নিউইয়র্ক ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৯৫০ বার পঠিত

ঢাকা: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) বার্ষিক কাউন্সিল ১৭ অক্টোবর শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত প্রস্তাবে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে’র নির্বাচিত সভাপতি, মেধাবী নন্দিত সাংবাদিক শওকত মাহমুদ এবং দৈনিক আমার দেশ এর নির্ভিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি আব্দুল হাই সিকদার, সাবেক সভাপতি আব্দুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, সরদার ফরিদ আহমেদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলামসহ ঢাকা ও সারা দেশ থেকে আগত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বিএফইউজে মহাসচিব এম এ আজিজের রিপোর্টের উপর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেন এবং পরে তা গৃহীত হয়। কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মোদাব্বের হোসেন। এছাড়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)সহ বিভিন্ন অঙ্গ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকরা সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। রিপোর্টের ওপর আরো যারা আলোচনায় অংশ নেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমিন রোকন, রেজাউল করীম রাজু, শাহনেওয়াজ, আবু ইউসুফ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, ইসকান্দার আলী চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম কচি, আনিসুজ্জামান, আব্দুল আউয়াল, সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার, মমিনুর রশিদ শাইন, শফিউল্লাহ শফি, খায়রুল বাশার, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, এহতেশামুল হক শাওন, নুর ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রানা, মাহফুজ মন্ডল প্রমুখ।
কাউন্সিলে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ঘোর দুর্দিন চলছে। বন্ধ গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন বেকার থাকা সংবাদকর্মীদের নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কারাবন্দী ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবারে নেমে এসেছে অমানিশা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ানসহ বন্ধ করে দেয়া সকল গণমাধ্যম অনতিবিলম্বে খুলে দিতে হবে। রাজধানীর বাইরে আরও কয়েকশ’ সংবাদপত্র নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, ভিন্নমতের কারণে সরকারের বিজ্ঞাপন বৈষম্য ও রক্তচক্ষুর কবলে পড়ে পাঠকপ্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকা চরম অর্থকষ্টে ভুগছে। বেতন ভাতা বকেয়া পড়েছে মাসের পর মাস। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর অনৈতিক চাপ, হুমকি এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্য-প্রকাশ্য সব চাপ ও হুমকি বন্ধ করতে হবে। বিজ্ঞাপনকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের সরকারি ঘৃণ্য তৎপরতা পরিত্যাগ করতে হবে। এতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে সাগর-রুনীসহ নিহত ২৪ জন সাংবাদিকের খুনিদের অবিলম্বে পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিগৃহীত দুই সহস্রাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা-মামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭ দফা প্রস্তাবের আরেকটিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী ধারা বাতিল করতে হবে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ও অনলাইন নীতিমালার নামে মিডিয়ার ওপর নয়া কালাকানুন চাপিয়ে দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।
এতে বলা হয়, সাংবাদিক সমাজের ‘সেকেন্ড হোম’ খ্যাত জাতীয় প্রেসক্লাবকে দখলদারমুক্ত করে নির্বাচিত কমিটির হাতে এর পরিচালনার ভার ন্যস্ত করতে হবে। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সাংবাদিক ইউনিয়ন নিয়ে নোংরা ও ন্যক্কারজনক অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করার প্রেক্ষাপটে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করে গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।(দৈনিক সংগ্রাম)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে

প্রকাশের সময় : ০৫:২৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকা: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) বার্ষিক কাউন্সিল ১৭ অক্টোবর শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত প্রস্তাবে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে’র নির্বাচিত সভাপতি, মেধাবী নন্দিত সাংবাদিক শওকত মাহমুদ এবং দৈনিক আমার দেশ এর নির্ভিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি আব্দুল হাই সিকদার, সাবেক সভাপতি আব্দুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, সরদার ফরিদ আহমেদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলামসহ ঢাকা ও সারা দেশ থেকে আগত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বিএফইউজে মহাসচিব এম এ আজিজের রিপোর্টের উপর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেন এবং পরে তা গৃহীত হয়। কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মোদাব্বের হোসেন। এছাড়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)সহ বিভিন্ন অঙ্গ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকরা সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। রিপোর্টের ওপর আরো যারা আলোচনায় অংশ নেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমিন রোকন, রেজাউল করীম রাজু, শাহনেওয়াজ, আবু ইউসুফ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, ইসকান্দার আলী চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম কচি, আনিসুজ্জামান, আব্দুল আউয়াল, সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার, মমিনুর রশিদ শাইন, শফিউল্লাহ শফি, খায়রুল বাশার, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, এহতেশামুল হক শাওন, নুর ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রানা, মাহফুজ মন্ডল প্রমুখ।
কাউন্সিলে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ঘোর দুর্দিন চলছে। বন্ধ গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন বেকার থাকা সংবাদকর্মীদের নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কারাবন্দী ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবারে নেমে এসেছে অমানিশা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ানসহ বন্ধ করে দেয়া সকল গণমাধ্যম অনতিবিলম্বে খুলে দিতে হবে। রাজধানীর বাইরে আরও কয়েকশ’ সংবাদপত্র নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, ভিন্নমতের কারণে সরকারের বিজ্ঞাপন বৈষম্য ও রক্তচক্ষুর কবলে পড়ে পাঠকপ্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকা চরম অর্থকষ্টে ভুগছে। বেতন ভাতা বকেয়া পড়েছে মাসের পর মাস। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও ভিন্নমতের সাংবাদিকদের ওপর অনৈতিক চাপ, হুমকি এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্য-প্রকাশ্য সব চাপ ও হুমকি বন্ধ করতে হবে। বিজ্ঞাপনকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের সরকারি ঘৃণ্য তৎপরতা পরিত্যাগ করতে হবে। এতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে সাগর-রুনীসহ নিহত ২৪ জন সাংবাদিকের খুনিদের অবিলম্বে পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিগৃহীত দুই সহস্রাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা-মামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭ দফা প্রস্তাবের আরেকটিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী ধারা বাতিল করতে হবে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ও অনলাইন নীতিমালার নামে মিডিয়ার ওপর নয়া কালাকানুন চাপিয়ে দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।
এতে বলা হয়, সাংবাদিক সমাজের ‘সেকেন্ড হোম’ খ্যাত জাতীয় প্রেসক্লাবকে দখলদারমুক্ত করে নির্বাচিত কমিটির হাতে এর পরিচালনার ভার ন্যস্ত করতে হবে। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সাংবাদিক ইউনিয়ন নিয়ে নোংরা ও ন্যক্কারজনক অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করার প্রেক্ষাপটে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করে গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।(দৈনিক সংগ্রাম)