নিউইয়র্ক ০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

এক স্লিপ

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • / ৯৯৭ বার পঠিত

নিউইয়র্ক: সম্প্রতি কয়েকজন বন্ধু-সহকর্মী সাংবাদিক ভাইদের সাথে আড্ডা হচ্ছিলো। আড্ডা মানে একটি অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়ে দেখা যায় অনুষ্ঠানটি শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। আর তাই সময় কাটাতে চা খেতে খেতে নিজস্ব আড্ডা। প্রসঙ্গত এই আড্ডাতেই উঠে এলো নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলোর নানা প্রসঙ্গ। কেউ বললেন, নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলোতে ক্রমশ: পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন ঘটছে মিডিয়াগুলোর বেঁচে থাকার জন্যই। কেননা, এই নিউইয়র্ক থেলেই প্রায় দুই ডজনের মতো নিয়মিত-অনিয়মিত বাংলা প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশিত হচ্ছে। এরমধ্যে ঠিকানা আর বাংলা পত্রিকা নামের মাত্র দু’টি পত্রিকা পেইড পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে পাঠক মহল ধরে রেখেছে। ঠিকানা-বাংলা পত্রিকা’র মূল্য এক ডলার। যেহেতু পত্রিকা দু’টি পাঠককে ক্রয় করতে হয় তার জন্য এই দুই পত্রিকা’র মধ্যে ভিন্ন রূপও পরিলক্ষিত হয়। আরেকজন বললেন, ঠিকানা-বাংলা পত্রিকা’র বাইরেও ৩/৪টি পত্রিকায় কিছু কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। যা পাঠকের দৃষ্ঠি কাড়ে। আরেকজন বললেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে কমিউনিটির ‘নেগেটিভ বা বিতর্কিত’ খবর খুব একটা দেখা যায় না এসব মিডিয়াগুলোতে। অধিকাংশ খবর বা প্রতিবেদন বা ছবি পড়লে বা দেখলে মনে হবে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশী কমিউনিটি কত সুন্দর, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ কত দায়িত্বশীল, কত ভালো মানুষ। কখনো কখনো দেখা যায় কোন অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই খবর কোন মিডিয়ায় এসেছে আবার কোন মিডিয়ায় ঐ প্রসঙ্গটিই নেই। আরেকজন বললেন, পাঠক নেগেটিভ খবর বেশী পড়তে চায়। কথায় কথায় বেশ জমে উঠলো আড্ডা। তবে আড্ডাটি সিরিয়াস পর্যায়ে যাওয়ার আগেই আমি তাদের কথাগুলোর সাথে একমত পোষন করে বললাম, হ্যাঁ পাঠক নেগেটিভ খবরই বেশী পড়তে চায়। বিষয়টির প্রতি আরেকটু জোড় দিয়ে বললাম, আমি মনে করি ‘নেগেটিভ’ খবরই মূলত মিডিয়ার জন্য প্রধান খবর। তার কারণ পাঠকরা মনে করে ভালো কাজ বা ভালো কথা বলা তো স্বাভাবিক ঘটনা। দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের কল্যাণে কাজ করছেন কিনা তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কিনা সেই খবরই মূখ্য খবর। বাংলাদেশ সোসাইটি বা সামাজিক সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা কমিউনিটির ভালো কাজ, কল্যাণ করবেন বলেই তারা সোসাইটি বা সংগঠনগুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের এই দায়িত্ব পালন স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু যখন সোসাইটির কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন বা ‘নেগেটিভ’ কোন কাজ করবেন তখনই সেই খবরটি অধিক গুরুত্ব পাওয়ার দাবী রাখে। তার মানে এই নয় যে, ভালো কাজের প্রশংসা হবে না। তা নয়। ভালো কাজের পাশাপাশি নেগেটিভ বা আতœ সমালোচনামূলক খবর/প্রতিবেদন অবশ্যই মিডিয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে, পাঠকের প্রত্যাশা পূরণ করবে আর পেশার মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। প্রিয় পাঠক আপনারা কি আমাদের সাথে এক মত? ০৪ জানুয়ারী’২০১৪ (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

এক স্লিপ

প্রকাশের সময় : ০৯:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৫

নিউইয়র্ক: সম্প্রতি কয়েকজন বন্ধু-সহকর্মী সাংবাদিক ভাইদের সাথে আড্ডা হচ্ছিলো। আড্ডা মানে একটি অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়ে দেখা যায় অনুষ্ঠানটি শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। আর তাই সময় কাটাতে চা খেতে খেতে নিজস্ব আড্ডা। প্রসঙ্গত এই আড্ডাতেই উঠে এলো নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলোর নানা প্রসঙ্গ। কেউ বললেন, নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলোতে ক্রমশ: পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন ঘটছে মিডিয়াগুলোর বেঁচে থাকার জন্যই। কেননা, এই নিউইয়র্ক থেলেই প্রায় দুই ডজনের মতো নিয়মিত-অনিয়মিত বাংলা প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশিত হচ্ছে। এরমধ্যে ঠিকানা আর বাংলা পত্রিকা নামের মাত্র দু’টি পত্রিকা পেইড পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে পাঠক মহল ধরে রেখেছে। ঠিকানা-বাংলা পত্রিকা’র মূল্য এক ডলার। যেহেতু পত্রিকা দু’টি পাঠককে ক্রয় করতে হয় তার জন্য এই দুই পত্রিকা’র মধ্যে ভিন্ন রূপও পরিলক্ষিত হয়। আরেকজন বললেন, ঠিকানা-বাংলা পত্রিকা’র বাইরেও ৩/৪টি পত্রিকায় কিছু কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। যা পাঠকের দৃষ্ঠি কাড়ে। আরেকজন বললেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে কমিউনিটির ‘নেগেটিভ বা বিতর্কিত’ খবর খুব একটা দেখা যায় না এসব মিডিয়াগুলোতে। অধিকাংশ খবর বা প্রতিবেদন বা ছবি পড়লে বা দেখলে মনে হবে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশী কমিউনিটি কত সুন্দর, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ কত দায়িত্বশীল, কত ভালো মানুষ। কখনো কখনো দেখা যায় কোন অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই খবর কোন মিডিয়ায় এসেছে আবার কোন মিডিয়ায় ঐ প্রসঙ্গটিই নেই। আরেকজন বললেন, পাঠক নেগেটিভ খবর বেশী পড়তে চায়। কথায় কথায় বেশ জমে উঠলো আড্ডা। তবে আড্ডাটি সিরিয়াস পর্যায়ে যাওয়ার আগেই আমি তাদের কথাগুলোর সাথে একমত পোষন করে বললাম, হ্যাঁ পাঠক নেগেটিভ খবরই বেশী পড়তে চায়। বিষয়টির প্রতি আরেকটু জোড় দিয়ে বললাম, আমি মনে করি ‘নেগেটিভ’ খবরই মূলত মিডিয়ার জন্য প্রধান খবর। তার কারণ পাঠকরা মনে করে ভালো কাজ বা ভালো কথা বলা তো স্বাভাবিক ঘটনা। দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের কল্যাণে কাজ করছেন কিনা তার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কিনা সেই খবরই মূখ্য খবর। বাংলাদেশ সোসাইটি বা সামাজিক সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা কমিউনিটির ভালো কাজ, কল্যাণ করবেন বলেই তারা সোসাইটি বা সংগঠনগুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের এই দায়িত্ব পালন স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু যখন সোসাইটির কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন বা ‘নেগেটিভ’ কোন কাজ করবেন তখনই সেই খবরটি অধিক গুরুত্ব পাওয়ার দাবী রাখে। তার মানে এই নয় যে, ভালো কাজের প্রশংসা হবে না। তা নয়। ভালো কাজের পাশাপাশি নেগেটিভ বা আতœ সমালোচনামূলক খবর/প্রতিবেদন অবশ্যই মিডিয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে, পাঠকের প্রত্যাশা পূরণ করবে আর পেশার মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। প্রিয় পাঠক আপনারা কি আমাদের সাথে এক মত? ০৪ জানুয়ারী’২০১৪ (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)