নিউইয়র্ক ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

চাষী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ‘ওরা ১২ জন’

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • / ৭১৭ বার পঠিত

ঢাকা: ১৯৭২ সালে ‘ওরা ১১ জন’ ছবিটি দেখার পর একাত্তরের মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর আবার চোখের সামনে যেন ফুটে উঠল ধারাবাহিকভাবে। সে কথা আমরা চাষী নজরুল ইসলামকে বলেছিলাম। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর তিনি সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় এসেছিলেন। সম্পাদকীয় দপ্তরে বসে আড্ডা দিতে গিয়ে চাষী ভাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। আমরা ‘ওরা ১১ জন’-এর কারিগরি দুর্বলতার কথা তুললে তিনি সঙ্গে সঙ্গে একমত হয়ে সকলের সহযোগিতা চেয়েছিলেন যাতে পরবর্তী চলচ্চিত্রে তা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

ওরা ১১ জন’-এর চিত্রগ্রহণের সময় বিভিন্ন পত্রিকায় সদ্য স্বাধীন দেশে যুদ্ধের ছবি তৈরির নানাবিধ সংকটের কথা প্রকাশিত হয়েছিল চাষী নজরুল ইসলাম ও চলচ্চিত্রটির প্রযোজক মাসুদ পারভেজ-এর অভিজ্ঞতার আলোকে। ছবিটি শেষ করা সম্ভব হয়েছিল চাষী ভাইয়ের সাহস আর পারভেজ ভাইয়ের দৃঢ় সংকল্পের কারণে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কথাও এসে যায়। ‘ছবি তৈরির সময় আর্মস ও অ্যাম্যুনেশন দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান’ (চাষী নজরুল ইসলাম : আমার ওরা ১১জন, দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০০৭)। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে অন্যদের পথ দেখিয়েছিলেন এই দুই তরুণ। একজন সদ্য তিরিশে, অন্যজন ক’বছর বেশি। তরুণরাই মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসের সঙ্গে লড়েছেন, যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণেও নেতৃত্বের আসনে সেদিন সেই তরুণরাই ছিলেন অগ্রগামী।

চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে তখন আমি লিখেছিলাম, ‘… সমগ্র বাংলাদেশ একাত্তরের দুর্জয় শপথে দৃপ্ত বাংলাদেশ হয়ে ওঠে এই ১১ জনের মধ্যে। আবেগতাড়িত দর্শক নিজেকেই খুঁজে পায় তাদের মাঝে, পরিচালকের কৃতিত্ব এখানে।’ আজকে মনে পড়ছে, চলচ্চিত্রটির বিজ্ঞাপনের ভাষায় ছিল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার প্রেরণা। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘রক্ত দিয়ে বাঙালী তার নিজের ইতিহাস রচনা করেছে। ত্যাগ ও সংগ্রামের অব্যক্ত ঘটনাবলীর এই প্রতিচ্ছবি, স্বাধীনতা যারা ভালবাসেন তাদের সবার জন্য। স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্রজগতের এক যুগান্তকারী প্রচেষ্টা।’

চাষী নজরুল ইসলামকে ‘ওরা ১১ জন’ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। ‘ওরা ১১ জন’ মানে চাষী নজরুল, আর চাষী নজরুল মানে ‘ওরা ১১ জন’। সে কারণে এই লেখাটির শুরু ‘ওরা ১১ জন’ দিয়েই। আমি অবশ্য চাষী ভাইকে বলতাম, আপনি বানিয়েছেন ‘ওরা ১১ জন’, বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু দেখে ‘ওরা ১২ জন’। অর্থাৎ এই একজন হলেন স্বয়ং চাষী ভাই। তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রটিও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। ‘সংগ্রাম’ নামের চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ-এর ডায়েরি অবলম্বনে তৈরি হয় এ ছবির কাহিনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চাষী ভাইয়ের আলাদা একটা টান ছিল। অনেক পরে তিনি আরো দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। একটি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৯৭), অন্যটি ‘ধ্রুবতারা’ (২০০৭)। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণের অগ্রপথিক চাষী ভাই সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ‘দেবদাস’, ‘শুভদা’, ‘চন্দ্রনাথ’ তাঁর তৈরি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে সৃজনশীল শিল্পকর্মের প্রতি একজন শিল্পীর নিবেদন হিসেবে।

১৯৭২ সালে তাঁর সঙ্গে যে পরিচয়ে শুরু তা ক্রমশ গভীর হয়েছে বন্ধুসুলভ অন্তরঙ্গতায়। সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের দেখা সাক্ষাত কমে যায় কিন্তু অক্ষুন্ন ছিল অন্তরঙ্গতা। যখনই কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে প্রায় ফিরে গেছি ১৯৭০/৮০ দশকের স্মৃতিচারণায়। ‘চ্যানেল আই’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রায় প্রতি বছর দেখা হয়েছে । গতবারও যখন এ অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলছিলেন, কণ্ঠে সেই তেজদ্দীপ্ত স্বর, মনোবলের দৃঢ়তা লক্ষ্য করেছিলাম। অসুস্থতা কিছুটা চিন্তিত করলেও তা প্রকাশ করতেন না। বলতেন, ‘অসুখ বিসুখ তো আছেই মানুষের।’

৪২ বছর আগে তরুণ বয়সে ছিলেন দৃঢ়চিত্ত, উদাত্ত কণ্ঠের বক্তা। একই ধারা বজায় রেখেছেন সারাজীবন। অসুস্থ হয়ে শেষবারের মতো হাসপাতালে যাওয়ার আগেও সেমিনার বা গোলটেবিল আলোচনায় কথা বলেছেন জোর কণ্ঠে। যা বিশ্বাস করেছেন তা বলতে দ্বিধা করেননি। ভয়-ভীতি তাকে কখনও কাবু করেনি। এটা ভাবতে ভালো লাগে যে, নানাবিধ ব্যক্তিগত ও পেশাগত সংকটে পড়লেও কখনো আত্মবিশ্বাস হারাননি চাষী ভাই। জীবনের মুহূর্তগুলো নানাভাবে উপভোগ করেছেন, অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করেছেন। হতে চেয়েছিলেন দিলিপ কুমারের মতো নায়ক অভিনেতা । মীনা কুমারীর পরামর্শে সদ্য তরুণ চাষী নজরুল ইসলাম দিলিপ কুমার হওয়ার বাসনা ত্যাগ করে বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) থেকে ঢাকা ফিরে এসে লেখাপড়ায় মনোযোগী হলেন ঠিকই, কিন্তু চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রেম থেকে গেল সারা জীবন। হলেন দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক। খ্যাতিমান হয়ে রইলেন মুক্তিযুদ্ধ আর সাহিত্য নির্ভর অগ্রণী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

চাষী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ‘ওরা ১২ জন’

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: ১৯৭২ সালে ‘ওরা ১১ জন’ ছবিটি দেখার পর একাত্তরের মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর আবার চোখের সামনে যেন ফুটে উঠল ধারাবাহিকভাবে। সে কথা আমরা চাষী নজরুল ইসলামকে বলেছিলাম। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর তিনি সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় এসেছিলেন। সম্পাদকীয় দপ্তরে বসে আড্ডা দিতে গিয়ে চাষী ভাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে আরো চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। আমরা ‘ওরা ১১ জন’-এর কারিগরি দুর্বলতার কথা তুললে তিনি সঙ্গে সঙ্গে একমত হয়ে সকলের সহযোগিতা চেয়েছিলেন যাতে পরবর্তী চলচ্চিত্রে তা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

ওরা ১১ জন’-এর চিত্রগ্রহণের সময় বিভিন্ন পত্রিকায় সদ্য স্বাধীন দেশে যুদ্ধের ছবি তৈরির নানাবিধ সংকটের কথা প্রকাশিত হয়েছিল চাষী নজরুল ইসলাম ও চলচ্চিত্রটির প্রযোজক মাসুদ পারভেজ-এর অভিজ্ঞতার আলোকে। ছবিটি শেষ করা সম্ভব হয়েছিল চাষী ভাইয়ের সাহস আর পারভেজ ভাইয়ের দৃঢ় সংকল্পের কারণে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতার কথাও এসে যায়। ‘ছবি তৈরির সময় আর্মস ও অ্যাম্যুনেশন দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান’ (চাষী নজরুল ইসলাম : আমার ওরা ১১জন, দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০০৭)। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে অন্যদের পথ দেখিয়েছিলেন এই দুই তরুণ। একজন সদ্য তিরিশে, অন্যজন ক’বছর বেশি। তরুণরাই মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসের সঙ্গে লড়েছেন, যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণেও নেতৃত্বের আসনে সেদিন সেই তরুণরাই ছিলেন অগ্রগামী।

চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে তখন আমি লিখেছিলাম, ‘… সমগ্র বাংলাদেশ একাত্তরের দুর্জয় শপথে দৃপ্ত বাংলাদেশ হয়ে ওঠে এই ১১ জনের মধ্যে। আবেগতাড়িত দর্শক নিজেকেই খুঁজে পায় তাদের মাঝে, পরিচালকের কৃতিত্ব এখানে।’ আজকে মনে পড়ছে, চলচ্চিত্রটির বিজ্ঞাপনের ভাষায় ছিল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার প্রেরণা। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘রক্ত দিয়ে বাঙালী তার নিজের ইতিহাস রচনা করেছে। ত্যাগ ও সংগ্রামের অব্যক্ত ঘটনাবলীর এই প্রতিচ্ছবি, স্বাধীনতা যারা ভালবাসেন তাদের সবার জন্য। স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্রজগতের এক যুগান্তকারী প্রচেষ্টা।’

চাষী নজরুল ইসলামকে ‘ওরা ১১ জন’ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। ‘ওরা ১১ জন’ মানে চাষী নজরুল, আর চাষী নজরুল মানে ‘ওরা ১১ জন’। সে কারণে এই লেখাটির শুরু ‘ওরা ১১ জন’ দিয়েই। আমি অবশ্য চাষী ভাইকে বলতাম, আপনি বানিয়েছেন ‘ওরা ১১ জন’, বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু দেখে ‘ওরা ১২ জন’। অর্থাৎ এই একজন হলেন স্বয়ং চাষী ভাই। তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রটিও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। ‘সংগ্রাম’ নামের চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে। মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ-এর ডায়েরি অবলম্বনে তৈরি হয় এ ছবির কাহিনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চাষী ভাইয়ের আলাদা একটা টান ছিল। অনেক পরে তিনি আরো দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। একটি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৯৭), অন্যটি ‘ধ্রুবতারা’ (২০০৭)। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণের অগ্রপথিক চাষী ভাই সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ‘দেবদাস’, ‘শুভদা’, ‘চন্দ্রনাথ’ তাঁর তৈরি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে সৃজনশীল শিল্পকর্মের প্রতি একজন শিল্পীর নিবেদন হিসেবে।

১৯৭২ সালে তাঁর সঙ্গে যে পরিচয়ে শুরু তা ক্রমশ গভীর হয়েছে বন্ধুসুলভ অন্তরঙ্গতায়। সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের দেখা সাক্ষাত কমে যায় কিন্তু অক্ষুন্ন ছিল অন্তরঙ্গতা। যখনই কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে প্রায় ফিরে গেছি ১৯৭০/৮০ দশকের স্মৃতিচারণায়। ‘চ্যানেল আই’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রায় প্রতি বছর দেখা হয়েছে । গতবারও যখন এ অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলছিলেন, কণ্ঠে সেই তেজদ্দীপ্ত স্বর, মনোবলের দৃঢ়তা লক্ষ্য করেছিলাম। অসুস্থতা কিছুটা চিন্তিত করলেও তা প্রকাশ করতেন না। বলতেন, ‘অসুখ বিসুখ তো আছেই মানুষের।’

৪২ বছর আগে তরুণ বয়সে ছিলেন দৃঢ়চিত্ত, উদাত্ত কণ্ঠের বক্তা। একই ধারা বজায় রেখেছেন সারাজীবন। অসুস্থ হয়ে শেষবারের মতো হাসপাতালে যাওয়ার আগেও সেমিনার বা গোলটেবিল আলোচনায় কথা বলেছেন জোর কণ্ঠে। যা বিশ্বাস করেছেন তা বলতে দ্বিধা করেননি। ভয়-ভীতি তাকে কখনও কাবু করেনি। এটা ভাবতে ভালো লাগে যে, নানাবিধ ব্যক্তিগত ও পেশাগত সংকটে পড়লেও কখনো আত্মবিশ্বাস হারাননি চাষী ভাই। জীবনের মুহূর্তগুলো নানাভাবে উপভোগ করেছেন, অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করেছেন। হতে চেয়েছিলেন দিলিপ কুমারের মতো নায়ক অভিনেতা । মীনা কুমারীর পরামর্শে সদ্য তরুণ চাষী নজরুল ইসলাম দিলিপ কুমার হওয়ার বাসনা ত্যাগ করে বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) থেকে ঢাকা ফিরে এসে লেখাপড়ায় মনোযোগী হলেন ঠিকই, কিন্তু চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রেম থেকে গেল সারা জীবন। হলেন দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক। খ্যাতিমান হয়ে রইলেন মুক্তিযুদ্ধ আর সাহিত্য নির্ভর অগ্রণী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে।