নিউইয়র্ক ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

আমরা যারা বিএনপি করি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬
  • / ৮৩৮ বার পঠিত

শামসুল ইসলাম মজনু: বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দল একাট অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি পরিচালনায় সঠিক, বেঠিক সেটার উপর নির্ভর করে দীর্ঘ পদযাত্রায় এক সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় একটি রাজনৈতিক দল। এ ক্ষেত্রে জাতীয়বাদী দলের রয়েছে ভিন্নতা, মূলতঃ দেশের প্রয়োজনে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মুহুর্তেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াকে এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় একদল যোগ্য মেধাবীকে সমন্বয় করেই জাতীয়তাবাদী দল সৃষ্টি করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া তার জীবদ্দর্শায় একজন সার্থক রাষ্ট্রনেতা যিনি খুব কম সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মনিকোঠায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শ্রুতি আছে যদি এই মহান নেতা আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতেন হয়ত এদেশকে তার নিজস্ব যোগ্যতা দিয়ে হয়ত আরো অনেক দূর উন্নয়নের শিখায় নিয়ে যেতে পারতেন।
থাক সে কথা, যে কথা শুরুতে বলতেছিলাম যোগ্য নেতা, যোগ্য নেতৃত্ব, মেধার সমন্বয় ইত্যাদি ইত্যাদি গুণাবলীর সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল পরিচালিত হয়। কিন্তু এসবগুলো গুণাবলী যাচাই বাচাই হয়ত সব সময় হয়ে উঠেনা বলেই ব্যর্থতা সফলতা রাজনীতির মাঠে প্রচুর প্রচলিত। এই লিখা আমার ব্যক্তিগত মতামত ব্যতিরেকে অন্য কিছু নয়। একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, শুধুমাত্র গবেষণালদ্ধ সামান্য আলোচনা।
জাতীয়তাবাদী দল এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতালম্বীর সমাহার ও শহীদ জিয়া বহুদলীয় রাজনীতির প্রবক্তা বলেই হয়ত তিনি এক ধারার মতের সমষ্টি না করে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন, আমরা তার ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ১৯ দফা কর্মসূচীর প্রতি একটু নজর দিলেই ব্যাপারটি পরিস্কার হয়ে যায়। এই সমন্বয় করতে গিয়ে হয়ত দু’চারজনের ভিন্ন মত থাকতে পারে, যারা নাকি নিজের অবস্থান তথা ক্ষমতা তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন আর সেখানেই ঘটে ঝামেলা বা গোলমাল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দলের পদযাত্রা দীর্ঘ নয়, রাজনীতির পরিভাষায় তার পরেও বলব খুব কম সময়ে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ লোকের রয়েছে সমর্থন যা নাকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অনেকাংশে যথেষ্ট। জোট রাজনীতিতে অপরিহার্য, এই বিশাল জনসমর্থন থেকেও দলটি ইদানিং কালে সবচাইতে বেশী চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় পড়েছে। শহীদ জিয়ার অবর্তমানে দেশনেত্রী বেগম জিয়া দলের প্রয়োজনে এবং দলকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই হাল ধরেছেন বস্তুত তিনি সফলও হয়েছেন। শুরুতে যা বলছিলাম সর্বোচ্চ নেতা যিনিই হন না কেন তিনি কারো না কারো পরামর্শ নেন আর এই পরামর্শ নেয়ার উপর নির্ভর করে সফলতা-ব্যর্থতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার তথা ১/১১ সরকারের সময় থেকেই মূলত কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। তার মূল কারনই হচ্ছে দলের চেয়ারপারসনকে যারা পরামর্শ দিচ্ছেন অথবা তিনি যাদের পরামর্শে চলেন, হয়ত তারা সঠিক তথ্য সেভাবে পাচ্ছেন না যার উপর ভিত্তি করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারতেছেন না। একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতায় যাওয়া কিন্তু জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষেত্রেও সেটা সত্য তবে এখানে ঘোড়ার আগে গাড়ী চলার মত অবস্থা, মানে অনেকেই চাচ্ছেন নেতাকে রেখেই নিজেই ক্ষমতায় যেতে। এখানে ক্ষমতায় যাওয়াটাকে আমি দেখছি এভাবে, ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে সম্পদ আহরণ করা এবং নিজস্ব সহায়- সম্পদ নিরাপদ রাখা আর এখানেই ঘটছে সকল ঝামেলা। রাজনীতিতে ত্যাগ বা ত্যাগী কথাটা বহুল প্রচলিত হলেও জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষেত্রে এটার বড় অভাব এবং এটার প্রত্যেক্ষ প্রভাব দৃশ্যমান। যদি না এ দলটি এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা না করত তবে হয়ত বিষয়টা আমলেই আসত না। গণতান্ত্রিক পদযাত্রার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে বেগম জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রা শুরুর পূর্ব মুহুর্তে যখন সরকার তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে আটকিয়ে দেয় তখন কটা মিছিল হয়েছে, কটা মিছিলের উপর গুলি বর্ষিত হয়েছে, কজন প্রতিবাদ করেছেন, কেন অন্য নেতারা নিজের উদযোগী হয়ে পল্টন অভিমুখে গেলেন না, খেলার মাঠে সেরা খেলোয়াড়ের দিকে যখন নজর থাকে প্রতিপক্ষের তখন অন্য আরেকজন সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় আর এভাবেই ইতিহাস সৃষ্টি হয়, আর ওখানেই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল থমকে যায়, পারল না আন্দোলনকে সফল করতে। নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ যে কলংকিত করেছেন বিষয়টাকে গৌণভাবে দেখলে চলবে না। তারপরে সঠিকভাবে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে না। কিছুদিন আগে দলের কাউন্সিল হলো সেখানে দুটি পদ ঘোষনা দেয় হলেই বাকীগুলো দিতে দেরী করা হয়েছে, তার পরে মাত্র ৪২টি পদের ঘোষনা দেয়া হলেও স্থায়ী কমিটি এখনও ঘোষিত না হওয়াতে অনেকের সাথে আমিও বিস্মিত হলেও হতবাক হয়নি। কারণ আমার কাছে মনে হইতেছে যে, বেগম জিয়া সঠিক নেতৃত্ব অথবা ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণে সময় নিচ্ছেন সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণে সময় নিচ্ছেন, সর্বোচ্চ নীতি নিধারণী ফোরাম ঘোষনাতে বিলম্বিত করাতে অবশ্যই বিরূপ প্রভাব পড়তেছে এটা ব্যক্তিগত মতামত।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত বর্তমান জাতীয়তাবাদী দলের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হতে তৃনমূল পর্যন্ত অনেকেই পদ রোগে আক্রান্ত, কেহ বড় পদের আশাবাদী কেহ বা পদ হারাবার ভয়ে, ভিন্ন ভিন্ন উপদলে নিজেরা নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়েই আলেচনায় ব্যস্ত, স্বয়ং দলীয় চেয়ারপারর্সন নিজেই ক্ষোভ করে নাকি বলেছেন সবাই পদ চাই, কিন্তু বিগত আন্দোলনের সফলতা, ব্যর্থতা অথবা আগামী দিনের কর্ম পদ্ধতি নিয়ে কেহই তেমন মাথা ব্যাথা নাই, একই প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও, আমার বড় পদ চাই না হইলে উপায় নাই, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নামে না হউক অন্য কোন ভিন্ন নামে সবাই এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা কর্মসূচী পালন করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতির শাহাদৎ বার্ষিকীতেও সবাইকে এক হতে দেখা যায় নাই, গো ধরে বসে আসেন কমিটি আসুক তারপর। রাজনীতির ধারাপাতে আমি যা বুঝি কমিটি যদি আসে তার পরদিন একদল প্রতিবাদ করবে, শুরু হয়ে যাবে মারদাঙ্গা। তাই হয়ত হাইকমান্ড চাইছেন সব বিষয় বিবেচনা করে প্রত্যেকটা কর্ণার বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি গঠন করবেন। নেতা কর্মীরা গো ধরে বসে থাকলে চলবে না। কার্যক্রম চালাতে হবে, হোক না অন্য কোন নামে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এই সংবাদ দিতে হবে জিয়া, আছে জিয়া থাকবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার ভিষন ২০২০ ঘোষনা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী সরকার যদি ২০১৯ নির্বাচনের সময় ভিষন ২০৪০ দেয় তাতে হয়ত আশ্চার্য্য হব না। এই সরকার একটা বিষয়কে চাপা দিয়ে অন্য আরেকটা বিষয়কে সমানে নিয়ে আসে। আর পূর্বের বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। আর দূভার্গ্যবশত বিএনপির সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে না, কাউন্সিলের আগে ও পরে কথাগুলো বিষয় ঘটে গেলো যা নাকি জনমত সৃষ্টিতে সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখত কিন্তু সেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেছে না। ‘বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেয়া’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচার কেলেঙ্কারী’, ‘শফিক রহমানকে দিয়ে জয় হত্যার পরিকল্পনা’ এবং ‘বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ইস্যু’ কোনটাই হেলাফেলা করার নয়। আওয়ামী লীগ সরকার একটার পর একটা ইস্যু নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে, সাথে সাথে কল্পিত কাহিনী তৈরী করে বিএনপির নেতা কর্মীদের হয়রানী করতেছে অথচ আমরাও কল্পিত কাহিনীতে নিজেদের জড়িয়ে সময় ক্ষেপন করছি। দল চলবে আন্দোলন চলবে, সংগঠিত হবো, আন্দোলন করব এটাই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, রাজনীতি সরল পথ নয় যে আপনি যা ভাববেন প্রতিপক্ষ তা মানবে। সব সময় বিকল্প রাস্তা বা ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে।
আমি বিএনপি’র একজন নগন্য কর্মী মাত্র। সেই ছাত্রাবস্থায় থেকে বিএনপি তথা দলের জন্য শ্রম, মেধা অর্থ সবই দিয়েছ, কিন্তু চাটুকারিতা, ধাপ্পাবাজি এ সকল গুণ নেই বিধায় দলের জন্য ভাল ভূমিকা রাখার যোগ্যতা নেই। তার পরেও বলো এই লিখা শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রচার করা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মতাদর্শ প্রচার করার ইচ্ছা থাকলেও প্রবাস জীবনের ব্যস্ত সময়ে তা আর করা হয়ে উঠে না, তার পরেও এই লিখার অবতারনা সেই বিষয়টা সামনে আনাই উদ্দেশ্যে।
সম্প্রতি আসলাম চৌধুরী এবং ইসরাইলী নাগরিক মেন্দি সাফাদি ফটোসেশনের উপর নির্ভর করে সমগ্র দেশ তোলপাড়। কল্পিত কাহিনী তৈরী করে সেখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের হয়রানী করে যাচ্ছেন। স্বয়ং আসলাম চৌধুরী নিজেই বলতেছেন ওঠা ছিল কাকতলীয় ফটোসেশন আর এই সুযোগ সরকার কাজে লাগিয়ে সরকার বিএনপি তথা বিরোধীদলকে সায়েস্তা করার সুযোগ নিচ্ছে। দেশে বিরোধীতা করা বা প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। তবে প্রবাসে এই সব তথ্য দিয়ে সরকারের মুখোশ উন্মেচন করা যেত, আমরা তা পারি না। কেউ কেউ তার ব্যক্তিগত আগ্রহ যে এসে মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে বর্তমান সরকার মেন্দি সাফাদি এবং সরকারের উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয়ের কানেকশনের তথ্য উন্মোচন করলে আওয়ামী ঘরনার গাত্রদাহ শুরু হয়। হইচই করে লঙ্কাকান্ড চটছে মিডিয়ার উপর। ডাওর আছে, এটা যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে নাকি উপযুক্ত শায়েস্তা করত। আর এই অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে আওয়ামী নেতা কর্মীরা খুব উত্তাল, তাদের দাবী দেশে বিএনপি শেষ প্রবাসেও বিএনপি মুক্ত করার ঘোষনা দেয়ার সাহস দেখাচ্ছে, অথচ আমরা যারা বিএনপি করি কিন্তু সব দাঁত ভাঙ্গা জনাব দিতে পারি না।
তবে কোন কোন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ভিন্নমত পোষন করে প্রকান্তরে বিএনপি বিরোধীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের সবাইকে একটু সজাগ থাকতে হবে। আসুন না সবাই এক সুরে বলি- ‘দেশ বাঁচলে দল বাঁচবে, দল বাঁচলে জিয়া পরিবার বাঁচবে, জিয়া পরিবার থাকলে আমরা থাকব। আর আমরা থাকলে পদ-পবদীর মূল্যায়ন হবে’ একদিন না একদিন। রাজনীতিতে শটকাট সুযোগ নাই, সেটাকে বলে হঠকারিতা, আসুন সবাই একসাথে বসে মুক্ত আলোচনা করে গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

আমরা যারা বিএনপি করি

প্রকাশের সময় : ০২:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০১৬

শামসুল ইসলাম মজনু: বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দল একাট অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি পরিচালনায় সঠিক, বেঠিক সেটার উপর নির্ভর করে দীর্ঘ পদযাত্রায় এক সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় একটি রাজনৈতিক দল। এ ক্ষেত্রে জাতীয়বাদী দলের রয়েছে ভিন্নতা, মূলতঃ দেশের প্রয়োজনে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মুহুর্তেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াকে এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় একদল যোগ্য মেধাবীকে সমন্বয় করেই জাতীয়তাবাদী দল সৃষ্টি করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া তার জীবদ্দর্শায় একজন সার্থক রাষ্ট্রনেতা যিনি খুব কম সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মনিকোঠায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শ্রুতি আছে যদি এই মহান নেতা আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতেন হয়ত এদেশকে তার নিজস্ব যোগ্যতা দিয়ে হয়ত আরো অনেক দূর উন্নয়নের শিখায় নিয়ে যেতে পারতেন।
থাক সে কথা, যে কথা শুরুতে বলতেছিলাম যোগ্য নেতা, যোগ্য নেতৃত্ব, মেধার সমন্বয় ইত্যাদি ইত্যাদি গুণাবলীর সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল পরিচালিত হয়। কিন্তু এসবগুলো গুণাবলী যাচাই বাচাই হয়ত সব সময় হয়ে উঠেনা বলেই ব্যর্থতা সফলতা রাজনীতির মাঠে প্রচুর প্রচলিত। এই লিখা আমার ব্যক্তিগত মতামত ব্যতিরেকে অন্য কিছু নয়। একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, শুধুমাত্র গবেষণালদ্ধ সামান্য আলোচনা।
জাতীয়তাবাদী দল এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতালম্বীর সমাহার ও শহীদ জিয়া বহুদলীয় রাজনীতির প্রবক্তা বলেই হয়ত তিনি এক ধারার মতের সমষ্টি না করে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন, আমরা তার ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ১৯ দফা কর্মসূচীর প্রতি একটু নজর দিলেই ব্যাপারটি পরিস্কার হয়ে যায়। এই সমন্বয় করতে গিয়ে হয়ত দু’চারজনের ভিন্ন মত থাকতে পারে, যারা নাকি নিজের অবস্থান তথা ক্ষমতা তথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন আর সেখানেই ঘটে ঝামেলা বা গোলমাল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী দলের পদযাত্রা দীর্ঘ নয়, রাজনীতির পরিভাষায় তার পরেও বলব খুব কম সময়ে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ লোকের রয়েছে সমর্থন যা নাকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অনেকাংশে যথেষ্ট। জোট রাজনীতিতে অপরিহার্য, এই বিশাল জনসমর্থন থেকেও দলটি ইদানিং কালে সবচাইতে বেশী চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় পড়েছে। শহীদ জিয়ার অবর্তমানে দেশনেত্রী বেগম জিয়া দলের প্রয়োজনে এবং দলকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই হাল ধরেছেন বস্তুত তিনি সফলও হয়েছেন। শুরুতে যা বলছিলাম সর্বোচ্চ নেতা যিনিই হন না কেন তিনি কারো না কারো পরামর্শ নেন আর এই পরামর্শ নেয়ার উপর নির্ভর করে সফলতা-ব্যর্থতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার তথা ১/১১ সরকারের সময় থেকেই মূলত কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। তার মূল কারনই হচ্ছে দলের চেয়ারপারসনকে যারা পরামর্শ দিচ্ছেন অথবা তিনি যাদের পরামর্শে চলেন, হয়ত তারা সঠিক তথ্য সেভাবে পাচ্ছেন না যার উপর ভিত্তি করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারতেছেন না। একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতায় যাওয়া কিন্তু জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষেত্রেও সেটা সত্য তবে এখানে ঘোড়ার আগে গাড়ী চলার মত অবস্থা, মানে অনেকেই চাচ্ছেন নেতাকে রেখেই নিজেই ক্ষমতায় যেতে। এখানে ক্ষমতায় যাওয়াটাকে আমি দেখছি এভাবে, ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে সম্পদ আহরণ করা এবং নিজস্ব সহায়- সম্পদ নিরাপদ রাখা আর এখানেই ঘটছে সকল ঝামেলা। রাজনীতিতে ত্যাগ বা ত্যাগী কথাটা বহুল প্রচলিত হলেও জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষেত্রে এটার বড় অভাব এবং এটার প্রত্যেক্ষ প্রভাব দৃশ্যমান। যদি না এ দলটি এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা না করত তবে হয়ত বিষয়টা আমলেই আসত না। গণতান্ত্রিক পদযাত্রার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে বেগম জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রা শুরুর পূর্ব মুহুর্তে যখন সরকার তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে আটকিয়ে দেয় তখন কটা মিছিল হয়েছে, কটা মিছিলের উপর গুলি বর্ষিত হয়েছে, কজন প্রতিবাদ করেছেন, কেন অন্য নেতারা নিজের উদযোগী হয়ে পল্টন অভিমুখে গেলেন না, খেলার মাঠে সেরা খেলোয়াড়ের দিকে যখন নজর থাকে প্রতিপক্ষের তখন অন্য আরেকজন সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় আর এভাবেই ইতিহাস সৃষ্টি হয়, আর ওখানেই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল থমকে যায়, পারল না আন্দোলনকে সফল করতে। নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ যে কলংকিত করেছেন বিষয়টাকে গৌণভাবে দেখলে চলবে না। তারপরে সঠিকভাবে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে না। কিছুদিন আগে দলের কাউন্সিল হলো সেখানে দুটি পদ ঘোষনা দেয় হলেই বাকীগুলো দিতে দেরী করা হয়েছে, তার পরে মাত্র ৪২টি পদের ঘোষনা দেয়া হলেও স্থায়ী কমিটি এখনও ঘোষিত না হওয়াতে অনেকের সাথে আমিও বিস্মিত হলেও হতবাক হয়নি। কারণ আমার কাছে মনে হইতেছে যে, বেগম জিয়া সঠিক নেতৃত্ব অথবা ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণে সময় নিচ্ছেন সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণে সময় নিচ্ছেন, সর্বোচ্চ নীতি নিধারণী ফোরাম ঘোষনাতে বিলম্বিত করাতে অবশ্যই বিরূপ প্রভাব পড়তেছে এটা ব্যক্তিগত মতামত।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত বর্তমান জাতীয়তাবাদী দলের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হতে তৃনমূল পর্যন্ত অনেকেই পদ রোগে আক্রান্ত, কেহ বড় পদের আশাবাদী কেহ বা পদ হারাবার ভয়ে, ভিন্ন ভিন্ন উপদলে নিজেরা নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়েই আলেচনায় ব্যস্ত, স্বয়ং দলীয় চেয়ারপারর্সন নিজেই ক্ষোভ করে নাকি বলেছেন সবাই পদ চাই, কিন্তু বিগত আন্দোলনের সফলতা, ব্যর্থতা অথবা আগামী দিনের কর্ম পদ্ধতি নিয়ে কেহই তেমন মাথা ব্যাথা নাই, একই প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও, আমার বড় পদ চাই না হইলে উপায় নাই, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নামে না হউক অন্য কোন ভিন্ন নামে সবাই এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা কর্মসূচী পালন করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতির শাহাদৎ বার্ষিকীতেও সবাইকে এক হতে দেখা যায় নাই, গো ধরে বসে আসেন কমিটি আসুক তারপর। রাজনীতির ধারাপাতে আমি যা বুঝি কমিটি যদি আসে তার পরদিন একদল প্রতিবাদ করবে, শুরু হয়ে যাবে মারদাঙ্গা। তাই হয়ত হাইকমান্ড চাইছেন সব বিষয় বিবেচনা করে প্রত্যেকটা কর্ণার বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র কমিটি গঠন করবেন। নেতা কর্মীরা গো ধরে বসে থাকলে চলবে না। কার্যক্রম চালাতে হবে, হোক না অন্য কোন নামে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এই সংবাদ দিতে হবে জিয়া, আছে জিয়া থাকবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার ভিষন ২০২০ ঘোষনা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী সরকার যদি ২০১৯ নির্বাচনের সময় ভিষন ২০৪০ দেয় তাতে হয়ত আশ্চার্য্য হব না। এই সরকার একটা বিষয়কে চাপা দিয়ে অন্য আরেকটা বিষয়কে সমানে নিয়ে আসে। আর পূর্বের বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। আর দূভার্গ্যবশত বিএনপির সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে না, কাউন্সিলের আগে ও পরে কথাগুলো বিষয় ঘটে গেলো যা নাকি জনমত সৃষ্টিতে সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখত কিন্তু সেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেছে না। ‘বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেয়া’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচার কেলেঙ্কারী’, ‘শফিক রহমানকে দিয়ে জয় হত্যার পরিকল্পনা’ এবং ‘বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ইস্যু’ কোনটাই হেলাফেলা করার নয়। আওয়ামী লীগ সরকার একটার পর একটা ইস্যু নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে, সাথে সাথে কল্পিত কাহিনী তৈরী করে বিএনপির নেতা কর্মীদের হয়রানী করতেছে অথচ আমরাও কল্পিত কাহিনীতে নিজেদের জড়িয়ে সময় ক্ষেপন করছি। দল চলবে আন্দোলন চলবে, সংগঠিত হবো, আন্দোলন করব এটাই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, রাজনীতি সরল পথ নয় যে আপনি যা ভাববেন প্রতিপক্ষ তা মানবে। সব সময় বিকল্প রাস্তা বা ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে।
আমি বিএনপি’র একজন নগন্য কর্মী মাত্র। সেই ছাত্রাবস্থায় থেকে বিএনপি তথা দলের জন্য শ্রম, মেধা অর্থ সবই দিয়েছ, কিন্তু চাটুকারিতা, ধাপ্পাবাজি এ সকল গুণ নেই বিধায় দলের জন্য ভাল ভূমিকা রাখার যোগ্যতা নেই। তার পরেও বলো এই লিখা শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রচার করা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মতাদর্শ প্রচার করার ইচ্ছা থাকলেও প্রবাস জীবনের ব্যস্ত সময়ে তা আর করা হয়ে উঠে না, তার পরেও এই লিখার অবতারনা সেই বিষয়টা সামনে আনাই উদ্দেশ্যে।
সম্প্রতি আসলাম চৌধুরী এবং ইসরাইলী নাগরিক মেন্দি সাফাদি ফটোসেশনের উপর নির্ভর করে সমগ্র দেশ তোলপাড়। কল্পিত কাহিনী তৈরী করে সেখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের হয়রানী করে যাচ্ছেন। স্বয়ং আসলাম চৌধুরী নিজেই বলতেছেন ওঠা ছিল কাকতলীয় ফটোসেশন আর এই সুযোগ সরকার কাজে লাগিয়ে সরকার বিএনপি তথা বিরোধীদলকে সায়েস্তা করার সুযোগ নিচ্ছে। দেশে বিরোধীতা করা বা প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। তবে প্রবাসে এই সব তথ্য দিয়ে সরকারের মুখোশ উন্মেচন করা যেত, আমরা তা পারি না। কেউ কেউ তার ব্যক্তিগত আগ্রহ যে এসে মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে বর্তমান সরকার মেন্দি সাফাদি এবং সরকারের উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয়ের কানেকশনের তথ্য উন্মোচন করলে আওয়ামী ঘরনার গাত্রদাহ শুরু হয়। হইচই করে লঙ্কাকান্ড চটছে মিডিয়ার উপর। ডাওর আছে, এটা যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে নাকি উপযুক্ত শায়েস্তা করত। আর এই অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে আওয়ামী নেতা কর্মীরা খুব উত্তাল, তাদের দাবী দেশে বিএনপি শেষ প্রবাসেও বিএনপি মুক্ত করার ঘোষনা দেয়ার সাহস দেখাচ্ছে, অথচ আমরা যারা বিএনপি করি কিন্তু সব দাঁত ভাঙ্গা জনাব দিতে পারি না।
তবে কোন কোন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ভিন্নমত পোষন করে প্রকান্তরে বিএনপি বিরোধীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের সবাইকে একটু সজাগ থাকতে হবে। আসুন না সবাই এক সুরে বলি- ‘দেশ বাঁচলে দল বাঁচবে, দল বাঁচলে জিয়া পরিবার বাঁচবে, জিয়া পরিবার থাকলে আমরা থাকব। আর আমরা থাকলে পদ-পবদীর মূল্যায়ন হবে’ একদিন না একদিন। রাজনীতিতে শটকাট সুযোগ নাই, সেটাকে বলে হঠকারিতা, আসুন সবাই একসাথে বসে মুক্ত আলোচনা করে গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি।