নিউইয়র্ক ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা : ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শওকত মাহমুদ ও প্রবীর সিকদারকে মুক্তি দিন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৫৭৩ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ এবং সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রসক্লাব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের জ্যাকসন হাইটস’র অস্থায়ী কার্যালয়ে বাংলাদেশের দুজন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে নিউইয়র্কের সাংবাদিকরা।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিনের আহমদের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন প্রবাসী সাংবাদিকরা।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের বলেন, আজকে যেভাবে গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন চলছে তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তাই বলে রাতের আঁধারে প্রতিথযশা সাংবাদিকদের এভাবে আটক করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তাদের আদালতের মাধ্যমে নোটিশ দেয়া যেতো পারতো। শওকত মাহমুদের মত এরকম একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিককে বোমাবাজি কিংবা গাড়ী পোড়ানোর মামলায় আটক করা সত্যি দুঃখজনক। সবচে আশ্চাযেঅ্যর বিষয় হলো এ পর্যনমশ বাংলাদেশে যতজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই সরকারের বিাংদ্ধে সমালোচনা করার দায়ে। এটা কী নজির বহন করে – প্রশ্ন রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি।
সহ-সভাপতি রিমন ইসলাম বলেন, আমরা এখানে বসে প্রতিবাদ করছি ঠিকই; কিন্তু সরকারের কানে তা যাচ্ছে না। দেশের সাংবাদিকদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চলছে; তাতে অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। যা দেশের আগামীর জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। আমি যতদুর জানি বেশীর ভাগ সাংবাদিককেই ভয় দেখানো হচ্ছে সাগর-াংনির মত ভয়াবহ হত্যাকান্ডের পরিনতির কথা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাকলীন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়াাংল ইসলাম বলেন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমি বলবো এই সরকার অবৈধ সরকার। তাই এই সরকারের কাছ থেকে গণতন্ত্র কিংবা স্বাধীন মত প্রকাশ আশা করা যায় না। জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের দু’দিনের মাথায় দু’জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। যা দু:খজনক।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক এবং একুশে টিভির ইউএস প্রতিনিধি ইমরান আনসারি বলেন, আইসিটি অ্যাক্ট তথা তথ্য প্রযুক্তির মত একটি কালো আইনের ৫৭ ধারায় দু’জন প্রখ্যাত সাংবাদিককে গ্রেফতারই প্রমাণ করে এই সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর কতটা নগ্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। শওকত মাহমুদের মত সাংবাদিক যার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। একইভাবে প্রবীর শিকদারের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগও সবার জানা। তারপরও এধরণের ঘটনায় জাতিকে দু:শ্চিনমশায় ফেলে দিচ্ছে।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধরণ সম্পাদক শেখ সিরাজ বলেন, বাংলাদেশে চলছে সরকারের দ্বিমুখী নীতি। একই আইনে দু’জন সম্পাদককে দু’রকম সাজা। যা হাস্যকর এবং দু:খজনক। একজন সম্পাদককে আদালতে ৬ ঘন্টার দন্ড আর আরেকজনকে ১ হাজার ৯৫ দিনের কারাদন্ড। ভিন্ন মত প্রকাশের কারণে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি মিডিয়া। সাগর-াংনি হত্যাসহ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এনটিভির সাংবাদিক আবিদুর রহীম বলেন, আসলে কী আর বলবো ভাষা নেই। এই সরকারের কাছের লোকজন এখন সংখ্যালুঘুদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। তাদের সম্পত্তি দখল করছে। যার প্রমাণ প্রবীর শিকদার। তিনি নিজেও তার স্ট্যাটাসে এই তথ্য দেয়ার পরই রাতের আঁধারে আটক হন। সত্যিই এটা দু:খজনক।
টাইম টেলিভিশনের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ও দ্য রিপোর্ট নিউইয়র্ক প্রতিনিধি শিবলী চৌধুরী কায়েস বলেন, সাংবাদিক সমাজ ও নেতাদের বিভক্তির কারণেই আজকের এই পরিনতি। আমরা যাদের আদর্শ ভেবে গণমাধ্যমকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি; তারাই এখন নিজেদের স্বার্থে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে এর পরিনতি আরো ভয়াবহ হবে। পট পরির্বতনের ফলে ভিন্ন মতের সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন আর বন্ধ হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক নায়াদিগন্তের বিশেষ প্রতিনিধি শওকত ওসমান রচি, যমুনা টিভির ইউএসএ প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকি, টাইম টেলিভিশনের কনসালটেন্ট (বার্তা) পুলক মাহমুদ, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, সময় টিভির আনোয়ার হোসেন বাবু , মাসিক সমীক্ষার আবদুর রশীদ প্রমুখ।
সভায় সাংবাদিকদের রাজনীতিতে জড়ানোকে সাংবাদিকতায় বড় প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। শওকত মাহমুদ, প্রবীর শিকদারসহ আটক সকল সাংবাদিকদের আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয় প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে। (জাস্ট নিউজ)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা : ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শওকত মাহমুদ ও প্রবীর সিকদারকে মুক্তি দিন

প্রকাশের সময় : ০৪:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ এবং সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রসক্লাব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের জ্যাকসন হাইটস’র অস্থায়ী কার্যালয়ে বাংলাদেশের দুজন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে নিউইয়র্কের সাংবাদিকরা।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিনের আহমদের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন প্রবাসী সাংবাদিকরা।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের বলেন, আজকে যেভাবে গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন চলছে তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তাই বলে রাতের আঁধারে প্রতিথযশা সাংবাদিকদের এভাবে আটক করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তাদের আদালতের মাধ্যমে নোটিশ দেয়া যেতো পারতো। শওকত মাহমুদের মত এরকম একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিককে বোমাবাজি কিংবা গাড়ী পোড়ানোর মামলায় আটক করা সত্যি দুঃখজনক। সবচে আশ্চাযেঅ্যর বিষয় হলো এ পর্যনমশ বাংলাদেশে যতজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককেই সরকারের বিাংদ্ধে সমালোচনা করার দায়ে। এটা কী নজির বহন করে – প্রশ্ন রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি।
সহ-সভাপতি রিমন ইসলাম বলেন, আমরা এখানে বসে প্রতিবাদ করছি ঠিকই; কিন্তু সরকারের কানে তা যাচ্ছে না। দেশের সাংবাদিকদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চলছে; তাতে অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। যা দেশের আগামীর জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। আমি যতদুর জানি বেশীর ভাগ সাংবাদিককেই ভয় দেখানো হচ্ছে সাগর-াংনির মত ভয়াবহ হত্যাকান্ডের পরিনতির কথা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাকলীন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়াাংল ইসলাম বলেন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমি বলবো এই সরকার অবৈধ সরকার। তাই এই সরকারের কাছ থেকে গণতন্ত্র কিংবা স্বাধীন মত প্রকাশ আশা করা যায় না। জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের দু’দিনের মাথায় দু’জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। যা দু:খজনক।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক এবং একুশে টিভির ইউএস প্রতিনিধি ইমরান আনসারি বলেন, আইসিটি অ্যাক্ট তথা তথ্য প্রযুক্তির মত একটি কালো আইনের ৫৭ ধারায় দু’জন প্রখ্যাত সাংবাদিককে গ্রেফতারই প্রমাণ করে এই সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর কতটা নগ্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। শওকত মাহমুদের মত সাংবাদিক যার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। একইভাবে প্রবীর শিকদারের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগও সবার জানা। তারপরও এধরণের ঘটনায় জাতিকে দু:শ্চিনমশায় ফেলে দিচ্ছে।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধরণ সম্পাদক শেখ সিরাজ বলেন, বাংলাদেশে চলছে সরকারের দ্বিমুখী নীতি। একই আইনে দু’জন সম্পাদককে দু’রকম সাজা। যা হাস্যকর এবং দু:খজনক। একজন সম্পাদককে আদালতে ৬ ঘন্টার দন্ড আর আরেকজনকে ১ হাজার ৯৫ দিনের কারাদন্ড। ভিন্ন মত প্রকাশের কারণে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি মিডিয়া। সাগর-াংনি হত্যাসহ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এনটিভির সাংবাদিক আবিদুর রহীম বলেন, আসলে কী আর বলবো ভাষা নেই। এই সরকারের কাছের লোকজন এখন সংখ্যালুঘুদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। তাদের সম্পত্তি দখল করছে। যার প্রমাণ প্রবীর শিকদার। তিনি নিজেও তার স্ট্যাটাসে এই তথ্য দেয়ার পরই রাতের আঁধারে আটক হন। সত্যিই এটা দু:খজনক।
টাইম টেলিভিশনের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ও দ্য রিপোর্ট নিউইয়র্ক প্রতিনিধি শিবলী চৌধুরী কায়েস বলেন, সাংবাদিক সমাজ ও নেতাদের বিভক্তির কারণেই আজকের এই পরিনতি। আমরা যাদের আদর্শ ভেবে গণমাধ্যমকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি; তারাই এখন নিজেদের স্বার্থে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে এর পরিনতি আরো ভয়াবহ হবে। পট পরির্বতনের ফলে ভিন্ন মতের সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন আর বন্ধ হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক নায়াদিগন্তের বিশেষ প্রতিনিধি শওকত ওসমান রচি, যমুনা টিভির ইউএসএ প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকি, টাইম টেলিভিশনের কনসালটেন্ট (বার্তা) পুলক মাহমুদ, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, সময় টিভির আনোয়ার হোসেন বাবু , মাসিক সমীক্ষার আবদুর রশীদ প্রমুখ।
সভায় সাংবাদিকদের রাজনীতিতে জড়ানোকে সাংবাদিকতায় বড় প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। শওকত মাহমুদ, প্রবীর শিকদারসহ আটক সকল সাংবাদিকদের আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয় প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে। (জাস্ট নিউজ)