নিউইয়র্ক ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

অসময়ের কলাম-২

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০১৫
  • / ৭৩৩ বার পঠিত

আগেই বলেছি শারীরিক অসুস্থ্যতার জন্য হাতে অঢেল সময়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়ায়ী পূর্ণ বেডরেষ্ট, নিয়মিত ঔষুধ সেব, শুয়ে-বসে, টিভি দেখে, পত্রিকা আর বইপত্র পড়ে বেকার সময় কাটছে। সেই সাথে অঢেল সময় কাটছে স্ত্রী-পুত্রের সাথে। যে সময় স্ত্রী-পুত্র চাইলেও পেতো না। সবই মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছে, নিলা-খেলা। আলহামদুলিল্লাহ।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমরা অত্যাধুনিক ডিজিটাল বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। বলতে গেলে হাতের মুঠোয় পুরো দুনিয়া। শুধু থাকা চাই এটি আধুনিক মোবাইল সেট আর ইন্টানেট সংযোগ। আমার বাসায় স্কাই ক্যাবলের বক্সের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কয়েক ডজন চ্যানেল দেখতে পাই। এসব চ্যানেলগুলোর মধ্যে সিএনএন, বিবিসি, এবিসি, ফক্স, ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের খবর আর টক শোগুলো বেশ ভাইর লাগে। তবে এর মধ্যে প্রিয় অগ্রজ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় বাংলা ভিশন-এর নিয়মিত ও জনপ্রিয় টক শো ‘ফ্রন্ট লাইন’ বন্ধ হয়েছে। এই টক শোটি পাঁচ বছর ধরে চলছিলো। বন্ধ হতে পারে এমন আশংকায় রয়েছে একুশে টিভি!। অপরদিকে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত খবরের মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারীর পাশাপাশি সর্বশেষ তাঁর গুলশানস্থ কার্যালয়ে (যেখানে কার্যত: খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ) তল্লাশীর নির্দেশের খবর। এছাড়াও রয়েছে সাবেক ছাত্রনেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেফতার আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্লগার অভিজিৎ রায়ের খুনের ঘটনা।
বলছিলাম টিভি চ্যানেলগুলোর কথা। টিভি চ্যানেলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলা, ঢাকার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শো ছাড়াও বাংলা ভিশন-এর ‘অ-এর গল্প’, কলকাতার ইটিভি বাংলা’র বিনোদনমূলক নাটক আর জি বাংলা চ্যানেল-এর ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রিয় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর চমৎকার উপস্থাপনায় পরিবেশিত ‘দাদাগিরি’, চিত্র নায়িকা অপরাজিতা’র উপস্থাপনায় পরিবেশিত ‘সেরা বউঠান’ আর প্রিয় অভিনেতা মিঠুর চক্রবর্তীর উপস্থানায় পরিবেশিত ‘রান্না ঘরের রকস্টার’ ভালই লাগছে। বিশেষ করে সৌরভের ‘দাদাগিরি’র তুলনা না করলেই নয়। বলতে দ্বিধা নেই ঢাকার নাটকের চেয়ে কলকাতার নাটক অভিনয়ের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধই মনে হয়। অপরদিকে দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর খবর প্রায় একই রকম লাগছে। ঘুরে ফিরে একই খবর সকল টিভির খবরেই স্থান পাচ্ছে। এসব খবর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট সরকার দেশের উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করছে। সরকার চাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত-কে জোর করেই জঙ্গী সংগঠনে পরিণত করতে। এজন্য দেশে-বিদেশে প্রচার-প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতি, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ তার কয়েকজন মন্ত্রী আর দলীয় নেতার বক্তব্যে তাই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ, প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ প্রমুখের বক্তব্য সরকারের হার্ট লাইনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাদের সাথে যোগ হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাতী, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। আমার দৃষ্টিতে জয়ের সব ব্যাপারেই নাক গলানো বা বক্তব্য দেয়া সঠিক নয়। যার যার বয়স, অবস্থান, দায়িত্ববোধ থেকেই কথা বলা, জবাব দেয়াই শ্রেয়। একই কথা প্রযোজ্য শহীদ জিয়া পুত্র, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও।
দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যবর্তী নিবর্চানের দাবীকে কেন্দ্র করে উদ্ধুত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ আজীবনের জন্য ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ-বিক্ষোভ কর্মসূচীর প্রেক্ষাপটে দেশে যত সংহিস ঘটনা ঘটছে তার সকল তদায়-দায়িত্ব বিএনপি-জামায়াতের। পেট্রোল বোমা, গুলি, হামলায় নিহত-আহতদের দায়ও তাদের। সরকারের কোন দায় নেই। এটি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মূলত: দেশের এই পরিস্থিতির জন্য সর্বাগ্রে দায় বর্তায় সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের উপর, তার পর বিরোধীদলগুলোর উপর। বছরের পর বছর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ রেখে, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথায় কথায় মামলা করে, তাদের সভা-সমাবেশের অনুমতি (সহিংসতা হওয়ার আগেই, সহিংসতার অভিযোগে) না দিয়ে সরকার দেশে যে গণতন্ত্র রেখেছেন তাতে এটাকে একদলীয় গণতন্ত্র ছাড়া আর কি-ই বা বলা যায়।
দেশের মিডিয়াগুলোর খবরাখবর পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকার তিনটি টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এক. বিএনপি-জামায়াতকে ‘জঙ্গীবাদী’ রাজনৈতিক দলে পরিণত করা। ২. বর্তমান সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ করা। ৩. সরকারের ভিশন ২০২০ কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা। সেই লক্ষ্যেই সরকার তার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এসব এজেন্ডা নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলরা দেশে-বিদেশে জোর লবিং অব্যাহত রেখেছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আর দেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘সংলাপ’এর প্রস্তাব অগ্রায্য করে সরকারের ‘একলা নীতির পথচলা’ এক সময় বুমেরাং হতে পারে। কেননা, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের প্রাচীনতম দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে দেশ-জাতি ও জনগনের প্রত্যাশা বেশী। বিশেষ করে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা আরো বেশী। কে না জানে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার আর জননেত্রী শেখ হাসিনার ত্যাগের কথা। তাছাড়া বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ অনেক পরিপক্ক রাজনৈতিক দল হিসেবেই আমি মনে করি। রাজনীতির ময়দানে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি’র অনেক কিছু শেখার রয়েছে। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের যে কোন ভুল নেই তা নয়। সবার মনে রাখা দরকার রাজনীতিতে, ক্ষমতায় পাওয়াটাই বড় নয়, ত্যাগটাই বড়। আওয়ামী লীগের দাবী তারা জনগণের দল। আর যদি তাই হয় তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধা কোথায়। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের তো একটাই দাবী নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে আবার জিতবে না তা কি বিশ্বাস করা যায়।
আমি, তুমি, সে মিলেই আমরা। আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। তাই কারো বা কোন রাজনৈতিক দলের ভুলের কারণে আমরা যেনো আমাদের প্রিয় দেশটোকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত না করি। আমরা যেনো জঙ্গীবাদ ডেকে না আনি, জঙ্গীবাদ চাপিয়ে না দেই। জঙ্গীবাদের দাবলনে আমরা জেনো পুড়ে না যাই। কোন আবেগ বা প্রতিহিংসা নয় আমাদের রাজনীতিকে কুলষিত করতে না পারে। গণতন্ত্রে সহমর্মিতা, সহবস্থান, পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধ আর বাক স্বাধীনতার কিকল্প নেই। কথায় বলে ‘এনাফ ইজ এনাফ’। সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়াই উত্তম। ০১ মার্চ’২০১৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

অসময়ের কলাম-২

প্রকাশের সময় : ০২:০০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০১৫

আগেই বলেছি শারীরিক অসুস্থ্যতার জন্য হাতে অঢেল সময়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়ায়ী পূর্ণ বেডরেষ্ট, নিয়মিত ঔষুধ সেব, শুয়ে-বসে, টিভি দেখে, পত্রিকা আর বইপত্র পড়ে বেকার সময় কাটছে। সেই সাথে অঢেল সময় কাটছে স্ত্রী-পুত্রের সাথে। যে সময় স্ত্রী-পুত্র চাইলেও পেতো না। সবই মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছে, নিলা-খেলা। আলহামদুলিল্লাহ।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমরা অত্যাধুনিক ডিজিটাল বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। বলতে গেলে হাতের মুঠোয় পুরো দুনিয়া। শুধু থাকা চাই এটি আধুনিক মোবাইল সেট আর ইন্টানেট সংযোগ। আমার বাসায় স্কাই ক্যাবলের বক্সের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কয়েক ডজন চ্যানেল দেখতে পাই। এসব চ্যানেলগুলোর মধ্যে সিএনএন, বিবিসি, এবিসি, ফক্স, ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের খবর আর টক শোগুলো বেশ ভাইর লাগে। তবে এর মধ্যে প্রিয় অগ্রজ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় বাংলা ভিশন-এর নিয়মিত ও জনপ্রিয় টক শো ‘ফ্রন্ট লাইন’ বন্ধ হয়েছে। এই টক শোটি পাঁচ বছর ধরে চলছিলো। বন্ধ হতে পারে এমন আশংকায় রয়েছে একুশে টিভি!। অপরদিকে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত খবরের মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারীর পাশাপাশি সর্বশেষ তাঁর গুলশানস্থ কার্যালয়ে (যেখানে কার্যত: খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ) তল্লাশীর নির্দেশের খবর। এছাড়াও রয়েছে সাবেক ছাত্রনেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেফতার আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্লগার অভিজিৎ রায়ের খুনের ঘটনা।
বলছিলাম টিভি চ্যানেলগুলোর কথা। টিভি চ্যানেলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলা, ঢাকার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শো ছাড়াও বাংলা ভিশন-এর ‘অ-এর গল্প’, কলকাতার ইটিভি বাংলা’র বিনোদনমূলক নাটক আর জি বাংলা চ্যানেল-এর ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রিয় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর চমৎকার উপস্থাপনায় পরিবেশিত ‘দাদাগিরি’, চিত্র নায়িকা অপরাজিতা’র উপস্থাপনায় পরিবেশিত ‘সেরা বউঠান’ আর প্রিয় অভিনেতা মিঠুর চক্রবর্তীর উপস্থানায় পরিবেশিত ‘রান্না ঘরের রকস্টার’ ভালই লাগছে। বিশেষ করে সৌরভের ‘দাদাগিরি’র তুলনা না করলেই নয়। বলতে দ্বিধা নেই ঢাকার নাটকের চেয়ে কলকাতার নাটক অভিনয়ের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধই মনে হয়। অপরদিকে দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর খবর প্রায় একই রকম লাগছে। ঘুরে ফিরে একই খবর সকল টিভির খবরেই স্থান পাচ্ছে। এসব খবর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট সরকার দেশের উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করছে। সরকার চাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত-কে জোর করেই জঙ্গী সংগঠনে পরিণত করতে। এজন্য দেশে-বিদেশে প্রচার-প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতি, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ তার কয়েকজন মন্ত্রী আর দলীয় নেতার বক্তব্যে তাই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ, প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ প্রমুখের বক্তব্য সরকারের হার্ট লাইনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাদের সাথে যোগ হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাতী, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। আমার দৃষ্টিতে জয়ের সব ব্যাপারেই নাক গলানো বা বক্তব্য দেয়া সঠিক নয়। যার যার বয়স, অবস্থান, দায়িত্ববোধ থেকেই কথা বলা, জবাব দেয়াই শ্রেয়। একই কথা প্রযোজ্য শহীদ জিয়া পুত্র, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও।
দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যবর্তী নিবর্চানের দাবীকে কেন্দ্র করে উদ্ধুত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ আজীবনের জন্য ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ-বিক্ষোভ কর্মসূচীর প্রেক্ষাপটে দেশে যত সংহিস ঘটনা ঘটছে তার সকল তদায়-দায়িত্ব বিএনপি-জামায়াতের। পেট্রোল বোমা, গুলি, হামলায় নিহত-আহতদের দায়ও তাদের। সরকারের কোন দায় নেই। এটি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মূলত: দেশের এই পরিস্থিতির জন্য সর্বাগ্রে দায় বর্তায় সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের উপর, তার পর বিরোধীদলগুলোর উপর। বছরের পর বছর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ রেখে, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথায় কথায় মামলা করে, তাদের সভা-সমাবেশের অনুমতি (সহিংসতা হওয়ার আগেই, সহিংসতার অভিযোগে) না দিয়ে সরকার দেশে যে গণতন্ত্র রেখেছেন তাতে এটাকে একদলীয় গণতন্ত্র ছাড়া আর কি-ই বা বলা যায়।
দেশের মিডিয়াগুলোর খবরাখবর পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকার তিনটি টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এক. বিএনপি-জামায়াতকে ‘জঙ্গীবাদী’ রাজনৈতিক দলে পরিণত করা। ২. বর্তমান সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ করা। ৩. সরকারের ভিশন ২০২০ কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা। সেই লক্ষ্যেই সরকার তার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এসব এজেন্ডা নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলরা দেশে-বিদেশে জোর লবিং অব্যাহত রেখেছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আর দেশের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘সংলাপ’এর প্রস্তাব অগ্রায্য করে সরকারের ‘একলা নীতির পথচলা’ এক সময় বুমেরাং হতে পারে। কেননা, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের প্রাচীনতম দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে দেশ-জাতি ও জনগনের প্রত্যাশা বেশী। বিশেষ করে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা আরো বেশী। কে না জানে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার আর জননেত্রী শেখ হাসিনার ত্যাগের কথা। তাছাড়া বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ অনেক পরিপক্ক রাজনৈতিক দল হিসেবেই আমি মনে করি। রাজনীতির ময়দানে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি’র অনেক কিছু শেখার রয়েছে। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের যে কোন ভুল নেই তা নয়। সবার মনে রাখা দরকার রাজনীতিতে, ক্ষমতায় পাওয়াটাই বড় নয়, ত্যাগটাই বড়। আওয়ামী লীগের দাবী তারা জনগণের দল। আর যদি তাই হয় তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধা কোথায়। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের তো একটাই দাবী নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে আবার জিতবে না তা কি বিশ্বাস করা যায়।
আমি, তুমি, সে মিলেই আমরা। আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। তাই কারো বা কোন রাজনৈতিক দলের ভুলের কারণে আমরা যেনো আমাদের প্রিয় দেশটোকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত না করি। আমরা যেনো জঙ্গীবাদ ডেকে না আনি, জঙ্গীবাদ চাপিয়ে না দেই। জঙ্গীবাদের দাবলনে আমরা জেনো পুড়ে না যাই। কোন আবেগ বা প্রতিহিংসা নয় আমাদের রাজনীতিকে কুলষিত করতে না পারে। গণতন্ত্রে সহমর্মিতা, সহবস্থান, পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধ আর বাক স্বাধীনতার কিকল্প নেই। কথায় বলে ‘এনাফ ইজ এনাফ’। সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়াই উত্তম। ০১ মার্চ’২০১৫