নিউইয়র্ক ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : গাফফার চৌধুরীর গোপন সভা ও কতিপয় ‘প্রগতিশীল’ এর আসল চেহারা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৮১৫ বার পঠিত

নিউইয়র্কে বিগত ২৫ বছর ধরে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রথমত প্রিন্ট মিডিয়া এবং পরবর্তীতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কমিউনিটির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কমিউনিটির তিনটি সংবাদপত্র গত ২০ বছরের অধিককাল ধরে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অপরদিকে তিনটি ইলেক্টনিক মিডিয়া গত ১০ বছরের বেশী সময় ধরে সম্প্রচার অব্যাহত রেখেছে। মহান পেশা সাংবাদিকতার প্রতি নিবেদিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এই পেশায় নিয়োজিত আছেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে প্রবাসের সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার জন্য কিছু ব্যক্তি বিশেষ নানাবিধ ছল-চাতুরির মাধ্যমে তাদের হীন প্রয়াস অব্যহত রেখেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্ক সফরকালে প্রগতিশীলতার সাইনবোর্ডে লুকিয়ে থাকা কতিপয় স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবি, পত্রিকা প্রকাশে ব্যর্থ লোকজন আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে প্রকৃত পেশাজীবি সাংবাদিকদের নিকট থেকে আড়াল করে আমেরিকার মতো দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশকে বিঘিœত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত ছিলেন।
অমর একুশে গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী নি:সন্দেহে একজন সাহসী কলামিস্ট। তিনি যা লেখেন এবং বলেন তা সাহস করেই বলেন। তার বক্তব্যের সাথে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু অধিকংশ ক্ষেত্রেই আব্দুল গাফফার চৌধুরী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও অতীতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি তার প্রতিপক্ষকে তার অবস্থান বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। নিউইয়র্কে এসে এবার তিনি স্থানীয় একটি বার্তা সংস্থা সৃষ্ট এবং ঢাকা ও নিউইয়র্কের কয়েকটি মিডিয়ার ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র শিকার হয়েছিলেন। সাপ্তাহিক পরিচয়-এর ১৫ জুলাই’র সংখ্যায় তা উল্লেখ ছিলো। কিন্তু আব্দুল গাফফার চৌধুরীর নিউইয়র্ক সফরকালে তাকে কেন্দ্র করে একাধিক সভার আয়োজকরা ঢাকা ও নিউইয়র্কের দু’একটি মিডিয়ার হলুদ সাংবাদিকতার তোপের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তাকে নিয়ে সভা করার বাহাদুরী জাহির করতে তাড়া একটি গোপন সভার আয়োজনের পরিকল্পনা করেন। গোপন সভার আয়োজকরা তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু-বান্ধবদের অনুষ্ঠানের কয়েক ঘন্টা পূর্বে টেক্স ম্যাসেজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত অবহিত করেন। জানা গেছে, আয়োজকরা নাকি ভয়ে ছিলেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে ধর্মীয় মৌলবাদীরা সভাস্থলে হামলা করতে পারে এবং আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সভা পুনরায় পন্ড করে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো সেই টেক্স ম্যাসেজ পাঠানোর তথ্য একাধিক মিডিয়ার কাছে ঠিকই পৌছেছিলো। কারণ দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আব্দুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্ক থেকে ফিরে গিয়ে ‘নিউইয়র্কের ঘটনা ও বন্ধুদের রটনা’ শীর্ষক লেখায় নিউইয়র্কের যে ২/৩টি পত্রিকা মৌলবাদীদের সমর্থক বলে ইংগিত করেছেন সেই পত্রিকাসমূহের সাথে গোপন সভার আয়োজকদের কয়েকজনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এরা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ভাষায় মৌলবাদের সমর্থক পত্রিকাসমূহের নিয়মিত লেখক, পৃষ্ঠপোষক ও সংবাদ প্রদানকারী। এরাই গাফফার চৌধুরীর নিউইয়র্ক সফরকালে তাকে আড়াল করে রেখেছিলেন নানা মতলবে।
আব্দুল গাফফার চৌধুরীর গোপন সভার মূল আয়োজকরা গাফফার চৌধুরীর সমর্থনে যা যা করার প্রয়াস পেয়েছেন তা একটি উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করেছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশনারত পেশাদার ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার সেবক কয়েকজন সম্পাদক ও সাংবাদিককে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয় নিয়ে খোদ গোপন সভাস্থলেই অনেকেই জানতে চেয়েছেন। আয়োজকরা তা পাস কাটিয়ে গেছেন। নিউইয়র্কে যে পত্রিকাটি গত কুড়ি বছর ধরে জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরীর প্রতিটি কলাম প্রকাশ করেছে, সেই সাপ্তাহিক পরিচয়-কেও গাফফার চৌধুরীর সভার ব্যাপারে কিছুই আগাম জানতে দেয়া হয়নি। সভা চলাকালীন সময়ে সভাস্থল থেকে একজন (হাজী এনাম) ফোন করে জানতে চান কেন পরিচয় পত্রিকার কোন প্রতিনিধি সভাস্থলে নেই। গোপন সভার আয়োজকদের ভিতরে কয়েকজন ব্যক্তি আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসের সফল মিডিয়াগুলোর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ও বিরূপ মনোভাব সম্পন্ন। মিডিয়ার প্রকাশনা অব্যহত রাখার ব্যর্থতার গ্লানি এদেরকে হীনমন্বতার গভীরে নিমজ্জিত করেছে। গোপন সভার আয়োজকদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি অধুনালুপ্ত একটি সাপ্তাহিক-এর বার্তা সম্পাদকের পদটি সপ্তাহে ২০০ ডলারে কিনে নিয়েছিলেন। যেন তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানে তার প্রকৃত চাকুরী রেষ্টুরেন্টের কর্মচারীর পরিবর্তে সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হতে পারেন। এমন ব্যক্তিই কমিউনিটির স্বঘোষিত প্রগতিশীল। গোপন সভার আয়োজকরা নিজেদের প্রগতিশীল দাবী করলেও আসলে স্বীয় স্বার্থ হাসিলের নানা ধান্ধায় সদা লিপ্ত। এরা বিগত ২০/২৫ বছর ধরে একাধিক সংগঠনের কলকাঠি নাড়ার নেপথ্যের কারিগর। এদের কারণেই কমিউনিটিতে সত্যিকারের প্রগতিশীল ও উদার মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছেন না। এ অবস্থার অবসান জরুরী। (সাপ্তাহিক পরিচয়)
৩১ জুলাই’২০১৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কের প্রেসনোট : গাফফার চৌধুরীর গোপন সভা ও কতিপয় ‘প্রগতিশীল’ এর আসল চেহারা

প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০১৫

নিউইয়র্কে বিগত ২৫ বছর ধরে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রথমত প্রিন্ট মিডিয়া এবং পরবর্তীতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কমিউনিটির সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কমিউনিটির তিনটি সংবাদপত্র গত ২০ বছরের অধিককাল ধরে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অপরদিকে তিনটি ইলেক্টনিক মিডিয়া গত ১০ বছরের বেশী সময় ধরে সম্প্রচার অব্যাহত রেখেছে। মহান পেশা সাংবাদিকতার প্রতি নিবেদিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এই পেশায় নিয়োজিত আছেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে প্রবাসের সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার জন্য কিছু ব্যক্তি বিশেষ নানাবিধ ছল-চাতুরির মাধ্যমে তাদের হীন প্রয়াস অব্যহত রেখেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিথযশা সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্ক সফরকালে প্রগতিশীলতার সাইনবোর্ডে লুকিয়ে থাকা কতিপয় স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবি, পত্রিকা প্রকাশে ব্যর্থ লোকজন আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে প্রকৃত পেশাজীবি সাংবাদিকদের নিকট থেকে আড়াল করে আমেরিকার মতো দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশকে বিঘিœত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত ছিলেন।
অমর একুশে গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী নি:সন্দেহে একজন সাহসী কলামিস্ট। তিনি যা লেখেন এবং বলেন তা সাহস করেই বলেন। তার বক্তব্যের সাথে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু অধিকংশ ক্ষেত্রেই আব্দুল গাফফার চৌধুরী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও অতীতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি তার প্রতিপক্ষকে তার অবস্থান বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। নিউইয়র্কে এসে এবার তিনি স্থানীয় একটি বার্তা সংস্থা সৃষ্ট এবং ঢাকা ও নিউইয়র্কের কয়েকটি মিডিয়ার ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র শিকার হয়েছিলেন। সাপ্তাহিক পরিচয়-এর ১৫ জুলাই’র সংখ্যায় তা উল্লেখ ছিলো। কিন্তু আব্দুল গাফফার চৌধুরীর নিউইয়র্ক সফরকালে তাকে কেন্দ্র করে একাধিক সভার আয়োজকরা ঢাকা ও নিউইয়র্কের দু’একটি মিডিয়ার হলুদ সাংবাদিকতার তোপের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তাকে নিয়ে সভা করার বাহাদুরী জাহির করতে তাড়া একটি গোপন সভার আয়োজনের পরিকল্পনা করেন। গোপন সভার আয়োজকরা তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু-বান্ধবদের অনুষ্ঠানের কয়েক ঘন্টা পূর্বে টেক্স ম্যাসেজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত অবহিত করেন। জানা গেছে, আয়োজকরা নাকি ভয়ে ছিলেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে ধর্মীয় মৌলবাদীরা সভাস্থলে হামলা করতে পারে এবং আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সভা পুনরায় পন্ড করে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো সেই টেক্স ম্যাসেজ পাঠানোর তথ্য একাধিক মিডিয়ার কাছে ঠিকই পৌছেছিলো। কারণ দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আব্দুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্ক থেকে ফিরে গিয়ে ‘নিউইয়র্কের ঘটনা ও বন্ধুদের রটনা’ শীর্ষক লেখায় নিউইয়র্কের যে ২/৩টি পত্রিকা মৌলবাদীদের সমর্থক বলে ইংগিত করেছেন সেই পত্রিকাসমূহের সাথে গোপন সভার আয়োজকদের কয়েকজনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এরা আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ভাষায় মৌলবাদের সমর্থক পত্রিকাসমূহের নিয়মিত লেখক, পৃষ্ঠপোষক ও সংবাদ প্রদানকারী। এরাই গাফফার চৌধুরীর নিউইয়র্ক সফরকালে তাকে আড়াল করে রেখেছিলেন নানা মতলবে।
আব্দুল গাফফার চৌধুরীর গোপন সভার মূল আয়োজকরা গাফফার চৌধুরীর সমর্থনে যা যা করার প্রয়াস পেয়েছেন তা একটি উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করেছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশনারত পেশাদার ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার সেবক কয়েকজন সম্পাদক ও সাংবাদিককে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয় নিয়ে খোদ গোপন সভাস্থলেই অনেকেই জানতে চেয়েছেন। আয়োজকরা তা পাস কাটিয়ে গেছেন। নিউইয়র্কে যে পত্রিকাটি গত কুড়ি বছর ধরে জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরীর প্রতিটি কলাম প্রকাশ করেছে, সেই সাপ্তাহিক পরিচয়-কেও গাফফার চৌধুরীর সভার ব্যাপারে কিছুই আগাম জানতে দেয়া হয়নি। সভা চলাকালীন সময়ে সভাস্থল থেকে একজন (হাজী এনাম) ফোন করে জানতে চান কেন পরিচয় পত্রিকার কোন প্রতিনিধি সভাস্থলে নেই। গোপন সভার আয়োজকদের ভিতরে কয়েকজন ব্যক্তি আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসের সফল মিডিয়াগুলোর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ও বিরূপ মনোভাব সম্পন্ন। মিডিয়ার প্রকাশনা অব্যহত রাখার ব্যর্থতার গ্লানি এদেরকে হীনমন্বতার গভীরে নিমজ্জিত করেছে। গোপন সভার আয়োজকদের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি অধুনালুপ্ত একটি সাপ্তাহিক-এর বার্তা সম্পাদকের পদটি সপ্তাহে ২০০ ডলারে কিনে নিয়েছিলেন। যেন তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানে তার প্রকৃত চাকুরী রেষ্টুরেন্টের কর্মচারীর পরিবর্তে সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হতে পারেন। এমন ব্যক্তিই কমিউনিটির স্বঘোষিত প্রগতিশীল। গোপন সভার আয়োজকরা নিজেদের প্রগতিশীল দাবী করলেও আসলে স্বীয় স্বার্থ হাসিলের নানা ধান্ধায় সদা লিপ্ত। এরা বিগত ২০/২৫ বছর ধরে একাধিক সংগঠনের কলকাঠি নাড়ার নেপথ্যের কারিগর। এদের কারণেই কমিউনিটিতে সত্যিকারের প্রগতিশীল ও উদার মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছেন না। এ অবস্থার অবসান জরুরী। (সাপ্তাহিক পরিচয়)
৩১ জুলাই’২০১৫