নিউইয়র্ক ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

টেক্সাসে আটক ৮২ বাংলাদেশীকে আইনি সহায়তার উদ্যোগ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫
  • / ৭৫৩ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ‘এল পাসো’ ডিটেনশন সেন্টারে অনশনরত ৮২ জন বাংলাদেশীকে আইনি সহায়তার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপরাধে টেক্সাসের সীমান্ত পুলিশ ওই বাংলাদেশীদের আটক করে। এরপর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন গৃহীত না হওয়ায় এখন তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) শামসুল আলম অনশনরত বাংলাদেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের আইনগত অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁরা আমাদের দেশের নাগরিক, তাঁদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিক বিবেচনায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।’
জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এসব বাংলাদেশী নাগরিক মানব পাচারকারী দালালদের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় আটক হওয়ার পর দুজনকে টেক্সাসের বাইরে অন্যত্র পাঠানো হয়। এখন ‘এল পাসো’র ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা বাংলাদেশীর সংখ্যা ৮২।
আটক বাংলাদেশীদের আইনি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রেন্ডস অব ডিটেইনিস। এই সংস্থার সদস্য ফ্লোরিডার আতিকুর রহমান বলেন, আটককৃতদের মধ্যে ৪৫ জন বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেলেই তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। তবে এ নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
আতিকুর রহমান জানান, আটক ওই বাংলাদেশীরা নিজেদের বিএনপির সমর্থক দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশের কাছেই কোনো আইনসম্মত পরিচয়পত্র নেই। বিচারক তাঁদের আবেদন আমলে নেননি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা শামসুল আলম চৌধুরী শনিবার বলেন, আটককৃত বাংলাদেশীরা যে অবস্থায় রয়েছেন, তা অচিন্তনীয়। অধিকাংশই ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। তাঁদের পক্ষে আইনত যা করা সম্ভব বাংলাদেশ দূতাবাস তা করবে। এ জন্য তিনি খুব শিগগির আবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। (সূত্র: প্রথম আলো)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

টেক্সাসে আটক ৮২ বাংলাদেশীকে আইনি সহায়তার উদ্যোগ

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ‘এল পাসো’ ডিটেনশন সেন্টারে অনশনরত ৮২ জন বাংলাদেশীকে আইনি সহায়তার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপরাধে টেক্সাসের সীমান্ত পুলিশ ওই বাংলাদেশীদের আটক করে। এরপর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন গৃহীত না হওয়ায় এখন তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) শামসুল আলম অনশনরত বাংলাদেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের আইনগত অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁরা আমাদের দেশের নাগরিক, তাঁদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিক বিবেচনায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।’
জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এসব বাংলাদেশী নাগরিক মানব পাচারকারী দালালদের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় আটক হওয়ার পর দুজনকে টেক্সাসের বাইরে অন্যত্র পাঠানো হয়। এখন ‘এল পাসো’র ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা বাংলাদেশীর সংখ্যা ৮২।
আটক বাংলাদেশীদের আইনি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রেন্ডস অব ডিটেইনিস। এই সংস্থার সদস্য ফ্লোরিডার আতিকুর রহমান বলেন, আটককৃতদের মধ্যে ৪৫ জন বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেলেই তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। তবে এ নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
আতিকুর রহমান জানান, আটক ওই বাংলাদেশীরা নিজেদের বিএনপির সমর্থক দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশের কাছেই কোনো আইনসম্মত পরিচয়পত্র নেই। বিচারক তাঁদের আবেদন আমলে নেননি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা শামসুল আলম চৌধুরী শনিবার বলেন, আটককৃত বাংলাদেশীরা যে অবস্থায় রয়েছেন, তা অচিন্তনীয়। অধিকাংশই ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। তাঁদের পক্ষে আইনত যা করা সম্ভব বাংলাদেশ দূতাবাস তা করবে। এ জন্য তিনি খুব শিগগির আবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। (সূত্র: প্রথম আলো)