নিউইয়র্ক ০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জার্সি নম্বর ১০ : ঢাকার মাঠের সেরা কে?

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৫
  • / ১৮৩৬ বার পঠিত

ঢাকা: জার্সি নম্বর ১০। শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার মুখ। ভেসে ওঠে মেসি-নেইমারদের চেহারা। যাদের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের জন্য ‘১০’ নম্বর জার্সি দর্শকদের মধ্যে ভিন্নমাত্রা তৈরি করে। দর্শকদের চোখ আটকে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে ‘১০’ নম্বর জার্সিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যে কেউ ‘১০’ নম্বর জার্সি গায়ে দিতে পারেন না। যে কাউকে এ জার্সি দেয়া হয় না। বিশ্ব ফুটবল থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে থাকলেও বাংলাদেশেও ‘১০’ নম্বর জার্সির একটি আলাদা মর্যাদা ছিল। যদিও এখন আর দর্শকরা ফুটবলমুখো হন না। ফুটবল মাঠের ফাঁকা গ্যালারি দর্শকদের অভাবে হাহাকার করে। তারপরও প্রবীণ ফুটবল দর্শকরা মাঝে-মধ্যে পুরনো খেলোয়াড় ও তারকা ফুটবলারদের নিয়ে তর্কের খাতিরে আড্ডায়, চায়ের কাপে ঝড় তোলেন। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বরে কে সেরা? এ নিয়ে তর্কের শেষ নেই। স্বাধীনতার আগে মারি, মুসা, জব্বার, আলী নেওয়াজ, আশরাফ এবং স্বাধীনতার পরে এনায়েত, হাফিজউদ্দিন, সালাউদ্দিন, বাদল রায়, মোহসিন, সাব্বির, নকীব, আলফাজরা ‘১০’ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠ মাতিয়েছেন।
১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ঢাকার ফুটবলে এই জার্সির গুরুত্ব শুরু থেকেই ছিল। সাধারণত ফরোয়ার্ডদের দেয়া হতো ‘১০’ নম্বর জার্সি। কিন্তু ফরোয়ার্ড না হয়েও এ জার্সির মর্যাদা রেখেছিলেন মোহামেডানের সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের সেরার তালিকায় সাব্বিরের নামটি আজও উচ্চারিত হয়। ধানমন্ডি থেকে ১৯৮৭ সালে মোহামেডানে যোগ দেয়া সাব্বিরের গায়ে শুরুর দিকে ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল না। ১৯৯২ সালে পান এ জার্সি। মোহামেডানের অনেক জয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল সাব্বিরের। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের মধ্যে এনায়েতকেই সেরা মনে করছেন সাব্বির। মোহামেডানের সাবেক এ মিডফিল্ডার বলেন, ‘১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এনায়েত ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে নিয়মিত খেলতেন। তার পায়ের প্রচন্ড গতির শট প্রতিপক্ষের গোলকিপারদের কাঁপন ধরিয়ে দিত। একজন জাত ফুটবলারের সব গুণাবলী ছিল তার মধ্যে। দক্ষতা ও নৈপুণ্যের বিচারে এনায়েতের ধারে-কাছেও কেউ ছিলেন না। অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন এনায়েত। দলের জয়ে এনায়েতের ভূমিকা ছিল না এমন নজির কম। শুধু নিজে গোল করতেন না, পুরো দলকে খেলাতেন। কখনও মধ্য মাঠে, কখনও ডিফেন্স, রাইট, লেফট আউট সর্বক্ষেত্রেই এনায়েতের বিচরণ ছিল। এককথায়, যেখানে বল সেখানেই এনায়েত। ১৯৭৮ সালে মোহামেডানে যোগ দেয়া এনায়েতের গায়ে ‘১০’ নম্বর জার্সিই ছিল। এনায়েতের তুলনা এনায়েতই।’
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মোহামেডান থেকে আবাহনীতে যোগ দেয়ার পরেও ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল সালাউদ্দিনের গায়ে। আবাহনীতে টানা ১১ বছর খেলে ডাবল হ্যাটট্রিক, হ্যাটট্রিকসহ শতাধিক গোল করেছেন সালাউদ্দিন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকার পরেও সালাউদ্দিনকে ‘১০’ নম্বর জার্সিতে সবার সেরা বলা যাবে না। কারণ হিসেবে সাব্বিরের ব্যাখ্যা, ‘এত গোল করার পরেও পুরো মাঠে সতীর্থদের খেলানোর মতো দক্ষতা বা যোগ্যতা কোনোটাই ছিল না তার। প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক, তাহলে এত গোল তিনি কিভাবে পেলেন? আমি বলব, সালাউদ্দিন একজন স্টাইলিস্ট ও দক্ষ ফরোয়ার্ড ছিলেন। তিনি সঙ্গী হিসেবে আবাহনীতে পেয়েছিলেন চুন্নু, আনোয়ার, খুরশিদ আলম বাবুল, অমলেশ ও আশিষ ভদ্রদের মতো তুখোড় ফুটবলারদের। সত্যি কথা বলতে কি, এরাই সারা মাঠ খেলে সালাউদ্দিনকে গোলের পথ দেখাতেন। তাদের আক্রমণটা এত নিখুঁত ও পরিকল্পনামাফিক ছিল যে, বল জালে পাঠানোটা সালাউদ্দিনের কাছে সহজ হয়ে যেত। আমি বলব, গোল না পাওয়াটাই তখন কঠিন ছিল। নিজের প্রচেষ্টায় সালাউদ্দিন গোল করেছেন, এমন খেলার সংখ্যা কমই রয়েছে। মিডিয়াও সালাউদ্দিনকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। যা পাননি এনায়েত।’
সাবেক মন্ত্রী হাফিজউদ্দিনও মোহামেডানের হয়ে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে ঢাকার মাঠ মাতিয়েছেন। ঢাকা লীগে প্রথম ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব তারই। মোহামেডানের অনেক বিজয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। ঢাকার মাঠে সেরা স্ট্রাইকারদের নাম উচ্চারিত হলে হাফিজের নাম আসবেই। ব্রাদার্সের মোহসিনও ‘১০’ নম্বর জার্সিতে চোখে পড়ার মতো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষ সবসময় মোহসিন আতংকে ভুগতো। সালাউদ্দিন, হাফিজ অধিকাংশ সময় অপেক্ষায় থাকতেন, সতীর্থরা কখন বল দেবেন? কিন্তু মোহসিন ছিলেন ব্যতিক্রম। পরিশ্রমী ফুটবলার। দলের প্রয়োজনে সব পজিশনেই খেলতে পারতেন তিনি। মোহামেডানের বাদল রায় ছিলেন আরও বেশি পরিশ্রমী। ‘৭’ নম্বর জার্সি দিয়ে ঢাকার ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু হলেও ১৯৮১ সালে ‘১০’ নম্বর জার্সির সঙ্গে মোহামেডানের অধিনায়কত্বও পান বাদল রায়। তিনি নিজে খেলতেন এবং পুরো দলকে খেলাতেন। স্ট্রাইকার মানেই যে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, এটা মিথ্যা প্রমাণ করেছিলেন বাদল রায়। ফুটবলে অসম্ভব জনপ্রিয় শেখ মো. আসলাম ও সালাম মুর্শেদীর গায়ে ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল না। ঢাকা লীগের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আসলাম ও সালামের যে দক্ষতা ও নৈপুণ্য ছিল, তাতে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরার যোগ্যতাও ছিল। ’৯০ দশকে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে মাঠ মাতিয়েছেন নকীব-আলফাজরা। সতীর্থদের কাছ থেকে বল না পেলেও নিজের চেষ্টায় অনেক গোল করেছিলেন আলফাজ। এ প্রজন্মের সর্বশেষ তারকা ছিলেন জাহিদ হাসান এমিলি। বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের মধ্যে সেরা হলেন সাব্বির। অসম্ভব স্কিলধারী এ ফুটবলার দলের জন্য পুরো মাঠ চষে বেড়াতেন। সেরার তকমাটা আমি তাকেই দেব।’ (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

জার্সি নম্বর ১০ : ঢাকার মাঠের সেরা কে?

প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা: জার্সি নম্বর ১০। শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার মুখ। ভেসে ওঠে মেসি-নেইমারদের চেহারা। যাদের চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের জন্য ‘১০’ নম্বর জার্সি দর্শকদের মধ্যে ভিন্নমাত্রা তৈরি করে। দর্শকদের চোখ আটকে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে ‘১০’ নম্বর জার্সিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যে কেউ ‘১০’ নম্বর জার্সি গায়ে দিতে পারেন না। যে কাউকে এ জার্সি দেয়া হয় না। বিশ্ব ফুটবল থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে থাকলেও বাংলাদেশেও ‘১০’ নম্বর জার্সির একটি আলাদা মর্যাদা ছিল। যদিও এখন আর দর্শকরা ফুটবলমুখো হন না। ফুটবল মাঠের ফাঁকা গ্যালারি দর্শকদের অভাবে হাহাকার করে। তারপরও প্রবীণ ফুটবল দর্শকরা মাঝে-মধ্যে পুরনো খেলোয়াড় ও তারকা ফুটবলারদের নিয়ে তর্কের খাতিরে আড্ডায়, চায়ের কাপে ঝড় তোলেন। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বরে কে সেরা? এ নিয়ে তর্কের শেষ নেই। স্বাধীনতার আগে মারি, মুসা, জব্বার, আলী নেওয়াজ, আশরাফ এবং স্বাধীনতার পরে এনায়েত, হাফিজউদ্দিন, সালাউদ্দিন, বাদল রায়, মোহসিন, সাব্বির, নকীব, আলফাজরা ‘১০’ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠ মাতিয়েছেন।
১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ঢাকার ফুটবলে এই জার্সির গুরুত্ব শুরু থেকেই ছিল। সাধারণত ফরোয়ার্ডদের দেয়া হতো ‘১০’ নম্বর জার্সি। কিন্তু ফরোয়ার্ড না হয়েও এ জার্সির মর্যাদা রেখেছিলেন মোহামেডানের সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের সেরার তালিকায় সাব্বিরের নামটি আজও উচ্চারিত হয়। ধানমন্ডি থেকে ১৯৮৭ সালে মোহামেডানে যোগ দেয়া সাব্বিরের গায়ে শুরুর দিকে ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল না। ১৯৯২ সালে পান এ জার্সি। মোহামেডানের অনেক জয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল সাব্বিরের। ঢাকার মাঠে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের মধ্যে এনায়েতকেই সেরা মনে করছেন সাব্বির। মোহামেডানের সাবেক এ মিডফিল্ডার বলেন, ‘১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এনায়েত ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে নিয়মিত খেলতেন। তার পায়ের প্রচন্ড গতির শট প্রতিপক্ষের গোলকিপারদের কাঁপন ধরিয়ে দিত। একজন জাত ফুটবলারের সব গুণাবলী ছিল তার মধ্যে। দক্ষতা ও নৈপুণ্যের বিচারে এনায়েতের ধারে-কাছেও কেউ ছিলেন না। অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন এনায়েত। দলের জয়ে এনায়েতের ভূমিকা ছিল না এমন নজির কম। শুধু নিজে গোল করতেন না, পুরো দলকে খেলাতেন। কখনও মধ্য মাঠে, কখনও ডিফেন্স, রাইট, লেফট আউট সর্বক্ষেত্রেই এনায়েতের বিচরণ ছিল। এককথায়, যেখানে বল সেখানেই এনায়েত। ১৯৭৮ সালে মোহামেডানে যোগ দেয়া এনায়েতের গায়ে ‘১০’ নম্বর জার্সিই ছিল। এনায়েতের তুলনা এনায়েতই।’
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মোহামেডান থেকে আবাহনীতে যোগ দেয়ার পরেও ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল সালাউদ্দিনের গায়ে। আবাহনীতে টানা ১১ বছর খেলে ডাবল হ্যাটট্রিক, হ্যাটট্রিকসহ শতাধিক গোল করেছেন সালাউদ্দিন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকার পরেও সালাউদ্দিনকে ‘১০’ নম্বর জার্সিতে সবার সেরা বলা যাবে না। কারণ হিসেবে সাব্বিরের ব্যাখ্যা, ‘এত গোল করার পরেও পুরো মাঠে সতীর্থদের খেলানোর মতো দক্ষতা বা যোগ্যতা কোনোটাই ছিল না তার। প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক, তাহলে এত গোল তিনি কিভাবে পেলেন? আমি বলব, সালাউদ্দিন একজন স্টাইলিস্ট ও দক্ষ ফরোয়ার্ড ছিলেন। তিনি সঙ্গী হিসেবে আবাহনীতে পেয়েছিলেন চুন্নু, আনোয়ার, খুরশিদ আলম বাবুল, অমলেশ ও আশিষ ভদ্রদের মতো তুখোড় ফুটবলারদের। সত্যি কথা বলতে কি, এরাই সারা মাঠ খেলে সালাউদ্দিনকে গোলের পথ দেখাতেন। তাদের আক্রমণটা এত নিখুঁত ও পরিকল্পনামাফিক ছিল যে, বল জালে পাঠানোটা সালাউদ্দিনের কাছে সহজ হয়ে যেত। আমি বলব, গোল না পাওয়াটাই তখন কঠিন ছিল। নিজের প্রচেষ্টায় সালাউদ্দিন গোল করেছেন, এমন খেলার সংখ্যা কমই রয়েছে। মিডিয়াও সালাউদ্দিনকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। যা পাননি এনায়েত।’
সাবেক মন্ত্রী হাফিজউদ্দিনও মোহামেডানের হয়ে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে ঢাকার মাঠ মাতিয়েছেন। ঢাকা লীগে প্রথম ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব তারই। মোহামেডানের অনেক বিজয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। ঢাকার মাঠে সেরা স্ট্রাইকারদের নাম উচ্চারিত হলে হাফিজের নাম আসবেই। ব্রাদার্সের মোহসিনও ‘১০’ নম্বর জার্সিতে চোখে পড়ার মতো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষ সবসময় মোহসিন আতংকে ভুগতো। সালাউদ্দিন, হাফিজ অধিকাংশ সময় অপেক্ষায় থাকতেন, সতীর্থরা কখন বল দেবেন? কিন্তু মোহসিন ছিলেন ব্যতিক্রম। পরিশ্রমী ফুটবলার। দলের প্রয়োজনে সব পজিশনেই খেলতে পারতেন তিনি। মোহামেডানের বাদল রায় ছিলেন আরও বেশি পরিশ্রমী। ‘৭’ নম্বর জার্সি দিয়ে ঢাকার ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু হলেও ১৯৮১ সালে ‘১০’ নম্বর জার্সির সঙ্গে মোহামেডানের অধিনায়কত্বও পান বাদল রায়। তিনি নিজে খেলতেন এবং পুরো দলকে খেলাতেন। স্ট্রাইকার মানেই যে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, এটা মিথ্যা প্রমাণ করেছিলেন বাদল রায়। ফুটবলে অসম্ভব জনপ্রিয় শেখ মো. আসলাম ও সালাম মুর্শেদীর গায়ে ‘১০’ নম্বর জার্সি ছিল না। ঢাকা লীগের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আসলাম ও সালামের যে দক্ষতা ও নৈপুণ্য ছিল, তাতে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরার যোগ্যতাও ছিল। ’৯০ দশকে ‘১০’ নম্বর জার্সি পরে মাঠ মাতিয়েছেন নকীব-আলফাজরা। সতীর্থদের কাছ থেকে বল না পেলেও নিজের চেষ্টায় অনেক গোল করেছিলেন আলফাজ। এ প্রজন্মের সর্বশেষ তারকা ছিলেন জাহিদ হাসান এমিলি। বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ‘১০’ নম্বর জার্সিধারীদের মধ্যে সেরা হলেন সাব্বির। অসম্ভব স্কিলধারী এ ফুটবলার দলের জন্য পুরো মাঠ চষে বেড়াতেন। সেরার তকমাটা আমি তাকেই দেব।’ (দৈনিক যুগান্তর)