নিউইয়র্ক ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

একজন ভীতু শমসের মবিন চৌধুরী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৫
  • / ১১০১ বার পঠিত

শাহাব উদ্দিন সাগর: বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর অন লাইনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মেলে চমকপদ খবর। কয়েকটি অনলাইনের বক্স কলামে শমসের মবিন চৌধুরীর ছবি ঝুলছিল। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছিল কোন ‘দূর্ঘটনা’ নয় তো?। আগ পিছ না ভেবেই বিস্তারিত জানতে গিয়ে দেখি তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। ভাবলাম আরো পড়লে হয়তো বিস্তারিত কিছু জানা যাবে। কিন্তু না, যতুটুক পড়ে দেখলাম তাতে প্রবাসে থাকা সংবাদকর্মী হিসেবে সব প্রশ্নের উত্তর পাইনি। ফেইসবুকে গিয়ে দেখি ঢাকার স্নেহস্পদ এক সাংবাদিকের ফেইসবুকে পোস্ট করা একটি চিঠি। যেখানে সই করা আছে শমসের মবিন চৌধুরীর। সন্দেহ হলো স্বাক্ষর জাল নাকি? দীর্ঘদিন কূটনৈতিক সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বহুবার শমসের মবিন চৌধুরী সই করা কাগজ দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তি ছিলেন তখন দাপ্তরিক ফাইলে যে সই করতেন সেই সইগুলো যেহেতু দেখেছি তাতে স্পষ্টতই মনো হলো এই ‘সই’ জনাব মবিনের।
সইটি শমসের মবিনের সেটা নিজে থেকেই মোটামোটি নিশ্চিত হলাম। কিন্তু বাকী প্রশ্ন? কেন অবসর নিলেন, কেন রাজনীতি ছাড়বেন? সে উত্তর খুঁজি কিভাবে। ঢাকার স্বনাম ধন্য পত্রিকা সমকালের প্রতিবেদনটি ঠিক এ রকম: বিএনপি ছাড়লেন শমসের মবিন: বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার গুলশানের বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান। এর আগে বুধবার রাতে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি চেয়ারপাসনকে লেখা একটি চিঠি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান শমসের মবিন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। শারীরিকভাবে এখন আর রাজনীতি করার মতো অবস্থায় নেই। এ কারণে বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকেই তা কার্যকর হবে।’
পদত্যাগের বিষয়টি জনাব মবিনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঘাটাঘাটি বা সাহস জুগানো লেখার অধিকার হয়তো সাংবাদিকদের আছে। সে অধিকারে বলতে চাই; কি এমন হয়েছে যে শমসের মবিন আপনার মতো একজন রাজনীতিবিদকে বা আমলাকে পদত্যাগ করতে হবে? আমরা এ ধরনে চিঠি দেখেছি ১/১১ সরকারের আমলে। যেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিলের সই করা কত চিঠি আমরা দেখেছি। কিন্তু সেই চিঠি তিনি কেন লিখেছিলেন তা নিয়ে চরম বিতর্ক আছে এখনইও। দায়িত্বশীলরা অনেকে বলে থাকেন ‘চাপের‘ কারণে তিনি ‘হয়তো’ চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু শমসের মবিনের ক্ষেত্রেও কি ‘তাই’?
Shomser Mobin Chow.জনাব মবিন, প্রশ্ন জাগে আপনি এ কি করলেন? আপনি বিএনপি নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিতি। বিএনপির সময়কার বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে উস্তাদ ছিলেন। কিন্তু এ সরকারের বিরুদ্ধে তো দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ অবস্থান নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছে। আমরা বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের সময় বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন এবং প্রতিরোধের কর্মসূচীগুলো দেখেছি। বিশ্বাস করুন এসব প্রতিবাদে একজন মানুষের চোখে মুখে ভয়ের কোন চিহ্ন দেখিনি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যেসব বিরোধী রাজনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তাদের চেহারায় ভয় আর আতংক দুটোই দেখেছি। আমি এ মহুর্ত্বে ধারণা করতে পারছি হয়তো; শমসের মবিনের সাক্ষাৎ পেলে এমন দৃশ্যই দেখতে পেতাম।
প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে, কি এমন চাপ ছিল যে শমসের মবিন আপনি রাজনীতি ছেড়ে দিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা কিন্তু অনেকেই বন্ধ করছে না, প্রয়োজনে দেশ ছাড়ছেন কিন্তু তারা তাদের কথা বলে যাচ্ছেন। আমি আপনাকে সে পরামর্শ দেয়ার অধিকার রাখিনা, কিন্তু আরো প্রতিবাদ করার বিষয়ে বলতে পারি। না আবার এটাও সত্যি যে, প্রতিবাদ করার ব্যাপারে সাহস দিলে হয়তো আরো বিপদগ্রস্ত হতে পারেন আপনি। আমি যে দায়িত্ববোধ থেকে বলতে পারি; জনাব মবিন আপনি বিএনপির নীতিনির্ধারক। আপনি বিএনপিকে পথ দেখাবেন। জেলে বন্ধি নেতা-কর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করে আনবেন? কিন্তু তার পরিবর্তে আপনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন এটা হয় না। এটা ‘কাপুরুষতা’।
আমি হয়তো ধরে নিতে পারি; আপনার মতো আমলা- রাজনীতিকের এটাই একটি প্রতিবাদ হতে পারে, আবার ভীতির কারণও হতে পারে। হতে পারে আপনি খুবই ভীত? কোনটিই না হলেও আপনার এ ধরনের সিদ্ধান্ত যে রাজনীতির আলোচকদের আলোচনার খোরাক করে দিলেন তা কি বুঝেছেন?
আপনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।’ যদি তাও সত্যি হয় তাহলে হঠাৎ করে পদত্যাগ করার বিষয়টির প্রতি যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে তার বিশ্লেষণের যবনিকা ঘটাতে হবে জনাব মবিন আপনাকে।
আমি বৃহস্পতিবার আপনার পদত্যাগের বিষয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জনাব জসিম উদ্দিন ভুইয়া বলেছেন, ‘আপনি দল থেকে চলে গেছেন সে জন্য দলের কোন ক্ষতি হবে না। আপনি বিদেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক রক্ষা করবেন তাতে ছেদ পড়বে না’। তাহলে কি দাঁড়ালো জনাব মবিন, বিএনপিতে আপনার প্রয়োজন ছিল না? যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেছেন, ‘আপনি রাজাকারদের জোটে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনি বেঈমানি করেছেন’। অবশ্যই আপনি যে মুক্তিযোদ্ধার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন বলে যে কথা বলেছেন তাতে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী। আসলেই কোনটি জনাব মবিন? সব বিষয়ে আপনি আরো খোলামেলা করুন। না হলে আপনি রাজনীতির ইতিহাসের ‘আস্তাকুডে’ নিক্ষেপ হতে পারেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ৩০ অক্টোবর’২০১৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

একজন ভীতু শমসের মবিন চৌধুরী

প্রকাশের সময় : ০১:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৫

শাহাব উদ্দিন সাগর: বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর অন লাইনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মেলে চমকপদ খবর। কয়েকটি অনলাইনের বক্স কলামে শমসের মবিন চৌধুরীর ছবি ঝুলছিল। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছিল কোন ‘দূর্ঘটনা’ নয় তো?। আগ পিছ না ভেবেই বিস্তারিত জানতে গিয়ে দেখি তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। ভাবলাম আরো পড়লে হয়তো বিস্তারিত কিছু জানা যাবে। কিন্তু না, যতুটুক পড়ে দেখলাম তাতে প্রবাসে থাকা সংবাদকর্মী হিসেবে সব প্রশ্নের উত্তর পাইনি। ফেইসবুকে গিয়ে দেখি ঢাকার স্নেহস্পদ এক সাংবাদিকের ফেইসবুকে পোস্ট করা একটি চিঠি। যেখানে সই করা আছে শমসের মবিন চৌধুরীর। সন্দেহ হলো স্বাক্ষর জাল নাকি? দীর্ঘদিন কূটনৈতিক সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বহুবার শমসের মবিন চৌধুরী সই করা কাগজ দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তি ছিলেন তখন দাপ্তরিক ফাইলে যে সই করতেন সেই সইগুলো যেহেতু দেখেছি তাতে স্পষ্টতই মনো হলো এই ‘সই’ জনাব মবিনের।
সইটি শমসের মবিনের সেটা নিজে থেকেই মোটামোটি নিশ্চিত হলাম। কিন্তু বাকী প্রশ্ন? কেন অবসর নিলেন, কেন রাজনীতি ছাড়বেন? সে উত্তর খুঁজি কিভাবে। ঢাকার স্বনাম ধন্য পত্রিকা সমকালের প্রতিবেদনটি ঠিক এ রকম: বিএনপি ছাড়লেন শমসের মবিন: বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার গুলশানের বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান। এর আগে বুধবার রাতে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি চেয়ারপাসনকে লেখা একটি চিঠি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান শমসের মবিন।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। শারীরিকভাবে এখন আর রাজনীতি করার মতো অবস্থায় নেই। এ কারণে বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকেই তা কার্যকর হবে।’
পদত্যাগের বিষয়টি জনাব মবিনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঘাটাঘাটি বা সাহস জুগানো লেখার অধিকার হয়তো সাংবাদিকদের আছে। সে অধিকারে বলতে চাই; কি এমন হয়েছে যে শমসের মবিন আপনার মতো একজন রাজনীতিবিদকে বা আমলাকে পদত্যাগ করতে হবে? আমরা এ ধরনে চিঠি দেখেছি ১/১১ সরকারের আমলে। যেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিলের সই করা কত চিঠি আমরা দেখেছি। কিন্তু সেই চিঠি তিনি কেন লিখেছিলেন তা নিয়ে চরম বিতর্ক আছে এখনইও। দায়িত্বশীলরা অনেকে বলে থাকেন ‘চাপের‘ কারণে তিনি ‘হয়তো’ চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু শমসের মবিনের ক্ষেত্রেও কি ‘তাই’?
Shomser Mobin Chow.জনাব মবিন, প্রশ্ন জাগে আপনি এ কি করলেন? আপনি বিএনপি নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিতি। বিএনপির সময়কার বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে উস্তাদ ছিলেন। কিন্তু এ সরকারের বিরুদ্ধে তো দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ অবস্থান নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছে। আমরা বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের সময় বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন এবং প্রতিরোধের কর্মসূচীগুলো দেখেছি। বিশ্বাস করুন এসব প্রতিবাদে একজন মানুষের চোখে মুখে ভয়ের কোন চিহ্ন দেখিনি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যেসব বিরোধী রাজনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তাদের চেহারায় ভয় আর আতংক দুটোই দেখেছি। আমি এ মহুর্ত্বে ধারণা করতে পারছি হয়তো; শমসের মবিনের সাক্ষাৎ পেলে এমন দৃশ্যই দেখতে পেতাম।
প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে, কি এমন চাপ ছিল যে শমসের মবিন আপনি রাজনীতি ছেড়ে দিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা কিন্তু অনেকেই বন্ধ করছে না, প্রয়োজনে দেশ ছাড়ছেন কিন্তু তারা তাদের কথা বলে যাচ্ছেন। আমি আপনাকে সে পরামর্শ দেয়ার অধিকার রাখিনা, কিন্তু আরো প্রতিবাদ করার বিষয়ে বলতে পারি। না আবার এটাও সত্যি যে, প্রতিবাদ করার ব্যাপারে সাহস দিলে হয়তো আরো বিপদগ্রস্ত হতে পারেন আপনি। আমি যে দায়িত্ববোধ থেকে বলতে পারি; জনাব মবিন আপনি বিএনপির নীতিনির্ধারক। আপনি বিএনপিকে পথ দেখাবেন। জেলে বন্ধি নেতা-কর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করে আনবেন? কিন্তু তার পরিবর্তে আপনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন এটা হয় না। এটা ‘কাপুরুষতা’।
আমি হয়তো ধরে নিতে পারি; আপনার মতো আমলা- রাজনীতিকের এটাই একটি প্রতিবাদ হতে পারে, আবার ভীতির কারণও হতে পারে। হতে পারে আপনি খুবই ভীত? কোনটিই না হলেও আপনার এ ধরনের সিদ্ধান্ত যে রাজনীতির আলোচকদের আলোচনার খোরাক করে দিলেন তা কি বুঝেছেন?
আপনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।’ যদি তাও সত্যি হয় তাহলে হঠাৎ করে পদত্যাগ করার বিষয়টির প্রতি যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে তার বিশ্লেষণের যবনিকা ঘটাতে হবে জনাব মবিন আপনাকে।
আমি বৃহস্পতিবার আপনার পদত্যাগের বিষয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জনাব জসিম উদ্দিন ভুইয়া বলেছেন, ‘আপনি দল থেকে চলে গেছেন সে জন্য দলের কোন ক্ষতি হবে না। আপনি বিদেশের সঙ্গে যে সম্পর্ক রক্ষা করবেন তাতে ছেদ পড়বে না’। তাহলে কি দাঁড়ালো জনাব মবিন, বিএনপিতে আপনার প্রয়োজন ছিল না? যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেছেন, ‘আপনি রাজাকারদের জোটে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনি বেঈমানি করেছেন’। অবশ্যই আপনি যে মুক্তিযোদ্ধার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন বলে যে কথা বলেছেন তাতে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী। আসলেই কোনটি জনাব মবিন? সব বিষয়ে আপনি আরো খোলামেলা করুন। না হলে আপনি রাজনীতির ইতিহাসের ‘আস্তাকুডে’ নিক্ষেপ হতে পারেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ৩০ অক্টোবর’২০১৫