নিউইয়র্ক ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : সাংবাদিকদের প্রতি পরামর্শ এবং কিছু প্রশ্ন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • / ৮৭৫ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের পূর্বে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদটি যাতে কোন মিডিয়ায় প্রকাশ না পায় তার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও অনুরোধ করেন স্যোসাল মিডিয়ায় ঐ ঘটনার কোন ছবি পোষ্ট না করতে। সাংবাদিক সম্মেলন সে করার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা কিভাবে খবরটি প্রকাশ করবেন তা তারাই বিবেচনা করবেন। তবে সংবাদটি যাতে ‘ফেয়ার’ হয় সেব্যাপারে দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে দায়িত্ব কার? অনুষ্ঠানের আয়োজকদের না মিডিয়া কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকবৃন্দ মাঝেমধ্যে বলে থাকেন ইদানিং তারা ফোন কল পান যে, ‘ওমুক নিউজটি প্রথম পাতায় দেবেন, ওমুক নিউজটি শেষের পাতায়, কেউ কেউ বলেন ছবি সহ তিন কলামে খবরটি ছাপবেন’। অনুরোধকারীদের প্রভাব নানা কারণে। বন্ধুত্ব, বিজ্ঞাপনদাতা, পৃষ্ঠপোষক এমন জাতীয় সম্পর্কের কারণে অনুরোধ আসা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি নিউইয়র্কের কোন কোন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখে প্রশ্ন জাগে এগুলো কি সত্যিই প্রথম বা শেষ পাতায় প্রকাশের যোগ্য?
সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ- এটাই আমরা জানি সবাই। সমাজের সঠিক চিত্র উপস্থাপন করাই মিডিয়ার মূল দায়িত্ব, সংবাদ চেপে রাখা নয়। কিন্তু অন্য আরো ব্যবসার মতো অর্থ আয়ের লোভ সামলানো সাংবাদিকতা পেশার প্রতি নিবেদিত নন এমন ব্যক্তিবর্গের জন্য খুবই কঠিন, সেটাও মানতে হবে। সাংবাদিকতা পেশা বিবেক নির্ভর পেশা। অতএব সংবাদ জেনেও, তথ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও যদি একজন সম্পাদক বা সাংবাদিক সে খবর যদি চেপে রাখেন সেটা কি পেশা আর বিবেকের সাধে প্রতারণা নয়? ছলে বলে কৌশলে অর্থ আয়ের আরো অনেক পথ খোলা থাকার পরও বিবেকের সাথে প্রতারণা করে সাংবাদিকতা পেশাকে শ্রেফ অন্য ১০টি পেশার মতো একটি পেশা হিসেবে বিবেচনা করা সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
সংবাদ প্রকাশে কিংবা সংবাদ চেপে রাখতে রাজনীতিকদের ভূমিকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বিত্ত ও বৈভবপ্রাপ্তীর সুযোগকে উপেক্ষা করে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দৃঢ় ভূমিকা খুব কমই চোখে পড়ে। বিগত ২৫ বছরে প্রবাসে বাংলা সাংবাদিকতায় কমিউনিটি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, পাশাপাশি কতিপয় মিডিয়ার শ্রেফ বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর প্রকাশনা সাংবাদিকতা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ ক্ষতিগ্রস্তও করেছে। সেই সাথে সঠিক ও মর্যাদাপূর্ণ অবদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সংবাদ মাধ্যম সাংবাদিকতার নূন্যতম বিবেচনা ও নীতিমালার আলোকেই প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন।
২৫ সেপ্টেম্বর’২০১৫ (সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : সাংবাদিকদের প্রতি পরামর্শ এবং কিছু প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০২:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের পূর্বে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদটি যাতে কোন মিডিয়ায় প্রকাশ না পায় তার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও অনুরোধ করেন স্যোসাল মিডিয়ায় ঐ ঘটনার কোন ছবি পোষ্ট না করতে। সাংবাদিক সম্মেলন সে করার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা কিভাবে খবরটি প্রকাশ করবেন তা তারাই বিবেচনা করবেন। তবে সংবাদটি যাতে ‘ফেয়ার’ হয় সেব্যাপারে দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে দায়িত্ব কার? অনুষ্ঠানের আয়োজকদের না মিডিয়া কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকবৃন্দ মাঝেমধ্যে বলে থাকেন ইদানিং তারা ফোন কল পান যে, ‘ওমুক নিউজটি প্রথম পাতায় দেবেন, ওমুক নিউজটি শেষের পাতায়, কেউ কেউ বলেন ছবি সহ তিন কলামে খবরটি ছাপবেন’। অনুরোধকারীদের প্রভাব নানা কারণে। বন্ধুত্ব, বিজ্ঞাপনদাতা, পৃষ্ঠপোষক এমন জাতীয় সম্পর্কের কারণে অনুরোধ আসা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি নিউইয়র্কের কোন কোন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখে প্রশ্ন জাগে এগুলো কি সত্যিই প্রথম বা শেষ পাতায় প্রকাশের যোগ্য?
সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ- এটাই আমরা জানি সবাই। সমাজের সঠিক চিত্র উপস্থাপন করাই মিডিয়ার মূল দায়িত্ব, সংবাদ চেপে রাখা নয়। কিন্তু অন্য আরো ব্যবসার মতো অর্থ আয়ের লোভ সামলানো সাংবাদিকতা পেশার প্রতি নিবেদিত নন এমন ব্যক্তিবর্গের জন্য খুবই কঠিন, সেটাও মানতে হবে। সাংবাদিকতা পেশা বিবেক নির্ভর পেশা। অতএব সংবাদ জেনেও, তথ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও যদি একজন সম্পাদক বা সাংবাদিক সে খবর যদি চেপে রাখেন সেটা কি পেশা আর বিবেকের সাধে প্রতারণা নয়? ছলে বলে কৌশলে অর্থ আয়ের আরো অনেক পথ খোলা থাকার পরও বিবেকের সাথে প্রতারণা করে সাংবাদিকতা পেশাকে শ্রেফ অন্য ১০টি পেশার মতো একটি পেশা হিসেবে বিবেচনা করা সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
সংবাদ প্রকাশে কিংবা সংবাদ চেপে রাখতে রাজনীতিকদের ভূমিকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বিত্ত ও বৈভবপ্রাপ্তীর সুযোগকে উপেক্ষা করে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দৃঢ় ভূমিকা খুব কমই চোখে পড়ে। বিগত ২৫ বছরে প্রবাসে বাংলা সাংবাদিকতায় কমিউনিটি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, পাশাপাশি কতিপয় মিডিয়ার শ্রেফ বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর প্রকাশনা সাংবাদিকতা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ ক্ষতিগ্রস্তও করেছে। সেই সাথে সঠিক ও মর্যাদাপূর্ণ অবদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সংবাদ মাধ্যম সাংবাদিকতার নূন্যতম বিবেচনা ও নীতিমালার আলোকেই প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন।
২৫ সেপ্টেম্বর’২০১৫ (সাপ্তাহিক পরিচয়)