যখন আসতেন, তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে গানের অনুষ্ঠান হত। যতদূর মনে পড়ে কখনো সেলিমা আশরাফও আসতেন। নিউজার্সির এক সময়ের খ্যাতিমান গায়ক শাহীনও থাকতো। যে  কথা বলার বিষয়, তাহল সেই গানের আসরের তবলা বাদক আর কেউ ছিলেন না, ছিলেন স্বয়ং মনসুর খান।
২০০৬ সালের ৩১ জুলাই আমার ১৬ বৎসরের মেয়ে আনিকা মৃত্যু বরণ করে। সান্তনা দিতে মনসুর খান ও নাঈমা খান সারাদিন এসে থাকলো আমাদের সাথে। স্মৃতির এ্যালবামে এর সবকিছুই সমুজ্জ্বল। পরম করুণাময় তার আত্মাকে বেহেস্তে নসীব করুন। মনসুর পরিবারের সবার জনেই রইলো গভীর সমবেদনা।  মনুসর খান ছিল সমাজ সেচেতন ও রাজনীতি সচেতন মানুষ। একবার দেশ থেকে ঘুরে আসার পর দেখা হলে জিজ্ঞেস করলাম, কি অবস্থা অধ্যাপক?  দেশের কি খবর? স্মীত হেসে বললো, সালু ভাই কি বলবো? রাজনীতিতে সহনশীলতার কোন বিকল্প নেই। হানা-হানি রাজনীতির বিকল্প নয়। দেশে আজ সুস্থ্য রাজনীতির খুবই প্রয়োজন।
সৎ, সজ্জন, অমায়িক ও বিন¤্রতার প্রতীক মনুসর খান একজনই। চোখ বুজলেই দেখতে পাই মনুসর খানের মুখের সেই সলজ হাসি। মনসুর খান নেই, কিন্তু থাকবে তার কীর্ত্তি ও স্মৃতি চির ভাস্মর হয়ে। মনসুর খান আমাদের সবার মাঝে বেঁচে থাকবে।