নিউইয়র্ক ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

‘বাংলাদেশের ফুটবলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবী’

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫
  • / ১১২৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের কিংবদন্তী ফুটবলার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর কার্যকরী পরিষদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আসলামকে সংবর্ধিত করেছে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা ইন্ক। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা ফুটলার আসলামের কৃতি ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের ফুটবলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান। সংবর্ধনার জবাবে শেখ মোহাম্মদ আসলাম আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রবাসের কৃতি ফুটবলারদের দেশের লীগে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে ২২ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহীম হাওলাদার, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়ার গোবিন্দ, বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় অ্যাথলেটস সাইদুর রহমান ডন ও সাঈদ-উর রব, সাবেক ফুটবলার মোস্তফা হোসেন মুকুল, সাবেক জাতীয় বক্সার সৈয়দ এনায়েত আলী এবং স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ চৌধুরী । এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ক্রীড়া সাংবাদিক এম. সালাহউদ্দিন, কমিউনিটি নেতা সামসুল আবেদীন, ফারুক হোসেন মজুমদার, স্পোর্টস কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ আবদীন, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী এলিন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন স্পোর্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত খান বুলবুল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন জে মোল্লা সানি। জাতীয় ভলিবল দলের সাবেক খেলোয়ার সেলিনা খান নিপা’র পিতা ফায়েজ খানের মৃত্যুতে এবং স্পোর্টস কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম আব্দুর রউফ খান মিষ্টু, মরহুম ফয়সাল হোসেন ও মরহুম জসিম উদ্দিন মিঠুর বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করে এই দোয়া করা হয়। সভায় ফুটবলার আসলামকে স্পোর্টস কাউন্সিল ও প্রবাসের বাংলাদেশী খেলোয়ারদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। অপরদিকে ফুটবলার আসলাম বাফুফের পক্ষ থেকে নিদর্শন স্বরূপ কাউন্সিলের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানকে একটি ব্লেজার এবং সোনালী অতীত ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।
সভায় আজমল হোসেন কুনু বলেন, স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কৃতি ফুটবলার আসলামের পাশাপাশি আমরাও সম্মানিত হয়েছি। কমিউনিটিতে পরষ্পর পরষ্পরকে সম্মান জানানো, সম্মানিত করার দৃষ্টান্ত বৃদ্ধি করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা কাধে কাধ মিলিয়ে কমিউনিটিকে শক্তিশালী করতে চাই। তিনি বলেন, স্পোর্টস কাউন্সিল দেশের কৃতি খেলোয়ারদের যেভাসে সম্মান জানায়, তেমনী প্রবাসী খেলোয়াররা দেশে গেলে যেনো একইভাবে সম্মানিত হন আমরা এমনটিই আশা করি।
আব্দুর রহীম হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ উদ্বোধন করেন ফুটলার আসলাম। তার মতো কৃতি খেলোয়ারকে পেয়ে আমরা ধন্য। তিনি স্পোর্টস কাউন্সিরের কর্মকান্ডের প্রসংশা করেন।
ফুটবলার গোবিন্দ বলেন, ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম অনেক উচু মানের খেলোয়ার ছিলেন। ফুটবলের প্রতি তার যে নিষ্ঠা তা অনেক খোলোয়ারের মধ্যেই দেখা যায় না। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের দূরবস্থার জন্য সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করে প্রসঙ্গত বলেন, জাপান সরকারের সহযোগিতার কারণে আজ জাপানীরা বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফুটবলার তৈরীর জন্য আগে ইন্টারস্কুল ফুটবল লীগের আয়াজন করা হতো। এখন হয় না। তিনি পাঠ্য-পুস্তকে ক্রীড়া বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানান।
সাইদুর রহমান ডন বলেন, একজন পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, ত্যাগী, কমিটেড, শৃঙ্খলাবোধ সম্পন্ন খেলোয়ার বলতে যা বুঝায় শেখ মোহাম্মদ আসলাম সেই রকম খেলোয়ার। ক্লাবের অন্য খেলোয়াররা যখন বিশ্রামে তখন আসলাম একাই প্র্যাক্টিস অব্যাহত রেখেছেন। যা তাকে ‘ফুটবলার আসলাম’ বানিয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে খেলতে গিয়েও আসলাম কখনই প্র্যাক্টিস আর নামাজ বন্ধ করেননি।
সাঈদ-উর রব বলেন, পরিশ্রম করলে যে ফল পাওয়া যায় তার দৃষ্টান্ত ফুটবলার আসলাম। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে একাকী প্র্যাক্টিস করতে দেখেছি। তিনি বলেন, ফুটবলার আসলামদের মতো খেলোয়ারার দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন, কিন্ত দেশ তাদেরকে কিছুই দিতে পারেনি। জাতি তা বুঝেও না। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, দেশের কৃতি খেলোয়ারদের ৫/১০ হাজার টাকার চাকুরী মেলা না। অথচ দেশের শীর্ষ কর্তারা খেলোয়ারদের কাছ থেকে গোল্ড মেডেল চান। গোল্ড মেডেল এমনি এমনিই আসে না। তিনি আরো বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গণ নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। কেননা, রাজনীতি ক্রীড়াঙ্গণকে দখল করে ফেলেছে।
মোস্তফা হোসেন মুকুল বলেন, আসলামদের মতো কৃতি ফুটবলারদের সাথে আমাদের খেলার সুযোগ হয়েছিলো বলে আমরা গর্বিত। আসলামের তুলনা আসলাম নিজেই।
সৈয়দ এনায়েত বলেন, আমাদের সময়ে সিনিয়রদের সম্মান করতাম, সিনিয়ররাও আমাদের স্নেহ করতেন। কিন্তু আজ আর সেই অবস্থা দেখি না। সম্মান না দিলে, সম্মান পাওয়া যায় না। সম্মানিত হওয়া যায় না। তিনি এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য স্পোর্টস কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
সংবর্ধনার জবাবে ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমি এভাবে সংবর্ধিত হতে অভ্যস্ত নই। এমনটি আমি আশাও করি না। তারপরও আপনাদের আয়োজন মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, বাবার অনুপ্রেরণা, মায়ের দোয়া আর মরহুম কোচ আব্দুর রহীম আমাকে ‘ফুটবলার আসলাম’ বানিয়েছে। তিনি তার খেলোয়ারী জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, এমন সময় ছিলো আমাদের ‘ভাড়া খেটে’ (অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র খেলতে যাওয়া) অর্থে আবাহনী ক্লাব চলতো। একসময় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে বলেন, ‘তোরা ক্লাবটা ছেড়ে যাসনি’।
বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা প্রদত্ত সংবর্ধনা সভাটি আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে বলেন, আমরা দেশের গোল্ডেন সময়ে ফুটবল খেলেছি। ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ফুটবলার হবো। তিনি মরহুম কোচ রহীমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বলতেন ‘আসলাম খেলার পরে পত্রিকা পড়ো না’। আমি তার কথা রেখেছি। ফুটবলার আসলাম বলেন,ঘটনা ঘটানোই আমাদের কাজ, খবর হওয়া নয়। তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালার ঈশারায় আমি আমার জীবনের সেরা গোলগুলো করেছি।
ফুটবলার আসলাম তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে মায়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আজ মা নেই। মা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। মা খুব মিস করছি। ছোট বেলায় বাবা বলতেন, খেলতে গিয়ে কাউকে লাথি মারবে না। আর মা বলতেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে। বাবা-মার কথা রেখেছি। খেলতে গিয়ে অনেক মার খেয়েছি, কিন্তু বাবার কথা মনে করে কাউকে মার দেইনি।
ফুটবলার আসলাম বলেন, বাফুফে’র সদস্য হিসেবে আমার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তারপরও প্রবাসের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে স্পোর্টস কাউন্সিলের কোন প্রস্তাবনা থাকলে বা আমাদের কোন সহযোগিতা করতে পারলে তা করার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আমি চাই আমার চেয়ে ভালো ফুটবলার তৈরী হোক। প্রবাস থেকে ভালো খেলোয়ার দেশে গেলে তাদেরকে লীগে খেলার সুযোগ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা তাদেরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবো।
ফুটবলার আসলাম বলেন, আমরা বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা চেষ্টা করলে অবশ্যই ফুটবলের অতীত ঐদিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবো। অন্তত দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন দেওয়ান বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা ও বাফুফে’র মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরীর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ভলিবল দলের সাবেক খেলোয়ার সেলিনা খান, স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহীম বাদশা সহ কর্মকর্তাদের মধ্যে হাজী এনাম, আনোয়ার হোসাইন, জাকির হোসেন, সাইকুল ইসলাম, সাদি মিন্টু, আব্দুল কাদির লিপু, জহির উদ্দিন জুয়েল, তৈয়বুর রহমান টনি, ঢাকা আবাহনী ক্লাবের সাবেক ম্যানেজার শিবলী নোমানী, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়ার আমিনুল ইসলাম লিটন, কমিউনিটি নেতা আজিমুর রহমান বুরহান, বিভিন্ন ক্লাব/টিমের ম্যানেজার, খেলোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

‘বাংলাদেশের ফুটবলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবী’

প্রকাশের সময় : ০৪:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের কিংবদন্তী ফুটবলার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর কার্যকরী পরিষদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আসলামকে সংবর্ধিত করেছে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা ইন্ক। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা ফুটলার আসলামের কৃতি ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের ফুটবলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান। সংবর্ধনার জবাবে শেখ মোহাম্মদ আসলাম আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রবাসের কৃতি ফুটবলারদের দেশের লীগে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে ২২ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহীম হাওলাদার, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়ার গোবিন্দ, বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় অ্যাথলেটস সাইদুর রহমান ডন ও সাঈদ-উর রব, সাবেক ফুটবলার মোস্তফা হোসেন মুকুল, সাবেক জাতীয় বক্সার সৈয়দ এনায়েত আলী এবং স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ চৌধুরী । এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ক্রীড়া সাংবাদিক এম. সালাহউদ্দিন, কমিউনিটি নেতা সামসুল আবেদীন, ফারুক হোসেন মজুমদার, স্পোর্টস কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ আবদীন, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী এলিন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন স্পোর্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত খান বুলবুল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন জে মোল্লা সানি। জাতীয় ভলিবল দলের সাবেক খেলোয়ার সেলিনা খান নিপা’র পিতা ফায়েজ খানের মৃত্যুতে এবং স্পোর্টস কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম আব্দুর রউফ খান মিষ্টু, মরহুম ফয়সাল হোসেন ও মরহুম জসিম উদ্দিন মিঠুর বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করে এই দোয়া করা হয়। সভায় ফুটবলার আসলামকে স্পোর্টস কাউন্সিল ও প্রবাসের বাংলাদেশী খেলোয়ারদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। অপরদিকে ফুটবলার আসলাম বাফুফের পক্ষ থেকে নিদর্শন স্বরূপ কাউন্সিলের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানকে একটি ব্লেজার এবং সোনালী অতীত ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।
সভায় আজমল হোসেন কুনু বলেন, স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কৃতি ফুটবলার আসলামের পাশাপাশি আমরাও সম্মানিত হয়েছি। কমিউনিটিতে পরষ্পর পরষ্পরকে সম্মান জানানো, সম্মানিত করার দৃষ্টান্ত বৃদ্ধি করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা কাধে কাধ মিলিয়ে কমিউনিটিকে শক্তিশালী করতে চাই। তিনি বলেন, স্পোর্টস কাউন্সিল দেশের কৃতি খেলোয়ারদের যেভাসে সম্মান জানায়, তেমনী প্রবাসী খেলোয়াররা দেশে গেলে যেনো একইভাবে সম্মানিত হন আমরা এমনটিই আশা করি।
আব্দুর রহীম হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ উদ্বোধন করেন ফুটলার আসলাম। তার মতো কৃতি খেলোয়ারকে পেয়ে আমরা ধন্য। তিনি স্পোর্টস কাউন্সিরের কর্মকান্ডের প্রসংশা করেন।
ফুটবলার গোবিন্দ বলেন, ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম অনেক উচু মানের খেলোয়ার ছিলেন। ফুটবলের প্রতি তার যে নিষ্ঠা তা অনেক খোলোয়ারের মধ্যেই দেখা যায় না। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের দূরবস্থার জন্য সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করে প্রসঙ্গত বলেন, জাপান সরকারের সহযোগিতার কারণে আজ জাপানীরা বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফুটবলার তৈরীর জন্য আগে ইন্টারস্কুল ফুটবল লীগের আয়াজন করা হতো। এখন হয় না। তিনি পাঠ্য-পুস্তকে ক্রীড়া বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী জানান।
সাইদুর রহমান ডন বলেন, একজন পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, ত্যাগী, কমিটেড, শৃঙ্খলাবোধ সম্পন্ন খেলোয়ার বলতে যা বুঝায় শেখ মোহাম্মদ আসলাম সেই রকম খেলোয়ার। ক্লাবের অন্য খেলোয়াররা যখন বিশ্রামে তখন আসলাম একাই প্র্যাক্টিস অব্যাহত রেখেছেন। যা তাকে ‘ফুটবলার আসলাম’ বানিয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে খেলতে গিয়েও আসলাম কখনই প্র্যাক্টিস আর নামাজ বন্ধ করেননি।
সাঈদ-উর রব বলেন, পরিশ্রম করলে যে ফল পাওয়া যায় তার দৃষ্টান্ত ফুটবলার আসলাম। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে একাকী প্র্যাক্টিস করতে দেখেছি। তিনি বলেন, ফুটবলার আসলামদের মতো খেলোয়ারার দেশকে অনেক কিছুই দিয়েছেন, কিন্ত দেশ তাদেরকে কিছুই দিতে পারেনি। জাতি তা বুঝেও না। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, দেশের কৃতি খেলোয়ারদের ৫/১০ হাজার টাকার চাকুরী মেলা না। অথচ দেশের শীর্ষ কর্তারা খেলোয়ারদের কাছ থেকে গোল্ড মেডেল চান। গোল্ড মেডেল এমনি এমনিই আসে না। তিনি আরো বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গণ নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। কেননা, রাজনীতি ক্রীড়াঙ্গণকে দখল করে ফেলেছে।
মোস্তফা হোসেন মুকুল বলেন, আসলামদের মতো কৃতি ফুটবলারদের সাথে আমাদের খেলার সুযোগ হয়েছিলো বলে আমরা গর্বিত। আসলামের তুলনা আসলাম নিজেই।
সৈয়দ এনায়েত বলেন, আমাদের সময়ে সিনিয়রদের সম্মান করতাম, সিনিয়ররাও আমাদের স্নেহ করতেন। কিন্তু আজ আর সেই অবস্থা দেখি না। সম্মান না দিলে, সম্মান পাওয়া যায় না। সম্মানিত হওয়া যায় না। তিনি এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য স্পোর্টস কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
সংবর্ধনার জবাবে ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমি এভাবে সংবর্ধিত হতে অভ্যস্ত নই। এমনটি আমি আশাও করি না। তারপরও আপনাদের আয়োজন মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, বাবার অনুপ্রেরণা, মায়ের দোয়া আর মরহুম কোচ আব্দুর রহীম আমাকে ‘ফুটবলার আসলাম’ বানিয়েছে। তিনি তার খেলোয়ারী জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, এমন সময় ছিলো আমাদের ‘ভাড়া খেটে’ (অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র খেলতে যাওয়া) অর্থে আবাহনী ক্লাব চলতো। একসময় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে বলেন, ‘তোরা ক্লাবটা ছেড়ে যাসনি’।
বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা প্রদত্ত সংবর্ধনা সভাটি আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে বলেন, আমরা দেশের গোল্ডেন সময়ে ফুটবল খেলেছি। ছোটবেলা থেকেই শখ ছিলো ফুটবলার হবো। তিনি মরহুম কোচ রহীমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বলতেন ‘আসলাম খেলার পরে পত্রিকা পড়ো না’। আমি তার কথা রেখেছি। ফুটবলার আসলাম বলেন,ঘটনা ঘটানোই আমাদের কাজ, খবর হওয়া নয়। তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালার ঈশারায় আমি আমার জীবনের সেরা গোলগুলো করেছি।
ফুটবলার আসলাম তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে মায়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আজ মা নেই। মা বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। মা খুব মিস করছি। ছোট বেলায় বাবা বলতেন, খেলতে গিয়ে কাউকে লাথি মারবে না। আর মা বলতেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে। বাবা-মার কথা রেখেছি। খেলতে গিয়ে অনেক মার খেয়েছি, কিন্তু বাবার কথা মনে করে কাউকে মার দেইনি।
ফুটবলার আসলাম বলেন, বাফুফে’র সদস্য হিসেবে আমার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তারপরও প্রবাসের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে স্পোর্টস কাউন্সিলের কোন প্রস্তাবনা থাকলে বা আমাদের কোন সহযোগিতা করতে পারলে তা করার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আমি চাই আমার চেয়ে ভালো ফুটবলার তৈরী হোক। প্রবাস থেকে ভালো খেলোয়ার দেশে গেলে তাদেরকে লীগে খেলার সুযোগ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা তাদেরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবো।
ফুটবলার আসলাম বলেন, আমরা বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা চেষ্টা করলে অবশ্যই ফুটবলের অতীত ঐদিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবো। অন্তত দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন দেওয়ান বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা ও বাফুফে’র মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরীর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ভলিবল দলের সাবেক খেলোয়ার সেলিনা খান, স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহীম বাদশা সহ কর্মকর্তাদের মধ্যে হাজী এনাম, আনোয়ার হোসাইন, জাকির হোসেন, সাইকুল ইসলাম, সাদি মিন্টু, আব্দুল কাদির লিপু, জহির উদ্দিন জুয়েল, তৈয়বুর রহমান টনি, ঢাকা আবাহনী ক্লাবের সাবেক ম্যানেজার শিবলী নোমানী, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়ার আমিনুল ইসলাম লিটন, কমিউনিটি নেতা আজিমুর রহমান বুরহান, বিভিন্ন ক্লাব/টিমের ম্যানেজার, খেলোয়ার উপস্থিত ছিলেন।