নিউইয়র্ক ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহর ইন্তেকাল ॥ নতুন বাদশা সালমান

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • / ৩৫৪৮ বার পঠিত

রিয়াদ: চলে গেলেন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। রেখে গেলেন অনেক স্মৃতি। সৌদি সাম্রাজ্যের একজন সংস্কারক হিসেবে বাদশা আবদুল্লাহ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন রাজ্যের ইতিহাসে। বিশেষ করে তার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মানসিকতা ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রচেষ্টার জন্য চিরদিন মনে রাখবে সৌদি আরবের মানুষ। এদিকে বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর নতুন বাদশাহ হয়েছেন তার সৎভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ (৭৯)।
১ আগস্ট ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করা বাদশা আবদুল্লাহ ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার প্রথম প্রহরে মারা গেলেন। সৌদি পরিবারের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ঠিক ১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বাদশা আবদুল্লাহর পিতা বাদশা আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান ও তার ভাই বাদশা ফয়সাল সংস্কারপন্থী রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বাদশা আবদুল্লাহ তাদের ছাড়িয়ে গেছেন অনন্য কিছু কাজের মধ্য দিয়ে।
বাদশা আবদুল্লাহর সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল মানবিক উন্নয়ন। তিনি বলেছিলেন, তেলের জন্য নয়, এখন থেকে সৌদি আরব পরিচিত হবে মানুষের গুণে। নারী-পুরুষের কাজের মধ্য দিয়ে।
২০০৭ সালে বাদশা আবদুল্লাহ একান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যালিগিয়েন্স এজেন্সি। এই এজেন্সির কাজ নতুন রাজা হাতে রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দেয়া। এর মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের এক জটিল সমস্যার সমাধান হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সৌদি আরবের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক স্পষ্ট। এ জন্য বাদশা আবদুল্লাহর দ্ব্যর্থহীন নীতিই বেশি কাজ দিয়েছে। সুন্নি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পশ্চিমা প্রযুক্তিনির্ভর সমাজের আদলে সৌদি সমাজকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা ছিল বাদশা আবদুল্লাহর।
২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের বাদশার দায়িত্ব নেয়ার পর বাদশা আবদুল্লাহ সা¤্রাজ্য পরিচালনায় সংস্কার আনেন। তিনি এক অলিখিত অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর ফল দেখা যায় ২০১১ সালে। প্রথমবারের মতো ৩০ নারীকে মনোনীত করে মজলিস আল শূরার সদস্য করেন তিনি। রাজ্য পরিচালনায় নারীদের সম্মানের সঙ্গে নীতিনির্ধারণের আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য বাদশা আবদুল্লাহ বহির্বিশ্বে সমাদৃত হন।
২০১০ সালে বাদশা আবদুল্লাহ ও তার উত্তরাধিকারী সুলতান একজন ঘোমটাহীন নারীর সঙ্গে ছবি তোলেন। পরের দিন সৌদি আরবের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রচ্ছদে সেই ছবি প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত নারীদের জন্য পোশাকি কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হয়। নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতাও প্রসারিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ শাসনামলে। ২০০৯ সালে সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহর ইন্তেকাল ॥ নতুন বাদশা সালমান

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

রিয়াদ: চলে গেলেন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। রেখে গেলেন অনেক স্মৃতি। সৌদি সাম্রাজ্যের একজন সংস্কারক হিসেবে বাদশা আবদুল্লাহ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন রাজ্যের ইতিহাসে। বিশেষ করে তার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মানসিকতা ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রচেষ্টার জন্য চিরদিন মনে রাখবে সৌদি আরবের মানুষ। এদিকে বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর নতুন বাদশাহ হয়েছেন তার সৎভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ (৭৯)।
১ আগস্ট ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করা বাদশা আবদুল্লাহ ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার প্রথম প্রহরে মারা গেলেন। সৌদি পরিবারের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ঠিক ১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বাদশা আবদুল্লাহর পিতা বাদশা আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান ও তার ভাই বাদশা ফয়সাল সংস্কারপন্থী রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বাদশা আবদুল্লাহ তাদের ছাড়িয়ে গেছেন অনন্য কিছু কাজের মধ্য দিয়ে।
বাদশা আবদুল্লাহর সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল মানবিক উন্নয়ন। তিনি বলেছিলেন, তেলের জন্য নয়, এখন থেকে সৌদি আরব পরিচিত হবে মানুষের গুণে। নারী-পুরুষের কাজের মধ্য দিয়ে।
২০০৭ সালে বাদশা আবদুল্লাহ একান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যালিগিয়েন্স এজেন্সি। এই এজেন্সির কাজ নতুন রাজা হাতে রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দেয়া। এর মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের এক জটিল সমস্যার সমাধান হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সৌদি আরবের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক স্পষ্ট। এ জন্য বাদশা আবদুল্লাহর দ্ব্যর্থহীন নীতিই বেশি কাজ দিয়েছে। সুন্নি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পশ্চিমা প্রযুক্তিনির্ভর সমাজের আদলে সৌদি সমাজকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা ছিল বাদশা আবদুল্লাহর।
২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের বাদশার দায়িত্ব নেয়ার পর বাদশা আবদুল্লাহ সা¤্রাজ্য পরিচালনায় সংস্কার আনেন। তিনি এক অলিখিত অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর ফল দেখা যায় ২০১১ সালে। প্রথমবারের মতো ৩০ নারীকে মনোনীত করে মজলিস আল শূরার সদস্য করেন তিনি। রাজ্য পরিচালনায় নারীদের সম্মানের সঙ্গে নীতিনির্ধারণের আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য বাদশা আবদুল্লাহ বহির্বিশ্বে সমাদৃত হন।
২০১০ সালে বাদশা আবদুল্লাহ ও তার উত্তরাধিকারী সুলতান একজন ঘোমটাহীন নারীর সঙ্গে ছবি তোলেন। পরের দিন সৌদি আরবের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রচ্ছদে সেই ছবি প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত নারীদের জন্য পোশাকি কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হয়। নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতাও প্রসারিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ শাসনামলে। ২০০৯ সালে সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। (দৈনিক যুগান্তর)