সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ আর নেই
- প্রকাশের সময় : ০১:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৬
- / ১১৬৮ বার পঠিত
নিউইয়র্ক: বিশিষ্ট সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর একাংশের সভাপতি সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ আর নেই। ২৩ জানুয়ারী রোববার সকালে ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার ইন্তেকালে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ আলতাফ মাহমুদের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছেন।
ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, দৈনিক ডেস্টিনি’র নির্বাহী সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ গত ১৪ জানুয়ারী বাসায় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। তিনি মাথার পেছনে, ঘাড়ে ও দু’হাতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে তার দু’পা অবশ হয়ে যায়। তিনি নিউরো সার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার অধীনে হাসপাতালের ৩১১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ দুই মেয়ে আইরিন মাহমুদ ও আফরিন মাহমুদ ও ছেলে হাসিব মাহমুদ তপুর জনক। বড় মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ছোট মেয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ’র ছাত্রী। ছেলে হাসিব মাহমুদ তপু বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ কর্মরত।
বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছিল। শনিবার গত রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়। সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হয়।
সত্তর দশকে সাংবাদিকতায় আসা আলতাফ মাহমুদ দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক খবরের (পরবর্তীতে দৈনিক খবর) প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও তাকে দেখা গেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে। ইতিপূর্বে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং বিএফইউজে’র সাধারণ সম্পদকেরও দায়িত্ব পালন করেন।
আলতাফ মাহমুদের জানাজা: বিএফইউজে’র সভাপতি আলতাফ মাহমুদের দুটি জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তার প্রথম জানাজা ২৪ জানুয়ারী রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এবং দ্বিতীয় জানাজা বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়।
আলতাফ মাহমুদের জানাজায় অংশ নেন- রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারসহ বিশিষ্ট সাংবাদিকেরা।
জানাজার পর মরহুমকে শেষবারের মতো দেখে নেন আগত শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীরা। এসময় তাকে শেষ শ্রদ্ধাও জানান তারা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনও আলতাফ মাহমুদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আলতাফ মাহমুদ চলে যাওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। তার মতো সাংবাদিক খুব কমই আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজার পর মরহুমের মরদেহ তার ঢাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মরহুমের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের গাজীবাড়িতে। গাজীবাড়িতে বাবার কবরের পাশেই চিরসমাহিত করা হবে আলতাফ মাহমুদকে।