নিউইয়র্ক ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

এফবিআইকে ঘুষ : ফোর্ট ডিক্স কারাগারে যাওয়ার আগে সিজার যা বললেন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০১৫
  • / ৯১৪ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রিজভী আহমেদ সিজারের বিয়াল্লিশ মাসের কারাভোগ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের কথিত ৩শ’ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি এফবিআই কর্মকর্তাকে এক হাজার ডলার ঘুষ দেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। নিউজার্সির ‘ফোর্ট ডিক্স’কারাগারে ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তার কারাজীবন। কারাগারে যাবার আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দপুর ১২টায় আলোচিত সিজারের সঙ্গে কথা হয় দ্য রিপোর্টের নিউইয়র্ক প্রতিনিধির।
অনুতপ্ত নন সিজার: দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদককে সিজার বলেন, ‘আমার অনুশোচনা নেই। অনেকেই ভুল করছেন- আমি জয়ের অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁসের দায়ে কারাভোগ করছি। বিষয়টি তা নয়। আমি এফবিআইকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত। এটা আমেরিকার আইনে অপরাধ। আমার নামে অভিযোগ করা হয় আমি জয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছি। তাকে অপহরণ করতে চেয়েছি।’
তাহলে এই তথ্য সংগ্রহে আপনার আগ্রহ ছিল কেন? আপনি কী তারেক রহমান কিংবা বিএনপির জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার নির্দেশেই এ সব করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সিজার বলেন, ‘দেখুন আমি তারেক রহমান কিংবা বিএনপির কারো সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি আমেরিকান। এখানে আমি স্বাধীন। আমার যা ইচ্ছে তা করতে পারি। আমার এক বন্ধু এফবিআইতে কাজ করে। তার সাথে হঠাৎ একদিন কফির আড্ডায় জানতে পারি অর্থপাচারের বিষয়টি। অনেকটা কৌতূহলী হয়েই এ বিষয়টির তথ্য জানাতে বলি তাকে। আমি অবাক হই অর্থ পাচারের তালিকায় প্রধান দু’টো নাম দেখে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি আমেরিকান হলেও, জন্ম বাংলাদেশে। ছোটবেলাতেই চলে আসি এ দেশে। কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে নয়, দেশের স্বার্থে এই দুর্নীতির রহস্য উদ্ঘাটন অব্যাহত থাকবে।’
তথ্য ফাঁসের হুমকি: কারাগারে ঢোকার আগে সিজার দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ অনেকের অর্থ দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কয়েকজন সদস্য, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা ও বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী কোম্পানি এ সব অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত। তাদের সবার নাম প্রকাশ এবং কোন ব্যাংকের কোন একাউন্টে এ সব অর্থ জমা রয়েছে তা প্রকাশ করার হুমকিও দেন সিজার।
আগ্রহ থেকেই এফবিআইকে ঘুষ: সিজার জানান, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ সব জালিয়াতির কথা জানতে পেরেই তিনি আগ্রহী হন। এক্ষেত্রে বন্ধু ও এফবিআইয়ের সাবেক এক কর্মকর্তার সহায়তা নেন তিনি। সিজার বলেন, ‘এ কাজে এফবিআই এজেন্টকে এক হাজার ডলার দিয়েছিলাম।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিজার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকার দলীয় কিছু নেতাকর্মী এ সব অর্থ কেলেংকারীর সাথে যুক্ত। তাদের কেউ কেউ যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেন করেছেন। আর এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন তারা।’(দ্য রিপোর্ট)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

এফবিআইকে ঘুষ : ফোর্ট ডিক্স কারাগারে যাওয়ার আগে সিজার যা বললেন

প্রকাশের সময় : ০২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০১৫

নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রিজভী আহমেদ সিজারের বিয়াল্লিশ মাসের কারাভোগ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের কথিত ৩শ’ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি এফবিআই কর্মকর্তাকে এক হাজার ডলার ঘুষ দেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। নিউজার্সির ‘ফোর্ট ডিক্স’কারাগারে ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তার কারাজীবন। কারাগারে যাবার আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দপুর ১২টায় আলোচিত সিজারের সঙ্গে কথা হয় দ্য রিপোর্টের নিউইয়র্ক প্রতিনিধির।
অনুতপ্ত নন সিজার: দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদককে সিজার বলেন, ‘আমার অনুশোচনা নেই। অনেকেই ভুল করছেন- আমি জয়ের অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁসের দায়ে কারাভোগ করছি। বিষয়টি তা নয়। আমি এফবিআইকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত। এটা আমেরিকার আইনে অপরাধ। আমার নামে অভিযোগ করা হয় আমি জয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছি। তাকে অপহরণ করতে চেয়েছি।’
তাহলে এই তথ্য সংগ্রহে আপনার আগ্রহ ছিল কেন? আপনি কী তারেক রহমান কিংবা বিএনপির জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার নির্দেশেই এ সব করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সিজার বলেন, ‘দেখুন আমি তারেক রহমান কিংবা বিএনপির কারো সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি আমেরিকান। এখানে আমি স্বাধীন। আমার যা ইচ্ছে তা করতে পারি। আমার এক বন্ধু এফবিআইতে কাজ করে। তার সাথে হঠাৎ একদিন কফির আড্ডায় জানতে পারি অর্থপাচারের বিষয়টি। অনেকটা কৌতূহলী হয়েই এ বিষয়টির তথ্য জানাতে বলি তাকে। আমি অবাক হই অর্থ পাচারের তালিকায় প্রধান দু’টো নাম দেখে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি আমেরিকান হলেও, জন্ম বাংলাদেশে। ছোটবেলাতেই চলে আসি এ দেশে। কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে নয়, দেশের স্বার্থে এই দুর্নীতির রহস্য উদ্ঘাটন অব্যাহত থাকবে।’
তথ্য ফাঁসের হুমকি: কারাগারে ঢোকার আগে সিজার দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ অনেকের অর্থ দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কয়েকজন সদস্য, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা ও বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী কোম্পানি এ সব অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত। তাদের সবার নাম প্রকাশ এবং কোন ব্যাংকের কোন একাউন্টে এ সব অর্থ জমা রয়েছে তা প্রকাশ করার হুমকিও দেন সিজার।
আগ্রহ থেকেই এফবিআইকে ঘুষ: সিজার জানান, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ সব জালিয়াতির কথা জানতে পেরেই তিনি আগ্রহী হন। এক্ষেত্রে বন্ধু ও এফবিআইয়ের সাবেক এক কর্মকর্তার সহায়তা নেন তিনি। সিজার বলেন, ‘এ কাজে এফবিআই এজেন্টকে এক হাজার ডলার দিয়েছিলাম।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিজার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকার দলীয় কিছু নেতাকর্মী এ সব অর্থ কেলেংকারীর সাথে যুক্ত। তাদের কেউ কেউ যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেন করেছেন। আর এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন তারা।’(দ্য রিপোর্ট)