নিউইয়র্ক ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

৭ নভেম্বরের চেতনায় স্বৈর শাসনের পতন ঘটাতে হবে

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৫
  • / ১০২৬ বার পঠিত

ফ্লোরিডা: কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় শেখ হাসিনার স্বৈর সরকারের পতন ঘটাতে হবে এবং এর মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিলিত বিপ্লবে যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছিল, সেই বিপ্লব ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আজ জাতিকে গণতন্ত্রের নামাবলী জড়িয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসীন বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম নিপীড়ক হাসিনা ও তার দোসরদেরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণকে উপলব্ধি করতে হবে যে, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র পাশাপাশি চলতে পারে না।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সাউথ ফ্লোরিডার লডারডেল-এ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা উপরোক্ত কথা বলেন। ফ্লোরিডা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ দিনাজ খান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু ও সাবেক সহ সভাপতি আবদুর রশিদ খান হারুন, ফ্লোরিডা শাখা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফ্লোরিডা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, ফ্লোরিডা যুবদলের সভাপতি মতিউর রহমান খান, ফ্লোরিডা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদ ফিরোজ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এহসান আহমেদ হিমেল প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রধান অতিথি সাদেক হোসেন খোকাসহ অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
FL BNP_Khoka-2সভায় সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, সেদিন বাংলাদেশ আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছিল। যোগ্য নেতৃত্বের আশায় ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনেছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। তিনি ক্যু করে ক্ষমতায় আসেননি। সিপাহি-জনতা তার সততা ও যোগ্যতার উপর আস্থা স্থাপন করে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করে এবং তিনি আওয়ামী বাকশালীদের প্রবর্তিত একদলীয় শাসনের শৃংখল থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেন। তিনি বলেন, আজ বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার দেশে রয়েছে তারা অবৈধভাবে দেশ শাসন করছে। তাদেরকে হটিয়ে সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে অপশক্তিকে উত্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। সেই অপশক্তি দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হলেই সরকারের প্রচার মাধ্যম ও আওয়ামী লীগ ঢালাওভাবে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের উপর। এমনকি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও এসবের পিছনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের হাত রয়েছে বলে অপপ্রচার চালাতেও দ্বিধা করছে না। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ মনে করে যে দেশটা এককভাবে তাদের এবং একটি মাত্র দলই দেশে রাজনীতি করতে পারবে, সে দলটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্য কোনো দলের রাজনীতি করার অধিকার বা প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করে না। এ ধরণের অসহিষ্ণু মনোভাবের কারণে অপশক্তির উত্থান ঘটছে এবং এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে সরকার দেশকে আওয়ামীকরণ করে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, পিছু হটার আর সুযোগ নেই। এজন্য দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী সরকারকে রুখে দাঁড়াতে হবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির চেতনায়।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, হাসিনার সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা জোর জনগণ ও বিশেষ করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে এবং পুলিশ, র‌্যাব লেলিয়ে দিয়ে এক ভীতির রাজত্ব কায়েম করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। এভাবে জোর করে কতদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে? এই অবস্থার আশু অবসান করতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
সাবেক মেয়র খোকা বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, রাজনীতিও নেই। যতটুকু আছে তা নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা যে গণতন্ত্রের মধ্যে নিহিত আমরা সে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন হলো গণতন্ত্রকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। আমরা এ আন্দোলন জোরদার করব। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সম্মিলিত করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলন চলবে যাতে আমরা আইনের শাসন ফিরে পাই, মৌলিক অধিকার ফিরে পাই, সুষ্ঠু সমাজ ও গতিশীল রাষ্ট্র ফিরে পাই।
জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণ। একটি সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়া একদলীয় বাকশালী শাসনের পরির্বতে বহুদলীয় শাসনের প্রবর্তন করেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, সংবিধানে মৌলিক অধিকার পুনর্বহাল করেন। দেশে আইনের শাসন বহাল করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ দিনাজ খান বলেন, গণতন্ত্র বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা যে গণতন্ত্রের মধ্যে নিহিত আমরা সে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ সকলে দেশে ও প্রবাসে যে আন্দোলন চালাচ্ছে তা গণতন্ত্রকে পুন:প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ আন্দোলন জোরদার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে ফ্লোরিডা বিএনপির উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীর মধ্যে ছিলেন আবু ইদ্রিস লাবু, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহসিন হাসান, জহির ইসলাম, বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ সারোয়ার, ইফতেখার আহমেদ মিথেল, রফিকুল ইসলাম লিটন, নাঈম খান, মোহাম্মদ সাইফ সেন্টু, মনির হোসেন, রাইসুল আহমেদ সিজান, মোহাম্মদ টিটো মিয়া, মোহাম্মদ রিয়াজ, রাসেল মীর, জিল্লুর রহমান রাসেল, আবু তৈয়ব খান, মোহাম্মদ রানা, মোজাম্মেল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, তাসলিম আহমেদ রতœ, ফয়সল আহমেদ, আবুল হাসনাত এবং ফ্লোরিডা যুবদল নেতা মোহাম্মদ মাসুম প্রমুখ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

৭ নভেম্বরের চেতনায় স্বৈর শাসনের পতন ঘটাতে হবে

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৫

ফ্লোরিডা: কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় শেখ হাসিনার স্বৈর সরকারের পতন ঘটাতে হবে এবং এর মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিলিত বিপ্লবে যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছিল, সেই বিপ্লব ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আজ জাতিকে গণতন্ত্রের নামাবলী জড়িয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসীন বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম নিপীড়ক হাসিনা ও তার দোসরদেরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণকে উপলব্ধি করতে হবে যে, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র পাশাপাশি চলতে পারে না।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সাউথ ফ্লোরিডার লডারডেল-এ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা উপরোক্ত কথা বলেন। ফ্লোরিডা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ দিনাজ খান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু ও সাবেক সহ সভাপতি আবদুর রশিদ খান হারুন, ফ্লোরিডা শাখা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফ্লোরিডা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, ফ্লোরিডা যুবদলের সভাপতি মতিউর রহমান খান, ফ্লোরিডা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদ ফিরোজ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এহসান আহমেদ হিমেল প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রধান অতিথি সাদেক হোসেন খোকাসহ অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
FL BNP_Khoka-2সভায় সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, সেদিন বাংলাদেশ আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছিল। যোগ্য নেতৃত্বের আশায় ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনেছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। তিনি ক্যু করে ক্ষমতায় আসেননি। সিপাহি-জনতা তার সততা ও যোগ্যতার উপর আস্থা স্থাপন করে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করে এবং তিনি আওয়ামী বাকশালীদের প্রবর্তিত একদলীয় শাসনের শৃংখল থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেন। তিনি বলেন, আজ বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার দেশে রয়েছে তারা অবৈধভাবে দেশ শাসন করছে। তাদেরকে হটিয়ে সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে অপশক্তিকে উত্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। সেই অপশক্তি দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হলেই সরকারের প্রচার মাধ্যম ও আওয়ামী লীগ ঢালাওভাবে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের উপর। এমনকি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও এসবের পিছনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের হাত রয়েছে বলে অপপ্রচার চালাতেও দ্বিধা করছে না। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ মনে করে যে দেশটা এককভাবে তাদের এবং একটি মাত্র দলই দেশে রাজনীতি করতে পারবে, সে দলটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্য কোনো দলের রাজনীতি করার অধিকার বা প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করে না। এ ধরণের অসহিষ্ণু মনোভাবের কারণে অপশক্তির উত্থান ঘটছে এবং এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে সরকার দেশকে আওয়ামীকরণ করে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, পিছু হটার আর সুযোগ নেই। এজন্য দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী সরকারকে রুখে দাঁড়াতে হবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির চেতনায়।
সাদেক হোসেন খোকা বলেন, হাসিনার সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা জোর জনগণ ও বিশেষ করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে এবং পুলিশ, র‌্যাব লেলিয়ে দিয়ে এক ভীতির রাজত্ব কায়েম করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। এভাবে জোর করে কতদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে? এই অবস্থার আশু অবসান করতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
সাবেক মেয়র খোকা বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, রাজনীতিও নেই। যতটুকু আছে তা নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা যে গণতন্ত্রের মধ্যে নিহিত আমরা সে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন হলো গণতন্ত্রকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। আমরা এ আন্দোলন জোরদার করব। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সম্মিলিত করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলন চলবে যাতে আমরা আইনের শাসন ফিরে পাই, মৌলিক অধিকার ফিরে পাই, সুষ্ঠু সমাজ ও গতিশীল রাষ্ট্র ফিরে পাই।
জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণ। একটি সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়া একদলীয় বাকশালী শাসনের পরির্বতে বহুদলীয় শাসনের প্রবর্তন করেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, সংবিধানে মৌলিক অধিকার পুনর্বহাল করেন। দেশে আইনের শাসন বহাল করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ দিনাজ খান বলেন, গণতন্ত্র বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা যে গণতন্ত্রের মধ্যে নিহিত আমরা সে গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ সকলে দেশে ও প্রবাসে যে আন্দোলন চালাচ্ছে তা গণতন্ত্রকে পুন:প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ আন্দোলন জোরদার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে ফ্লোরিডা বিএনপির উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীর মধ্যে ছিলেন আবু ইদ্রিস লাবু, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহসিন হাসান, জহির ইসলাম, বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ সারোয়ার, ইফতেখার আহমেদ মিথেল, রফিকুল ইসলাম লিটন, নাঈম খান, মোহাম্মদ সাইফ সেন্টু, মনির হোসেন, রাইসুল আহমেদ সিজান, মোহাম্মদ টিটো মিয়া, মোহাম্মদ রিয়াজ, রাসেল মীর, জিল্লুর রহমান রাসেল, আবু তৈয়ব খান, মোহাম্মদ রানা, মোজাম্মেল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, তাসলিম আহমেদ রতœ, ফয়সল আহমেদ, আবুল হাসনাত এবং ফ্লোরিডা যুবদল নেতা মোহাম্মদ মাসুম প্রমুখ।