নিউইয়র্ক ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে শিল্পী শহীদ হাসানের গানে মুগ্ধ প্রবাসী দর্শক-শ্রোতা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০১৫
  • / ৯৯২ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে পুরোনো দিনের গানে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শহীদ হাসান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় জামাইকার বাংলাদেশী একটি রেস্তোরার হল রুমে অনুষ্ঠিত তাঁর একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে তিনি পুরোনো দিনের আধুনিক বাংলা গান গেয়ে উপচে পড়া দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, শিল্পী শহীদ হাসান আমাদের দেশের একজন গর্ব। তাঁর গান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তরুন মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে উনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল তা সকলেরই মনে আছে। তাঁর ভরাট কন্ঠের গান প্রবাসীদেরকে এখনো উদ্দীপনা যোগাচ্ছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, শিল্পী শহীদ হাসানের মুক্তিযুদ্ধের গান আজও মানুষের হৃদয়ে এখনো বাজে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরাসরি তাঁর গান শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর গান আমার মত অনেককেই মুগ্ধ করে। শিল্পী শহীদ হাসানের গান দেশ-বিদেশের গণমানুষের মাঝে আরো ছড়িয়ে পড়ুক তিনি সেই প্রত্যাশা করেন ।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহীদ হাসানের মত একজন গুণী শিল্পীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি তাঁর গানের একজন ভক্ত হিসেবেই এই একক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করেছি। প্রবাসে প্রতিভাবান ব্যক্তিসহ সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ হাসান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় গানসহ পুরোনো দিনের প্রায় বিশটি গান পরিবেশন করে হলভর্তি দর্শকদের প্রায় দু’ঘণ্টা মাতিয়ে রাখেন। এছাড়াও দর্শকদের অনুরোধেও তিনি বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। একক সঙ্গীত সন্ধ্যার অনুভুতি ব্যক্ত করে শহীদ হাসান বলেন, প্রবাসে আমার একক এই সঙ্গীত সন্ধ্যায় উপস্থিত গুণী মানুষদের সামনে গান গেয়ে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। যিনি এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছেন নিঃসন্দেহে তিনি একজন মহৎ ও বড় মনের মানুষ। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর এ ভালবাসা প্রবাসের সকল শিল্পীদের চিরদিন মনে থাকবে। শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন বিশিষ্ট তবলা বাদক তপন মোদক, কীবোর্ডে ছিলেন পার্থ বড়ুয়া আর মন্দিরায় ছিলেন কাওসার আহমেদ মন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রবাসের বিশিষ্ট উপস্থাপিকা শারমিন রেজা ইভা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত তরুণ রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন খান মিঠু’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর শিল্পী শহীদ হাসানের সম্মানার্থে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা দু’টি করে গান পরিবেশন করেন। শিল্পীরা হলেন শারমীন মহসীন, কৌশলী ইমা, জোহা চৌধুরী মানিক, চন্দন চৌধুরী ও ডা. শাহনাজ আলম লিপি। অনুষ্ঠানের মাঝে প্রবাসের বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী দম্পতি জামাল উদ্দিন হোসেন ও রওশন আরা হোসেন ‘বিবিসাব’ নাটকের সংলাপ শোনান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইনজীবি মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিইউয়র্কের সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, মুলধারার রাজনীতিবিদ মোর্শেদ আলম, ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবিএম ওসমান গণি, আব্দুল মতিন, শিল্পী স্বপ্না কাওসার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট বেদারুল ইসলাম বাবলা, জাকারিয়া চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম দেলাওয়ার প্রমুখ। শেষে অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি কেক কাটা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ হাসান। তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে প্রথম টেলিভিশন ও রেডিওতে গান পরিবেশন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে রওশন আরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।(দৈনিক কালের কন্ঠ)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নিউইয়র্কে শিল্পী শহীদ হাসানের গানে মুগ্ধ প্রবাসী দর্শক-শ্রোতা

প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০১৫

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে পুরোনো দিনের গানে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শহীদ হাসান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় জামাইকার বাংলাদেশী একটি রেস্তোরার হল রুমে অনুষ্ঠিত তাঁর একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে তিনি পুরোনো দিনের আধুনিক বাংলা গান গেয়ে উপচে পড়া দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, শিল্পী শহীদ হাসান আমাদের দেশের একজন গর্ব। তাঁর গান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তরুন মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে উনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল তা সকলেরই মনে আছে। তাঁর ভরাট কন্ঠের গান প্রবাসীদেরকে এখনো উদ্দীপনা যোগাচ্ছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, শিল্পী শহীদ হাসানের মুক্তিযুদ্ধের গান আজও মানুষের হৃদয়ে এখনো বাজে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরাসরি তাঁর গান শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর গান আমার মত অনেককেই মুগ্ধ করে। শিল্পী শহীদ হাসানের গান দেশ-বিদেশের গণমানুষের মাঝে আরো ছড়িয়ে পড়ুক তিনি সেই প্রত্যাশা করেন ।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহীদ হাসানের মত একজন গুণী শিল্পীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি তাঁর গানের একজন ভক্ত হিসেবেই এই একক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করেছি। প্রবাসে প্রতিভাবান ব্যক্তিসহ সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহীদ হাসান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় গানসহ পুরোনো দিনের প্রায় বিশটি গান পরিবেশন করে হলভর্তি দর্শকদের প্রায় দু’ঘণ্টা মাতিয়ে রাখেন। এছাড়াও দর্শকদের অনুরোধেও তিনি বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। একক সঙ্গীত সন্ধ্যার অনুভুতি ব্যক্ত করে শহীদ হাসান বলেন, প্রবাসে আমার একক এই সঙ্গীত সন্ধ্যায় উপস্থিত গুণী মানুষদের সামনে গান গেয়ে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। যিনি এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছেন নিঃসন্দেহে তিনি একজন মহৎ ও বড় মনের মানুষ। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর এ ভালবাসা প্রবাসের সকল শিল্পীদের চিরদিন মনে থাকবে। শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন বিশিষ্ট তবলা বাদক তপন মোদক, কীবোর্ডে ছিলেন পার্থ বড়ুয়া আর মন্দিরায় ছিলেন কাওসার আহমেদ মন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রবাসের বিশিষ্ট উপস্থাপিকা শারমিন রেজা ইভা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত তরুণ রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন খান মিঠু’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর শিল্পী শহীদ হাসানের সম্মানার্থে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা দু’টি করে গান পরিবেশন করেন। শিল্পীরা হলেন শারমীন মহসীন, কৌশলী ইমা, জোহা চৌধুরী মানিক, চন্দন চৌধুরী ও ডা. শাহনাজ আলম লিপি। অনুষ্ঠানের মাঝে প্রবাসের বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী দম্পতি জামাল উদ্দিন হোসেন ও রওশন আরা হোসেন ‘বিবিসাব’ নাটকের সংলাপ শোনান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইনজীবি মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক নিইউয়র্কের সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, মুলধারার রাজনীতিবিদ মোর্শেদ আলম, ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবিএম ওসমান গণি, আব্দুল মতিন, শিল্পী স্বপ্না কাওসার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট বেদারুল ইসলাম বাবলা, জাকারিয়া চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম দেলাওয়ার প্রমুখ। শেষে অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি কেক কাটা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ হাসান। তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে প্রথম টেলিভিশন ও রেডিওতে গান পরিবেশন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে রওশন আরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।(দৈনিক কালের কন্ঠ)