নিউইয়র্ক ১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

উজানে ভারতের পানি প্রত্যাহার, বাংলাদেশের বিপর্যয় এবং আমাদের আশু করণীয়

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • / ৯১৭ বার পঠিত

আতিকুর রহমান সালু: আজ বাংলাদেশের বড়ই দূর্দিন, নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশের নদ-নদীগুলির করুন চিত্রের কথা নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। পানির দেশে আজ পানি নেই, শুকনো মৌসুমে নদ-নদীগুলি প্রায় পানিশূণ্য। উজানে ভারতকর্তৃক একের পর এক বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণ ও পানি প্রত্যাহারের ফলে আজ এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে আহাজারী। অন্যদিকে বর্ষাকালে স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়ার ফলে স্বাভাবিক বন্যার পরিবর্তে আকস্মিক ও অকাল বন্যায় ভেসে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন প্রায়, নদী পানি ছাড়া বাংলাদেশ বাঁচবে কি করে। আমরা অবিলম্বে এই ‘ম্যান মেইড ডিজাষ্টার’ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সমুদ্র সীমা নিয়ে যেভাবে জাতিসংঘে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল সেইভাবে অবিলম্বে জাতিসংঘের ৬ষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের নদী-পানির অধিকারের দাবী উত্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। উল্লেখ্য ভারত গঙ্গা চুক্তি ভঙ্গ করে ইতিমধ্যে গঙ্গায় ১৬টি ব্যারেজ নির্মান করেছে, এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।
স্মরণযোগ্য যে, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মেকং নদীর পানি সমস্যা ‘মেকং রিভার কমিশন’ গঠন করার মধ্যদিয়ে যেভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং ইউরোপের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত রাইন নদী নিয়ে ১১টি দেশের সমন্বয়ে যেভাবে দানিয়ূব কমিশন গঠন করে পানি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, সেভাবে আমাদেরও নদী সংশ্লিষ্ট দেশ বাংলাদেশ, ভারত, গণচীন, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে কমিশন গঠন করে অত্র অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এই লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন আহ্বান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে আমাদের অংশে গঙ্গা বাঁধ (পদ্মা বাঁধ) নির্মাণের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আমাদের পরিস্কার বক্তব্য যে, এই মর্মে ভারতের সঙ্গে অবশ্যই আলাপ করে সেই বাঁধে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিয়তার বিধানসহ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হতে হবে। মনে রাখতে হবে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৩০ বৎসর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লোজ উঠে যাওয়ার ফলে আজ বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। কারণ সে চুক্তি করা হয়েছিল ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে পানি ভাগাভাগি, ফারাক্কা পয়েন্টের উজান থেকে ভারত সরিয়ে নিচ্ছে পানি, ফলে ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে পানি ভাগাভাগি পরিনত হয়েছে সুভংকরের ফাঁকি হিসেবে। কিন্তু মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ করে যে গঙ্গা বাঁধ করতে হাজার হাজার মানুষ হবে বাস্তুহারা সেই গঙ্গা বাঁধ প্রকল্প বির্নিমানের পূর্বে সবদিক দিয়ে আমাদের মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। অন্যথায় তা হবে আত্মঘাতী কারণ বাঁধ আছে পানি নাই, এটা হবে বুমেরাং। উল্লেখ্য আজ তিস্তা বাঁধ পানি শূণ্য কারণ তিস্তার উজানে গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করার ফলে আমাদের তিস্তা বাঁধ প্রকল্প মূলত অকেজো হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের নদী পানির সমস্যার সমাধানের জন্য একদিকে গ্রহণ করতে হবে আশু কর্মসূচী, অন্যদিকে গ্রহণ করতে হবে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। এক্ষেত্রে ‘ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি’ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
লেখক: চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, নিউইয়র্ক ইনক।
৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
ইমেইলঃ atiqur.eu@gmail.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

উজানে ভারতের পানি প্রত্যাহার, বাংলাদেশের বিপর্যয় এবং আমাদের আশু করণীয়

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আতিকুর রহমান সালু: আজ বাংলাদেশের বড়ই দূর্দিন, নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশের নদ-নদীগুলির করুন চিত্রের কথা নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। পানির দেশে আজ পানি নেই, শুকনো মৌসুমে নদ-নদীগুলি প্রায় পানিশূণ্য। উজানে ভারতকর্তৃক একের পর এক বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণ ও পানি প্রত্যাহারের ফলে আজ এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে আহাজারী। অন্যদিকে বর্ষাকালে স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়ার ফলে স্বাভাবিক বন্যার পরিবর্তে আকস্মিক ও অকাল বন্যায় ভেসে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন প্রায়, নদী পানি ছাড়া বাংলাদেশ বাঁচবে কি করে। আমরা অবিলম্বে এই ‘ম্যান মেইড ডিজাষ্টার’ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সমুদ্র সীমা নিয়ে যেভাবে জাতিসংঘে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল সেইভাবে অবিলম্বে জাতিসংঘের ৬ষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের নদী-পানির অধিকারের দাবী উত্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। উল্লেখ্য ভারত গঙ্গা চুক্তি ভঙ্গ করে ইতিমধ্যে গঙ্গায় ১৬টি ব্যারেজ নির্মান করেছে, এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।
স্মরণযোগ্য যে, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মেকং নদীর পানি সমস্যা ‘মেকং রিভার কমিশন’ গঠন করার মধ্যদিয়ে যেভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং ইউরোপের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত রাইন নদী নিয়ে ১১টি দেশের সমন্বয়ে যেভাবে দানিয়ূব কমিশন গঠন করে পানি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, সেভাবে আমাদেরও নদী সংশ্লিষ্ট দেশ বাংলাদেশ, ভারত, গণচীন, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে কমিশন গঠন করে অত্র অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এই লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন আহ্বান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে আমাদের অংশে গঙ্গা বাঁধ (পদ্মা বাঁধ) নির্মাণের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আমাদের পরিস্কার বক্তব্য যে, এই মর্মে ভারতের সঙ্গে অবশ্যই আলাপ করে সেই বাঁধে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিয়তার বিধানসহ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হতে হবে। মনে রাখতে হবে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৩০ বৎসর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লোজ উঠে যাওয়ার ফলে আজ বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। কারণ সে চুক্তি করা হয়েছিল ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে পানি ভাগাভাগি, ফারাক্কা পয়েন্টের উজান থেকে ভারত সরিয়ে নিচ্ছে পানি, ফলে ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে পানি ভাগাভাগি পরিনত হয়েছে সুভংকরের ফাঁকি হিসেবে। কিন্তু মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ করে যে গঙ্গা বাঁধ করতে হাজার হাজার মানুষ হবে বাস্তুহারা সেই গঙ্গা বাঁধ প্রকল্প বির্নিমানের পূর্বে সবদিক দিয়ে আমাদের মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। অন্যথায় তা হবে আত্মঘাতী কারণ বাঁধ আছে পানি নাই, এটা হবে বুমেরাং। উল্লেখ্য আজ তিস্তা বাঁধ পানি শূণ্য কারণ তিস্তার উজানে গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করার ফলে আমাদের তিস্তা বাঁধ প্রকল্প মূলত অকেজো হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের নদী পানির সমস্যার সমাধানের জন্য একদিকে গ্রহণ করতে হবে আশু কর্মসূচী, অন্যদিকে গ্রহণ করতে হবে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। এক্ষেত্রে ‘ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি’ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
লেখক: চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, নিউইয়র্ক ইনক।
৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
ইমেইলঃ atiqur.eu@gmail.com