নিউইয়র্ক ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : মিডিয়ার প্রতি অবহেলা ও বেবী নাজনীন-এর ‘ফ্লপ’ সঙ্গীতানুষ্ঠান

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৭৩৬ বার পঠিত

কুইন্স বরোর জ্যামাইকার একটি স্কুল মিলনায়তনে গত ১০ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী বেবী নাজনীনের একটি একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য উক্ত অনুষ্ঠানে মাত্র জনা পঞ্চাশেক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে সঙ্গীত পরিবেশন করতে হয়েছে। গ্রীনিচ বুকে একজন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীর সবচেয়ে কম দর্শক-শ্রোতার অনুষ্ঠান হিসেবে এটি লিপিবদ্ধ হতে পারে। আগে কখনো নাম শুনা যায়নি এমন একটি সংগঠন (জ্যামাইকা হিলস মার্চেন্ট এসোসিয়েশন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেনো এত কম দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি তা নিয়ে কমিউনিটির সর্বত্র অল্প-বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ররি লৗান্সম্যানের অফিসের আর্থিক সহযোগিতায় (প্রায় ছয় হাজার ডলার) এই অনুষ্ঠানটির আযোজন করা হয়। দু-একটি দোকানে-গ্রোসারীতে ছোট্ট একটি পোষ্টার লাগানো ছাড়া এই অনুষ্ঠানের আর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি। অনুষ্ঠানে গান শুরুর আগে বেবী নাজনীন নিজেও বিষয়টির প্রতি আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কমিউনিটির বাংলা প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। বিজ্ঞাপন তো দূরে থাকুক, অধিকাংশ বাংলা মিডিয়াকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে অনেক দর্শক-শ্রোতা মন্তব্য করেছেন যে, কেবল কাউন্সিলম্যান ররির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ‘হজম’ করতেই এই সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দর্শক-শ্রোতার অংশগ্রহনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি আয়োজকরা। তাই তারা এই অনুষ্ঠানটির কোন রকম প্রচারের ব্যবস্থা নেননি। মিডিয়ার ভূমিকা ছাড়া কোন অনুষ্ঠানে লোক সমাগম সম্ভব নয় তা যত বড় শিল্পীর অনুষ্ঠানই হোক না কেনো। যদি মিডিয়ার ভূমিকা না থাকে তা আরো একবার প্রমানিত হলো উক্ত দর্শক-শ্রোতাবিহীন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
ইদানিং দেখা যাচ্ছে কমিউনিটিতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু যখনই মিডিয়ায় প্রচারণার কথা আসে তখনই বলা হয় বাজেট নেই। কেউ কেউ কৌশলে ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’র মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। এসব অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মাথাপিছু ১৫ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ার বিল প্রদান করতে অসুবিধা অনুভব করেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যে কয়টি বাংলা মিডিয়া কমিনিউটির মধ্যে যোগাযোগের প্রধান বাহন হিসেবে ভূমিকা রাখছে সেই সব মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য তাদের কোন আগ্রহ থাকে না। নানান অজুহাতে বিজ্ঞাপন না দেওয়ার কৌশলে তারা সদা ব্যস্ত থাকেন। এটি সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক।
প্রবাসের বাংলা মিডিয়া আর কমিউনিটির এই অবস্থার জন্য সাংবাদিকতার প্রতি নিবেদিত মিডিয়াসমূহের মধ্যে নীতিগত ঐক্যের অভাব অনেকটা দায়ী বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আবার কমিউনিটিতে প্রয়োজনের তুলনায় মিডিয়ার সংখা অনেক বেশী- একথাও বলেন অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ। কিন্তু বাস্তবে শুধু সাংবাদিকতার জন্য মিডিয়া কয়টি আর কেবল বিজ্ঞাপনের জন্য মিডিয়া কয়টি (?) সেটিও ভেবে দেখা দরকার। তফাৎটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২৩ অক্টোবর’২০১৫ (সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : মিডিয়ার প্রতি অবহেলা ও বেবী নাজনীন-এর ‘ফ্লপ’ সঙ্গীতানুষ্ঠান

প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

কুইন্স বরোর জ্যামাইকার একটি স্কুল মিলনায়তনে গত ১০ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত জনপ্রিয় শিল্পী বেবী নাজনীনের একটি একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য উক্ত অনুষ্ঠানে মাত্র জনা পঞ্চাশেক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে সঙ্গীত পরিবেশন করতে হয়েছে। গ্রীনিচ বুকে একজন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীর সবচেয়ে কম দর্শক-শ্রোতার অনুষ্ঠান হিসেবে এটি লিপিবদ্ধ হতে পারে। আগে কখনো নাম শুনা যায়নি এমন একটি সংগঠন (জ্যামাইকা হিলস মার্চেন্ট এসোসিয়েশন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেনো এত কম দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি তা নিয়ে কমিউনিটির সর্বত্র অল্প-বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। জানা গেছে, স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ররি লৗান্সম্যানের অফিসের আর্থিক সহযোগিতায় (প্রায় ছয় হাজার ডলার) এই অনুষ্ঠানটির আযোজন করা হয়। দু-একটি দোকানে-গ্রোসারীতে ছোট্ট একটি পোষ্টার লাগানো ছাড়া এই অনুষ্ঠানের আর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি। অনুষ্ঠানে গান শুরুর আগে বেবী নাজনীন নিজেও বিষয়টির প্রতি আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কমিউনিটির বাংলা প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। বিজ্ঞাপন তো দূরে থাকুক, অধিকাংশ বাংলা মিডিয়াকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে অনেক দর্শক-শ্রোতা মন্তব্য করেছেন যে, কেবল কাউন্সিলম্যান ররির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ‘হজম’ করতেই এই সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দর্শক-শ্রোতার অংশগ্রহনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি আয়োজকরা। তাই তারা এই অনুষ্ঠানটির কোন রকম প্রচারের ব্যবস্থা নেননি। মিডিয়ার ভূমিকা ছাড়া কোন অনুষ্ঠানে লোক সমাগম সম্ভব নয় তা যত বড় শিল্পীর অনুষ্ঠানই হোক না কেনো। যদি মিডিয়ার ভূমিকা না থাকে তা আরো একবার প্রমানিত হলো উক্ত দর্শক-শ্রোতাবিহীন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
ইদানিং দেখা যাচ্ছে কমিউনিটিতে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু যখনই মিডিয়ায় প্রচারণার কথা আসে তখনই বলা হয় বাজেট নেই। কেউ কেউ কৌশলে ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’র মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। এসব অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মাথাপিছু ১৫ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়ার বিল প্রদান করতে অসুবিধা অনুভব করেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যে কয়টি বাংলা মিডিয়া কমিনিউটির মধ্যে যোগাযোগের প্রধান বাহন হিসেবে ভূমিকা রাখছে সেই সব মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য তাদের কোন আগ্রহ থাকে না। নানান অজুহাতে বিজ্ঞাপন না দেওয়ার কৌশলে তারা সদা ব্যস্ত থাকেন। এটি সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক।
প্রবাসের বাংলা মিডিয়া আর কমিউনিটির এই অবস্থার জন্য সাংবাদিকতার প্রতি নিবেদিত মিডিয়াসমূহের মধ্যে নীতিগত ঐক্যের অভাব অনেকটা দায়ী বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আবার কমিউনিটিতে প্রয়োজনের তুলনায় মিডিয়ার সংখা অনেক বেশী- একথাও বলেন অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দ। কিন্তু বাস্তবে শুধু সাংবাদিকতার জন্য মিডিয়া কয়টি আর কেবল বিজ্ঞাপনের জন্য মিডিয়া কয়টি (?) সেটিও ভেবে দেখা দরকার। তফাৎটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২৩ অক্টোবর’২০১৫ (সাপ্তাহিক পরিচয়)