নিউইয়র্ক ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

আমেরিকান মঞ্চে বন্যার রবীন্দ্র সঙ্গীতে মুগ্ধ সকলে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০১৫
  • / ৯৮১ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’, ‘যদি জানতে আমার কীসের ব্যাথা-তোমায় জানাতাম’, ‘আমি কান পেতে রই’ ইত্যাদি সব জনপ্রিয় গানে আপ্লুত হলেন আমেরিকান দর্শক-শ্রোতা। মঞ্চে আমেরিকানদের উপস্থিতিতে রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিরল এ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। মূলধারার মঞ্চে সম্ভবত: এটিই কোন বাংলাদেশী শিল্পীর প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনা।
গত ৭ জুন শনিবার সন্ধ্যা ঠিক আটটা ৫ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির সিম্ফনী স্পেস মিলনায়তনের পর্দা উঠলে শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও লেখক হাসান ফেরদৌস। এরপরই মঞ্চের পেছনে বন্যার কাছে সঙ্গীত শিখছেন এমন ১৫ শিল্পী আসন নেন। এরা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন। মঞ্চের দু’পাশে ৬ যন্ত্রশিল্পী আসন নেন। মাঝে বসেন বন্যা। এরপরই গানের বন্যা বইয়ে দেন সকলের প্রিয় এই শিল্পী।
কোন কোন গানের প্রেক্ষাপট উপস্থাপিত হয় শিক্ষার্থী শিল্পীদের কন্ঠে। সবকটি গানের ইংরেজী অনুবাদ ভেসে উঠে পেছনের বড় পর্দায়। সুর এবং ছন্দে আচ্ছাদিত হয় গোটা মিলনায়তন। শ’তিনেক দর্শক-শ্রোতার সকলেই পিন-পতন নিরবতায় তার গান শোনেন। এ সময় শ্রীচিন্ময়ের পছন্দের একটি গানও পরিবেশিত হয়।
Banya-singing-1মাঝে ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে আড়াই ঘন্টায় বন্যা ২০টি গান গেয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’, ‘যদি জানতে আমার কীসের ব্যাথা-তোমায় জানাতাম’, ‘আমি কান পেতে রই’, ‘তাই তোমার আনন্দ’, ‘তোমার এই ঝর্ণা তলায় নির্জনে’, ‘তোমার খোলা হাওয়া’, ‘আমারে তুমি অশেষ করেছো’, ‘জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’, ‘অঙ্গবীণা বাজাও তুমি’, ‘দুই হাতে কালের মন্দির’, ‘সুন্দর তুমি ভেতরে বাইরে’, ‘তোমায় গান শোনাবে তাইতো আমায় জাগিয়ে রাখো’, ‘আমি চিনি গো চিনিগো তোমারে ওগো বিদেশীনি’, ‘আনন্দালোকে ম্ঙ্গলালোকে’, ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’, ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’, ‘আনন্দধারা বহিছে ভূবনে’, ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’, ‘মোর ভাবনারে কী মাতালো’ এবং আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’। এরমধ্যে সুন্দর তুমি ভেতরে বাইরে গানটি পরিবেশিত হয় মানবতার জন্যে নিজেকে উৎসর্গকারী এবং জাতিসংঘের শান্তির দূত প্রয়াস শ্রীচিন্ময় সেন্টারের বিশেষ অনুরোধে। উল্লেখ্য, এই আয়োজনে শ্রীচিন্ময়ের ভক্তরাও ছিলেন।
নিউইয়র্কস্থ মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং চ্যানেল আই এর সার্বিক সহায়তায় এ সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ইন্সটিটিউট’র উদ্যোগে। দর্শক-শ্রোতার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর উপস্থিতিও ছিল উল্লেখ করার মত। চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ ছিলেন দর্শকের মাঝে।
গভীর রাতে বন্যার গানে মুগ্ধ সকলে ‘আমি কান পেতে রই’ উচ্চারণ করে গুনগুনিয়ে ঘরে ফেরেন। এর আগে বন্যার গান শেষ হবার সাথে সাথে বেশ ক’জন ভক্ত মঞ্চে উঠে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী নন্দিনী ব্যানার্জি রবীন্দ্র সঙ্গীত বিষয়ে পিএইচডি করছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। তিনিও মঞ্চে উঠে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এত চমৎকারভাবে রবীঠাকুরের গান রপ্ত করার জন্যে। সে সময় নন্দিনীর মা মুক্তি ব্যানার্জিও বন্যাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান আমেরিকা এবং কানাডার তরুণ-তরুণীদের রবীন্দ্র সঙ্গীত শেখানোর জন্যে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

আমেরিকান মঞ্চে বন্যার রবীন্দ্র সঙ্গীতে মুগ্ধ সকলে

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০১৫

নিউইয়র্ক: ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’, ‘যদি জানতে আমার কীসের ব্যাথা-তোমায় জানাতাম’, ‘আমি কান পেতে রই’ ইত্যাদি সব জনপ্রিয় গানে আপ্লুত হলেন আমেরিকান দর্শক-শ্রোতা। মঞ্চে আমেরিকানদের উপস্থিতিতে রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিরল এ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। মূলধারার মঞ্চে সম্ভবত: এটিই কোন বাংলাদেশী শিল্পীর প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনা।
গত ৭ জুন শনিবার সন্ধ্যা ঠিক আটটা ৫ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির সিম্ফনী স্পেস মিলনায়তনের পর্দা উঠলে শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও লেখক হাসান ফেরদৌস। এরপরই মঞ্চের পেছনে বন্যার কাছে সঙ্গীত শিখছেন এমন ১৫ শিল্পী আসন নেন। এরা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন। মঞ্চের দু’পাশে ৬ যন্ত্রশিল্পী আসন নেন। মাঝে বসেন বন্যা। এরপরই গানের বন্যা বইয়ে দেন সকলের প্রিয় এই শিল্পী।
কোন কোন গানের প্রেক্ষাপট উপস্থাপিত হয় শিক্ষার্থী শিল্পীদের কন্ঠে। সবকটি গানের ইংরেজী অনুবাদ ভেসে উঠে পেছনের বড় পর্দায়। সুর এবং ছন্দে আচ্ছাদিত হয় গোটা মিলনায়তন। শ’তিনেক দর্শক-শ্রোতার সকলেই পিন-পতন নিরবতায় তার গান শোনেন। এ সময় শ্রীচিন্ময়ের পছন্দের একটি গানও পরিবেশিত হয়।
Banya-singing-1মাঝে ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে আড়াই ঘন্টায় বন্যা ২০টি গান গেয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’, ‘যদি জানতে আমার কীসের ব্যাথা-তোমায় জানাতাম’, ‘আমি কান পেতে রই’, ‘তাই তোমার আনন্দ’, ‘তোমার এই ঝর্ণা তলায় নির্জনে’, ‘তোমার খোলা হাওয়া’, ‘আমারে তুমি অশেষ করেছো’, ‘জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’, ‘অঙ্গবীণা বাজাও তুমি’, ‘দুই হাতে কালের মন্দির’, ‘সুন্দর তুমি ভেতরে বাইরে’, ‘তোমায় গান শোনাবে তাইতো আমায় জাগিয়ে রাখো’, ‘আমি চিনি গো চিনিগো তোমারে ওগো বিদেশীনি’, ‘আনন্দালোকে ম্ঙ্গলালোকে’, ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’, ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’, ‘আনন্দধারা বহিছে ভূবনে’, ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’, ‘মোর ভাবনারে কী মাতালো’ এবং আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’। এরমধ্যে সুন্দর তুমি ভেতরে বাইরে গানটি পরিবেশিত হয় মানবতার জন্যে নিজেকে উৎসর্গকারী এবং জাতিসংঘের শান্তির দূত প্রয়াস শ্রীচিন্ময় সেন্টারের বিশেষ অনুরোধে। উল্লেখ্য, এই আয়োজনে শ্রীচিন্ময়ের ভক্তরাও ছিলেন।
নিউইয়র্কস্থ মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং চ্যানেল আই এর সার্বিক সহায়তায় এ সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ইন্সটিটিউট’র উদ্যোগে। দর্শক-শ্রোতার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীর উপস্থিতিও ছিল উল্লেখ করার মত। চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ ছিলেন দর্শকের মাঝে।
গভীর রাতে বন্যার গানে মুগ্ধ সকলে ‘আমি কান পেতে রই’ উচ্চারণ করে গুনগুনিয়ে ঘরে ফেরেন। এর আগে বন্যার গান শেষ হবার সাথে সাথে বেশ ক’জন ভক্ত মঞ্চে উঠে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী নন্দিনী ব্যানার্জি রবীন্দ্র সঙ্গীত বিষয়ে পিএইচডি করছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। তিনিও মঞ্চে উঠে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এত চমৎকারভাবে রবীঠাকুরের গান রপ্ত করার জন্যে। সে সময় নন্দিনীর মা মুক্তি ব্যানার্জিও বন্যাকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান আমেরিকা এবং কানাডার তরুণ-তরুণীদের রবীন্দ্র সঙ্গীত শেখানোর জন্যে।