নিউইয়র্ক ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : নিউইয়র্কে একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধাদের সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘কতিপয়’-এর ঈর্ষার কবলে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫
  • / ৮০১ বার পঠিত

নিউইয়র্কে গত ১৩ ডিসেম্বর ‘একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চার শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরীয়, শহীদ হাসান ও মঞ্জুর আহমেদ। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে এই প্রথম বাংলাদেশের বাইরে কোন মঞ্চে একসাথে সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুণী চার শিল্পী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছরে জন্ম নেয়া একজন রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই প্রথম প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন অনুষ্ঠানে কানায় কানায় হল ভর্তি দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন কেন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, কোন এক অনুষ্ঠানে শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের একটি বক্তব্য তাকে ভিষণভাবে নাড়া দেয়। শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় বলেছিলেন- ‘মুক্তিযুদ্ধে একাত্তুরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মূল্যায়ণ হয়নি’। তার এই বক্তব্যই আনোয়ার হোসেনের মনে দাগ কাটে। তারই ফলশ্রুতি বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানটি। প্রায় চার ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে মিলনায়তনে তিল ধারণে জায়গা ছিলো না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সকলেই চলে গিয়েছিলেন একাত্তুরের সেই দিনগুলোতে যখন স্বাধীনতাকামী বাংলার মানুষ গভীর রাত জেগে জেগে তন্ময় হয়ে শুনতেন সেই মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উপর আলোকপাত করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন জামাল উদ্দীন হোসেন। অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো শিল্পীদের সাথে প্রাণবন্ত আলাপচারিতা।
দেশে-প্রবাসে সর্বত্রই বিভিন্ন মিডিয়ায় অনুষ্ঠনটির ব্যাপক কভারেজ হয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রবাসের দু’একটি মিডিয়ায় এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু এর কারণ সহজে বোধগম্য নয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশনাকে কেবল ঈর্ষা ও হিংসা নির্ভর মন্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে দু’একটি মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খাটো করার প্রয়াস পেয়েছেন মাত্র। কোন মিডিয়ার পক্ষ থেকে শিল্পীদের ক্রেস্ট প্রদান করা যদি অপর একটি মিডিয়ার গাত্রদাহ হয়ে উঠে তা নিতান্তই দূর্ভাগ্যজনক। বিচক্ষণ পাঠকরা তখন মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে উঠে। যা সামগ্রিক সাংবাদিকতার জন্য শোভন কিছু নয়। ঈর্ষা কাতর যে মিডিয়াটি ক্রেস্ট প্রদানের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধাদের সঙ্গীতানুষ্ঠানটির খবরটি প্রকাশ করেনি, সেই মিডিয়া কমিউনিটির কনভিকটেড এক সামাজিক অপরাধীর তথা কথিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের বিশাল কভারেজ দিতে কোন কার্পণ্য করে না।
অপর একটি মিডিয়ার একটি কলামে একজন লেখক লিখেছেন ‘একজন ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের মগজ কিনে ফেলেছেন’। একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনের সাথে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মগজ কেনার বিষয়টি কেন উঠে তা বোধগম্য নয়। এই লেখক অনেক দিন ধরেই প্রবাসে লেখা-লেখি করছেন। কিন্তু তিনি কমিউনিটির সমাজিক অপরাধীদের আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে কখনো টু শব্দটিও করেননি। কমিউনিটির দূর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও প্রগতিশীলতার জামা-কাপড় পড়ে কতিপয় ব্যক্তি বিশেষ এখনো ব্যক্তিগত হিংসা, ঈর্ষা ও বিদ্বেষের দেওয়াল টপকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমাদের সকলের করুনা তাদের প্রাপ্য। ২৫ ডিসেম্বর’২০১৫
(সাপ্তাহিক পরিচয়)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : নিউইয়র্কে একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধাদের সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘কতিপয়’-এর ঈর্ষার কবলে

প্রকাশের সময় : ০৩:২২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্কে গত ১৩ ডিসেম্বর ‘একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চার শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরীয়, শহীদ হাসান ও মঞ্জুর আহমেদ। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে এই প্রথম বাংলাদেশের বাইরে কোন মঞ্চে একসাথে সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুণী চার শিল্পী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছরে জন্ম নেয়া একজন রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই প্রথম প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন অনুষ্ঠানে কানায় কানায় হল ভর্তি দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন কেন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, কোন এক অনুষ্ঠানে শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের একটি বক্তব্য তাকে ভিষণভাবে নাড়া দেয়। শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় বলেছিলেন- ‘মুক্তিযুদ্ধে একাত্তুরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মূল্যায়ণ হয়নি’। তার এই বক্তব্যই আনোয়ার হোসেনের মনে দাগ কাটে। তারই ফলশ্রুতি বিজয়ের মাসে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানটি। প্রায় চার ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে মিলনায়তনে তিল ধারণে জায়গা ছিলো না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সকলেই চলে গিয়েছিলেন একাত্তুরের সেই দিনগুলোতে যখন স্বাধীনতাকামী বাংলার মানুষ গভীর রাত জেগে জেগে তন্ময় হয়ে শুনতেন সেই মুক্তিযুদ্ধের গানগুলো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উপর আলোকপাত করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন জামাল উদ্দীন হোসেন। অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো শিল্পীদের সাথে প্রাণবন্ত আলাপচারিতা।
দেশে-প্রবাসে সর্বত্রই বিভিন্ন মিডিয়ায় অনুষ্ঠনটির ব্যাপক কভারেজ হয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রবাসের দু’একটি মিডিয়ায় এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু এর কারণ সহজে বোধগম্য নয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশনাকে কেবল ঈর্ষা ও হিংসা নির্ভর মন্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে দু’একটি মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খাটো করার প্রয়াস পেয়েছেন মাত্র। কোন মিডিয়ার পক্ষ থেকে শিল্পীদের ক্রেস্ট প্রদান করা যদি অপর একটি মিডিয়ার গাত্রদাহ হয়ে উঠে তা নিতান্তই দূর্ভাগ্যজনক। বিচক্ষণ পাঠকরা তখন মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে উঠে। যা সামগ্রিক সাংবাদিকতার জন্য শোভন কিছু নয়। ঈর্ষা কাতর যে মিডিয়াটি ক্রেস্ট প্রদানের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একাত্তুরের কন্ঠযোদ্ধাদের সঙ্গীতানুষ্ঠানটির খবরটি প্রকাশ করেনি, সেই মিডিয়া কমিউনিটির কনভিকটেড এক সামাজিক অপরাধীর তথা কথিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের বিশাল কভারেজ দিতে কোন কার্পণ্য করে না।
অপর একটি মিডিয়ার একটি কলামে একজন লেখক লিখেছেন ‘একজন ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের মগজ কিনে ফেলেছেন’। একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনের সাথে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মগজ কেনার বিষয়টি কেন উঠে তা বোধগম্য নয়। এই লেখক অনেক দিন ধরেই প্রবাসে লেখা-লেখি করছেন। কিন্তু তিনি কমিউনিটির সমাজিক অপরাধীদের আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়ে কখনো টু শব্দটিও করেননি। কমিউনিটির দূর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও প্রগতিশীলতার জামা-কাপড় পড়ে কতিপয় ব্যক্তি বিশেষ এখনো ব্যক্তিগত হিংসা, ঈর্ষা ও বিদ্বেষের দেওয়াল টপকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমাদের সকলের করুনা তাদের প্রাপ্য। ২৫ ডিসেম্বর’২০১৫
(সাপ্তাহিক পরিচয়)